নাচোল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও নবীনদের বরণ

নাচোল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও নবীনদের বরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বরণ করা হয়েছে।  মঙ্গলবার বিদ্যালয় চত্বরে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শিক্ষার্থীরা। আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন নাচোল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ওবাইদুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষক বাইরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- নাচোল সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোজাম্মেল হক মন্টু, সাইদুর রহমান, সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দুলাল উদ্দিন খান, প্রভাষক নূর কামাল, বাশিস নাচোল শাখার সভাপতি তাজাম্মুল হক ও সহকারী ক্রীড়া শিক্ষক আনিকুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন মেহেদী হাসান ও সামিউল হক। শেষে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর ৭০ শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। এছাড়া বিদায়ী শিক্ষার্থীরাও স্মৃতি উপহার তুলে দেয়। অনুষ্ঠানে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর নবাগত ৭০ শিক্ষার্থীকে বরণ করে নেয়া হয়।

গোবরাতলার আমারকে শসা চাষ বিষয়ক মাঠ দিবস

গোবরাতলার আমারকে শসা চাষ বিষয়ক মাঠ দিবস চাঁপাইনবাবগঞ্জে মালচিং পেপার ব্যবহার করে শসা চাষ বিষয়ক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। সদর উপজেলার গোবরাতলার আমারকে প্রয়াসের কৃষি ইউনিটের (কৃষি খাত) আওতায় এই মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট চাঁপাইনবাবগঞ্জ উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আজাদুল হক। এসময় তিনি বলেন, ফসলের ক্ষেতে আর্দ্রতা সংরক্ষণে মালচিং বিশেষভাবে উপকারী। এ প্রযুক্তি ব্যবহারে ফসলে পানি সূর্যের তাপ ও বাতাসে দ্রুত উড়ে যায় না। ফলে জমিতে রসের ঘাটতি হয় না এবং সেচ লাগে অনেক কম। মালচিং ব্যবহার করলে জমিতে প্রায় ১০ থেকে ২৫ ভাগ আর্দ্রতা সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়। তিনি আরো বলেন, এ পদ্ধতি ব্যবহার করে নিরাপদ উপায়ে সবজি চাষ করা যায়। খরচ কম লাগে এবং জমিতে আগাছা কম জন্মে। মালচিং পদার্থের পুরুত্ব বেশি হলে তা গাছপালার অনাকাক্সিক্ষত মূল গজাতে সহায়তা করবে। এমনকি সঠিক মালচিং প্রয়োগে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়ের আক্রমণও রোধ করা যায়। এই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আরো বলেন, শীতকালে মালচিং ব্যবহার করলে মাটিতে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা ধরে রাখা সম্ভব হয় এবং গরমকালে মাটি ঠাণ্ডা থাকে, এমনকি বেশ কিছু পোকামাকড়ের আক্রমণও রোধ করা যায়। সবচেয়ে বড় কথা, মালচিং প্রযুক্তি ব্যবহার করলে পানি লাগে অনেক কম। সেচ খরচ বাঁচে, লাভ হয় বেশি। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কৃষি ইউনিটের (কৃষি খাত) সহযোগিতায় এর আয়োজন করেছে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি। মাঠ দিবসে অন্যানোর মধ্যে বক্তব্য দেন- প্রয়াসের স্মার্ট প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম, কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, স্মার্ট প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার রিফাত আমিন হিরা। এসময় অন্যানোর মধ্যে প্রয়াসের আরএমটিপি প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক সাজেদুর রহমান, অফিসার শাহরিয়ার শিমুল, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান ও সিফাত উল্লাহসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক গৌড় বাংলা ও রেডিও মহানন্দা ৯৮.৮ এফএম।

সদর উপজেলার পলশায় কৃষক মাঠ দিবস

সদর উপজেলার পলশায় কৃষক মাঠ দিবস চাঁপাইনবাবগঞ্জে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা চাষ প্রদর্শনীর কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার জেলার সদর উপজেলার পলশায় প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির রুরাল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ ট্রান্সফরমেশন প্রজেক্ট (আরএমটিপি) প্রকল্পের আওতায় এই মাঠ দিবস উদ্যাপন করা হয়। মাঠ দিবসে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন- সদর উপজেলা কৃষি অফিসার সুনাইন বিন জামান। সভাপতিত্ব করেন প্রয়াসের কনিষ্ঠ সহকারী পরিচারক ও আরএমটিপি প্রকল্পের ফোকাল পার্সন ফারুক আহমেদ। এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনিসুল হক মাহমুদ, প্রয়াসের কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, আরএমটিপি প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক সাজেদুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্মার্ট প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার রিফাত আমিন হিরা। এসময় আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ইমরান আলী, ইউনিট-১’র ব্যবস্থাপক ওজিউর রহমান, স্মার্ট প্রকল্পের পরিবেশ কর্মকর্তা ইকবাল মাহমুদ, প্রয়াসের অফিসার শাহরিয়ার শিমুল, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান ও সিফাত উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)’র সরিষার নিরাপদ ভোজ্য তেল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধি শীর্ষক ভ্যালু চেইন উপ-প্রকল্পের আওতায় প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি এই মাঠ দিবসের আয়োজন করে।

