সোশ্যাল মিডিয়ায় কিশোরদের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা সম্ভব

সোশ্যাল মিডিয়ায় কিশোরদের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা সম্ভব: অস্ট্রেলিয়ান ট্রায়াল ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে বড় সাফল্য অজর্ন করেছে অস্ট্রেলিয়া। সরকারি এক ট্রায়ালে প্রমাণিত হয়েছে, ডিজিটাল বয়স যাচাই প্রযুক্তি ‘গোপনীয়তা রক্ষা করে কার্যকর ও নির্ভরযোগ্যভাবে’ কাজ করতে সক্ষম। শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তি থেকে রক্ষা করতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আইন পাস করেছে অস্ট্রেলিয়া। গত নভেম্বরে পাস হওয়া এ আইন চলতি বছরের শেষ নাগাদ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক এবং এক্স-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো যদি এ আইন মানতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদেরকে পাঁচ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার (৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো আইনটিকে  ‘অস্পষ্ট, তাড়াহুড়ো এবং ত্রুটিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছে। সিডনি থেকে এএফপি জানিয়েছে, সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি স্বাধীন  বয়স নিশ্চয়তা প্রযুক্তি ট্রায়ালের অন্তর্বর্তী ফলাফলে  দেখা গেছে, বয়স যাচাইকরণ প্রযুক্তি এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ট্রায়ালের প্রকল্প পরিচালক টনি অ্যালেন বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় এই ব্যবস্থা চালু করতে কোনো বড় প্রযুক্তিগত বাধা নেই। এই সমাধানগুলো প্রযুক্তিগতভাবে বাস্তবায়নযোগ্য, বিদ্যমান সেবার সঙ্গে নমনীয়ভাবে একত্রিত করা যায় এবং অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষা ও অধিকার রক্ষা করতে পারে। তবে অস্ট্রেলিয়ার নাইন নেটওয়ার্কে এক সাক্ষাৎকারে অ্যালেন সতর্ক করে বলেন, শিশুদের এই যাচাইকরণ পদ্ধতি এড়িয়ে যাওয়া ঠেকানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমি মনে করি না, কোনো ব্যবস্থাই শতভাগ নির্ভুল হতে পারে। ট্রায়াল প্রতিবেদনে জানানো হয়, বয়স যাচাইয়ের জন্য অনেক পদ্ধতি থাকলেও সব পরিস্থিতিতে উপযোগী এমন একক সমাধান নেই। এই ট্রায়ালে ৫৩টি সংস্থা অংশ নিয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। কারণ গবেষণায় দেখা গেছে, এসব প্ল্যাটফর্ম শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার এই নতুন আইন অন্যান্য দেশও পর্যবেক্ষণ করছে। অনেকেই এখন নিজেদের দেশে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে। এদিকে, গ্রিস চলতি মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে ‘ডিজিটাল প্রাপ্তবয়স্ক’ বয়স নির্ধারণ করা হয় এবং বাবা মায়ের সম্মতি ছাড়া শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।

