পাসপোর্টে ‘ইসরাইল ব্যতীত’ লেখা পুনঃপ্রবর্তন করলো বাংলাদেশ

পাসপোর্টে ‘ইসরাইল ব্যতীত’ লেখা পুনঃপ্রবর্তন করলো বাংলাদেশ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশিদের ইসরাইল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে পাসপোর্টে ‘ইসরাইল ব্যতীত’ লেখা পুনঃপ্রবর্তন করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা পাসপোর্ট ও অভিবাসন বিভাগকে বিদেশ ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের ভ্রমণ পারমিটে ‘এই পাসপোর্ট ইসরাইল ব্যতীত বিশ্বের সকল দেশের জন্য বৈধ’ বাক্যটি পুনর্বহাল করার জন্য একটি নির্দেশনা জারি করেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপ-সচিব নীলিমা আফরোজ বাসসকে বলেন, ‘আমরা ৭ এপ্রিল চিঠি (নির্দেশিকা) জারি করেছি।’ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় ২০২১ সালে এই বাক্যটি বাতিল করা হয়েছিল। সেই সময় কর্তৃপক্ষ বলেছিল, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার জন্য পাসপোর্ট থেকে ‘ইসরাইল ব্যতীত সকল দেশ’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ইহুদি রাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বাংলাদেশের দশকের পর দশক ধরে চলে আসা নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার এক

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার এক চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে নিয়ে চাকরি দেয়ার নামে অসহায় মানুষদের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে মো. সিরাজুল ইসলাম (৫৪) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত শনিবার দিবাগত মধ্য রাতে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহান সেতুর টোল প্লাজা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে র্যাব জানায়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি পিটিআই মাস্টারপাড়ার মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে। রবিবার সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব এই তথ্য জানিয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব আরো জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চক্রের সাথে সংঘবদ্ধভাবে গ্রামের সহজ সরল লোকদের বিদেশে নিয়ে ভালো বেতনের চাকরি প্রদানের প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। একজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাব-৫, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে সিরাজুল ইসলামের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহান সেতুর টোল প্লাজা এলাকা অভিযান চালায়। অভিযানে সিরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
বাল্যবিবাহ বন্ধ, শিশুর অধিকার ও সুরক্ষায় পরিকল্পনামূলক সভা

বাল্যবিবাহ বন্ধ, শিশুর অধিকার ও সুরক্ষায় পরিকল্পনামূলক সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাল্যবিবাহ বন্ধ, শিশুর অধিকার ও সুরক্ষা এবং বাল্যবিবাহ মুক্তকরণে আলোচনা ও করণীয় শীর্ষক আলোচনা ও পরিকল্পনামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে, এসএসবিসি প্রকল্পের সহায়তায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখা এই কর্মসূচির আয়োজন করে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সোশ্যাল অ্যান্ড বিহেভিয়ার চেঞ্জ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন, সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, স্বাস্থ্য ও সমাজকর্মী, ব্যভসায়ী প্রতিনিধি শিশু ও যুব সমাজের প্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতবৃন্দ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট সমাজকর্মী ফারুকা বেগম, সোশ্যাল অ্যান্ড বিহেভিয়ার চেঞ্জ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক উত্তম মন্ডল, আবদুর রহিমসহ অন্যান্যরা। আলোচনা ও পরিকল্পনামূলক সভায় অতিথিরা বাল্যবিয়ে ও শিশুর প্রতি সংহিসতা বন্ধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরো জোরদার করার আহ্বান জানান। এই সময়ে বাল্য বিয়ে নিরোধ আইন, কারণ ও প্রতিরোধ, বন্ধে অভিভাবক ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের করণীয় শীর্ষক আলোচনা ও মতামত গ্রহণ করা হয় এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ গ্রাম ও ওয়ার্ডকে বাল্যবিবাহ মুক্ত করার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
দেশে ফিরছেন মিয়ানমারে আটক বাংলাদেশি ২০ যুবক

