যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর আরও চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জেলেনস্কির আহ্বান

যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর আরও চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জেলেনস্কির আহ্বান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর আরও চাপ প্রয়োগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, রাশিয়াকে শান্তি আলোচনায় রাজি করানোর সক্ষমতা কেবল যুক্তরাষ্ট্রেরই রয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, জেলেনস্কির এই মন্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন নতুন দফার আলোচনার লক্ষ্যে কূটনীতিকরা যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে একত্রিত হয়েছেন। জেলেনস্কি বলেন, ওয়াশিংটন ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে ছয় মাসের মধ্যে প্রথম সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে যুদ্ধ শেষ করতে হলে মস্কোর ওপর আরও কঠোর চাপ প্রয়োগ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “যুদ্ধ বন্ধ করতে রাশিয়াকে রাজি করানোর ক্ষমতা একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেরই আছে। যদি কূটনীতি কাজ না করে, তাহলে পূর্ণ চাপ প্রয়োগ করতে হবে।” ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখনো সেই মাত্রার চাপ অনুভব করেননি, যা তার ওপর থাকা উচিত। তিনি ইউক্রেনে আরও অস্ত্র সরবরাহ এবং রাশিয়ার সমগ্র অর্থনীতির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত কিরিল দিমিত্রিভ মিয়ামিতে পৌঁছেছেন। সেখানে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের মধ্যস্থতায় ইউক্রেনীয় ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দিমিত্রিভ সাংবাদিকদের জানান, আলোচনা গঠনমূলকভাবে শুরু হয়েছে এবং তা আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের দূতরা একটি শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেবে। তবে এর বিনিময়ে কিয়েভকে কিছু ভূখণ্ড ছাড় দিতে হতে পারে—যা অনেক ইউক্রেনীয়র মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার জানিয়েছেন, ইউক্রেনের সম্মতি ছাড়া কোনো শান্তি চুক্তি চাপিয়ে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “ইউক্রেন রাজি না হলে কোনো শান্তি চুক্তি হবে না।” রুবিও শনিবার নিজ শহর মিয়ামিতে আলোচনায় যোগ দিতে পারেন বলেও জানান। উল্লেখ্য, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সর্বশেষ সরাসরি আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছিল গত জুলাই মাসে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। ওই আলোচনার ফলে বন্দী বিনিময় হলেও যুদ্ধ বন্ধে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯০ বছর পূর্তি উৎসব উদযাপন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯০ বছর পূর্তি উৎসব উদযাপন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ চাঁপাইনবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের (টাউন হাই স্কুল নামে পরিচিত) ৯০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। “এসো মিলি প্রাণের টানে, ৯০ বছর উদযাপনে”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে রোববার (২১ ডিসেম্বর) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে উৎসবটি পালিত হয়। সকালে বিদ্যালয় মাঠে বেলুন ওড়ানোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। পরে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহর প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রা শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কেক কাটা হয় এবং ৯০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। আলোচনা সভায় ৯০ বছর পূর্তি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুলের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। বর্তমান প্রধান শিক্ষক হাসিনুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার মিঞা মো. আকবর আজিজী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদুল আলম, স্বাস্থ্য বিভাগ রাজশাহী অঞ্চলের সাবেক পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুলতানা রাজিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের উপ-পরিচালক আব্দুর রশিদ, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সাবেক সভাপতি ডা. এ. টি. এম. মোজাম্মেল হক বকুল, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল ওদুদ, সমাজসেবক শফিকুল আলম এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্লাবের সম্পাদক গোলাম জাকারিয়া। বক্তারা বলেন, এই আয়োজন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন পর সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আলোচনা সভা শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী লোকজ গম্ভীরা গান পরিবেশন করা হয়। এরপর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দেশ-বিদেশে কর্মরত ১৬ জন সাবেক শিক্ষার্থীকে তাঁদের কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়। বিকেলে স্মৃতিচারণ করেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যায় আতশবাজির পর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
পোস্টাল ভোট দিতে ৫ লাখ ৫৭ হাজার প্রবাসী ও সরকারি চাকরিজীবীর নিবন্ধন

