চীনে আম রপ্তানি শুরু ২৮ মে

চীনে আম রপ্তানি শুরু ২৮ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম রপ্তানিকারক ও আম ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় করেছেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব আনোয়ার হোসেন। জেলা চেম্বার ভবনে মঙ্গলবার দুপুরে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন- আগামী ২৮ মে থেকে চীনে আম রপ্তানি শুরু হবে। এবছর ১ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন আম রপ্তানি করতে যাচ্ছি। এজন্য কিছু চ্যালেঞ্জও আছে। যেমন, আম পরিশোধনের জন্য হটওয়ার্টার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট লাগবে, সে জায়গা থেকে আমরা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০টি হটওয়াটার প্লান্ট দিব, বাকি আপনারা ম্যানেজ করবেন। আম পরীক্ষার জন্য একটি কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র দরকার। সে জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বা রাজশাহীতে কোয়ারেন্টাইন ফ্যাসিলিটিজের ব্যবস্থা করা হবে। প্রসেসিং বা প্যাকেজিংটাও হবে। পাশাপাশি রাজশাহী বিমানবন্দর থেকে কার্গোবিমানে কম খরচে আম পরিবহন করা যায় কিনা, সে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব। তিনি বলেন, আমাদের দেশে ২৫ থেকে ২৬ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হচ্ছে। ফ্রেশ আমের পাশাপাশি আমকে প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং প্রসেসিংয়ের বিরাট সম্ভাবনা আছে। এ কাজে উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে নতুন নতুন পদ্ধতি বের করতে হবে। আমাদের তরফে যা যা সহযোগিতা দরকার তা আমরা করব। পুঁজির বিনিয়োগের ব্যাপারে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করব। তাছাড়া কৃষিভিত্তিক ইপিজেড স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করব। আম বোর্ড করার ব্যাপারেও আলোচনা করব। চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য দেনÑ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক মোহাম্মদ শাহজালাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইকতেখারুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি খায়রুল ইসলাম, সহসভাপতি আখতারুল ইসলাম রিমন। আমচাষিদের মধ্যে বক্তব্য দেনÑ বরেন্দ্র কৃষি উদ্যোগের মুনজের আলম মানিক, আহসান হাবিব, ইসমাইল খান শামীমসহ অন্যরা। আব্দুল ওয়াহেদ তার বক্তব্যে আমনুরায় কৃষিভিত্তিক ইপিজেড করার জন্য তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। মানিক তার বক্তব্যে জানান, ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে মালদায় আম উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে কৃষি অফিসের হিসাবমতে, প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টন আম হয়। তবে এ হিসাব আরো বেশি হবে। প্রায় ৯ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়। এর মধ্যে বাজারজাত করতে পারি সাড়ে ৪ লাখ টন। বাকি আম কোনো না কোনোভাবে নষ্ট হয়ে যায়। আমরা যদি ফ্রেশ আমের পাশাপাশি আমজাত পণ্য তৈরি করতে পারি তাহলে ৩০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন হবে। আহসান হাবিব তার বক্তব্যে আমের বাইপ্রডাক্টের ভ্যালু প্রায় ৬ হাজার কোটি হবে। তিনি আম বোর্ড, আম গবেষণা কেন্দ্র, আম নিয়ে নীতিমালা, আমবাগানে সেচের জন্য সোলার প্যানেল স্থাপন, কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান। আম উৎপাদন ও রপ্তানির বিদ্যমান অবস্থা সরেজমিন পরিদর্শনের লক্ষে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সফর করেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি শিবগঞ্জে রপ্তানিযোগ্য দুটি আমবাগান পরিদর্শন করেন। এছাড়াও তিনি হরিনগরে সিল্ক কারখানা ও শো-রুম পরিদর্শন করেন। পরে স্থানীয় উৎপাদকবৃন্দের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তথ্য আহরণ ও এসব প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের ক্ষেত্রে করণীয় বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
ঈদের আগে বেতন ও পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতাসহ ছয় দাবিতে বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের মানববন্ধন

ঈদের আগে বেতন ও পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতাসহ ছয় দাবিতে বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের মানববন্ধন ইএফটির নামে বিলম্ব নয়, দ্রুত বেতন প্রদান, ঈদুল আজহার আগেই পূর্ণাঙ্গ উৎসবভাতা প্রদান, সম্মানজনক বাড়িভাড়াসহ এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষকরা। মঙ্গলবার নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সালমা আক্তারের কাছে স্মারকলিপি দেন শিক্ষকগণ। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- নবাবগঞ্জ জেলা কলেজ শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ সমিতি’র সভাপতি ও নাচোল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওবাইদুর রহমান, সহসভাপতি ও সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মো. তরিকুল আলম সিদ্দিকী, রানীহাটি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল বাসার, আমনুরা হযরত বুলন্দ শাহ কলেজের অধ্যক্ষ মো. সারোয়ার আলম, শাহ নেয়ামতুল্লাহ কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. শরিফুল আলম, কানসাট সলেমান মিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আ. হামিদ, নামোশংকরবাটী ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান, সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল আখতার, দিলশাদ তাহমিনা, ও মো. মোত্তালেব হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহা. ফিরোজ কবিরসহ অন্য শিক্ষকগণ। বক্তারা দ্রুত শিক্ষকদের সমস্যাগুলো সমাধানের জোর দাবি জানান। তাদের দাবিগুলো হচ্ছে- ঈদুল আজহার আগেই শতভাগ বা পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদান; ১ হাজার টাকার পরিবর্তে জাতীয় বেতন স্কেলের ৪০-৪৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া প্রদান; ৫০০ টাকার মাসিক চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি করে ১ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত করা; অবসর কল্যাণ ভাতা প্রদানে কালক্ষেপণ না করে ৬ মাসের মধ্যে প্রদান করতে হবে; এমপিওভুক্ত কলেজে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদ সৃষ্টি করতে হবে এবং অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে নীতিমালা পরিবর্তন করে নতুন পরিপত্র জারি করতে হবে (উপাধ্যক্ষের ক্ষেত্রে ৩ বছরের সহকারী অধ্যাপনাসহ ১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এবং অধ্যক্ষের ক্ষেত্রে ৩ বছরের সহকারী অধ্যাপনাসহ ১৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে)।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে ৩ জন নিহত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে ৩ জন নিহত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বজ্রপাতে ৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার টিকরামপুর মধ্যপাড়া মহল্লার মেঘু মন্ডলের ছেলে মো. খাইরুল ইসলাম (৪৫), শিবগঞ্জ উপজেলা ছত্রাজিতপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হঠাৎপাড়া গ্রামের বেলাল উদ্দিনের ছেলে জালাল উদ্দিন কালু (৭০) ও একই উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের নয়ালাভাঙ্গা-সুন্দরপুর গ্রামের সাইদুর রহমান ওরফে বিশু হাজির ছেলে তাসবুল আলী (৪৮)। নিহতদের মধ্যে খাইরুল ও জালাল উদ্দিন পৃথক স্থানে ধান কাটার সময় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হলে তারা ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্যদিকে তাসবুল সদর উপজেলার বারঘরিয়া লক্ষ্মীপুর এলাকায় মাঠে গরু চরানোর সময় বজ্রপাতে তিনটি গরুসহ মারা যান। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মতিউর রহমান ও ছত্রাজিতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানী ছবি নিহত হবার খবর নিশ্চিত করেছেন।
বাবুডাইং ও চড়ইল বিলকে অভয়াশ্রম ঘোষণার দাবিতে পরিবেশ উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি

বাবুডাইং ও চড়ইল বিলকে অভয়াশ্রম ঘোষণার দাবিতে পরিবেশ উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাবুডাইং বনভূমি ও গোমস্তাপুর উপজেলার চড়ইল বিলকে অভয়াশ্রম ঘোষণার দাবিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দিয়েছে সেভ দ্য নেচার। গত সোমবার সন্ধ্যায় রাজশাহী বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের হাতে স্মারকলিটি তুলে দেয়া হয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সদর ও রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় অবস্থিত ‘বাবুডাইং বনভূমি’ ভূপ্রকৃতিগত কারণে সম্পর্ণ ভিন্ন ধরনের এলাকা। এখানে রয়েছে ছোট-বড় বেশ কিছু টিলা ও একটি খাড়ি (প্রাকৃতিক জলাধার)। এছাড়া বেশ কয়েকটি পুকুরও রয়েছে। এই এলাকাটি জীববৈচিত্র্যের আধার। বাবুডাইংয়ে ১২০ বছর পর ‘ব্রাউন ক্রেক’ পাখি দেখা গেছে ২০২০ সালের শুরুর দিকে। বর্তমানেও এই এলাকায় অবস্থান করছে। এখন পর্যন্ত এ পাখি বাংলাদেশের আর কোথাও দেখা যায়নি। এছাড়া দুই প্রজাতির নাটাবটের, দুই প্রজাতির রাতচরা পাখি, বুনো খরগোশ, বনবিড়াল, শিয়ালসহ নানা প্রজাতির বন্যপাণী ও পাখি রয়েছে। বিরল প্রজাতির পাখির ছবি তুলতে পাখি গবেষকরা প্রায়শই আসেন এখানে। পাখি ও প্রাণীর জন্য খাড়ি হলো পানির প্রধান উৎস। জমির মালিকরা ফসলে বিষ প্রয়োগের পর বিষের প্যাকেট ওই খাড়িতে ফেলে। ওই প্যাকেটে থাকা বিষ খাড়ির পানিতে মিশে বিষাক্ত হতে পারে। তাছাড়া খাড়িতে রয়েছে কচ্ছপসহ নানান মেরুদ-ী ও অমেরুদ-ী প্রাণী, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাবুডাইংয়ের উদ্ভিদ জগৎ ধ্বংসের আরো একটি বড় কারণ পালের গরু চরানো। প্রতিদিন শত শত গরু চরে এখানে। গরু চরানোর কারণে সেখানে নতুন কোনো উদ্ভিদ জন্মাতে পারে না। ২০১৮ সালে জেলা প্রশাসন এবং আমরা সেভ দ্য নেচার, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপণ করা হয়। কিন্তু গরু চরানোর কারণে একটা গাছও রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলায় বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের চড়ইল বিলেও দেশের খ্যাতনামা পাখি গবেষকরা আসেন। এই বিলটি জীববৈচিত্র্যের আধার। প্রতি বছর শীত মৌসুমে এখানে আসে বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখি। সেখানেও নানান কারণে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও রাজশাহী গোদাগাড়ী উপজেলার বাবুডাইং বনভূমি এবং গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের চড়ইল বিলকে অবিলম্বে অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করে ওই এলাকা দুটোর জীববৈচিত্র্য রক্ষা করার দাবি জানানো হয় স্মারকিলিপিতে। স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেনÑ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সেভ দ্য নেচার’র প্রধান সমন্বয়ক সাংবাদিক রবিউল হাসান ডলার ও সমন্বয়ক তৌহিদুল ইসলাম।