চার প্রকল্পে ১৩০ কোটি ডলার ঋণ দেবে এডিবি

চার প্রকল্পে ১৩০ কোটি ডলার ঋণ দেবে এডিবি আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, আর্থিক খাতকে শক্তিশালীকরণ এবং দেশের জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শুক্রবার বাংলাদেশ সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মধ্যে মোট ১৩০ কোটি ৪০ লাখ ডলারের চারটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর সচিব মো. শহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী ও  বাংলাদেশে এডিবির আবাসিক মিশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জং এই ঋণচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় বাংলাদেশ সরকার ও এডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নতুন এই ঋণচুক্তিগুলোর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে দৃশ্যমান উন্নয়ন সাধিত হবে। ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তার মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতে কাঠামোগত সংস্কার এনে আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার করা হবে। অর্থ বিভাগ ‘ব্যাংকিং খাত স্থিতিশীল ও সংস্কার কর্মসূচি (সাব-প্রোগ্রাম ১)’ প্রণয়ন করেছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ‘জলবায়ু সহনশীল অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কর্মসূচি (সাব-প্রোগ্রাম ২)’ শীর্ষক প্রকল্পে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা বাংলাদেশকে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলবে। এটি বাস্তবায়ন করবে অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশনের প্রোগ্রামিং বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়। ‘সাসেক নর্থ-ওয়েস্ট করিডোর ফেজ ২’ প্রকল্পের চতুর্থ কিস্তি হিসেবে ২০৪ মিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। এটি এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক উন্নয়নে ব্যয় হবে। এই কিস্তির মাধ্যমে ২০১৭ সাল থেকে এই করিডোরে এডিবির মোট বিনিয়োগ দাঁড়াল ১.২ বিলিয়ন ডলার। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। ২০০ মিলিয়ন ডলারের বিদ্যুৎ আধুনিকায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চল থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সংযোগ নিশ্চিত করে ৯টি সাবস্টেশন উন্নয়ন ও ১৪১ কিমি নতুন বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করা হবে। ‘পাওয়ার ট্রান্সমিশন স্ট্রেনদেনিং অ্যান্ড ইন্টিগ্রেশন অব রিনিউয়েবল এনার্জি প্রজেক্ট’ শীর্ষক এই প্রকল্প ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়ন করবে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি।

২০২৪ সালে শিশুদের প্রতি সহিংসতা ‘ভয়াবহ মাত্রায়’ পৌঁছেছে: জাতিসংঘ

২০২৪ সালে শিশুদের প্রতি সহিংসতা ‘ভয়াবহ মাত্রায়’ পৌঁছেছে: জাতিসংঘ গাজা থেকে শুরু করে কঙ্গো প্রজাতন্ত্র পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতময় অঞ্চলে ২০২৪ সালে শিশুদের ওপর সহিংসতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের এক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদরদপ্তর থেকে এএফপি এ খবর জানায়। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের ওপর সহিংসতার মাত্রা নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। আর ২০২৩ সালের চেয়ে গুরুতর সহিংসতার ঘটনা ২৫ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে শিশুদের বিরুদ্ধে ৪১ হাজার ৩৭০টি গুরুতর সহিংসতার ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ৩৬ হাজার ২২১টিই সংঘটিত হয়েছে ২০২৪ সালে। বাকি ৫ হাজার ১৪৯টি আগের বছরের হলেও তা এ বছর যাচাই করা হয়েছে। এটি গত ৩০ বছরের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালেও শিশু সহিংসতায় রেকর্ড হয়েছিল, তবে পরের বছর অবশ্য সেই রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যায়। ২০২৪ সালে আগের বছরের তুলনায় সহিংসতা বেড়েছে ২১ শতাংশ। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০২৪ সালে সশস্ত্র সহিংসতায় সাড়ে ৪ হাজারেও বেশি শিশু নিহত এবং কমপক্ষে ৭ হাজার জন আহত হয়। বর্তমানে নির্বিচার হামলা ও সহিংসতার প্রধান শিকার শিশুরাই বলেও দাবি করা হয়। এছাড়াও বহু শিশু একাধিক সহিংসতার শিকার হয়েছে। এমন ভুক্তভোগী শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৪৯৫ জনে। জাতিসংঘ মহাসচিবের শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ভার্জিনিয়া গাম্বা বলেন, যে ২২ হাজার ৪৯৫ শিশুর এখন স্কুলে পড়া বা মাঠে খেলাধুলা করার কথা, তারা আজ শিখছে কীভাবে গোলাগুলি আর বোমার মধ্যেও বেঁচে থাকতে হয়। এই শিশুদের আর্তনাদ আমাদের সবার রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়ার মতো। তিনি আরো বলেন, এটি যেন আমাদের জন্য সতর্ক সংকেত হয়। কারণ আমরা একেবারে সংকটসীমার কিনারায় পৌঁছে গেছি। জাতিসংঘ প্রতিবছর বিশ্বের প্রায় ২০টি সংঘাতময় অঞ্চলে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার তালিকা প্রকাশ করে। প্রতিবেদনের পরিশিষ্টে যুক্ত রয়েছে তথাকথিত ‘লজ্জার তালিকা’, যেখানে শিশুদের ওপর সহিংসতার জন্য দায়ীদের নাম প্রকাশ করা হয়। এ তালিকায় এ বছর নতুন করে যুক্ত হয়েছে হাইতির একটি সশস্ত্র গ্যাং জোটের নাম। তাদের বিরুদ্ধে শিশু হত্যা ও অঙ্গহানি, সশস্ত্র সহিংসতায় নিয়োগ, অপহরণ, মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা এবং যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ইসরাইলি সশস্ত্র বাহিনী এবং ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসের নাম এ বছরের তালিকাতেও রয়েছে।