পোস্টাল ভোট দিতে ৫ লাখ ৫৭ হাজার প্রবাসী ও সরকারি চাকরিজীবীর নিবন্ধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটাধিকার প্রয়োগের লক্ষ্যে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৮৫৯ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। নিবন্ধনকারীদের মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি ছাড়াও নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত এবং নিজ ভোটার এলাকার বাইরে অবস্থানরত সরকারি চাকরিজীবীরা রয়েছেন। রোববার বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধনকারী ভোটারদের মধ্যে ৫ লাখ ২৩ হাজার ২৩৮ জন পুরুষ এবং ৩৪ হাজার ৬১৯ জন নারী। প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে সর্বাধিক নিবন্ধন হয়েছে সৌদি আরব থেকে। দেশটি থেকে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩১৯ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এছাড়া কাতার থেকে ৫১ হাজার ৫৮২ জন, ওমান থেকে ৩৭ হাজার ৭৫৫ জন, মালয়েশিয়া থেকে ৩৫ হাজার ৪৬৭ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২৬ হাজার ৪১৮ জন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৩ হাজার ৮০২ জন, কুয়েত থেকে ১৯ হাজার ৬৭৯ জন, যুক্তরাজ্য থেকে ১৮ হাজার ৪৭৯ জন, সিঙ্গাপুর থেকে ১৭ হাজার ৫৯ জন, ইতালি থেকে ১৩ হাজার ৬৯২ জন এবং কানাডা থেকে ১১ হাজার ১১১ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। অন্যদিকে, ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোট ক্যাটাগরিতে দেশে অবস্থানরত ৮৩ হাজার ৮২ জন ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। জেলা ভিত্তিক নিবন্ধনে কুমিল্লা জেলা শীর্ষে রয়েছে। জেলাটি থেকে ৫৬ হাজার ৮৮৯ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। ঢাকা জেলায় ৪৮ হাজার ২৫৪ জন, চট্টগ্রামে ৪৭ হাজার ৩৩৯ জন, নোয়াখালীতে ৩২ হাজার ৭৪৫ জন, সিলেটে ২৩ হাজার ৫৯৫ জন এবং চাঁদপুরে ২২ হাজার ৩০৫ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। নির্বাচনী আসন অনুযায়ী সর্বাধিক নিবন্ধন হয়েছে ফেনী-৩ আসনে, যেখানে ৮ হাজার ৭৯২ জন ভোটার পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ৮ হাজার ৭৫ জন, নোয়াখালী-১ আসনে ৭ হাজার ৭৫৭ জন, কুমিল্লা-১০ আসনে ৭ হাজার ৬৪৩ জন এবং নোয়াখালী-৩ আসনে ৭ হাজার ২৯০ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এদিকে, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রবাসী ভোটারদের কাছে পোস্টাল ব্যালট প্রেরণ শুরু করেছে। আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (ওসিভি-এসডিআই) প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বাসসকে জানান, শুক্রবার ও শনিবার মোট ১০টি দেশের ৪১ হাজার ৫৪৩ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হলে ভোটাররা অ্যাপ বা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রার্থীদের তালিকা দেখতে পারবেন এবং নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যালট পেপারে ভোট প্রদান করবেন। এছাড়া, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ ১৮ থেকে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটাররা ২১ থেকে ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন। নিজ ভোটার এলাকার বাইরে অবস্থানরত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নিবন্ধনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। উল্লেখ্য, গত ১৮ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ উদ্বোধন করেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত দেশগুলোতে ভোটার নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা করেন।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করলেন তিন বাহিনী প্রধান

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করলেন তিন বাহিনী প্রধান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছেন সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান। রোববার বেলা ১২টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এ বৈঠক শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক শেষে বেলা ১টা ৫ মিনিটের দিকে তিন বাহিনী প্রধান নির্বাচন কমিশন ভবন ত্যাগ করেন। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ তাদের বিদায় জানান। বৈঠকে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান অংশ নেন। এছাড়া বৈঠকে চারজন নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ ও তথ্য) মো. রুহুল আমিন মল্লিক বাসসকে জানান, রোববার দুপুর ১২টায় তিন বাহিনী প্রধান নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর আগে নির্বাচন ভবনে পৌঁছালে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ তিন বাহিনী প্রধানকে পৃথকভাবে অভ্যর্থনা জানান। এদিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের একটি সভা রোববার দুপুর আড়াইটায় আগারগাঁওয়ের ইসি সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভাশেষে এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে ব্রিফিং করা হবে। এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা) মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার এই সভা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় নির্বাচন পূর্ব আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম রোধে যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের জন্য প্রণীত আচরণ বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী আচরণ বিধি প্রতিপালন এবং নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচ্য সূচিতে থাকবে।
রাজশাহীতে শীতের তীব্রতা বেড়েছে, দুই দিন সূর্যের দেখা নেই

