নাচোলে আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা

নাচোলে আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদের মিনি কনফারেন্স রুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামাল হোসেন। সভায় নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম, নেজামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল হক, কৃষি অফিসার সলেহ্ আকরাম, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা প্রভাতী মাহাতো, সমাজসেবা অফিসার সোহেল রানা, উপজেলা জামায়াতের আমির ইয়াকুব আলী, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুরুল হোদা, সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দুলাল উদ্দিন খান, পৌর জামায়াতের আমির মনিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, কাজী, সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা সভায় মাদক, বাল্যবিয়ে, ধর্ষণ, খুন, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, অপহরণ, সন্ত্রাস ও নাশকতা, ডাকাতি, চোরাকারবারি, ছিনতাই, রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্যসেবা, সরকারি জমিজমা সংক্রান্ত, পানি সরবরাহ, সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট নিরসনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে আরো ৪৯ ডেঙ্গু রোগি সনাক্ত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে আরো ৪৯ ডেঙ্গু রোগি সনাক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন আরো ৪৯ জন। এদের মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ভেতর বিভাগে ৩২ জন এবং বহির্বিভাগে ১৭ জন শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ৫৯ জন রোগী ভর্তি আছেন। এছাড়া অবস্থার অবনতি হওয়ায় জেলা হাসপাতাল থেকে ১ জন ও গোমস্তাপুর থেকে ১ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন অফিসের প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানানো হয়েছে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি ৫৯ জনের মধ্যে ২৭ জন পুরুষ, ২৫ জন মহিলা ও ৭ জন শিশু রয়েছেন। একই সময়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ২৯ জনকে। এই ২৯ জনের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ, ৯ জন মহিলা ও ৪ শিশু রয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ২৫২ জনে। একই সময়ে বহির্বিভাগে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৭৯১ জনে।
গোমস্তাপুরে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন

গোমস্তাপুরে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে বেসরকারি প্রাথমিক ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলের ৫ম শ্রেণী পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন গোমস্তাপুর উপজেলা শাখা আয়োজিত মানববন্ধনে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেন অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা। চলতি বছর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্তর্ভুক্তের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির উপজেলা সভাপতি জিন্নাউল আওয়াল। এসময় বক্তব্য দেন— উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সারওয়ার হাবিব, রহনপুর ভিশন স্কুলের পরিচালক তরিকুল ইসলাম বকুল। মানববন্ধনে উপজেলার ২৮টি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরাসহ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, প্রতিষ্ঠান প্রধান, কর্মচারীরাও অংশ নেন।
চাঁপাইনবাবঞ্জে নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত