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে গত ১৬ জুন জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত আশু বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় জানানো হয়, ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জন-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে প্রধান ছয়টি কমিশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে যেসব সংস্কার কমিশন গঠন করে সে কমিশনগুলো সরকারের কাছে সংস্কার প্রস্তাব দাখিল করেছে। এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সংবিধান সংশ্লিষ্ট ও বড় সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্যের জন্য প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কাজ করছে। তবে, যে সব সংস্কার প্রস্তাব প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় নিজ উদ্যোগেই বাস্তবায়ন করতে পারে, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশনা দিয়েছেন।আজ প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত ২৫ মে ২০২৫ তারিখে এ সংক্রান্ত একটি পত্র বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে প্রেরণ করেছে। সভায় জানানো হয়, পাঁচটি সংস্কার কমিশনের আশু বাস্তবায়নযোগ্য মোট ১২১টি প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে বাস্তবায়ন কার্যক্রম গ্রহণের জন্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের নয়টি, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের ৩৮টি, দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের ৪৩টি, পুলিশ সংস্কার কমিশনের ১৩টি এবং জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ১৮টি সংস্কার প্রস্তাব আশু বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে বাছাই করা হয়েছে। ১৬ জুন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভার প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ১৮টি প্রস্তাব। এই ১৮টি প্রস্তাবের মধ্যে আটটি অপেক্ষাকৃত সহজে বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাব নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। এগুলো হলো: (১) মহাসড়কের পেট্রোল-পাম্পগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট সংক্রান্ত, (২) মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটকে ডায়নামিক করা, (৩) কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন, (৪) কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিচালনা, (৫) গণশুনানি, (৬) তথ্য অধিকার আইন, (৭) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পুনর্গঠন এবং (৮) ডিজিটাল রূপান্তর এবং ই-সেবা। আলোচনার ভিত্তিতে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণ করা হয়: ১. মহাসড়কের পেট্রোল-পাম্পগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ: জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠক করে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট স্থাপনের বিষয়ে মতবিনিময় করে আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে দেশের সব পেট্রোল ও সিএনজি পাম্পে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট স্থাপনের সময়সীমা নির্ধারণ করা যেতে পারে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করবে এবং জেলা প্রশাসনকে বাস্তবায়ন তদারকির অনুরোধ জানাবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগও জেলা প্রশাসকদের এ বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করবে। জেলা প্রশাসন নিয়মিত পরিদর্শন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়কে অবহিত করবে। ২. মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটকে ডায়নামিক করা: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এক সপ্তাহের মধ্যে সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সভা করে ওয়েবসাইটে হালনাগাদ তথ্য আপলোড এবং নাগরিকদের মতামত প্রদানের অপশন রাখার বিষয়ে করণীয় ঠিক করে দেবে। ন্যাশনাল ডেটা গভার্নেন্স ইন্টারঅপারেবিলিটি’র কাজ আগামী দুই মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। ৩. সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন: মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ দুইদিনের মধ্যে ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত নীতিমালা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে ভেটিং সম্পন্ন করে তা ফেরত পাঠাবে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তা জারি করবে। নীতিমালা জারির এক মাসের মধ্যে কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি পুনর্গঠনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। ৪. বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনা: স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোসহ সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে এক সপ্তাহের মধ্যে সভা করে কমিউনিটি স্বাস্থ্য পরিচালনার কৌশল নির্ধারণ করবে। ৫. সব সরকারি দপ্তরে নির্দিষ্ট বিরতিতে গণশুনানি নিশ্চিত করা: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক সপ্তাহের মধ্যে সব সেবা প্রদানকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করে গণশুনানির কৌশল ঠিক করে দেবে। ৬. তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ এবং অফিসিয়াল সিক্রেটস এ্যাক্ট, ১৯২৩ পর্যালোচনা ও সংশোধন: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অফিসিয়াল সিক্রেটস এ্যাক্ট, পর্যালোচনা ও সংশোধনের সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ পর্যালোচনা ও সংশোধনের সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে। ৭. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে ‘বাংলাদেশ পরিসংখ্যান কমিশন’ হিসেবে রূপান্তর করা: বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় চলমান সংস্কার কার্যক্রমের সঙ্গে কমিশনের সুপারিশ সমন্বয় করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পুনর্গঠন করতে হবে। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এ বিষয়ে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে। ৮. ডিজিটাল রূপান্তর সম্পন্ন করা এবং ই-গভর্নমেন্ট ও ই-সার্ভিস ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ বর্তমান সরকার কর্তৃক বাস্তবায়িত নাগরিক প্লাটফরমে সরকারের সব সেবা অন্তর্ভুক্ত করার সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে। ন্যাশনাল ডেটা গভার্নেন্স ইন্টারঅপারেবিলিটি সিস্টেম দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে সব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ তাদের সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়কে অবহিত করবে। সভাপতির বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, প্রতিটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ নিজস্ব বাস্তবায়ন টিম গঠন করবে এবং সময়াবদ্ধ কার্যক্রম গ্রহণ করবে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিবের তত্ত্বাবধানে গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) আওতায় একটি তদারকি টিম থাকবে, যা মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। এছাড়াও, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগও এই সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন তদারকি করবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সংস্কার কার্যক্রমও এগিয়ে নিতে নিয়মিত এই ধরনের সভা আয়োজন করা হবে। এছাড়াও বিগত মাসগুলোতে সরকারের প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয় ছোট-বড় বহু সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। মোট ৫৪টি মন্ত্রণালয়ে ১ হাজার ৬১টি সংস্কার ও উন্নয়ন সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ভারতের সার্ভার জটিলতায় চালু হয়নি সোনামসজিদ স্থলবন্দর

