গ্রাম আদালত সক্রিয় করার আহ্বান জেলা প্রশাসকের

গ্রাম আদালত সক্রিয় করার আহ্বান জেলা প্রশাসকের চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রাম আদালত কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষে প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয় অংশীজনদের নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন এই সভার আয়োজন করে। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুস সামাদ। স্থানীয় সরকার চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপপরিচালক দেবেন্দ্র নাথ উরাঁওয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় গ্রাম আদালতকে আরো সক্রিয় ও সঠিকভাবে পরিচালনা করার লক্ষে গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক সমাজ, ইমাম সমাজের সঙ্গে বড় পরিসরে মতবিনিময় করে তাদেরকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবুল কালাম সাহিদ। মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন- দৈনিক চাঁপাই দৃষ্টির সম্পাদক এমরান ফারুক মাসুম, চাঁপাই চিত্রের সম্পাদক কামাল উদ্দিন, চাঁপাই দর্পণের সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু, ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়ক মোমেনা খাতুন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রাম আদালত সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) জেলা ম্যানেজার হাফিজ আল আসাদ। সমন্বয় সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হলো- স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাকে অধিকতর স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করা। গ্রামীণ জনগণের, বিশেষ করে, নারী এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করা। উচ্চ আদালতে মামলার জট কমানো। আরো বলা হয়, গ্রাম আদালতের সুবিধা হচ্ছে- গ্রাম আদালতে অল্প খরচে, স্বল্প সময়ে এবং অতিসহজে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়। উভয়পক্ষই বিচারক প্যানেলে নিজেদের পছন্দমত প্রতিনিধি নিয়োগ দিতে পারেন। পক্ষগণ নিজের কথা নিজে বলতে পারেন, আইনজীবীর দরকার হয় না। সাক্ষ্যপ্রমাণ হাতের কাছে থাকে, পক্ষগণ চাইলেও কোনো কিছু গোপন করতে পারে না, ফলে সঠিক বিচার পাওয়া যায়। এক বিরোধ থেকে অন্য বিরোধ সৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকে। সভায় বলা হয়, গ্রাম আদালতে সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়, ফলে বিরোধীয় পক্ষগণের মধ্যে সম্পর্কের পুনঃস্থাপন ঘটে। দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় প্রকারের বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়। দ্রুত ও কম সময়ে এবং নামমাত্র খরচে বিরোধ এর সমাধান (দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে ২০ টাকা এবং ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে ১০ টাকা আবেদন ফি দিতে হয়)। গ্রাম আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য গ্রাম আদালতে বিচারযোগ্য দেওয়ানি মামলাসমূহ হচ্ছে- ১. কোনো চুক্তি, রশিদ বা অন্য কোনো দলিল মূল্যে প্রাপ্য টাকা আদায়ের জন্য মামলা। ২. কোনো অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার বা এর মূল্য আদায়ের জন্য মামলা। ৩. স্থাবর সম্পত্তি বেদখল হওয়ার এক বছরের মধ্যে এর দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা। ৪. কোনো অস্থাবর সম্পত্তির জবরদখল বা ক্ষতি করার জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা। ৫. গবাদিপশু অনধিকার প্রবেশের কারণে ক্ষতিপূরণের মামলা। ৬. কৃষি শ্রমিকদেরকে পরিশোধ্য মজুরি ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা। ৭. কোনো স্ত্রী কর্তৃক তার বকেয়া ভরণপোষণ আদায়ের মামলা ইত্যাদি।
বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহের উদ্বোধন

বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহের উদ্বোধন ‘প্রতিটি শিশুর অধিকার-রক্ষা করা আমাদের অঙ্গীকার’- এই প্রতিপাদ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ্ব শিশু দিবস পালিত ও শিশু অধিকার সপ্তাহ শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রবিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন- জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা মনজুর কাদের। শিশুদের মধ্যে বক্তবব্য দেন- জান্নাত তাসনিম রাজ ও এস এম শাফিন খান। সঞ্চালনা করেন জেলা শিশু অ্যাকাডেমির প্রশিক্ষক এইচ এম কাব্য ও আবৃত্তি প্রশিক্ষণার্থী রাশিদা আনজুম। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সুবিধাবঞ্চিত শিশু, অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক বলেন, শিশুরা অনেক অধিকারের কথা বলেছে, অধিকারগুলো নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের সমাজের, রাষ্ট্রের। তবে এই অধিকার বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে আমাদের সমাজকে একটি সুস্থ সুন্দর সমাজ উপহার দিতে হবে। তা না হলে এই অধিকার বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। শিশুদের জন্য একটা বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হবে। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুতে নতুন আক্রান্ত আরো ৪ জন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুতে নতুন আক্রান্ত আরো ৪ জন চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নতুন করে আরো ৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ৩ জন ও শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন শনাক্ত হন। এ নিয়ে জেলায় চলতি বছরে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৪৯ জনে। এদিকে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৮ জন রোগী। তাদের মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ৬ জন এবং শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন করে ভর্তি আছেন। অন্যদিকে সুস্থ হওয়ায় একজনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ড্রোনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ শুরু

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ড্রোনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ শুরু চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় স্ট্যান্ডার্ড ডাটা কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমে (জিআইএস) তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। টেকসই আরবান ওয়াটার সাইকেল প্রকল্পের অধীনে ড্রোন সার্ভের মাধ্যমে এই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। রবিবার সকালে ড্রোন সার্ভের উদ্বোধন করা হয়েছে। পৌরসভা চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে ড্রোন চালিয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন- পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার, চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপপরিচালক দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও। পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. তাছমিনা খাতুন। সূচনা বক্তব্য দেন- পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- এসএনভির ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ রেজাউল হুদা, জিও-প্ল্যানিং ফর অ্যাডভান্সড ডেভেলপমেন্টের (জিপিএডি) পরিচালক মো. তাজুল ইসলাম তানভীর। এসময় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তৌফিকুল ইসলাম ও পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আহসান হাবীবসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, টেকসই আরবান ওয়াটার সাইকেল প্রকল্পের অধীনে ড্রোনের মাধ্যমে পৌরসভার তথ্য সংগ্রহ করে সফটওয়্যারে আপলোড করা হবে। এর মাধ্যমে পৌরবাসীর ভৌগোলিক তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। অনুষ্ঠানে পৌরসভার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হয়। তুলে ধরা হয় বর্তমান সামগ্রিক অবস্থা। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা এসএনভি’র সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে। সংস্থাটি পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়েও কাজ করছে। আশা করা হচ্ছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার জনসাধারণ বিশুদ্ধ পানি পাবেন এবং বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি হবে।
বিশ শিক্ষার্থীকে ১২ হাজার টাকা করে শিক্ষাবৃত্তি দিল প্রয়াস