চাঁপাইনবাবঞ্জে নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা, মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এই তিন নদীর পানি গড়ে ১০ সেন্টিমিটার করে বাড়ছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে নদী ভাঙন ছাড়া ফসলের কোনো ক্ষয়ক্ষতি এখনো হয়নি বলে জানা গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিদিনের পানি বৃদ্ধিবিষয়ক প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পদ্মা নদীর পাঁকা পয়েন্টে পানির সমতল ছিল ২০ দশমিক ২১ সেন্টিমিটার; যা বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সমতল হয়েছে ২০ দশমিক ৩১ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১০ সেন্টিমিটার। এ নদীর বিপৎসীমা হচ্ছে ২২ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার। এ নদীর পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে মহানন্দায় গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ৯ সেন্টিমিটার। গত বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত এই নদীর খালঘাট পয়েন্টে পানির সমতল ছিল ১৮ দশমিক ২২ সেন্টিমিটার। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে সমতল দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৩১ সেন্টিমিটার। এ নদীর বিপৎসীমা হচ্ছে ২১ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার ৩ দশমিক ২৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে মহানন্দার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে গত বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পুনর্ভবা নদীর রহনপুর পয়েন্টে পানির সমতল ছিল ১৮ দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার; যা বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে সমতল দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৪৩ সেন্টিমিটারে। অর্থাৎ গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১৩ সেন্টিমিটার। এ নদীর বিপৎসীমা হচ্ছে ২১ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ পুনর্ভবা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩ দশমিক ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন— এই মুহূর্তে নদী ভাঙন ছাড়া বন্যার আশঙ্কা নেই। নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার অনেকখানি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন— এখনো বন্যার পানি কোনো মাঠে ঢুকেনি। তাই এই মুহূর্তে কোনো ক্ষতি নেই। তবে নদী ভাঙনের কারণে কতটুকু ফসলের ক্ষতি হয়েছে তা নির্ণয়ের কাজ চলমান আছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুগ্ধজাত পণ্যের বহুমাত্রিকীকরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুগ্ধজাত পণ্যের বহুমাত্রিকীকরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুগ্ধ পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বিষয়ে আবাসিক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের আমারকে এই প্রশিক্ষণ অুনষ্ঠিত হয়। এতে প্রশিক্ষণ দেন— রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সাইন্সেসের প্রফেসর ডা. আকতারুল ইসলাম। এসময় তিনি দই, ঘি, মাঠা টফিসহ দুগ্ধজাত পণ্য তৈরি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রশিক্ষণে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন— প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান, আরএমটিপি ডেইরি প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ডা. মাহমুদুল হাসান। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— প্রয়াসের মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক, অফিসার শাহরিয়ার শিমুল, সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইমদাদুল হক, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সিফাতউল্লাহ। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)’র ভ্যালু চেইনে সম্পৃক্ত স্টেকহোল্ডারদের টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে মানসম্মত দুধ উৎপাদন ও দুগ্ধজাত পণ্যের বহুমাত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলাসহ রাজশাহী বিভাগের মধ্যে গোদাগাড়ী, পবা এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায়। প্রকল্পের আওতায় ৫ হাজার খামারি এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত। এই প্রকল্প খামারিদের মধ্যে ইতিবাচক ফলাফল এবং আয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
ময়না গানে বুবলীর সঙ্গে জীবনের ‘কেমিস্ট্রি’

ময়না গানে বুবলীর সঙ্গে জীবনের ‘কেমিস্ট্রি’ ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় মুখ শবনম বুবলী। এবার সিনেমার বাইরেও ধরা দিলেন নতুন এক অভিজ্ঞতায়— নাচলেন মিউজিক ভিডিওতে। ‘ময়না’ শিরোনামের গানটিতে তার সঙ্গে পারফর্ম করেছেন অভিনেতা ও নির্মাতা শরাফ আহমেদ জীবন। প্রথমবারের মতো দুজনকে একসঙ্গে দেখা যাবে একটি মিউজিক ভিডিওর রঙিন পরিবেশনায়। সম্প্রতি এফডিসিতে বিশাল সেট নির্মাণ করে শুটিং হয়েছে ময়নার। এটি ‘বাংলা অরিজিনালস’-এর প্রথম গান। মুক্তি পাবে ২৪ জুলাই। ‘ময়না’ গানটি গেয়েছেন কোনাল। আসিফ ইকবালের কথায় এর সুর-সংগীত করেছেন কলকাতার আকাশ সেন। কোনালের সঙ্গে এতে কণ্ঠ দিয়েছেন নিলয় ডি রকস্টার। গান প্রসঙ্গে বুবলী বলেন, “বলতে পারেন এটা আমার জন্য একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা। এর আগে সিনেমার অনেক গানে নেচেছি। শুধু মিউজিক ভিডিওতে কাজ করাটা একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। গানটি এতোটাই পার্টি মুডের যে শুনলেই নাচতে ইচ্ছে করে। মনে হয়েছে, স্টেজে সব সময় যেটা পারফর্ম করা যায়, এমন একটি গান আমারও থাকা উচিত।”
বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ করছে চীন

বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ করছে চীন তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো (ব্রহ্মপুত্র হিসেবে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে) নদীতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে চীন। শনিবার (১৯ জুলাই) তিব্বতের মালভূমিতে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। খবর সিনহুয়ার। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, তিব্বতের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের দক্ষিণ-পূর্বে ন্যিংচি শহরে অবস্থিত ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্নপ্রবাহে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন লি কিয়াং। এই ইয়ারলুং সাংপো নদীই তিব্বত ছাড়িয়ে ভারতের অরুণাচল প্রদেশ ও আসাম রাজ্যে প্রবেশ করার পর ব্রহ্মপুত্র নাম ধারণ করে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ২০২০ সালে পাঁচ বছরের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা প্রথম ঘোষণা করে চীন। তিব্বতের বিপুল জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এটি তাদের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। গত বছরের ডিসেম্বরে চূড়ান্ত অনুমোদন পায় প্রকল্পটি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বছরে আনুমানিক ৩০ হাজার কোটি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে চীন। এই মুহূর্তে বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ থ্রি গর্জেস ড্যামের তুলনায় তিন গুণ বড় এই মেগা প্রকল্পে মোট পাঁচটি ক্যাসকেড জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকবে এবং প্রায় ১৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হবে এটি নির্মাণে। তবে, এই প্রকল্প ঘিরে এরই মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভারতে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই বাঁধের ফলে নদীর নিম্নপ্রবাহে বসবাসরত কোটি কোটি মানুষের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। হুমকির মুখে পড়বে ভারত-বাংলাদেশের পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা। ভারতের দাবি, এই বাঁধটিকে ‘পানির মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির কৌশল’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে চীন। তাছাড়া এর মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে বন্যা বা খরার সৃষ্টি করতে পারে দেশটি। চীন অবশ্য দাবি করছে, প্রকল্পটি নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে সুপরিকল্পিত মূল্যায়ন করা হয়েছে ও এটি ভাটির দেশগুলোর পরিবেশ, ভূ-প্রকৃতি কিংবা পানির অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। বেইজিং বলেছে, তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্ষতির বিনিময়ে নিজেদের লাভের চেষ্টা করছে না। বরং, প্রকল্পটি দুর্যোগ মোকাবিলা ও প্রশমন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য সহায়ক হবে বলেই দাবি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। অবশ্য, চীনের এই প্রকল্পের প্রতিক্রিয়ায় ভারতও ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর অরুণাচল প্রদেশে নিজস্ব জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে করে পানিসম্পদের ওপর নিজের অধিকার জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলতি বছর সামরিক মহড়ায় অংশ নেবে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলতি বছর সামরিক মহড়ায় অংশ নেবে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে চলতি বছর তিনটি যৌথ মহড়ায় অংশ নেবে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে একটি নতুন দক্ষতা সংযোজনের মাধ্যমে নিজেদের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব বজায় রাখবে উভয় পক্ষ, যা দুই দেশের অভিন্ন নিরাপত্তা লক্ষ্যকে আরও দৃঢ় করবে। এই প্রচেষ্টাগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ এবং এই অঞ্চলকে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করে তুলবে। রোববার (২০ জুলাই) এক মিডিয়া নোটে এসব কথা জানিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। মিডিয়া নোটে কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে– টাইগার লাইটনিং মহড়া: টানা চতুর্থ বছরের মতো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি প্যাসিফিক টাইগার লাইটনিং মহড়া পরিচালনা করবে। বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সৈনিকরা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, শান্তিরক্ষা, জঙ্গলে অভিযান, আহতদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত সরিয়ে নেওয়া এবং তাৎক্ষণিক বিস্ফোরক ডিভাইস (আইইডি) প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুতি অর্জন করবে। টাইগার শার্ক ২০২৫ মহড়া: টাইগার শার্ক (ফ্ল্যাশ বেঙ্গল সিরিজের অংশ) একটি যৌথ প্রশিক্ষণ মহড়া, যেখানে দুই দেশের বিশেষ বাহিনী যুদ্ধকৌশল অনুশীলন করে। ২০০৯ সাল থেকে চলমান এ মহড়ায় প্যাট্রোল বোট পরিচালনা এবং স্বল্পপাল্লার অস্ত্রের লক্ষ্যভেদে দক্ষতা অর্জনের অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা বাংলাদেশ স্পেশাল ওয়ারফেয়ার ডাইভিং অ্যান্ড স্যালভেজ এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডকে সংকট মোকাবিলায় আরও দক্ষ করে তুলবে। এই যৌথ মহড়ার বিশেষ আকর্ষণ হলো উভয় দেশের ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম। প্যাসিফিক অ্যাঞ্জেল মহড়া: বাংলাদেশে চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্যাসিফিক অ্যাঞ্জেল। এই মহড়ায় আমাদের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, আমাদের সি-১৩০ বহরকে তুলে ধরা হবে, যা দুর্যোগকালে আকাশপথে সরঞ্জাম সরবরাহ ও চলাচল সংক্রান্ত অভিযানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মহড়া অনুসন্ধান ও উদ্ধার (এসএআর) এবং অ্যারোমেডিকেল কার্যক্রমের ওপরও গুরুত্ব দেয়, যা মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াবে। আরকিউ-২১ কর্মসূচি চালু: যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সঙ্গে একত্রে বাংলাদেশের জন্য একটি মানববিহীন আকাশযান ব্যবস্থা (ইউএএস) সক্ষমতা গড়ে তুলছে। বাংলাদেশ সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি রেজিমেন্ট নতুন আরকিউ-২১ ব্ল্যাকজ্যাক সিস্টেম পরিচালনা করবে। এই সম্মিলিত উদ্যোগ বাংলাদেশকে সমুদ্রসীমা পর্যবেক্ষণ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং শান্তিরক্ষা মিশন পরিচালনায় সক্ষম করে তুলবে বলে জানিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।
পাকিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

পাকিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ে স্বাগতিক বাংলাদেশ। শ্রীলংকার বিপক্ষে সর্বশেষ তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচের একাদশ থেকে একটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। শরিফুল ইসলামের জায়গায় একাদশে সুযোগ পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ। লংকানদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল টাইগাররা। এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের বিপক্ষে ২২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে মাত্র ৩টিতে জয় ও ১৯টিতে হেরেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ একাদশ : লিটন দাস (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন, তানজিদ হাসান, জাকের আলি, তাওহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন, রিশাদ হোসেন, মাহেদি হাসান, তানজিম হাসান, তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। পাকিস্তান একাদশ : সালমান আলী আগা (অধিনায়ক), সাইম আইয়ুব, ফখর জামান, মোহাম্মদ হারিস (উইকেটরক্ষক), হাসান নাওয়াজ, মোহাম্মদ নাওয়াজ, খুশদিল শাহ, ফাহিম আশরাফ, আব্বাস আফ্রিদি, সালমান মির্জা ও আবরার আহমেদ।
সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধান উপদেষ্টা

সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধান উপদেষ্টা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৫’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। তিনি আজ রোববার সেনা সদর দপ্তরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন। প্রথম পর্বের এই পদোন্নতি পর্ষদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদবির যোগ্য কর্মকর্তাগণ পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন। পদোন্নতি পর্ষদের বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা শুরুতেই স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী তথা সেনাবাহিনীর শহীদসহ সকল বীর সেনানীদের, যাঁদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে। এছাড়াও, তিনি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে সকল আহত ও শহীদ সেনা সদস্যদের। একই সাথে তিনি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যূত্থানে শহীদ ও আহত সকল ছাত্র জনতাকে। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস পদোন্নতির জন্য অফিসারদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলী, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিযুক্তিগত উপযুক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করতে নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়া সৎ, নীতিবান, পেশাদার এবং নেতৃত্বের গুণাবলী সম্পন্ন অফিসারগণই উচ্চতর পদোন্নতির দাবিদার বলে তিনি মন্তব্য করেন। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে যে সকল অফিসার সামরিক জীবনের বিভিন্ন স্তরে যোগ্য নেতৃত্ব প্রদানে সফল হয়েছেন সে সকল অফিসারকে পদোন্নতির জন্য নির্বাচন করার নির্দেশনা প্রদান করেন প্রধান উপদেষ্টা। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও দুর্যোগ মোকাবেলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বর্তমানে সেনা সদস্যগণ বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব বেশ কিছু সময় ধরে পালন করে আসছেন। দেশের প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই ত্যাগের জন্য তিনি সেনাপ্রধান থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারি এবং চীফ অব জেনারেল স্টাফ। নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করায় সেনা প্রধান অধ্যাপক ইউনূসের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান উপদেষ্টা সেনাবাহিনীর উপস্থিত কর্মকর্তাগণের সাথে ফটোসেশনে অংশগ্রহণ এবং পরিদর্শন বইয়ে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন।