চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে ডেঙ্গুতে ১ ও ডায়রিয়ায় ২৮ জন আক্রান্ত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে ডেঙ্গুতে ১ ও ডায়রিয়ায় ২৮ জন আক্রান্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শুধুমাত্র গোমস্তাপুরে একজনের দেহে ডেঙ্গুু শনাক্ত হয়েছে। তবে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১২ জন রোগী এবং ১ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৫ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলাসহ ৭ জন, শিবগঞ্জে ২ জন পুরুষ ও ১ জন মহিলাসহ ৩ জন, গোমস্তাপুরে ১ জন পুরুষ ও ১ জন মহিলাসহ ২ জন রোগী। অন্যদিকে গোমস্তাপুর থেকে ১ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৩৫২। সিভিল সার্জন অফিসের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিদিনের প্রতিবেদনে শনিবার এই তথ্য জানানো হয়েছে। ডায়রিয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ২৮ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। অপরদিকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১৮ জন রোগী। সিভিল সার্জন অফিসের প্রতিদিনের প্রতিবেদনে শনিবার জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ২৮ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ১৪ জন, শিবগঞ্জে ৪ জন, গোমস্তাপুরে ৬ জন, নাচোলে ৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১৮ জন রোগী। তাদের মধ্যে জেলা হাসপাতাল থেকে ৩ জন, শিবগঞ্জ থেকে ৬ জন, গোমস্তাপুর থেকে ৫ জন ও নাচোল থেকে ৪ জন বাড়ি ফিরেছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা, মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানি মাঝে কয়েকদিন কমলেও দুই দিন ধরে আবারো বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মায় পানি বেড়েছে ১৩ সেন্টিমিটার, মহানন্দায় ১০ সেন্টিমিটার ও পুনর্ভবায় বেড়েছে ৮ সেন্টিমিটার। তবে এখনো পিৎসীমার অনেক নিচ দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে এই তিন নদীর পানি। উল্লেখ্য, পদ্মা নদীর বিপৎসীমা হচ্ছে ২২.০৫, মহানন্দার ২০.৫৫ ও পুনর্ভবার ২১.৫৫ মিটার। শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানির সমতল বিষয়ক প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পদ্মা নদীর পাঁকা পয়েন্টে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পানির সমতল ছিল ২০.৭১ মিটার; যা  শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ সেন্টিমিটার বেড়ে সমতল দাঁড়িয়েছে ২০.৮৪ মিটার। অন্যদিকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত মহানন্দা নদীর খালঘাট পয়েন্টে পানির সমতল ছিল ১৮.৭৮ মিটার; যা  শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সমতল দাঁড়িয়েছে ১৮.৮৮মিটার। অপরদিকে পুনর্ভবা নদীর রহনপুর পয়েন্টে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পানির সমতল ছিল ১৮.৮০ মিটার; যা  শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সমতল দাঁড়িয়েছে ১৮.৮৮ মিটার।

রাজশাহীতে বিজ্ঞান উৎসবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫ জন বিজয়ী

রাজশাহীতে বিজ্ঞান উৎসবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫ জন বিজয়ী বিজ্ঞানমনস্ক হওয়ার প্রত্যয়ে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হলো বিকাশ-বিজ্ঞানচিন্তা— বিজ্ঞান উৎসবের আঞ্চলিক পর্ব। রাজশাহী বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন এই উৎসবে।  শনিবার এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবে কুইজ প্রতিযোগিতায় নিম্ন মাধ্যমিক (ষষ্ঠ-অষ্টম) পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা স্কুলের তাহমিদ উল ইসলাম এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন ষষ্ঠ শ্রেণীর আব্দুল্লাহ আল মুহিত। অন্যদিকে মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মিনহাজুল মাহিম জীবন এবং সপ্তম স্থান অধিকার করেছেন নবম শ্রেণীর সামিন ইয়াসার সোহাগ। এছাড়া বিজ্ঞান প্রজেক্ট প্রতিযোগিতায় সপ্তম স্থান অধিকার করেছেন ষষ্ঠ শ্রেণীর তাহমিদ উল ইসলাম। বিজয়ীরা ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পর্বে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। রাজশাহী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতা শেষে পুরস্কার তুলে দেন রাজশাহী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বিশ্বজিৎ ব্যানার্জি ও বিজ্ঞান চিন্তার নির্বাহী সম্পাদক আবুল বাসারসহ অতিথিবৃন্দ।

