একনেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুটি পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন

একনেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুটি পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন একনেক সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুটি পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেক সভায় আজ ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ২৫টি প্রকল্প অনুমোদন করে। পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারপার্সন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায় মহানন্দা নদী ড্রেজিং ও রাবার ড্যাম নির্মাণ প্রকল্প এবং পদ্মা নদীর উভয় তীর সংরক্ষণ (১ম অংশ) প্রকল্প বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীভাঙন রোধ, পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং কৃষি ও জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। আজকের সভায় অনুমোদিত ২৫টি প্রকল্প হলো— সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প, (১) ‘রাঙ্গামাটি (মানিকছড়ি)-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-১৬২) প্রশস্তকরণ ও যথাযথমানে উন্নীতকরণ’ প্রকল্প, (২) ‘মুন্সীগঞ্জ সড়ক বিভাগাধীন ৩টি আঞ্চলিক মহাসড়ক ও ১টি জেলা মহাসড়ক যথাযথমান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্প। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প, চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার হতে শাহ-আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প, (১) চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বিদ্যমান রানওয়ে ও টেক্সিওয়ের শক্তিবৃদ্ধিকরণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প, (২) ‘চট্টগ্রামস্থ পারকিতে পর্যটন সুবিধাদি প্রবর্তন (২য় সংশোধন) প্রকল্প। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প, (১) স্যানিটেশনে নারী উদ্যোক্তা প্রকল্প, (২) কুমিল্লা জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প— (১) দেশের বিভিন্ন স্থানে ফাঁড়ি/তদন্ত কেন্দ্র, ক্যাম্প, নৌ-পুলিশ কেন্দ্র, রেলওয়ে পুলিশ থানা ও আউটপোস্ট, ট্যুরিস্ট পুলিশ সেন্টার এবং হাইওয়ে পুলিশের জন্য থানা/আউটপোস্ট নির্মাণ প্রকল্প, (২) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় নির্মাণ (১ম পর্যায়) প্রকল্প। বাংলাদেশ রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প, দোহাজারী হয়ে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হতে মিয়ানমারের নিকটে গুনদুম পর্যন্ত সিঙেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প, দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রকল্প (১ম সংশোধন) প্রকল্প। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প, (১) সিলেট টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প, (২) সিলেট টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট স্থাপন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প, বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশুদের জন্য বিকল্প শিক্ষার সুযোগ প্রকল্প। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প, (১) এস্টাবলিশমেন্ট অব অ্যা ১,০০০-বেড বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশীপ জেনারেল হসপিটাল টু প্রোভাইড অ্যাডভান্সড মেডিকেল সার্ভিসেস টু দ্য পিপল অব নর্দার্ন রিজিয়ন অ্যান্ড নেইবরিং কান্ট্রিজ প্রকল্প, (২) হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভিসেস ইম্প্রুভমেন্ট অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেনদেনিং প্রজেক্ট প্রকল্প। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প, (১) আশুগঞ্জ-পলাশ সবুজ প্রকল্প (২) স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্ট (এসএসিপি) (৩য় সংশোধন) প্রকল্প। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৬টি প্রকল্প, (১) পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার নদীসমূহের টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (১ম অংশ) প্রকল্প, (২) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায় মহানন্দা নদী ড্রেজিং ও রাবার ড্যাম প্রকল্প, (৩) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পদ্মা নদীর উভয় তীর সংরক্ষণ (১ম অংশ) প্রকল্প, (৪) তেতুঁলিয়া নদীর ভাঙন হতে বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা রক্ষাকরণ প্রকল্প, (৫) শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার পদ্মা নদীর ডান তীরের ভাঙন হতে মাঝিরঘাট জিরো পয়েন্ট এলাকা রক্ষা (১ম সংশোধন) প্রকল্প, (৬) আড়িয়াল বিল এলাকার জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে পানি ও ভূমি সম্পদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রকল্প। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প— রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত) অনুমোদন করা হয়েছে। সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টা কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত ১০টি প্রকল্প সর্ম্পকে একনেক সভায় অবহিত করা হয়। সেগুলো হলো— (১) নির্বাচিত ৯টি সরকারি কলেজের উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প, (২) বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) এর উন্নয়ন-১ম পর্যায় (২য় সংশোধিত), (৩) সদর দপ্তর ও জেলা কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর শক্তিশালীকরণ (২য় সংশোধন) প্রকল্প, (৪) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মহাকাশ ও অবলোকন কেন্দ্র (১ম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত রেখে সমাপ্তকরণ প্রকল্প, (৫) নভোথিয়েটার খুলনা স্থাপন (১ম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত রেখে সমাপ্তকরণ প্রকল্প (৬) সাপোর্টং পিইডিপি৫ প্রিপারেশন অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন রেডিনেস থ্রো লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন (এলইএপি বাংলাদেশ), (৭) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর-এর অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণ (ফেজ-২) (১ম সংশোধিত) প্রকল্প, (৮) র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তর নির্মাণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত) প্রকল্প, (৯) নড়াইল শহরাংশের জাতীয় মহাসড়ক (এন-৮০৬) প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (১ম সংশোধিত), (১০) সৈয়দপুর ১৫০ মে. ও ৪+১০% সিম্পল সাইকেল (এইচএসডি ভিত্তিক) বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ (২য় সংশোধিত) এবং প্রকল্পের ১টি নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ-এর স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার পরিবর্তন হলো বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা তরিকুল ইসলাম ভাদুর ইন্তেকাল, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