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের পেছনে ধাক্কা, নসিমন চালক নিহত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের পেছনে ধাক্কা, নসিমন চালক নিহত চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি নসিমন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিলে মমিন (৩৬) নামে নসিমন চালক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নয়াগোলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মমিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহিপুর ভাটোপাড়া গ্রামের তোতার ছেলে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মতিউর রহমান জানান, ভোরে মহিপুর থেকে আম নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে আসার পথে নয়াগোলা মোড়ে নসিমনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন মমিন। ফলে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পিছনে ধাক্কা লাগে। এতে নসিমন চালক মমিন গুরুতর আহত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।
নাচোলে শিক্ষকদের কর্মবিরতি

নাচোলে শিক্ষকদের কর্মবিরতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মঙ্গলবার কর্মবিরতি করেছেন। সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এ কর্মবিরতি করেন তারা। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে এক সপ্তাহের ছুটিতে যাওয়ার প্রতিবাদে এ কর্মবিরতি বলে জানা গেছে। সকাল ১০টার দিকে সরেজমিন স্কুলে গিয়ে অফিসকক্ষে শিক্ষকদের বসে সময় পার করতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আনিকুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে এলাকার সুধীজন ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও দুদক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক ও শিক্ষা অফিসের তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়ম না মেনে কাউকে দায়িত্ব না দিয়েই ১৮ মে থেকে এক সপ্তাহের ছুটিতে বাইরে রয়েছেন। তিনি আরো বলেন, এদিকে গত ১৯ মে এসএসসির পাবলিক পরীক্ষার ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বোর্ডে খাতা পাঠানোর জন্য কেন্দ্র সচিবের বিভিন্ন স্থানে স্বাক্ষর দিয়ে পাঠাতে হবে। কিন্তু সেটা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে শিক্ষকরা পড়েছেন বিপাকে। কর্মবিরতি চলবে কিনা এ বিষয়ে আনিকুল ইসলাম জানান, এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামীকাল (আজ বুধবার) স্কুলে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ বিষয়ে পরিচালনা কমিটির সভাপতি দুরুল হোদা জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আনীত অভিযোগগুলো তদন্ত চলমান রয়েছে। তবে তার অসুস্থতাজনিত মানবিক কারণে এক সপ্তাহের ছুটি দেয়া হয়েছে। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ছুটিকালীন কাউকে দায়িত্ব দেয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান সভাপতি। এছাড়া শিক্ষকদের কর্মবিরতির বিষয়টিও তিনি জানেন না বলে জানান। এদিকে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের দায়িত্বে থাকা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমার কাছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাইরুল ইসলামের ছুটির একটি আবেদন এসেছে। তবে সে আবেদনে দায়িত্বরত কোনো শিক্ষকের নাম নেই। তিনি বলেন, শিক্ষকদের কর্মবিরতির বিষয়টি জানার চেষ্টা করবেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নীলুফা সরকার জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক দুর্নীতির আনীত অভিযোগগুলো দুদক ও শিক্ষা অফিসের তদন্ত টিম কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়মবহির্ভূতভাবে ছুটি নিয়ে বাইরে রয়েছেন। এছাড়া শিক্ষকদের কর্মবিরতির বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে অবহিত করা হয়েছে। তারা তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নিবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪৬তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার সমাপনী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪৬তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার সমাপনী ‘জ্ঞান বিজ্ঞানে করব জয়, সেরা হবো বিশ্বময়’- এ স্লোগানকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪৬তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলা শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এই মেলা শেষ হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ মঞ্চে সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সালমা আক্তার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আফাজ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন- নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আব্দুল আওয়াল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. ইকতেখারুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার রুবিনা আনিস। সমাপনী দিনে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসনেয়াতুন নেসা। আলোচনা শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দুই দিনব্যাপী মেলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৫ উপজেলার ৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও উদ্ভাবকরা অংশ নিয়েছেন। যেখানে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্ভাবিত ধারণা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন।
