রোহিঙ্গা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ৩০ সেপ্টেম্বর

রোহিঙ্গা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) এবং প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন জাতিসংঘের উদ্যোগে আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আজ রোববার (১৭ আগস্ট) ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। খলিলুর রহমান বলেন, এই সম্মেলন হলো রোহিঙ্গাদের জন্য এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য আশু সমাধানের পথ নির্দেশিকা দেওয়ার একটি স্থায়ী সুযোগ। আমরা সেই কারণে রোহিঙ্গাদের ভয়েস, তাদের কথা, তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, তাদের স্বপ্ন, এসব আমরা সেখানে নিয়ে যেতে চাই। এ সময়, সম্মেলনটির প্রস্তুতি হিসেবে আগামী ২৫শে আগস্ট কক্সবাজারে ‘অংশীজন সংলাপ: রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে আলোচনার জন্য প্রাপ্ত বার্তা’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠানের কথাও জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, কক্সবাজারের সম্মেলনটি জাতিসংঘের একটি বৃহত্তর সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশবিশেষ। এই সম্মেলনটি রোহিঙ্গাদের জন্য এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য এই সমস্যার একটি স্থায়ী ও প্রকৃত সমাধান খুঁজে বের করার পথনির্দেশিকা দেয়ার একটি বড় সুযোগ। ড. খলিলুর রহমান আরও বলেন, একসময় রোহিঙ্গা ইস্যুটি আন্তর্জাতিক আলোচনার এজেন্ডা থেকে প্রায় বাদ পড়ে যাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টা গত বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজনের জন্য সকল সদস্য রাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই আহ্বানে তাৎক্ষণিকভাবে এবং সর্বসম্মতিক্রমে সাড়া পাওয়া যায় এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এই সম্মেলন আহ্বানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। উল্লেখ্য, বিশ্বের ১০৬টি দেশ এই সম্মেলনকে স্পন্সর করেছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রেরণ

রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রেরণ জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ, সমন্বিত ও সংশোধিত খসড়া রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। খসড়াটি সম্পর্কে যে কোনো মতামত আগামী ২০ আগস্ট বিকেল ৪টার মধ্যে কমিশনের কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। গতকাল (শনিবার) রাতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন থেকে এ তথ্য জানানো হয়। খসড়া সনদটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এতে একটি পটভূমি, সংস্কার কমিশনসমূহ গঠন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন ও এর কার্যকলাপের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, ঐকমত্যে উপনীত হওয়া বিষয়সমূহ এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আট দফা অঙ্গীকারনামা রয়েছে। পটভূমিতে বলা হয়েছে, ‘১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বর্ণিত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের নীতিকে ধারণ করে সংঘটিত মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গঠনের আকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছিল, দীর্ঘ ৫৩ বছরেও তা অর্জন করা যায়নি। কারণ, শাসন ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ও সংস্কৃতি বিকাশের ধারা বারবার হোঁচট খেয়েছে।’ বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের নানা কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে এতে আরও বলা হয়েছে, ‘বিগত ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন একটি দলীয় সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে ক্রমান্বয়ে অবশিষ্ট গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে জলাঞ্জলি দিয়ে অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করতে থাকে। তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সমালোচকদের গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার হরণ, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম, খুন, নিপীড়ন-নির্যাতন, মামলা, হামলার মাধ্যমে একটি নৈরাজ্যকর ও বিভীষিকাময় ত্রাস ও ভীতির রাজত্ব কায়েম করে।’ খসড়ায় সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সংসদের নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোট, জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষরের পরিবর্তে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের বিধান যুক্তকরণ, জরুরি অবস্থাকালীন সময়ে নাগরিকের জীবনের অধিকার ও ৩৫ অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকারসমূহ খর্ব না করা, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সময় কোনো ব্যক্তি কোনো রাষ্ট্রীয়, সরকারি বা রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের পদে না থাকা, একজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী পদে যত মেয়াদ বা যত বারই হোক সর্বোচ্চ ১০ বছর থাকতে পারবেন এবং প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন ব্যক্তি একইসঙ্গে দলীয় প্রধানের পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন না – এই বিধান সংবিধানে যুক্তকরণ- ইত্যাদি বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে এসেছে। এতে আরও বলা হয়েছে, ‘মেয়াদ অবসানের কারণে অথবা মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙ্গে যাওয়ার পরবর্তী নব্বই (৯০) দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানের ৫৮ (খ) সংশোধনপূর্বক সংসদের মেয়াদ অবসান হওয়ার ১৫ দিন পূর্বে এবং মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙ্গে গেলে ভঙ্গ হওয়ার পরবর্তী পনের (১৫) দিনের মধ্যে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ হবে অনধিক ৯০ দিন। তবে দৈব-দুর্বিপাকজনিত কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হলে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার আরও সর্বোচ্চ ৩০ দিন দায়িত্ব পালন করতে পারবে।’ রাষ্ট্রভাষা, নাগরিকত্ব ও সংবিধান, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত, আইনসভা, বিচার বিভাগ, নির্বাচনব্যবস্থা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও মৌলিক অধিকার ইত্যাদি বিষয়ের মোট ৮৪টি প্রস্তাবিত দফা উল্লেখ করে এতে সুনির্দিষ্টভাবে ঐকমত্য, ও নোট অভ ডিসেন্টসহ কোন রাজনৈতিক দলের কি মতামত সেটি উল্লেখ করা হয়েছে। সবশেষে রয়েছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ,২০২৫’ বাস্তবায়নের আট দফা অঙ্গীকারনামা। অঙ্গীকারনামার শুরুতেই বলা হয়েছে, ‘যেহেতু বাংলাদেশের সাংবিধানিক কনভেনশনের অংশ হিসেবে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে কার্যত কোনো সংবিধান না থাকা সত্ত্বেও ওই সময়ের সব কার্যাবলী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৯৭২ সালের সংবিধানে সন্নিবেশিত করে এর আইনি ও সাংবিধানিক বৈধতা প্রদান করা হয় এবং একইভাবে যেহেতু ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণঅভ্যুত্থানোত্তর সময়ে প্রধান বিচারপতি পদত্যাগ করে উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ, অতঃপর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি পদের দায়িত্ব গ্রহণ এবং পরবর্তীকালে প্রধান বিচারপতি পদে ফিরে যাওয়া সংক্রান্ত কোনো আইনি কাঠামো না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহের রূপরেখা ও অঙ্গীকারের ভিত্তিতে ওই ধরনের কার্যাবলীকে বৈধতা দিয়ে পরবর্তী সংসদ গণ-অভ্যুত্থানে প্রদত্ত জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে সাংবিধানিক কনভেনশন এবং গণতন্ত্রকে সংহত করে; সুতরাং উল্লেখিত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং সাংবিধানিক কনভেনশন বজায় রেখে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জনগণের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে স্বাক্ষরকারীরা এই অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করবেন।’ সমন্বিত খসড়ায় থাকা অঙ্গীকারগুলো হলো- ১) জনগণের অধিকার ফিরে পাওয়া এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুদীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে হাজারো মানুষের জীবন ও রক্তদান এবং অগণিত মানুষের সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি ও ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত সুযোগ এবং তৎপ্রেক্ষিতে জন-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলন হিসেবে দীর্ঘ ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রণীত ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দলিল হিসাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করব। ২) এই রাষ্ট্রের মালিক জনগণ; তাদের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের অভিপ্রায় প্রতিফলিত ও প্রতিষ্ঠিত হয় রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে। এমতাবস্থায় আমরা রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহ সম্মিলিতভাবে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে জনগণের অভিপ্রায়ের সুস্পষ্ট ও সর্বোচ্চ অভিব্যক্তি হিসাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ প্রণয়ন করেছি বিধায় এই সনদের সকল বিধান, নীতি ও সিদ্ধান্ত সংবিধানে অন্তর্ভুক্তকরণ নিশ্চিত করব এবং বিদ্যমান সংবিধান বা অন্য কোনো আইনে ভিন্নতর কিছু থাকলে সেই ক্ষেত্রে এই সনদের বিধান/প্রস্তাব/সুপারিশ প্রাধান্য পাবে। ৩) এই সনদের কোনো বিধান, প্রস্তাব বা সুপারিশের ব্যাখ্যা সংক্রান্ত যে কোনো প্রশ্নের চূড়ান্ত মীমাংসার এখতিয়ার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ওপর ন্যস্ত থাকবে। ৪) ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ ’-এর প্রতিটি বিধান, প্রস্তাব ও সুপারিশ সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে বলবৎ হিসেবে গণ্য হবে বিধায় এর বৈধতা, প্রয়োজনীয়তা, কিংবা জারির কর্তৃত্ব সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না। ৫) ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এ বাংলাদেশের সামগ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা তথা সংবিধান, বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশি ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থার বিষয়ে যেসব প্রস্তাব/সুপারিশ লিপিবদ্ধ রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন, লিখন ও পুনর্লিখন এবং বিদ্যমান আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিবর্তন, পরিমার্জন, লিখন, পুনর্লিখন বা নতুন আইন প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন বা বিদ্যমান বিধি ও প্রবিধির পরিবর্তন বা সংশোধন করব। ৬) আমরা ঐকমত্যে স্থির হয়েছি যে, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম এবং বিশেষত; ২০২৪ সালের অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে সাংবিধানিক তথা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হবে। ৭) আমরা সম্মিলিতভাবে ঘোষণা করছি যে, রাষ্ট্র ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান ও শহীদ পরিবারগুলোকে যথোপযুক্ত সহায়তা প্রদান এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনে ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। ৮) আমরা এই মর্মে একমত যে, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এর যে সকল প্রস্তাব/সুপারিশ অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য বলে বিবেচিত হবে সেগুলো কোনো প্রকার কালক্ষেপণ না করেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকার ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসমূহ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জুলাই জাতীয় সনদের আইনী বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা এবং তা বাস্তবায়নের পদ্ধতি কী হবে তার উপায় খুঁজে বের করার লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞজনের সাথে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এদের মধ্যে রয়েছেন দেশ-বিদেশের সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞরা।