দেশে ফিরছেন মিয়ানমারে আটক বাংলাদেশি ২০ যুবক অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পথে মিয়ানমারে অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক বাংলাদেশি ২০ জন নাগরিক দেশে ফিরছেন। গত কয়েক মাস ধরে মিয়ানমারে বন্দি থাকার পর রোববার বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজে করে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ইয়াঙ্গুনের এমআইটিটি বন্দর ত্যাগ করেছেন তারা। মিয়ানমারে বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। দূতাবাস জানায়, অসাধু দালালরা এসব অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের মালয়েশিয়ায় পাচারের চেষ্টা করেছিল। পথিমধ্যে মিয়ানমারের আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তারা অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক হন। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এবং তাদের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পর বাংলাদেশ দূতাবাস আজকে তাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করে। গত কয়েক মাস ধরে তারা মিয়ানমারে আটক ছিলেন। মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মো. মনোয়ার হোসেন ২০ জন বাংলাদেশি তরুণের হস্তান্তরের সময় বন্দরে উপস্থিত ছিলেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, যারা অবৈধভাবে মিয়ানমারে প্রবেশ করেছেন, তাদের যাচাই-বাছাই করে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য দূতাবাস নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি সম্প্রতি মিয়ানমারের স্ক্যাম সেন্টার থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত আনার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। একই জাহাজে মিয়ানমারের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার ও চিকিৎসা সেবার জন্য যাওয়া বাংলাদেশের ৫৫ সদস্যের দলটিও দেশে ফিরছেন। তারা মিয়ানমারে ১০ দিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। রাষ্ট্রদূত ড. মো. মনোয়ার হোসেন দলটির সদস্যদের তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে মিয়ানমারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সকলকে কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানান। তিনি বিদেশগামীদের সন্দেহজনক বা প্রতারণামূলক চাকরির প্রস্তাবের শিকার না হওয়ার পরামর্শ দেন। গত দুই বছরে মিয়ানমারে বাংলাদেশ দূতাবাস ৩৫২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে প্রত্যাবাসন করেছে। সর্বশেষ গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর মিয়ানমার থেকে ৮৫ জন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রত্যাবাসন হয়েছিল। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা সমুদ্র অভিযান’ শুক্রবার মিয়ানমারের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য ১২০ মেট্রিক টন মানবিক সহায়তা নিয়ে ইয়াঙ্গুনে যায়। আগামী মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে জাহাজটি চট্টগ্রামে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নৈশক্লাবের ছাদধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২৬ জনে দাঁড়িয়েছে

নৈশক্লাবের ছাদধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২৬ জনে দাঁড়িয়েছে ডোমিনিকান রিপাবলিকের একটি নাইটক্লাবের ছাদ ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২৬ জনে দাঁড়িয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন। সব নিহতের মৃতদেহ তাদের প্রিয়জনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন। গত মঙ্গলবার নৈশক্লাবে ছাদধসের এ দুর্ঘটনা ঘটে। ডোমিনিকান রিপাবলিকের রাজধানী সান্তো ডোমিঙ্গো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভিক্টর আতাল্লাহ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার ভোরে জেট সেট ক্লাবের ভেতরে এই দুর্ঘটনায় ২২১ জন নিহত এবং আরো চারজন হাসপাতালে মারা যায়। গতকাল শনিবার এক কোস্টারিকান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায় এর ফলে মৃতের সংখ্যা ২২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। যদিও আতাল্লাহ সতর্ক করেছিলেন যে অন্যান্য গুরুতরভাবে দগ্ধ ব্যক্তিরা এখনও হাসপাতালে তাদের জীবনের জন্য লড়াই করছেন। ক্লাবটিতে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয়, যা ক্যারিবীয় দেশটির কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। মেরেঙ্গুয়ে গায়ক রুবি পেরেজকে দেখতে কয়েক’শ লোক জড়ো হয়েছিল। ৬৯ বছর বয়সী এই ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা যান। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় থিয়েটারে তাকে শেষ বিদায় জানানো হয়। যেখানে প্রেসিডেন্ট লুইস আবিনাদার এবং গায়িকার মেয়ে জুলিঙ্কা উপস্থিত ছিলেন, যিনি এই দুর্যোগ থেকে বেঁচে যান। ২০০৫ সালে পূর্বাঞ্চলীয় শহর হিগুয়েতে এক কারাগারের অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৩৬ জন বন্দীর সংখ্যাকে ছাড়িয়েছে ছাদ ধসে মৃতের সংখ্যা। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় আগে জানিয়েছিল যে নাইটক্লাবের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৮৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
আমরা সবাই এক পরিবারের সদস্য: প্রধান উপদেষ্টা