সার্ভার জটিলতায় চালু হয়নি সোনামসজিদ স্থলবন্দর ঈদ উপলক্ষে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানী ও রপ্তানী এবং সিএন্ডএফ সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম টানা ১০দিন বন্ধের পর আজ চালু হবার কথা থাকলেও বিপরীতে ভারতের মোহদিপুর স্থবন্দরের সার্ভার জটিলতায় তা চালু হয় নি। আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমদানী পণ্যবাহী কোন ভারতীয় ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করে নি। বাংলাদেশ থেকেও কোন রপ্তানী পণ্যবাহী ট্রাক ভারতে প্রবেশ করে নি সোনামসজিদ সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশন আহব্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ভারতে অনলাইনে সেন্ট্রাল সার্ভার আপডেপের কাজ চলছে। কাজ শেষে আগামীকাল থেকে সোনামসজিদ ও বিপরীতে ভারতের মোহদিপুর বন্দরের আমদানী রপ্তানী সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম চালু হবে বলে সংশ্লিস্ট ভারতীয় পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অপরদিকে ঈদ উপলক্ষে টানা ১১দিন বন্ধের পর রহনপুর রেলবন্দরে ভারত থেকে ৪২টি ওয়াগন বোঝাই আমদানীকৃত পাথরবাহী একটি ট্রেন আজ বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রহনপুরে প্রবেশ করেছে বলে নিশ্চিত করেছে রেলবন্দর সূত্র। রহনপুর রেলষ্টেশন মাষ্টার মামুনুর রশিদ জানান, ঈদ উপলক্ষে টানা ১১দিন বন্ধের পর আজ যথারীতি বন্দরের কার্যক্রম চালু হয়েছে। এদিকে সোনমসজিদ ইমি্েরগ্রশন অফিসার জামিরুল ইসলাম জানান, ঈদ উপলক্ষে বন্দরের কার্যক্রম টানা ১০ দিন বন্ধ থাকলেও ঈদের দিন সহ যথারীতি প্রতিদিন চালু রয়েছে ইমিগ্রেশন পথে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত।