এভারগ্রীণ-৮৯ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নৌ ভ্রমণ অনুষ্ঠিত

এভারগ্রীণ-৮৯ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নৌ ভ্রমণ অনুষ্ঠিত উননব্বই এর আহবানে মিলেছি আজ প্রাণের টানে এ স্লোগানকে সামনে রেখে এভারগ্রীণ-৮৯ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নৌ ভ্রমণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সারাদিনব্যাপী পদ্মা ও মহানন্দা নদীতে এ নৌ ভ্রমণ করা হয়। এর পূর্বে এভারগ্রীণ-৮৯ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সভাপতি আবু সাঈদের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন এভারগ্রীণ-৮৯ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রায়হানুল ইসলাম লুনা, সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান , কোষাধ্যক্ষ টুটুল, নাজমুল আহসান ননী, রফিকুল ইসলাম বাবু সহ অন্যরা। নৌ ভ্রমণ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন এভারগ্রীণ-৮৯ এর সদস্য মারুফুল হক মারুফ।

কক্সবাজারে প্রয়াসের কর্মনিষ্ঠদের গৌরব যাত্রা ও শিখন সমাবেশ অনুষ্ঠিত

কক্সবাজারে প্রয়াসের কর্মনিষ্ঠদের গৌরব যাত্রা ও শিখন সমাবেশ অনুষ্ঠিত প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির কর্মকর্তাদের নিয়ে কক্সবাজারের একটি হোটেলে কর্মনিষ্ঠদের গৌরব যাত্রা ও শিখন সমাবেশ বিষয়ক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রাতে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্রয়াসের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেন। এ সময় অন্যানোর মধ্যে বক্তব্য দেন প্রয়াসের পরিচালক (মানবসম্পদ প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ বিভাগ) আলেয়া ফেরদৌস, পরিচালক (কার্যক্রম) পঙ্কজ কুমার সরকার, যুগ্ম পরিচালক নাসের উদ্দিনসহ অন্যরা। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে মোট ৪০ জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়াও সমাবেশ শেষে র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

নিহত নির্মাণ শ্রমিকের মরদেহ চাঁপাইনবাবগঞ্জে উদ্ধার, সহকর্মী গ্রেপ্তার

নিহত নির্মাণ শ্রমিকের মরদেহ চাঁপাইনবাবগঞ্জে উদ্ধার, সহকর্মী গ্রেপ্তার মাদারীপুর সদর উপজেলার শিরখরা গ্রামে একটি ভবন নির্মানকালে কাজের বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সহকর্মী লিটন মিয়ার ধাক্কায় ভবনের দোতলা থেকে নীচে পড়ে নিহত সজিব আলী নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর থানা পুলিশ। নিহত সজিব গোমস্তাপুরের গোপালনগর গ্রামের মর্তুজা আলীর ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ লিটনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানায়, গতকাল মাদারীপুরে ঘটনার পর আজ ভোরে গোমস্তাপুরে সজিবের মরদেহ উদ্ধার হয় ও লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মরদেহের সুরৎহাল রিপোর্ট প্রস্তুতের পর ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে লিটনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, গতকাল দুপুর পৌনে একটার দিকে ঘটনার পর সহকর্মীরা মাথায় গুরুতর জখম হওয়া সজিবকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদরের কালিবাজার মোহাম্মাদিয়া মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করে। ওইদিন বিকেল ৩টার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সজিব মারা যায়। এরপর নিহত ও অভিযুক্তের তিন সহকর্মী ঘটনার ব্যাপারে মাদারীপুর পুলিশের সাথে যোগাযোগ না করে মরদেহ ও ঘটনায় অভিযুক্তকে সাথে নিয়ে একটি এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে আজ ভোরে গোমস্তাপুর থানায় হাজির হয়। ওই তিন সহকর্মীর একজনের বাড়ি নাচোল ও দুজনের বাড়ি গোমস্তাপুরে। গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) ওয়াদুদ আলম জানান, মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গোমস্তাপুর থানায় একটি জিডি হয়েছে। তাকে হত্যার ব্যাপারে লিটনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মাদারীপুর পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ নিবে।

সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু’র মা সাকেরা বেগমের দাফন সম্পন্ন

সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু’র মা সাকেরা বেগমের দাফন সম্পন্ন দৈনিক “চাঁপাই দর্পণ” পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জুর মা সাকেরা বেগম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার দিবাগত রাত পোঁনে ২ টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৭৫ বছর। মরহুমা সাকেরা বেগম চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের মরহুম রফিকুল ইসলামের স্ত্রী। মৃত্যুকালে তিনি ৪ ছেলে ও ১ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ শনিবার দুপুর ২ টা ৩০ মিনিটে স্থানীয় মোহাম্মদপুর দাখিল মাদ্রসা মাঠে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, আত্মীয়-স্বজনসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমার দাফন সম্পন্ন হয়। তাঁর পারিবারিক সূত্র জানায়, তিনি ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ, দানশীলা, অতিথিপরায়ণ, স্নেহময়ী ও গুণী নারী। প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার মানুষদের প্রতি তাঁর ছিল অগাধ মমতা। সমাজে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দরিদ্র পরিবারের সাহায্য করা, ধর্মীয় কাজকর্মে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নারীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে তাঁর অবদান এলাকাবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। পরিবারের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল মনোভাব তাঁকে করে তুলেছিল সকলের প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর মৃত্যুতে শুধু পরিবার নয়, সমাজ হারালো একজন নিবেদিত প্রাণ মহীয়সী নারীকে। মরহুমার সন্তান সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু জানান, পরিবারের কাছে তিনি ছিলেন নির্ভরতার স্তম্ভ। সন্তানদের প্রতি সীমাহীন মমতা আর ত্যাগ তাঁকে করে তুলেছিল অমূল্য। আমার জীবনের প্রতিটি ধাপে মায়ের দোয়া ছিল পথচলার মূল শক্তি। আজ সেই মায়ের ছায়া সরে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার। মরহুমার মৃত্যুতে “চাঁপাই দর্পণ” পরিবারসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাংবাদিক সমাজ, রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। এদিকে সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে রেডিও মহানন্দা পরিবার।

নেপালে বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ৫১

নেপালে বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ৫১ নেপালে জেন-জি বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) নেপাল পুলিশের মুখপাত্র ডিআইজি বিনোদ ঘিমিরে জানান, নিহতদের মধ্যে ২১ জন বিক্ষোভকারী, তিনজন পুলিশ কর্মী, নয়জন বন্দি, ১৮ জন অন্যান্য ও একজন ভারতীয় নারী রয়েছে। এর আগে, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা মন্ত্রণালয়ের সচিব ডা. বিকাশ দেবকোটা জানান, বর্তমানে সারা দেশের ৫২টি বিভিন্ন হাসপাতালে ২৮৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ১ হাজার ৭৭১ জনেরও বেশি আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীসহ পোখরা, বুটওয়াল, ভৈরবাওয়া, ভারতপুর, ইতাহারি ও দমকসহ বিভিন্ন শহরের তরুণরা দুর্নীতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন। কাঠমান্ডুর নিউ বানেশ্বর এলাকা থেকে বিক্ষোভ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। একপর্যায়ে তরুণ বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের ঠেকাতে বলপ্রয়োগ করে। পরে স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৩টার পর কারফিউ জারি করে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী ওই সময়, শুধুমাত্র কাঠমান্ডুর বিভিন্ন হাসপাতালে কমপক্ষে ১৭ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে জাতীয় ট্রমা সেন্টারে আটজন, এভারেস্ট হাসপাতালে তিনজন, সিভিল হাসপাতালে তিনজন, কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজে দুজন এবং ত্রিভুবন টিচিং হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সুনসারির ইতাহারিতে বিক্ষোভের সময় গুলিতে আহত দুজনও মারা গেলে দেশব্যাপী নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কমপক্ষে ৩৪৭ জন আহত বিক্ষোভকারী চিকিৎসাধীন। একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসকরা জানান, বহু রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন। এভারেস্ট হাসপাতালের অনিল অধিকারী বলেন, চারজনের অবস্থা গুরুতর, আর ট্রমা সেন্টারের ডা. দীপেন্দ্র পাণ্ডে জানান, ১০ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন। তাদের মাথা ও বুকে গুলির ক্ষত আছে। বানেশ্বরে বিক্ষোভকারীরা ফেডারেল পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে জমায়েত হন। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে পুলিশ। একই ধরনের বিক্ষোভ দেশের বড় শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এক বিবৃতি দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের উভয় পক্ষকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। কমিশন বলেছে, সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। তারা ভাঙচুর ও অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছে। সূত্র: দ্য হিমালয়ান