আমরা সবাই এক পরিবারের সদস্য: প্রধান উপদেষ্টা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস । ছবি : প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নানা মত, ধর্ম ও রীতিনীতির মধ্যেও আমরা সবাই এক পরিবারের সদস্য। এদেশের হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন সম্প্রদায় ও জনগোষ্ঠী সবমিলিয়ে এদেশের মানুষের বিচিত্র ভাষা,সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য । আজ রোববার ঢাকা আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে ‘সম্প্রীতি ভবন’- এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন। পহেলা বৈশাখকে সম্প্রীতির প্রতীক উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, ‘আগামীকাল পহেলা বৈশাখ, আমাদের সম্প্রীতির অন্যতম প্রতীক। প্রত্যেকে নিজ নিজ উপায়ে, নিজেদের রীতি অনুযায়ী আগামীকাল পহেলা বৈশাখ উদযাপন করবেন। সর্বজনীন এ উৎসবে অংশ নেবেন।’ তিনি বলেন, ঢাকার এই আন্তজার্তিক বৌদ্ধ বিহার বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অন্যতম নিদর্শন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীসহ বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গৌতম বুদ্ধের অহিংসা ও সাম্যের বাণীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং কারিগরি শিক্ষাসহ বিভিন্ন জনকল্যাণকর কর্মসূচি পালন করে আসছে এ বৌদ্ধ বিহার। আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের ‘সম্প্রীতি ভবন’ বাংলাদেশের সম্প্রীতি ও মানবতার ঐতিহ্যকে ধারণ করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গৌরবময় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। শিক্ষা বিস্তারে বৌদ্ধ বিহারগুলোর অবদানের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অতি প্রাচীন সময় থেকেই এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল এখানকার বৌদ্ধ বিহারগুলো। এগুলো আমাদের ঐতিহ্য ও সভ্যতার নির্দশন। পৃথিবীর দূর-দূরান্ত থেকে ভিক্ষু ও ছাত্ররা এ বিহারগুলোতে আসতেন। মহামানব বুদ্ধের শান্তি ও সম্প্রীতির বাণী বিশ্বে ছড়িয়ে দিতেন। শুধু ধর্মীয় আচার ও শিক্ষা নয়, সমাজে জনকল্যাণকর কর্মসূচিরও কেন্দ্র ছিল এদেশের বৌদ্ধ বিহারগুলো। মহামানব গৌতম বুদ্ধ বিশ্বমানবতার কল্যাণে সম্প্রীতি ও সাম্যের বাণী প্রচার করে গেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহামানব বুদ্ধ বলেছেন, শান্তি, সুখ থেকে আমরা কাউকে বঞ্চিত করতে পারি না; এমনকি ক্ষুদ্র জীবকেও। এদেশের বৌদ্ধ পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর একজন বিশ্ববরেণ্য জ্ঞানী। মহামানব বুদ্ধের বাণী তিনি বহন করে নিয়েছিলেন সেই মহাচীনের তিব্বতে। চীনে এখনো তাঁকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় শ্রদ্ধা জানানো হয়। বৌদ্ধ ধর্মের নির্দশন, স্থাপনা, ঐতিহ্য ও পণ্ডিতগণ মানব সভ্যতার ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঢাকা আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের স্থাপনা ও সামগ্রিক পরিবেশের ভূয়সী প্রশংসা করে সরকার প্রধান বলেন, ‘যেটুকু আজ এখানে দেখলাম, তা হৃদয়গ্রাহী ও আবেগ আপ্লুত করে। কাজেই এটা কেবল বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থান হলে, তা হবে খণ্ডিত একটা বিষয়। বরং হতে হবে দেশের সব জনগোষ্ঠির ইতিহাসের অংশ, এখানে যেন এই প্রজন্মের সব ছেলেমেয়েরা আসে, সেই ব্যবস্থা থাকতে হবে।’ আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে সম্প্রীতি ভবন স্থাপনকে মহান কৃতিত্বের কাজ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সেনাবাহিনীর যেসব সদস্য এই কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন, তাঁরা মহান কৃতিত্বের কাজ করছেন। এটি সম্মানেরও ব্যাপার।’ তিনি সম্প্রীতি ভবন স্থাপনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা এমন কৃতিত্বের সঙ্গে স্থাপনের কাজ শেষ করবেন, যাতে যুগ যুগ ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারেন। পরবর্তী প্রজন্ম যেন আপনাদের নির্মাণ শৈলীর প্রশংসা করে।’ বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন আয়েজিত ‘সম্প্রীতি ভবন’ ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম খালিদ হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া বক্তব্য রাখেন।
১৬ দিনের ব্যবধানে মিয়ানমারে আবারও ভূমিকম্প