শিবগঞ্জে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান

শিবগঞ্জে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান করেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তর। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৬টি পরিবারকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও পানিতে ডুবে নিহত দুজনের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকার চেক দেয়া হয়। চেক বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আজাহার আলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো. মিজানুর রহমান, দুর্লভপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম আজম, কানসাট ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য মো. ইমরান আলী।
বাকি ১৫৫ টাকা; পরিশোধ করতে বলায় দোকানিকে পিটিয়ে হত্যা : আসামীর যাবজ্জীবন

বাকি ১৫৫ টাকা; পরিশোধ করতে বলায় দোকানিকে পিটিয়ে হত্যা : আসামীর যাবজ্জীবন চাঁপাইনবাবঞ্জে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় নুর আমিন নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদন্ড, পাঁচ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ছয়মাস কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ দুপুর ২টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দায়রা জজ মিজানুর রহমান একমাত্র আসামীর উপস্থিতিতে সাজা ঘোষনা করেন। নিহত রমজান চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের রাজারামপুর মিস্ত্রীপাড়া মহল্লার তৈমুর রহমানের ছেলে। অপরদিকে দন্ডিত নুর আমিন একই মহল্লার আব্দুস সাত্তারের ছেলে। মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায় এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল ওদুদ জানান, ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় রমাজনের বাড়ি সংলগ্ন ভাজা-পোড়ার দোকানের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন নুর আমিন। এ সময় রমজান তাঁকে ডেকে দোকানে বাকী থাকা ১৫৫ টাকা পরিশোধের জন্য বলেন। এনিয়ে কথাকাটাটির একপর্যায়ে নুর আমিন দোকনের রুটি বেলার কাঠের বেলনা দিয়ে রমজানের মাথায় আঘাত করেন। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। রাজশাহী যাবার পর রাত সোয়া ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রমজান আলী। এ ঘটনায় পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারী তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া খাতুন একমাত্র নুর আমিনকে আসামী করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন। ১৯ জনের সাক্ষ্য, প্রমাণ এবং শুনানী শেষে আদালত নুর আমিনকে দোষি সাব্যস্ত করে আজ দন্ড ঘোষণা করেন। আসামীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এড.শফিক এনায়েতুল্লাহ।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন

২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনএসি) আজ পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রেখে আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন এনইসি চেয়ারপার্সন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন। আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার এডিপির মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ও অনুদান হিসেবে আসবে ৮৬ হাজার কোটি টাকা। তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে ৮ হাজার ৫৯৯ দশমিক ৭১ কোটি টাকা যুক্ত করলে, আগামী অর্থবছরের জন্য মোট এডিপির আকার দাঁড়াবে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৫৯৯ দশমিক ৭১ কোটি টাকা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, অনুমোদিত এডিপি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নতুন বাজেটের অংশ, যা ২ জুন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ঘোষণা করবেন। ড. মাহমুদ বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটের মূল কৌশল হলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা, মুল্যস্ফীতি হ্রাস করা, বাজেট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বাজেটকে টেকসই করা। তিনি আরো বলেন, ‘একই সঙ্গে দেশি বা বিদেশি ঋণের ফাঁদে না পড়ে ঋণ পরিশোধে বা উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয় মেটাতে যেন অতিরিক্ত চাপ না হয় তা নিশ্চিত করাই হবে আমাদের লক্ষ্য। আমরা অতিতে যে দুষ্টচক্রে পড়েছিলাম সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করব।’ রাতারাতি রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, তা সত্ত্বেও সরকার বাজেট ঘাটতি জিডিপির চার শতাংশের মধ্যে রেখে ব্যয় সমান রাখার চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির প্রবণতা বিবেচনা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হঠাৎ করে বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি কমাতে পারবে না। ড. মাহমুদ বলেন, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ছাড়াও এই বাজেট ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বাজেট হবে না যেখানে স্বল্পমেয়াদে সাধারণ মানুষকে সন্তুষ্ট করার জন্য এমন কোনও ব্যয় করা হবে না যা পরবর্তীতে দায় বাড়িয়ে দিতে পারে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, জাপানের অর্থায়নে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প ছাড়া নতুন কোনো মেগা প্রকল্প বা দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প নতুন এডিপিতে নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, কিছু অসুবিধা সত্ত্বেও সরকার উন্নয়ন অংশীদার এবং বিদেশি পক্ষগুলোর কাছে বছরের পর বছর ধরে বকেয়া পাওনা ধীরে ধীরে পরিশোধ করছে। সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, এ বছর এটি কম হবে কারণ ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে অনেক প্রকল্প যাচাই-বাছাই করেছে, বরাদ্দ কমিয়েছে, তহবিলের অপব্যবহার রোধ করেছে যার ফলে বাস্তবায়নের ধারা কিছুটা ধীর হয়ে গেছে। পায়রা বন্দর, কর্ণফুলী টানেল এবং বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) এর মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে প্রকৃত ফলাফল বিবেচনা না করেই পূর্ববর্তী সরকারের আমলে এই প্রকল্পগুলো গ্রহণ করা হয়েছিল। আগামী অর্থবছরের জন্য নতুন এডিপির আকার চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির তুলনায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বা ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা, যা পরবর্তীতে সংশোধিত হয়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। নতুন এডিপি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে প্রণীত হয়েছে। এছাড়াও, কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আইসিটি, পরিবহন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন নিশ্চিতকরণের মতো খাতগুলোকে নতুন এডিপিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নতুন এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত ৫৮ হাজার ৯৭৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা। এরপর রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩২ হাজার ৩৯২ দশমিক ২৬ কোটি টাকা (১৪ দশমিক ৮ শতাংশ), শিক্ষা খাত ২৮ হাজার ৫৫৭ দশমিক ৪৩ কোটি টাকা (১২ দশমিক ৪২ শতাংশ), গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাবলী খাত ২২ হাজার ৭৭৬ দশমিক ৪০ কোটি টাকা (৯ দশমিক ৯০ শতাংশ) এবং স্বাস্থ্য খাত ১৮ হাজার ১৪৮ দশমিক ১৪ কোটি টাকা (৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ) বরাদ্দ পেয়েছে। এই পাঁচটি খাতে মোট বরাদ্দের প্রায় ৭০ শতাংশ বরাদ্দ পেয়েছে। শীর্ষ ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ সর্বোচ্চ ৩৬ হাজার ৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে, এরপর রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ৩২ হাজার ৩২৯ দশমিক ৫৭ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ বিভাগ ২০ হাজার ২৮৩ দশমিক ৬২ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ১৩ হাজার ৬২৫ দশমিক ৩ কোটি টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১২ হাজার ১৫৪ দশমিক ৫৩ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ১১ হাজার ৬১৭ দশমিক ১৭ কোটি টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১১ হাজার ৩৯৮ দশমিক ১৬ কোটি টাকা, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ৯ হাজার ৩৮৭ দশমিক ৬২ কোটি টাকা, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৮ হাজার ৪৮৯ দশমিক ৮৬ কোটি টাকা এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় ৭ হাজার ৭১৪ দশমিক ৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। নতুন এডিপিতে মোট ১ হাজার ১৭১টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে ৯৯৩টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ১৯টি সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্প, ৯৯টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প এবং ৬০টি সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প রয়েছে। প্রস্তাবিত এডিপিতে ৭৯টি প্রকল্প পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্য রাখা হয়েছিল এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় বাস্তবায়নের জন্য ২২৮টি প্রকল্প রাখা হয়েছিল। এছাড়া, নতুন এডিপিতে ২৫৮টি প্রকল্প আবশ্যিকভাবে সমাপ্ত করার লক্ষ্যে রাখা হয়েছিল। যার মধ্যে ২১২টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ১১টি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প, ১৮টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প এবং ১৭টি সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প। সংশ্লিষ্ট সচিববৃন্দ এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।