বারঘরিয়ায় গ্রামআদালত বিষয়ক মতবিনিময় সভা

বারঘরিয়ায় গ্রামআদালত বিষয়ক মতবিনিময় সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ৪নং বারঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে গ্রামআদালত বিষয়ক কমিউনিটি মতবিনিময় সভা ও ভিডিও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ গ্রামআদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় রবিবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. হাসান হাফিজুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হারুন-অর-রশিদ। সভা পরিচালনা ও ভিডিও প্রদর্শন করেন ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত সমন্বয়কারী মো. নুরুজ্জামান। প্রধান অতিথি মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, “গ্রাম আদালত সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম। স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে জনগণকে হয়রানি ও সময়ের অপচয় থেকে রক্ষা করা আমাদের লক্ষ্য। গ্রাম আদালতকে আরো কার্যকর ও জনবান্ধব করতে হলে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। আজকের সভার মাধ্যমে আমরা সেই সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছি।” অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বারঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পেশকার মো. আল আমীন, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, তাসিকুল ইসলাম, আব্দুল মালেক, আফজাল হোসেন, সবুজ মিঞা, সেমাজুল ইসলাম, সুলেখা বেগম ও নাসরিন বেগম পপি। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সমাজসেবক, এনজিও প্রতিনিধি, গৃহিণী, কৃষক, সর্বস্তরের জনগণ ও গ্রামপুলিশের সদস্যরা সভায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করা, আইনগত জ্ঞান বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং এই কার্যক্রম আরো গতিশীল ও জনবান্ধব করার আহ্বান জানান বক্তারা।

শিবগঞ্জে ৩২টি মোবাইল জব্দ

শিবগঞ্জে ৩২টি মোবাইল জব্দ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা সীমান্ত হতে অবৈধ ও চোরাচালানকৃত ভারতীয় মোবাইল ফোন জব্দ করেছে বিজিবি। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। বিজিবির ৫৩ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মনির-উজ-জামান জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার ভোর ৫টা ৩৫ মিনিটে মনাকষা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিজিবির টহল দল। অভিযানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বাবুপুর ইউনিয়নের বোগলাউড়ি এলাকা থেকে লুকিয়ে রাখা অবৈধ ও চোরাচালানকৃত ৩২টি ভারতীয় মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মোবাইল চাঁপাইনবাবগঞ্জ শুল্ক কার্যালয়ে জমা করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকল্পে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মতবিনিময়

মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকল্পে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মতবিনিময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন একটি বাংলাদেশ হয়েছে। এখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না। সামাজিক বৈষম্য কমাতে চায়লে আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে প্রাথমিকের শিশুদের শিক্ষিত করে তোলা। তিনি বলেন, এখানে সবচেয়ে বেশি শোনা গেছে বৈষম্যহীনতার কথা। প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষাব্যবস্থা খুব একটা ভালো না। বিত্তশালীদের সন্তানরা ভালো স্কুলে চলে যায়। প্রাথমিকে শুধু মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানরা যায়। আমাদের মূল টার্গেট হলো- শিশুদের সাক্ষর করে তোলা। যেন তারা নিজের ভাষাটা লিখতে পারে, নিজের ভাষায় পড়তে পারে ও মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে। এতে করে সমাজের মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানরা সক্ষম হয়ে উঠবে এবং সামাজিক বৈষম্য কমবে। রবিবার বেলা ১১টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকল্পে জেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা বলেন- অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি গণিত ও বিজ্ঞান, এই দুটি বিষয়ে শিশুদের তৈরি করতে হবে। একটি হলো লিটারেসি, আরেকটি হলো নিউমারেসি বা গাণিতিক ভাষা। শিশুরা যেন পড়তে পারে, শিখতে পারে আর গাণিতিক বিষয়টি জানতে পারে, সংখ্যা কী? অঙ্ক কী? যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ করতে পারে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে খেলা, সংগীত, চিত্রকলা চর্চা ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। শিশুদের মধ্যে অন্যের প্রতি দায় ও দায়িত্ববোধ তৈরি করতে পারলে তাদের পরিপূর্ণ বিকাশ সাধন হবে। শিক্ষকদের আরো বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য লাইব্রেরি গড়ে তোলা দরকার বলেও মন্তব্য করেন উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডের দাবি ও আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা একটি সুচিন্তিত মতামত দেয়ার জন্য পরামর্শক কমিটি তৈরি করেছিলাম। সেই কমিটিতে দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ এবং প্রাথমিক শিক্ষার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের যুক্ত করা হয়েছিল। তারা দীর্ঘ তিন মাস বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন গ্রুপের দাবির বিষয়গুলো শুনেছেন। এরপর তারা আমাদের সুনির্দিষ্ট মতামত দিয়েছেন। তারা পরামর্শ দিয়েছেন, প্রাথমিকে শিক্ষকরা ঢুকবেন ১৩তম বা ১২তম গ্রেডে, এরপর প্রশিক্ষণ নিবেন এবং তাদের চাকরি স্থায়ী হবে ২ বছরে। সবমিলিয়ে ৪ বছর পর তাদের পদোন্নতি হবে। পদোন্নতি পেয়ে জ্যেষ্ঠ বা সিনিয়র শিক্ষক হবেন, এটি ১১ গ্রেড হবে। উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার আরো বলেন, যখন ১১তম গ্রেড হবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ সহকারী প্রধান শিক্ষক হবেন এবং তখন তারা আলাদা বাড়তি একটা ভাতা পাবেন। এখন যারা প্রধান শিক্ষক হন, তাদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ পদোন্নতি ও ৩৫ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ হন। তারা এই পদ্ধতিকে বাতিল করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ১০০ ভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে করার সুপারিশ করেছে পরামর্শক কমিটি। তবে সেক্ষেত্রে কিছু নিয়ম থাকবে, প্রধান শিক্ষক হতে ন্যূনতম কী যোগ্যতা প্রয়োজন। সহকারী প্রধান শিক্ষক বা সিনিয়র শিক্ষকদের যে কেউ প্রধান শিক্ষক হতে পারবেন। তখন তাদের গ্রেড হবে ১০ম। আবার প্রধান শিক্ষকদেরও পদোন্নতির ব্যবস্থা থাকবে। তারা এটিও হতে পারবেন। উপদেষ্টা বলেন- পরামর্শক কমিটির এসব প্রস্তাবকে আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। এমনকি শিক্ষকদেরও বেশিরভাগই এটিকে গ্রহণ করেছেন। এটি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করব। আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে উপদেষ্টা বলেন, আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য বই ছাপিয়েও শিক্ষক সংকট থাকায় পাঠদান করা যাচ্ছে না। এতে অর্থের অপচয় হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন- সমস্যা সমাধানে ডিজিটাল ক্লাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যারা এসব ভাষা জানেন, তাদের দিয়ে সুন্দর সুন্দর লেকচার তৈরি করছি। যা দেখে শিক্ষার্থীরা শিখতে পারবে এবং শিক্ষকরাও দেখে দেখে শিক্ষার্থীদের সাহায্য করতে পারবেন। এটি হলে কিছুটা সমস্যার সমাধান হবে এবং বইগুলো বেকার পড়ে থাকবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, আমাদের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে- নির্দিষ্ট ভাষার শিক্ষক নিয়োগ করা। আমাদের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার যে কাঠামো রয়েছে, তাতে আমরা দেখি ওই ভাষার শিক্ষক পরীক্ষায় টিকলেন না। তিনি বলেন- পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োগ প্রক্রিয়া তাদের নিজস্ব। ফলে কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা আছে। শিক্ষকেরও সংকট আছে, খুঁজে পাওয়াও কঠিন। তাই আশু সমাধানের জন্যই ডিজিটাল ক্লাসের ব্যবস্থা করছি। চরাঞ্চলের শিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন- বিষয়টি আমাদের গোচরে আছে, আমরা চেষ্টা করছি সমস্যা সমাধানের। সভায় উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. নাকিব হাসান তরফদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জেছের আলীসহ প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের জেলা-উপজেলা কার্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা। পরে উপদেষ্টা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।

শিবগঞ্জে একুশে বইমেলার উদ্বোধন

শিবগঞ্জে একুশে বইমেলার উদ্বোধন ‘এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ৩ দিনব্যাপী একুশে বইমেলা ও উদ্যোক্তা মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে এ মেলার আয়োজন করেছে উপজেলা প্রশাসক ও জাতীয় মহিলা সংস্থা। বুধবার বেলা ১২টায় উপজেলা চত্বরে কেক কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. ইকতেখারুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজাহার আলী, শিবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিক আজিজ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহাদাৎ হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। এ সময় বক্তারা বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি ভাষার মাস। একুশ আমাদের চেতনা। এই চেতনা আমাদের অন্তরে লালন করতে হবে।’ উদ্বোধন শেষে অতিথিরা বইমেলা পরিদর্শন করেন। আগামীকাল ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই বইমেলা চলবে।

নাচোল উপজেলার মল্লিকপুর বাজারে বাজার সংযোগ কর্মশালা

নাচোল উপজেলার মল্লিকপুর বাজারে বাজার সংযোগ কর্মশালা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার মল্লিকপুর বাজারে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির কৃষি ইউনিটের (মৎস্য খাত) আওতায় বাজার সংযোগ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে মল্লিকপুর বাজারে কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন গোমস্তাপুর উপজেলা সহকারী মৎস্য অফিসার আনোয়ার আলী। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির কনিষ্ঠ সহকারী পরিচালক ও কৃষি ইউনিটের ফোকাল পার্সন ফারুক আহমেদ। বাজার সংযোগ কর্মশালায় ফরোয়ার্ড লিংকেজ (মাছ উৎপাদন থেকে আহরণের পূর্ব পর্যন্ত) এবং ব্যাকোয়ার্ড লিংকেজ মাছ আহরণ থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছানোর ব্যবস্থা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন- প্রয়াসের প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা ডা রাজিন বিন রেজাউল, কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান, মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক, ইউনিট-১১ ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন, অফিসার শাহরিয়ার শিমুল ও জামাল উদ্দিন, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সিফাত উল্লাহসহ অন্যরা। এসময় মাছের আড়ৎদার, মাছচাষি, মাছ বিক্রেতা, ফড়িয়া, মহাজন, পোনা ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)’র সহযোগিতায় কর্মশালার আয়োজন করে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি। অনুষ্ঠানটির মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক গৌড় বাংলা ও রেডিও মহানন্দা ৯৮.৮ এফএম।

সদর উপজেলায় আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু

সদর উপজেলায় আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘এসো দেশ বদলাই-পৃথিবী বদলাই’ স্লোগানকে সামনে রেখে আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫ শুরু হয়েছে। তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে বুধবার থেকে সদর উপজেলা পরিষদ এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে। বিকেল ৪টায় হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. তাছমিনা খাতুন। এসময় উপস্থিত ছিলেন- হরিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. কাশেদ আলীসহ অন্যরা। উদ্বোধনী দিনের প্রথম খেলায় অংশগ্রহণ করে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ বনাম বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ। খেলায় চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ ৩-০ গোলে বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ দলকে পরাজিত করে। একই দিনের অপর খেলায় ঝিলিম ইউনিয়ন বনাম সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদ অংশগ্রহণ করে। নির্ধারিত সময়ে উভয় দল ১টি করে গোল পেলে খেলা টাইব্রেকারে গড়ায়। টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে ঝিলিম ইউনিয়ন পরিষদ দল জয়লাভ করে। খেলা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন- মো. মিনাজুল ইসলাম, মো. তৌফিজুর রহমান পুতুল, মো. শামীম খান, মো. আনিসুর রহমান। সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদ এই খেলায় অংশগ্রহণ করছে। ইউনিয়ন পরিষদগুলো হচ্ছে- বালিয়াডাঙ্গা, গোবরাতলা, ঝিলিম, বারোঘরিয়া, মহারাজপুর, রানীহাটি, চরঅনুপনগর, দেবীনগর, আলাতুলী, শাহজাহানপুর, ইসলামপুর, চরবাগডাঙ্গা, নারায়ণপুর ও সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদ।

গোমস্তাপুরে দুই শিক্ষককের বিদায় সংবর্ধনা

গোমস্তাপুরে দুই শিক্ষককের বিদায় সংবর্ধনা চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর মহিলা কলেজের দুই শিক্ষককে অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টায় রহনপুর মহিলা কলেজের হলরুমে ওই দুই শিক্ষককে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধিত শিক্ষকরা হলেন- ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোসা. রিজিয়া খাতুন ও ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মহা. মাইনুল আহসান হাবিব। রহনপুর মহিলা কলেজ পরিবার আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজটির অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুসাহাক আলি, কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুলতানা নারগিস, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক প্রভাষক আবুল কালাম আজাদ, বিদায়ী শিক্ষক রিজিয়া খাতুন ও মাইনুল আহসান হাবিব, শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান ও ফারিয়া তাসনিম। পরে বিদায়ী দুই শিক্ষকের হাতে সংবর্ধনা ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়।