১৬ দিনের ব্যবধানে মিয়ানমারে আবারও ভূমিকম্প গত ২৮ মার্চের পর মিয়ানমারে আবারও আঘাত হেনেছে মধ্যম শক্তির এক ভূমিকম্প। রোববার (১৩ এপ্রিল) সকালে দেশটির মধ্যাঞ্চলের ছোট শহর মেইকতিলার কাছে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। মাত্র ১৬ দিন আগেই ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় মিয়ানমারের মান্দালয় প্রদেশ। সেই ক্ষয়ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি দেশটি। এরই মধ্যে ৫ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে আবারও কেঁপে উঠল দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৮ মার্চের ভূমিকম্পে ৩ হাজার ৬৪৯ জন মারা গেছেন দেশটিতে। এছাড়া, আহত হয়েছেন আরও ৫ হাজার ১৮ জন। মিয়ানমারের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, রোববারের ভূমিকম্পটি মান্দালয় থেকে ৯৭ কিলোমিটার দূরের ওন্ডউইনে মাটির ২০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়। ওন্ডউইনের বাসিন্দারা বার্তাসংস্থা এপিকে জানিয়েছেন, কম্পনের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে অনেকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এই ভূমিকম্পে কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে, রাজধানী নেপিদো থেকে এক ব্যক্তি ফোনে এপিকে জানিয়েছেন, তারা সেখানে কোনো ধরনের কম্পন টের পাননি। পাঁচ বছর ধরে মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলছে। এর মধ্যে আবার আঘাত হেনেছে ভূমিকম্প, যা সেখানকার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যা আরও খারাপ হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভূমিকম্প মিয়ানমারের খাদ্য উৎপাদনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া সেখানে মেডিকেল ইমার্জেন্সি ঘোষণা করা হতে পারে। কারণ, ভূমিকম্পে আক্রান্ত স্থানগুলোর প্রায় সব হাসপাতাল, ক্লিনিক ধ্বংস হয়ে গেছে। অবশ্য, নতুন ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
৩৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে শিল্পখাতে গ্যাসের দাম

৩৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে শিল্পখাতে গ্যাসের দাম শিল্পখাতে গ্যাসের দাম ৩৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। রোববার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে আনুষ্ঠানিক এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায় বিইআরসি। সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, শিল্প গ্রাহকদের প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের বিল ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা করা হয়েছে। ক্যাপটিভে গ্যাসের দাম ৩০ দশমিক ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৪২ টাকা হয়েছে। নতুন শিল্পের পাশাপাশি এখন যারা অনুমোদিত লোডের বেশি গ্যাস ব্যবহার করছেন, সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকেও ৩০ টাকার পরিবর্তে ৪০ টাকা দরে বিল দিতে হবে। নতুন এই দর চলতি এপ্রিল মাসের বিল থেকেই কার্যকর হবে বলে জানান জালাল আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য মিজানুর রহমান, সদস্য সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, আব্দুর রাজ্জাক ও শাহীদ সারোয়ার।
যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য সহায়তা হ্রাসে দুর্ভিক্ষের মুখে কোটি আফগান : জাতিসংঘ