রাজশাহীতে শীতের তীব্রতা বেড়েছে, দুই দিন সূর্যের দেখা নেই রাজশাহী মহানগর ও আশপাশের উপজেলায় হঠাৎ করেই শীতের তীব্রতা বেড়েছে। উত্তরের হিমেল বাতাসের সঙ্গে ঘন কুয়াশার কারণে টানা দুই দিন সূর্যের দেখা মেলেনি। গভীর রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারপাশ। রোববার রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৬টায় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এর আগের দিন শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ছিল ২০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত এক সপ্তাহ ধরে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে অবস্থান করছে। হঠাৎ শীত বাড়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্নআয়ের মানুষ। কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুররা। শীতের কারণে অনেকেই সকালে কাজে বের হতে পারছেন না। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক তারেক রহমান জানান, শুক্রবার রাত থেকে তাপমাত্রা হঠাৎ কমে গেছে এবং সঙ্গে যোগ হয়েছে ঘন কুয়াশা। শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। বিকেলের পর আবার সূর্য আড়ালে চলে যায়। তাপমাত্রা খুব বেশি না কমলেও শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, চলতি মাস থেকেই মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে এবং এই পরিস্থিতি আগামী ১৫ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এবার শৈত্যপ্রবাহের স্থায়িত্ব তুলনামূলক বেশি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। তীব্র শীতের প্রভাবে রাজশাহী নগরীতে মানুষের চলাচল কমে গেছে। সকালে দোকানপাট খুলছে দেরিতে এবং রাত ১০টার পর শহরের রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে সন্ধ্যার পর লোকজনের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে এবং দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আগেভাগেই। এদিকে শীত বাড়ায় নগরীর গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। অভিজাত মার্কেট থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানগুলোতেও গরম কাপড় কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ। নগরীর রেলগেট এলাকায় কাজের সন্ধানে বসে থাকা শ্রমিক নাজমুল হোসেন বলেন, শীতের কারণে সকালে আসতে দেরি হওয়ায় আজ আর কাজ পাননি। পবার পারভেজ জানান, শীত পড়লে কাজ পাওয়া যেমন কঠিন হয়ে যায়, তেমনি শীতের মধ্যে কাজ করাও কষ্টকর হয়ে পড়ে। শীতের তীব্রতায় বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের শ্রমিকরা বেশি বেকার হয়ে পড়ছেন। দিনের বেশিরভাগ সময় কুয়াশা থাকায় কাজের সুযোগ কমে যাচ্ছে, যা তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে। সূত্র: বাসস
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনার পর পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৯

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনার পর পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৯ চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই তরুণ নিহত হওয়ার ঘটনায় উদ্ভূত সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ, পুলিশ ফাঁড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট, পুলিশের ওপর হামলা এবং সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে এই মামলা করা হয়। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাকিল হোসেন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১৫ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে শহরের সার্কিট হাউস মোড়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দর মহাসড়কে পুলিশের সংকেত অমান্য করে পালানোর সময় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে একই মোটরসাইকেলে থাকা দুই তরুণ নিহত হন। নিহতরা হলেন পোলাডাঙ্গা জোড়বাগান এলাকার শাহ আলমের ছেলে রিফাত (১৮) এবং চাঁদলাই জোড়বাগান এলাকার আশরাফুল ইসলামের ছেলে সোহাগ (১৭)। দুর্ঘটনার পর পুলিশের কারণে ঘটনা ঘটেছে—এমন অভিযোগ তুলে বিক্ষুব্ধ জনতা সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে। ঘটনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আধা কিলোমিটার দূরের বিশ্বরোড মোড়ে অবস্থিত দুইতলা ট্রাফিক পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়। এতে বক্সের ভেতরে থাকা একটি পুলিশ মোটরসাইকেল ও আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এছাড়া সড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধ সৃষ্টি করা হয়, যার ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে সদর থানা পুলিশ ফাঁড়ি, ফাঁড়ির ভেতরে থাকা পুলিশ অফিসার্স মেস ও আরেকটি পুলিশ মোটরসাইকেলে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর প্রায় ছয় ঘণ্টা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের কার্যক্রম বন্ধ ছিল এবং সদর থানার প্রধান ফটক বন্ধ রাখা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ আরও জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর রাতেই তা নিহতদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনায় পুলিশের কেউ আহত না হলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুযোগসন্ধানী একটি ‘তৃতীয় পক্ষ’ পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে। তাদের ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে জেলা পুলিশ উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করে পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান তিনি।
শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গায়েবানা জানাজা

শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গায়েবানা জানাজা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বাদ আসর নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে ‘ছাত্র জনতার মঞ্চ’-এর ব্যানারে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা আবুজার গিফারি। নামাজ শেষে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় মুসল্লিরা তার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। গায়েবানা জানাজায় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য মো. লতিফুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও মাওলানা আব্দুল মতিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। একইদিন বাদ আসর শিবগঞ্জ সরকারি মডেল হাই স্কুল মাঠেও গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইমামতি করেন মাওলানা ড. মো. কেরামত আলী। জানাজায় ছাত্র সংগঠন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। জানাজা-পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বক্তারা বলেন, শরীফ ওসমান হাদি ন্যায়, আদর্শ ও স্বার্থহীন রাজনীতির যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা তরুণ সমাজের জন্য অনুকরণীয়। তারা তার আদর্শ ধারণ করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। এছাড়াও শনিবার মাগরিবের নামাজ শেষে গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর আহমদী বেগম (এবি) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইমামতি করেন মান্দার পরাণপুর কামিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক ইমাম আব্দুল কাদের। জানাজায় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরীফ ওসমান হাদি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তিনি মারা যান।
বাল্যবিবাহ ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সমন্বয় ও সহযোগিতা সভা অনুষ্ঠিত

বাল্যবিবাহ ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সমন্বয় ও সহযোগিতা সভা অনুষ্ঠিত বাল্যবিবাহ এবং শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে সরকারি কর্মকর্তা ও এনজিও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এক সমন্বয় ও সহযোগিতা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে বালুগ্রাম আদর্শ ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়। ইউনিসেফ ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহায়তায় ‘স্ট্রেংদেনিং সোশ্যাল অ্যান্ড বিহেভিয়ার চেঞ্জ (এসএসবিসি)’ প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন মানপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম। সভায় উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রোগ্রাম ম্যানেজার উত্তম মন্ডল, রেডিও মহানন্দার সহকারী স্টেশন ম্যানেজার রেজাউল করিম, স্থানীয় চিকিৎসক মশিউল করিম, এসএসবিসি প্রকল্পের কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটর তোহরুল ইসলাম, সরকারি ও বেসরকারি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারীরা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সভায় বাল্যবিবাহ ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধ, শিশুর অধিকার নিশ্চিতকরণ, বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি, অপ্রয়োজনীয়ভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক এবং এ বিষয়ে অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক, কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারী এবং বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি মিলিয়ে প্রায় ৩০ জন অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা সবাই মিলে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শিবগঞ্জে কৃষকদের মাঝে গম বীজ, সার ও বীজ সংরক্ষণ পাত্র বিতরণ

শিবগঞ্জে কৃষকদের মাঝে গম বীজ, সার ও বীজ সংরক্ষণ পাত্র বিতরণ শিবগঞ্জ উপজেলায় রবি মৌসুম ২০২৫-২৬-এ গমের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। বিকেলে উপজেলা কৃষি অফিস প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক আহমেদ ৭৫ জন কৃষকের হাতে গম বীজ, বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সার ও বীজ সংরক্ষণ পাত্র তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নয়ন মিয়া, ভেটেরিনারি সার্জন আবু ফেরদৌস, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে প্রত্যেক কৃষককে ২০ কেজি গম বীজ, ৩৫ কেজি ইউরিয়া, ২০ কেজি টিএসপি, ১৮ কেজি এমওপি, ১৭ কেজি জিপসাম, ১ কেজি জিংক, ১ কেজি বোরণ, ৩টি বীজ সংরক্ষণ পাত্র এবং একটি করে সাইনবোর্ড প্রদান করা হয়। কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক ও পরিকল্পিতভাবে গম চাষে উদ্বুদ্ধ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের ফলে চলতি মৌসুমে শিবগঞ্জ উপজেলায় গমের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
জেলা চাল কল মালিক গ্রুপের বার্ষিক সাধারণ সভা

জেলা চাল কল মালিক গ্রুপের বার্ষিক সাধারণ সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা চাল কল মালিক গ্রুপের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে শহরের একটি রেস্টুরেন্টের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা চাল কল মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন। শুরুতে সংগঠনের কার্যক্রম তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজ উদ্দিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই স্ট্যান্ডিং কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান ও এরফান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহবুব আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আকবর হোসেন, সহ-সভাপতি ফারুক হোসেন ও কোষাধ্যক্ষ আমিনুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সভা সঞ্চালনা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা চাল কল মালিক গ্রুপের নির্বাচনী বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম সেন্টু। সাধারণ সভায় সংগঠনের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজ উদ্দিন। এ সময় সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে জেলা চাল কল মালিক গ্রুপের নিজস্ব জমিতে একটি নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আলোচনায় আসে। সভায় উপস্থিত সদস্যরা সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন মতামত ও প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।