গোমস্তাপুরে পানিতে ডুবে ১ শিশুর মৃত্যু

গোমস্তাপুরে পানিতে ডুবে ১ শিশুর মৃত্যু গোমস্তাপুরে বিলের পানিতে ডুবে ৬ বছর বয়সী মায়া খাতুন নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।  শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাধানগর ইউনিয়নের বেগপুর গ্রামের পার্শ্ববর্তী বিলে এই ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া শিশু ওই গ্রামের বাসিন্দা এজাবুলের মেয়ে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার দুপুরে শিশু মায়া খাতুন বাড়ির পাশে বিলের পানিতে পরিবারের অগোচরে পড়ে যায়। বেলা আড়াইটার দিকে ওই স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল এসে শিশুটির প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এ বিষয়ে গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওয়াদুদ আলম জানান, অভিযোগ না থাকায় শিশুটির মরদেহ পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা গোমস্তাপুর থানায় অপমৃত্যু (ইউপি) মামলা হয়েছে।

গোমস্তাপুরে দুই মাদ্রাসা ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু

গোমস্তাপুরে দুই মাদ্রাসা ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে ডুবার মোড় শেফালী বেগম মহিলা নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসায় আবাসিক দুই শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে ওই মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন— উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের লেবুডাঙ্গা গ্রামের তরিকুল ইসলামের মেয়ে তানিয়া (১২) ও একই ইউনিয়নের বেগপুর গ্রামের সৈবুর রহমানের মেয়ে জামিলা (১০)। পুলিশ জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাতে ওই মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থীরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ১টার দিকে ওই দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। জানতে পেরে মাদ্রাসা শিক্ষিকা সাহিদা খাতুন তাদের গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। ওই মাদ্রাসার পরিচালক আশরাফ আলী বলেন, শুক্রবার রাতে মাদ্রাসার ১৩ জন ছাত্রী অন্যদিনের মতো একসাথে ঘুমিয়ে পড়ে। ভোররাতে দুজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে মাদ্রাসার শিক্ষিকা তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক আবদুল আলিম জানান, মারা যাওয়াদের মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। অপরজন হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণ পরে মারা যায়। গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওয়াদুদ আলম জানান, ওই দুই ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিষধর সাপে কেটে মারা যেতে পারে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলেই আসল ঘটনা জানা যবে। এ ঘটনায় গোমস্তাপুর থানায় অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা-মহানন্দায় পানি কমলেও বাড়ছে পুনর্ভবায়

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা-মহানন্দায় পানি কমলেও বাড়ছে পুনর্ভবায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা ও মহানন্দা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। পদ্মায় কমেছে ৯ সেন্টিমিটার আর মহানন্দায় কমেছে ১ সেন্টিমিটার । তবে পুনর্ভবা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ সেন্টিমিটার। এদিকে পদ্মায় পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে ভাঙন আতঙ্ক। তা ছাড়া স্বাস্থ্য ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্যার পানিতে চরাঞ্চলের প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। শিবগঞ্জ ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলে পানিবন্দি হয় হাজার হাজার পরিবার। চরাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েন গ্রামবাসী। এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছেন চরাঞ্চলের মানুষ। অধিকাংশ টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানির সমতল বিষয়ক প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পাঁকা পয়েন্টে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পানির সমতল ছিল ২১.৭২ মিটার; যা শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৯ সেন্টিমিটার কমে সমতল দাঁড়িয়েছে ২১.৬৩ মিটার। অন্যদিকে গত শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত মহানন্দা নদীর খালঘাট পয়েন্টে পানির সমতল ছিল ১৯.৭৯ মিটার; যা ২৪ ঘণ্টায় ১ সেন্টিমিটার কমে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পানির সমতল দাঁড়িয়েছে ১৯.৭৮ মিটার। অপরদিকে পুনর্ভবা নদীর রহনপুর পয়েন্টে গত শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পানির সমতল ছিল ২০.০১ মিটার; যা  শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সমতল দাঁড়িয়েছে ২০.০৬ মিটার। পদ্মা নদীর বিপৎসীমা হচ্ছে ২২.০৫, মহানন্দার ২০.৫৫ ও পুনর্ভবার ২১.৫৫ মিটার।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিভিন্ন আয়োজনে জন্মাষ্টমী পালিত হয়েছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিভিন্ন আয়োজনে জন্মাষ্টমী পালিত হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় লীলাপুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলাশহরের শিবতলা চরজোতপ্রতাপ দুর্গামাতা ঠাকুরানী মন্দির চত্বরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদ্যাপন কমিটির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি শ্রীল শ্যামকিশোর দাস গোস্বামী মহারাজজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন— জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন— চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার, জেলা তথ্য অফিসার রূপ কুমার বর্মন, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি ডাবলু কুমার ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় চ্যাটার্জি, জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ কুমার রায়, চরজোতপ্রতাপ দুর্গামাতা ঠাকুরানী মন্দিরের সভাপতি বাসুদেব নন্দী, ইসকন প্রচার কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক নরোত্তম দাস। অনুষ্ঠানে শ্রীকৃষ্ণের ওপর বক্তব্য দেন রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজের পদার্থবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জয়কুমার দাস। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নারু গোপাল পাল। পরে দুপুর ১২টায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন করে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিসহ অন্য অতিথিবৃন্দ। এসময় মন্দির থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন মন্দিরের ভক্তবৃন্দ নানান বাদ্যযন্ত্র সহকারে অংশ নেন। অনেকের হাতেই শোভা পাচ্ছিল শ্রীকৃষ্ণের প্রতিকৃতি। কেউ কেউ আবার এসেছিলেন রাধা-কৃষ্ণের বেশে। তবে শিশু-কিশোররা শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার সাজে শোভাযাত্রায় অংশ নিলে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে। শেষে বিভিন্ন সাজে সজ্জিত শ্রেষ্ঠদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। শিবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদ্যাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল ৪টায় শোভাযাত্রাটি শিবগঞ্জ শ্রী শ্রী রক্ষা কালী মন্দির থেকে শুরু হয়ে রাধাগোবিন্দ মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন— শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আজাহার আলী, শিবগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম, জন্মাষ্টমী উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক শ্রী গৌর কৃষ্ণ পাল, যুগ্ম আহ্বায়ক সুশান্ত সাহা রাজু ও সদস্য সচিব আশীষ কুমার বাড়ালা। এ সময় যুগ্ম সদস্য সচিব সঞ্জয় কুমার দাস, ডা. তড়িৎ কুমার সাহা, বিদ্যুৎ পালসহ শিবগঞ্জ উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উপস্থিত ছিলেন। নাচোল: নাচোল উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদ্যাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।। আজ সকালে নাচোল বাজার কেন্দ্রীয় মন্দিরে শুভজন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে পথ শোভাযাত্রা করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বন্যাকবলিত এলাকায় চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ

নারায়ণপুর ও আলাতুলি ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকায় চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসন নারায়ণপুর ইউনিয়নে বন্যাকবলিত এলাকায় ১৫০টি পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেছে। আলাতুলিতে বিতরণ করা হয়েছে ১৫ কেজি করে চাল। এছাড়া নারায়ণপুরে ৩ হাজার ও আলাতুলি ইউনিয়নে ২ হাজার খাবার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়। বুধবার নারায়ণপুর ইউনিয়নে শুকনো খাবার ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ শেষে ফেরার পথে মুঠোফোনে এই তথ্য জানান সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নুরুল ইসলাম। বিতরণকালে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার কাঞ্চন কুমার দাস, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহিনূর আলমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে আলাতুলী ইউনিয়নের বন্যাকবলিত অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত ৬০০ পরিবারের মধ্যে ১৫ কেজি করে জিআর চাল ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়। বিতরণে উপস্থিত ছিলেন— প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জাব্বার, ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জেরাউল হোসেন, ট্যাগ অফিসার মো. ফয়সাল ইকবাল, ওয়ার্ড সদস্য মো. মেসবাহুল হকসহ অন্যরা।

নাচোলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে মানববন্ধন

নাচোলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে মানববন্ধন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে নর্দার্ন ইলেকট্রসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো)’র অব্যবস্থাপনার অভিযোগে ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।  বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাচোল বাসস্ট্যান্ডে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। নাচোল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন পৌর জামায়াতের আমির মনিরুল ইসলাম। বক্তব্য দেন— নাচোল উন্নয়ন ফোরামের সদস্য সচিব আমানুল্লাহ আল মাসুদ, নাচোল শিল্প ও বণিক সমিতির আহ্বায়ক আসগার আলী, নাচোল উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুস সাত্তার, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি হাসানুল হক বেনজির, এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক নাজমুল হক ও ছাত্রনেতা আসগার আলী রোমিও। বক্তারা অভিযোগ করেন, গোমস্তাপুর বিদ্যুৎ স্টেশনের বেশিরভাগ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে নাচোলে নেসকোর গ্রাহকদের দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। নাচোল সাব-স্টেশনের কার্যক্রম দ্রুত চালুর জন্য মানববন্ধনে নেসকোর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন বক্তারা। বক্তারা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নাচোল ৩৩/১১ কেভি গ্রিডের বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের কার্যক্রম দ্রুত চালু ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না করলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন। মানববন্ধন শেষে ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির একটি টিম নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও গোমস্তাপুর প্রকৌশলী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। এ বিষয়ে নেসকোর গোমস্তাপুর বিদ্যুৎ স্টেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রশান্ত কুমার বলেন, নাচোল বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনটি পূর্ণাঙ্গরুপে চালু করতে হলে ২.৫ থেকে ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। লোকবল ৩ জনের স্থলে ১ জন আছে, আরো ২ জন হলে স্টেশনটি চালু করা সম্ভব হবে। লোকবল পূরনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট চাহিদা পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই সাব-স্টেশনের কার্যক্রম চালুর আশ্বাস দেন তিনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নতুন করে ২৫ জনের ডেঙ্গু সনাক্ত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নতুন করে ২৫ জনের ডেঙ্গু সনাক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ফের বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ জন। তাদের মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ভেতর বিভাগে ১৬ জন ও বহির্বিভাগে ৮ জন এবং শিবগঞ্জে ১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২৫ জন রোগী। তাদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ, ১০ জন মহিলা ও ৭ জন শিশু রয়েছেন। একই সময়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ১৪ জনকে। এই ১৪ জনের মধ্যে ৮জন পুরুষ, ৩ জন মহিলা ও ৩ জন শিশু রয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ৬১৩ জনে। একই সময়ে বহির্বিভাগে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ১০৭ জনে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন অফিসের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বুধবার এই তথ্য জানানো হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়তেই আছে নদীর পানি; আতঙ্ক বাড়ছে চরাঞ্চলে