এক সিনেমাতেই ৪২৩ কোটি টাকা পারিশ্রমিক দাবি শাহরুখের

এক সিনেমাতেই ৪২৩ কোটি টাকা পারিশ্রমিক দাবি শাহরুখের বলিউড বাদশা শাহরুখ খান। তার অভিনীত ‘জিরো’ সিনেমা ২০১৮ সালে মুক্তি পায়। কিন্তু বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে এটি। এরপর কয়েকটি সিনেমায় ক্যামিও চরিত্রে দেখা যায় শাহরুখ খানকে। মূলত, ‘জিরো’ সিনেমা মুক্তির পর বিরতি নেন তিনি। প্রস্তুতি নিয়ে ২০২০ সালের শেষ লগ্নে ‘পাঠান’ সিনেমার শুটিং শুরু করেন শাহরুখ। সর্বশেষ ২০২৩ সালে মুক্তি পায় সিনেমাটি। দীর্ঘ চার বছর পর এ সিনেমার মাধ্যমে রাজকীয়ভাবে প্রেক্ষাগৃহে ফিরেন শাহরুখ। আর ফিরেই বক্স অফিসে ঝড় তুলেন শাহরুখ; পাশাপাশি দর্শকদের মুঠো মুঠো ভালোবাসা কুড়ান। এ সিনেমা এক হাজার কোটি রুপির বেশি আয় করে। ২০২৩ সালের ২৫ জানুয়ারি মুক্তি পায় ‘পাঠান’ সিনেমা। এরপর প্রায় সাড়ে সাত মাসের বিরতি নেন শাহরুখ। একই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায় তার অভিনীত ‘জওয়ান’ সিনেমা। এটি মুক্তির পরও বক্স অফিসে নতুন করে ঝড় তুলে। ‘পাঠান’ সিনেমার মতো ‘জওয়ান’-এর জন্য ভালোবাসা কুড়ান শাহরুখ। সিনেমাটি ১১৬০ কোটি রুপি আয় করে। ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর মুক্তি পায় শাহরুখ খানের ‘ডাঙ্কি’ সিনেমা। মুক্তির পর দর্শক-সমালোচকদের ভূয়সী প্রশংসা যেমন কুড়ায়, তেমনি বক্স অফিসেও সিনেমাটি ভালো সাড়া ফেলে। এরপর তার আর কোনো সিনেমা মুক্তি পায়নি। বর্তমানে ‘কিং’ সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এরই মধ্যে জোরালো গুঞ্জন উড়ছে, দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রভাবশালী প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মিথরি মুভি মেকার্স শাহরুখকে নিয়ে প্যান-ইন্ডিয়ান সিনেমা নির্মাণ করতে যাচ্ছেন। আর এজন্য ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক নিচ্ছেন কিং খান। ইন্ডিয়া ডটকমের তথ্য অনুসারে, মিথরি মুভি মেকার্সের ব্যানারে নির্মিত হয়েছে আল্লু অর্জুন অভিনীত ‘পুষ্পা’ সিনেমা। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিকবার মিটিং করেছেন শাহরুখ। সর্বশেষ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন কিং খান। তবে শাহরুখ খান এ প্রজেক্টের জন্য ৩০০ কোটি রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪২৩ কোটি টাকার বেশি) পারিশ্রমিক দাবি করেছেন। তবে শাহরুখ খানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র পিঙ্কভিলাকে বলেন, “শাহরুখ খান বর্তমানে ‘কিং’ সিনেমার উপর পুরোপুরি মনোযোগ দিয়েছেন। বলা যায়, তার সমস্ত শক্তি ব্যয় করছেন। চলতি বছরের শেষ নাগাদ নতুন সিনেমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। মিথরি মুভির সঙ্গে কোনো বৈঠক করেননি, চিত্রনাট্যের বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি শাহরুখ।” মিথরি মুভি মেকার্সের সঙ্গে শাহরুখের প্রজেক্ট নিয়ে শোবিজ অঙ্গনে জোর চর্চা চললেও এ নিয়ে টু-শব্দ করেননি শাহরুখ খান। শাহরুখ খানের পরবর্তী সিনেমা ‘কিং’। এতে তার সহশিল্পী দীপিকা পাড়ুকোন। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকার কারণে সিনেমাটির কাজ পিছিয়ে নেন শাহরুখ। চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ‘কিং’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নেবেন দীপিকা পাড়ুকোন। সিনেমাটির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আরো অভিনয় করবেন— অভিষেক বচ্চন, জয়দীপ আহলাওয়াত। আগামী বছরের দ্বিতীয়ার্ধে সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা করেছেন নির্মাতারা। এটি পরিচালনা করছেন সিদ্ধার্থ আনন্দ।