২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট যেভাবে কাটবেন

২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট যেভাবে কাটবেন আগামী বছর কানাডা, মেক্সিকো ও আমেরিকাতে অনুষ্ঠিত হবে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপ। এই আসরকে সামনে রেখে টিকিট বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে ফিফা। আগামী অক্টোবর মাসে শুরু হবে টিকিট বিক্রির প্রথম ধাপের কার্যক্রম। গত বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) ফিফার ওয়েবসাইটে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে ফিফা। বিশ্বকাপের গ্রুপস্তরের ম্যাচের টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ৬০ মার্কিন ডলার। তবে সবার জন্য উন্মক্ত নয় এই প্লাটফর্ম। শুধুমাত্র ভিসা কার্ড ধারীরা পাবেন প্রথম ধাপের এই টিকিট সংগ্রহের সুযোগ। ১০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই আবেদন চলবে ১৯ তারিখ পর্যন্ত। এরপর আবেদনকারীদের আবেদনপত্র পরীক্ষা করা হবে, যাদের আবেদনপত্র গৃহীত হবে তাদের জানানো হবে ২৯ সেপ্টেম্বর। এর কারণ হচ্ছে, যেসব সমর্থকরা বিশ্বকাপ দেখতে যাবেন, তারা যেন সময় থাকতেই ভিসা, টিকিটসহ যাবতীয় কাজ সেরে ফেলতে পারেন। যাদের আবেদন গ্রহণ করা হবে তারা টিকিট কাটতে পারবেন ১ অক্টোবর থেকে। সেই দিন থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হবে। এই টিকিট কাটতে গেলে ভিসা কার্ড থাকতে হবে সমর্থকদের। অনলাইনে টিকিট কাটবেন যেভাবে FIFA.com/tickets এই সাইটে গিয়ে টিকিটের জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীদের ভিসা কার্ড না থাকলে সেই আবেদন বাতিল করা হবে।

বিশ্বকাপ টিকিটে ২৪ ঘণ্টায় আবেদন দেড় মিলিয়ন 

বিশ্বকাপ টিকিটে ২৪ ঘণ্টায় আবেদন দেড় মিলিয়ন  ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল উত্তেজনা। টুর্নামেন্টের টিকিটের প্রাথমিক আবেদন শুরু হয়েছে গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে। মাত্র ২০ ঘণ্টার মধ্যে দেড় মিলিয়নের বেশি আবেদন জমা পড়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ফিফার তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার সমর্থকদের কাছ থেকে। এরপরই রয়েছে আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া, ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, স্পেন, পর্তুগাল ও জার্মানির ভক্তরা। বিশ্বকাপের চিফ অপারেটিং অফিসার হেইমো শিরগি বলেন, এত বিপুল সংখ্যক আবেদনই প্রমাণ করে, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ফুটবল ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে উঠবে। আবেদন প্রক্রিয়া চলবে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরপর বাছাই শেষে নির্বাচিতদের ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হবে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে নির্দিষ্ট দিন ও সময়ের স্লটে অনলাইনে টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন ভক্তরা। সরাসরি ক্রয়ের কোনো সুযোগ থাকছে না। টিকিটের দাম গ্রুপ-পর্বে শুরু হবে ৬০ ডলার (প্রায় ৭,৩০৭ টাকা) থেকে। ক্যাটাগরি অনুসারে এই দাম বাড়তে থাকবে। ফাইনালের টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য ধরা হয়েছে ৬,৭৩০ ডলার (প্রায় ৮ লাখ ১৯ হাজার ৬৯৫ টাকা)। তবে চাহিদার ভিত্তিতে দাম ওঠা-নামার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফিফা জানিয়েছে, এবার টুর্নামেন্টে থাকছে ৪৮ দল ও ১০৪ ম্যাচ। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই আসর বসবে ১৬ ভেন্যুতে যুক্তরাষ্ট্রে ১১টি, মেক্সিকোয় ৩টি এবং কানাডায় ২টি। পুরো টুর্নামেন্টে প্রায় ৬.৫ মিলিয়ন দর্শকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করছে আয়োজকরা। প্রথম ধাপে শুধুমাত্র ভিসা কার্ডধারীরা আবেদন করতে পারছেন। ফিফা আইডি তৈরি করে নিবন্ধনের মাধ্যমে অংশ নিতে হবে এই প্রক্রিয়ায়।