বিশ শিক্ষার্থীকে ১২ হাজার টাকা করে শিক্ষাবৃত্তি দিল প্রয়াস চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অতিদরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে রবিবার বিকেলে জেলাশহরের বেলেপুকুরে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির নকীব হোসেন মিলনায়তনে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রয়াসের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন- জেলা শিক্ষা অফিসার আবদুর রশিদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির পরিচালক পঙ্কজ কুমার সরকার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুর রশিদ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের ভালো করে লেখাপড়া করতে হবে। তোমরা এখান থেকে বৃত্তির যে টাকা পেলে, সেটা লেখাপড়ার কাজে ব্যয় করবে। তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ লেখপড়ায় পিছিয়ে যাচ্ছি। গত কয়েকবছর আগে রাজশাহীতে অনেক ছাত্রছাত্রী পড়ালেখা করতে যেত, এখন তা অনেক কমে গেছে। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বলেন, লেখাপড়ার কোনো বিকল্প নেই। তোমরা বড় স্বপ্ন দেখবে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কঠোর অনুশীলন করবে। জেলা শিক্ষা অফিসার বলেন, তোমাদের কাছে যে মোবাইল আছে, সেটার ভালো ব্যবহার করবা। তোমাদের একটাই উদ্দেশ্য হওয়া উচিত যে, তোমরা তোমাদের মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করবে। সভাপতির বক্তব্যে প্রয়াসের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেন বলেন, আমরা আমাদের বাবা-মাকে যেমন সম্মান দেখাব, তেমনিভাবে আমাদের শিক্ষকদেরকেও সম্মান দেখাব। আসুন, আমরা মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেখাই। তিনি বলেন, আমরা আমাদের নিজের, পরিবারের, সমাজের ও রাষ্ট্রের জন্য কাজ করব। তিনি আরো বলেন, নিজেকে পিছিয়ে রাখলে পেছনে যেতে হবে, নিজেকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে, এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে। হাসিব হোসেন বলেন, আপনি আমি আমরা সবাই মৃত্যুবরণ করব। কিন্তু আমার আপনার কর্ম বেঁচে থাকবে, এই প্রয়াস বেঁচে থাকবে এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করবে। আশা রাখি, আমরা সফল হবো এবং আগামীদিনে আমাদের যে পরবর্তী জেনারেশন আসছে, তার জন্য কাজ করব। তিনি আরো বলেন, আমরা একে অপরকে সম্মান জানাব, একে অপরের কথা শুনব, একে অপরকে সহ্য করব এগুলো যদি আমরা করতে পারি তাহলে আমাদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধগুলো সৃষ্টি হবে। তাই আমাদের ব্যক্তির থেকে যে বিষয়গুলো বড় করে দেখা উচিত, সেগুলো দেখব। হাসিব হোসেন বলেন, আপনারা যেমন চাঁপাইনবাবঞ্জে জন্ম নিয়ে সারা বাংলাদেশে সৌরভ ছড়াবেন, তেমনি প্রয়াস চাঁপাইনবাবগঞ্জে জন্ম নিয়ে সারা বাংলাদেশে সৌরভ ছড়াচ্ছে। সভা সঞ্চালনা করেন প্রয়াসের কনিষ্ঠ সহকারী পরিচালক মু. তাকিউর রহমান।শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন- নাচোল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শুভ আহমেদ ও নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া নওসিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন- প্রয়াসের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (নিরীক্ষা) আবুল খায়ের খান, কনিষ্ঠ সহকারী পরিচালক (প্রশিক্ষণ) আব্দুস সালাম, অফিসার শাহরিয়ার শিমুল ও নয়ন আলী, নেজামপুর ইউনিয়নের সমৃদ্ধি কর্মসূচি সমন্বয়কারী তৌহিদুল ইসলাম, রানীহাটি ইউনিয়নের সমৃদ্ধি কর্মসূচি সমন্বয়কারী নারুল হকসহ অন্যরা। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)’র সহযোগিতায় শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি। উল্লেখ্য, ২০ জন শিক্ষার্থীরে প্রত্যেককে ১২ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।
পদ্মা ও মহানন্দায় পানি কমছে ৮ সে.মি. পুনর্ভবায় বেড়েছে

পদ্মা ও মহানন্দায় পানি কমছে ৮ সে.মি. পুনর্ভবায় বেড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা ও মহানন্দা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পুনর্ভবা নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব জানান, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে আজ (গতকাল) শনিবার সকাল পর্যন্ত পদ্মা নদীর পানি কমেছে ১৩ সেন্টিমিটার। শনিবার সকাল ৯টায় পাঁকা পয়েন্টে এ নদীর পানি বিপৎসীমার ১০৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অন্যদিকে একই সময়ে মহানন্দা নদীর পানি কমেছে ৫ সেন্টিমিটার। খালঘাট পয়েন্টে মহানন্দার পানি বিপৎসীমার ১৪৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া পুনর্ভবা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ সেন্টিমিটার। রহনপুর পয়েন্টে এ নদীর পানি বিপৎসীমার ২২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. পলাশ সরকার গত কয়েকদিন আগে জানিয়েছিলেন, শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, উজিরপুর, দুর্লভপুর, ছত্রাজিতপুর, ঘোড়াপাখিয়া এবং সদর উপজেলার নারায়ণপুর, আলাতুলী, শাহাজাহানপুর ও চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ১ হাজার ৯৩২ হেক্টর মাসকালাই, ৫ হেক্টর রোপা আউশ, ৯ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ, ৫ হেক্টর সবজি ও ৩ হেক্টর চিনা বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৮১০ জন কৃষক।
নদী ভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ

নদী ভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের নদী ভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করছে প্রশাসন। এর মধ্যে সদর উপজেলার নারায়ণপুর ও আলাতুলি ইউনিয়নের ১ হাজার ১১৪ পরিবার এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকাসহ অন্যান্য ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন থেকে এই দুই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে চালগুলো বিতরণ করা হচ্ছে। শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আফতাবুজ্জামান-আল-ইমরান গতকাল শনিবার দুপুরে জানান, জেলা প্রশাসন থেকে ২০ টন চাল পাওয়া গেছে। সেই চাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে শুক্রবার থেকে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিড়া, মুড়িসহ শুকনো খাবার দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, পাঁকা, উজিরপুর, দুর্লভপুর, মনাকষা, ছত্রাজিতপুর, ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের কিছু অংশ বন্যার শিকার হয়েছে। তবে পাঁকা সবচেয়ে বেশি। সবমিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৮০০ পরিবার বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি জানান। গতকাল শনিবার শিবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিক আজিজ ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলামের উপস্থিতিতে পাঁকা ইউনিয়নের চর এলাকায় বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এদিকে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নদী ভাঙন ও বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে নারায়ণপুর ও আলাতুলি ইউনিয়ন। এই দুটি ইউনিয়নের ১ হাজার ১১৪টি পরিবারের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ টন করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যা ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও শাহজাহনপুর, দেবীনগর, চরবাগডাঙ্গা, সুন্দরপুর, বারঘরিয়া ইউনিয়নের আংশিক বন্যাকবলিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার মীর আল মনসুর শোয়াইব জানান, উদ্ভূত বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় এরই মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার জন্য বরাদ্দকৃত ৩০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
শিবগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে বিজিবির মতবিনিময়

শিবগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে বিজিবির মতবিনিময় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপন উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ সীমান্তের বালিয়াদিঘী এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন ৫৯ বিজিবির রহনপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া। গতকাল শনিবার বালিয়াদিঘী দুর্গামন্দির প্রাঙ্গণে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজামুল হক রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সনাতন সম্প্রদায়ের মধ্যে বক্তব্য দেনÑ মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী হরেন সাহা। এসময় বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যেন সীমান্ত পেরিয়ে মাদক না আসে সেজন্য বিজিবিসহ সকলকে সজাগ থাকতে হবে। পাশাপাশি সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধেও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এসময় তিনি জানান, ৫৯ বিজিবির অধীনস্থ সীমান্তবর্তী ৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত সকল পূজামণ্ডপের যাবতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বিজিবির টহল দল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারই অংশ হিসেবে আজ (গতকাল শনিবার) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হলো। বিজিবির এই অধিনায়ক বলেন, এরই মধ্যে আমাদের বিজিবির টহল দল কর্তৃক শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলার সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে পরিকল্পনা করা হয়েছে। তারা নিয়মিত টহল দিচ্ছে। এবারের পূজায় বিজিবি তথা আমরা সকল প্রকার নিরাপত্তার ব্যাপারে সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা প্রদান করছি, যাতে আপনারা আড়ম্বর পরিবেশে নির্বিঘ্নে পূজা উদ্যাপন করতে পারেন। এছাড়া পূজামণ্ডপে হামলা বা ভাঙচুর হওয়ার সম্ভাবনা মনে করলে সাথে সাথে বিজিবির টহল কমান্ডারকে মোবাইলের মাধ্যমে অবগত করার জন্য সংশ্লিষ্ট পূজামন্ডপ কমিটির সভাপতিদের আহ্বান জানান তিনি। লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া পূজা উৎসব যেন সনাতন ধর্মালম্বীরা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পালন করতে পারে সেজন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ও সাধারণ জনসাধারণকে সজাগ দৃষ্টি ও সার্বিক সহযোগিতা করারও অনুরোধ জানান।
গোমস্তাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১