ইরানের সাথে ‘সমন্বিত’ভাবে ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথি

ইরানের সাথে ‘সমন্বিত’ভাবে ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা রোববার জানিয়েছে, ইরানের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর ভয়াবহ বোমা হামলার পর ইরান পাল্টা হিসাবে ইসরাইলে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র  হামলা চালিয়েছে। সানা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। হুথিরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মধ্য ইসরাইলে ‘ইসরাইলের সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে সামরিক হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। রাজধানী  সানাসহ  ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখলকারী এই গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা ‘গত ২৪ ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন সময়ে’ ‘বেশ কয়েকটি ফিলিস্তিনি ২ হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র’ দিয়ে এই অঞ্চলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।  হুথিরা জানিয়েছে, তাদের হামলা ‘ইরানি সামরিক বাহিনীর পরিচালিত অভিযানের সাথে সমন্বিত’ ছিল। গত ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হুথিরা ইসরাইল এবং ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা শুরু করে। ইসরাইল ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অসংখ্য হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সানার বন্দর এবং বিমানবন্দর।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চতুর্থ চক্রে ১২ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চতুর্থ চক্রে ১২ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চতুর্থ চক্রে (২০২৫-২৭) ৬ সিরিজে ১২টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এরমধ্যে তিনটি সিরিজ ঘরের মাঠে, বাকী তিনটি বিদেশের মাটিতে। টাইগারদের সবগুলো সিরিজই দুই ম্যাচের হবে। আগামী ১৭ জুন লংকার মাটিতে দুই ম্যাচের সিরিজ দিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চতুর্থ আসর শুরু হবে। শ্রীলংকা ছাড়াও এই চক্রে বিদেশের মাটিতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। এছাড়া দেশের মাটিতে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা আছে টাইগারদের। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম চক্রে (২০১৯-২১) ৭ ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। ঐ আসরে কোন ম্যাচ জিততে পারেনি তারা। ৬ হারের সাথে ১টি ম্যাচ ড্র করেছিল টাইগাররা। নয় দলের আসরে নবম ও শেষ স্থানে ছিল বাংলাদেশ।  প্রথম আসরে জয়হীন থাকলেও দ্বিতীয় চক্রে (২০২১-২৩) প্রথম জয়ের দেখা পায় বাংলাদেশ। ২০২২ সালের পহেলা জানুয়ারি মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে নিউজিল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারায় টাইগাররা। ঐ আসরে ১২ ম্যাচ খেলে ১টি করে জয়-ড্র এবং ১০টি ম্যাচ হারে বাংলাদেশ। ফলে নয় দলের মধ্যে টেবিলের তলানিতে ছিল তারা। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম দুই আসরে টেবিলের তলানিতে থাকলেও, গতকাল শেষ হওয়া তৃতীয় চক্রে (২০২৩-২৫) নয় দলের মধ্যে সপ্তম হয় বাংলাদেশ। ১২ ম্যাচে ৪ জয় ও ৮ হারের স্বাদ পায় টাইগাররা। এই চক্রে পাকিস্তানের বিপক্ষে দু’টি, নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১টি করে জয় পায় বাংলাদেশ। চতুর্থ চক্রে বাংলাদেশের মত অন্য আট দলও সমান ছয়টি করে সিরিজ খেলবে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ২২ ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ ম্যাচ খেলবে ইংল্যান্ড। এছাড়া ভারত ১৮টি, নিউজিল্যান্ড ১৬টি, দক্ষিণ আফ্রিকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৪টি করে, পাকিস্তান ১৩টি এবং শ্রীলংকা ১২টি ম্যাচ খেলবে। সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকা। চতুর্থ চক্রে ফাইনালসহ মোট ম্যাচ হবে ৭১টি। সর্বমোট সিরিজ হবে ২৭টি।