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য সহায়তা হ্রাসে দুর্ভিক্ষের মুখে কোটি আফগান : জাতিসংঘ আফগানিস্তানে মার্কিন খাদ্য সহায়তা হ্রাস ব্যাপক খাদ্যসংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের সক্ষমতা মাত্র অর্ধেক প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছে, তাও অর্ধেক রেশন দিয়ে। এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডব্লিউএফপির ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর মুটিনতা চিমুকা জানান, আফগানিস্তান বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মানবিক সংকটে রয়েছে। তিনি দাতাদের প্রতি সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। কাবুল থেকে এএফপি জানায়, জাতিসংঘের হিসাবে, ৪ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে ৩১ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে। চিমুকা বলেন, ‘আমাদের হাতে যে সামান্য সংস্থান রয়েছে, তাতে সারা বছরজুড়ে মাত্র ৮ মিলিয়ন মানুষকে সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে। তাও যদি আমরা অন্যান্য উৎস থেকে প্রত্যাশিত সহায়তা পুরোপুরি পাই।’ তিনি জানান, সংস্থাটি আগে থেকেই অর্ধেক রেশন বিতরণ করছে, যাতে স্বল্প সম্পদে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। ‘সাধারণত এই সময়ে ২০ লাখ মানুষকে দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধে সহায়তা করা হয়। এটা বিশাল এক সংখ্যা, যা নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’ এ বছর বৈশ্বিকভাবে ডব্লিউএফপির তহবিল ৪০ শতাংশ কমে গেছে। আফগানিস্তানের জন্য সহায়তাও বিগত বছরগুলোতে হ্রাস পেয়েছে। ফলে দৈনিক ন্যূনতম ২,১০০ কিলোক্যালোরি পূরণের জন্য নির্ধারিত পূর্ণ রেশনও অর্ধেক করে দিতে বাধ্য হয়েছে সংস্থাটি। ‘এটা খুবই মৌলিক সহায়তা, কিন্তু জীবন রক্ষার জন্য অত্যাবশ্যক, ‘বলেন চিমুকা। বিশ্বসম্প্রদায়ের উচিত এমন একটি সহায়তা নিশ্চিত করা।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শপথ নেওয়ার পরপরই তিন মাসের জন্য সব বিদেশি সহায়তা স্থগিত করে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। জরুরি খাদ্য সহায়তা এর আওতার বাইরে থাকার কথা থাকলেও সম্প্রতি ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ১৪টি দেশে এই সহায়তা কেটে দিচ্ছে, যার মধ্যে আফগানিস্তানও রয়েছে। এটি কার্যকর হলে তা ‘কোটিরও বেশি মানুষের জন্য মৃত্যুদণ্ড’ হবে বলে আখ্যায়িত করেছে সংস্থাটি। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ছয়টি দেশের জন্য সহায়তা পুনর্বহাল করলেও তালেবান-শাসিত আফগানিস্তান সে তালিকায় ছিল ন। চিমুকা বলেন, ‘যদি বাড়তি তহবিল না আসে, তাহলে হয়তো আমাদের বলতে হবে—আমরা আপনাদের আর সহায়তা দিতে পারছি না। তখন তারা কীভাবে বাঁচবে?’ তিনি বলেন, আফগানিস্তানে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব চরমে। পাকিস্তান থেকে বহু আফগান শরণার্থী ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, যাদের বাড়িঘর বা প্রয়োজনীয় সম্পদ কিছুই নেই। আফগানিস্তানে জাতিসংঘ সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ) এ সপ্তাহে আন্তর্জাতিক দাতাদের দেশটিকে সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ২ কোটি ২৯ লাখ মানুষ মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তায় রয়েছে। আফগানিস্তানে জাতিসংঘের আবাসিক ও মানবিক সমন্বয়ক ইন্দ্রিকা রত্নায়েক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যদি আমরা আফগান জনগণকে দারিদ্র্য ও দুর্ভোগের চক্র থেকে বের করে আনতে চাই, তবে তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ও সহনশীলতার ভিত্তি তৈরির কাজও চালিয়ে যেতে হবে।’ বিবৃতিতে বলা হয়, আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে গেলে আঞ্চলিক অভিবাসন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। উল্লেখ্য, জার্মানি ও ব্রিটেনসহ অন্যান্য দেশও তাদের বৈদেশিক সহায়তা বাজেট কাটছাঁট করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাটছাঁট সবচেয়ে বেশি। পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে ২৮ কোটি ডলার দিয়েছে, যা সবচেয়ে বড় অনুদান ছিল। ডব্লিউএফপি ছাড়াও আফগানিস্তানে কাজ করা অন্যান্য জাতিসংঘ সংস্থা, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোও অর্থ সংকটে পড়েছে, কেউ কেউ এমনকি, কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) সঙ্গে আফগানিস্তানে পরিচালিত দুটি কর্মসূচিও বন্ধ করে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই সংস্থা যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার প্রসারে কাজ করত। কৃষিভিত্তিক জীবনধারার ওপর নির্ভরশীল আফগান জনগণের প্রায় ৮০ শতাংশই এই সংকটে আক্রান্ত হচ্ছে, বিশেষ করে অপুষ্টি প্রতিরোধ ও কৃষিভিত্তিক সহায়তামূলক প্রকল্পগুলোতে।
মার্কিন চলচ্চিত্র আমদানি কমাবে চীন

মার্কিন চলচ্চিত্র আমদানি কমাবে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে চলচ্চিত্র আমদানি ‘পরিমিতভাবে’ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে চীন। আমদানি পণ্যে উচ্চমাত্রায় শুল্ক আরোপ নিয়ে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের টানাপোড়েনের মধ্যে বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দিয়েছে চীনের চলচ্চিত্র প্রশাসন। বেইজিং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। চীনের চলচ্চিত্র প্রশাসনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চীনের ওপর মার্কিন সরকারের নির্বিচারে শুল্ক আরোপের ভুল পদক্ষেপ আমেরিকান চলচ্চিত্রের ওপর আমাদের দর্শকদের অনুকূল আবেগ আরো হ্রাস করতে বাধ্য। আমরা বাজারে নীতি অনুসরণ করব। দর্শকদের পছন্দকে সম্মান করব এবং মার্কিন চলচ্চিত্র আমদানি পরিমিতভাবে কমানো হবে।’