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়তেই আছে নদীর পানি; আতঙ্ক বাড়ছে চরাঞ্চলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা, মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পদ্মা নদীর পানি এরই মধ্যে সতর্ক লেভেলে পৌঁছেছে। বুধবার বিকেল ৩টায় পদ্মা নদীর পানি পাঁকা পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পদ্মায় পানি বৃদ্ধির কারণে চরাঞ্চলের ১ হাজার ৮৮২ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। শিবগঞ্জ ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলে পানিবন্দি হয়েছেন হাজার হাজার পরিবার। চরাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন গ্রামবাসী। এ অবস্থায় আগামীতে পানি বৃদ্ধির কারণে আতঙ্ক বাড়ছে চরাঞ্চলে। এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পদ্মা পাড়ের প্রায় ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়াও চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ায় ৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জেছের আলী গৌড় বাংলাকে জানান, সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে জেলা শিক্ষা অফিসার আবদুল মতিন জানিয়েছেন, বন্যার কারণে শিবগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের ৯টি স্কুলে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। চরাঞ্চলের কৃষকরা বলেন, প্রতিদিন পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে ভয়াবহ হারে। এতে করে নিম্নাঞ্চলের কৃষকের আবাদিজমি পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে। ফলে আউশ, রোপা আমন, কলা, সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের জমি ডুবে গেছে। তবে কৃষি বিভাগ বলছে— নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পানি দ্রুত নেমে গেলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে না। শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নয়ন মিয়া বলেন, পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারণে শিবগঞ্জ উপজেলায় ৪ হাজার ৯২৬ কৃষকের রোপা আউশ ১২৭২ হেক্টর, ৫২ হেক্টর সবজি, ১৩ হেক্টর হলুদ ও ৫ হেক্টর কলা ক্ষেত নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনিসুল হক মাহমুদ জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় বন্যার পানিতে ১৩৫ হেক্টর সম্পূর্ণ, ৪০৫ হেক্টর আংশিক আক্রান্ত হয়েছে। তিনি জানান, ৩ হাজার ১৫ জন কৃষকের ৫০৪ হেক্টর ধান, সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের জমি ডুবে গেছে। তবে আক্রান্ত ফসলের মাঠ থেকে পানি দ্রুত নেমে গেলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে না বলেও জানান এই দুই কৃষি কর্মকর্তা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবিব জানান, উজানের ঢলে সপ্তাহ ধরে পদ্মা, মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মায় পানি বেড়েছে ৩ সেন্টিমিটার, মহানন্দায় বেড়েছে ৭ সেন্টিমিটার ও পুনর্ভবায় পানি বেড়েছে ১০ সেন্টিমিটার। বর্তমানে পদ্মা বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার, মহানন্দা ৮৩ সেন্টিমিটার এবং পুনর্ভবা নদীর পানি বিপৎসীমার ১.৬৯ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানির সমতল বিষয়ক প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পাঁকা পয়েন্টে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পানির সমতল ছিল ২১.৭০ মিটার; যা বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২১.৭৩ মিটার। অন্যদিকে গত মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত মহানন্দা নদীর খালঘাট পয়েন্টে পানির সমতল ছিল ১৯.৬৫ মিটার; যা ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়ে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পানির সমতল দাঁড়িয়েছে ১৯.৭২ মিটার। অপরদিকে পুনর্ভবা নদীর রহনপুর পয়েন্টে গত মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পানির সমতল ছিল ১৯.৭৬ মিটার; যা বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে সমতল দাঁড়িয়েছে ১৯.৮৬ মিটার। পদ্মা নদীর বিপৎসীমা হচ্ছে ২২.০৫, মহানন্দার ২০.৫৫ ও পুনর্ভবার ২১.৫৫ মিটার।