ভোটের দুই মাস আগে তফশিল ঘোষণা হবে : সিইসি

ভোটের দুই মাস আগে তফশিল ঘোষণা হবে : সিইসি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ভোটের দুই মাস আগে তফশিল ঘোষণা করা হবে। সেই হিসেবে ৫৫ দিন হয় বা ৬০ দিন আগেই তফশিল হবে। এই মুহূর্তে ভোটের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা সম্ভব নয়। তবে নির্বাচন যখনই হোক কমিশন প্রস্তুত রয়েছে। আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করা হয় সাধারণত ভোটের দুই মাস আগে। ৫৫ দিন হয় বা ৬০ দিনও হয়। নির্বাচন করার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’সিইসি বলেন, নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করার আগে ভোটার তালিকা প্রস্তুত থাকতে হবে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ চলতি জুন মাসের মধ্যে শেষ করা হবে। তরুণ প্রজন্মকে যুক্ত করার জন্য প্রয়োজনে ভোটার রেজিস্ট্রেশন আইনে কিছুটা পরিবর্তনের কথা চিন্তা-ভাবনা হচ্ছে। যাদের ১৮ বছর হয়ে যাবে তাদেরকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের আবেদনের সময়ও ২২ জুন শেষ হচ্ছে। এছাড়া সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের মতো বড় কাজও রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের সাথে আমাদের আলোচনার দরকার রয়েছে। এতদিন এগুলো নিয়ে সরকারই আলোচনা করেছে। উনাদের পজিশন আমাদের বুঝতে হবে। সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর ভোটের সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে ধারণা পেলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, সরকার থেকে যদি ধারণা পাই, আমরা সেই অনুযায়ী নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত আছি সব চেয়ে বড় কাজ ভোটার রেজিস্ট্রেশন। এই কাজটা মোটামুটি শেষ। যেদিন আমরা নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করবো সেদিন আমার কাছে ভোটার তালিকা রেডি থাকতে হবে। এটাই হচ্ছে আইন। সিইসি বলেন, নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো টার্গেট ঠিক করিনি। লন্ডনে উনারা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। জয়েন্ট স্টেটমেন্ট দেখেছি, রমজানের আগেও নির্বাচন হতে পারে। নির্বাচন কমিশন যতই স্বাধীন হোক, একটা সুন্দর নির্বাচনের জন্য সরকারের সহযোগিতা লাগবে। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া নির্বাচন সম্ভব নয়। সরকার প্রধানই বলছেন, ‘আমি একটা সুন্দর নির্বাচন দিব’। তার মানে উনার দায়দায়িত্ব আছে। তা না হলে উনি কি একথা বলতেন। তিনি বলেন, ‘এটা একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। বিশেষ ধরনের সরকার, বিশেষ ধরনের পরিস্থিতি, একদিকে সরকার বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করছে। সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা চলছে। বিচারটা বিচারকের হাতে ছেড়ে দিতে হবে, তবে ত্বরান্বিত করার বিষয় রয়েছে, এটি নিয়ে আলোচনা চলছে। আমাদের ধারণা, সরকারের পক্ষ থেকে একটা তারিখ ঘোষণা হবে। কিন্তু লন্ডন সফরের পরে দায় দায়িত্ব কিছুটা আমাদের উপরই আসছে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ট্রেনে কাটা পড়ে শিক্ষার্থীর নিহত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ট্রেনে কাটা পড়ে শিক্ষার্থীর নিহত চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে বিদিরপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে এইচএসসি পাস সেলিনা খাতুন (২০) নামের এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।  রবিবার বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটের দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিক্ষার্থী জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মহেষপুর গ্রামের সেলিম রেজার মেয়ে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশের ইনচার্জ আশীষ সরকার জানান, মল্লিকা (আইআর) ট্রেনটি রবিবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে রহনপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এসময় অল্প কিছুদূরে বিদিরপুর এলাকায় বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটের দিকে সেলিনা খাতুন ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেলিনা খাতুন আত্মহত্যা করতে পারেন। আশীষ কুমার আরো জানান, তার ব্যাগের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন রাজশাহী কলেজের অনার্স ভর্তি পরীক্ষার কাগজপত্র ছিল। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।