গোমস্তাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় শাহজাহান আলী (৩৮) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বড়হাদিনগর গ্রামের মৃত আফসার আলীর ছেলে। গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শাহজাহান আলী রহনপুর হতে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা ইউনিয়নের মাদরাসা মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ব্যাটারিচালিত অটোগাড়ির সাথে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে শাহজাহান আলী মারাত্মকভাবে আহত হন। এসময় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান ওসি গোলাম কিবরিয়া।
মেট্রোরেলে ১৯ দিনেই ছাড়ালো ৬ মাসের আয়

মেট্রোরেলে ১৯ দিনেই ছাড়ালো ৬ মাসের আয় মেট্রোরেল যাত্রী পরিবহন শুরু করে ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর। যাত্রী পরিবহন শুরুর পর প্রথম ৬ মাসে আয় হয়েছিল ১৮ কোটি টাকা। আর সবশেষ ১৯ দিনে আয় হয়েছে ২০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মাত্র ১৯ দিনেই প্রথম ৬ মাসের আয় অতিক্রমের রেকর্ড গড়লো অত্যাধুনিক ও দ্রুতগতির এ গণপরিবহন। গত ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) এমডি মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানিয়েছেন, চলতি মাসের ১৯ দিনে যাত্রী পরিবহন হয়েছে ৪ কোটি ৪০ লাখ ৯ হাজার ৯ জন। আর যাত্রীদের টিকিট বাবদ আয় হয়েছে ২০ কোটি ৬৭ লাখ ৩ হাজার ৫৫১ টাকা। সেই হিসাবে দৈনিক গড়ে ২৩ লাখ ১৬ হাজার ২৬৪ জন যাত্রী যাতায়াত করেছেন। এতে দৈনিক আয় হয়েছে গড়ে ১ কোটি ৮ লাখ ৭৯ হাজার ১৩৪ টাকা। এর আগে, চলতি বছরের ৪ মার্চ জাতীয় সংসদে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, অডিট ফার্মের নিরীক্ষা করা ২০২২-২৩ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত প্রথম ৬ মাসে মেট্রোরেলের মোট আয় ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৬ হাজার ৫১৪ টাকা। বর্তমানে সপ্তাহে ৬ দিন মেট্রোরেল সকাল ৭টা ১০ মিনিট থেকে রাত ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করে। উত্তরা থেকে প্রথম ট্রেন ছাড়ে সকাল ৭টা ১০ মিনিট এবং শেষ ট্রেন ছাড়ে রাত ৯টায়। অন্যদিকে মতিঝিল থেকে প্রথম ট্রেন ছাড়ে সকাল সাড়ে ৭টায় এবং শেষ ট্রেন ছাড়ে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে। এছাড়া শুক্রবার উত্তরা থেকে প্রথম ট্রেন ছাড়ে দুপুর সাড়ে ৩টায় এবং শেষ ট্রেন ছাড়ে রাত ৯টায়। অন্যদিকে মতিঝিল থেকে প্রথম ট্রেন ছাড়ে দুপুর ৩টা ৫০ মিনিটে এবং শেষ ট্রেন ছাড়ে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে। এমআরটি পাস ও র্যাপিড পাস ব্যবহারকারী ছাড়া যাত্রীরা সকাল ৭টা ২০ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত টিকিট ক্রয় করে মেট্রোরেলে ভ্রমণ করতে পারেন। এই সময়ের আগে ও পরে সব স্টেশনের টিকিট বিক্রির কাউন্টার ও ভেন্ডিং মেশিন বন্ধ থাকে। উদ্বোধনের পর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের চালু করা হয়েছিল। পরের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশও চালু করা হয়।