বীর মুক্তিযোদ্ধা তরিকুল ইসলাম ভাদুর ইন্তেকাল, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দূর্লভপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাররশিয়া গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা তরিকুল ইসলাম ভাদু (৭৬) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, চার মেয়ে ও অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। শনিবার বিকাল সোয়া ৫টায় বাররশিয়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে গ্রামের ঈদগাহ মাঠে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাঁকে গ্রামের সরকারি কবরস্থানে দাফন করা হয়। দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিকুর রহমান, শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম শাকিল হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফসার আলী, আব্দুল হক, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মিজানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
কাব ও স্কাউট সদস্যদের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

কাব ও স্কাউট সদস্যদের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে কাব ও স্কাউট সদস্যদের অংশগ্রহণে প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দিনব্যাপী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার হরিপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই আয়োজন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় চিত্রাঙ্কন, আজান, কেরাত, আবৃত্তি, উপস্থাপনা, সংগীত ও নৃত্য—এই সাতটি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা মূল্যায়ন করা হয়। প্রতিযোগিতা শেষে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্কাউটসের সহকারী কমিশনার আসরাফুল আম্বিয়া সাগর, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মারুফুল হক, জেলা স্কাউটস লিডার খসরু পারভেজ, জেলা কাব লিডার রাকিব উদ্দিন আহমেদ, সহকারী লিডার ট্রেনার এ কে এম মাহফুজুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্কাউটসের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী কাবব্যাজ কোর্স শনিবার শেষ হয়েছে। এতে জেলার ১২টি ইউনিটের ৪১ জন কাব সদস্য অংশগ্রহণ করেন। কোর্স লিডারের দায়িত্ব পালন করেন জেলা কাব লিডার রাকিব উদ্দিন আহমেদ। প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এ কে এম মাহফুজুর রহমান, গোলাম সাকলাইন, রাজিয়া সুলতানা, আব্দুর রকিব, তরিকুল ইসলাম, তোফায়েল আলম ও জয়দুল ইসলাম।

শিবগঞ্জ সীমান্তে বোনের মরদেহ দেখলেন চাচাতো ভাইসহ স্বজনরা চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে রেজিয়া বেগম (৭৫) নামের এক বৃদ্ধার মরদেহ দেখার সুযোগ পেয়েছেন ভারতে বসবাসকারী স্বজনরা। শনিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে আজমতপুর বিওপি এলাকার সীমান্ত পিলার ১৮০/১০-এস সংলগ্ন শূন্য লাইনে বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে মরদেহটি স্বজনদের দেখানো হয়। মৃত রেজিয়া বেগম শিবগঞ্জ উপজেলার রিফুজিপাড়া গ্রামের মৃত সেতাব উদ্দিনের স্ত্রী। তিনি শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। মরদেহ দেখার অনুমতির জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে আবেদন করেন রেজিয়া বেগমের চাচাতো ভাই মো. সোবাহান। তিনি ভারতের মালদা জেলার কালিয়াচক থানার শ্বশানী গ্রামের বাসিন্দা এবং ওমর আলীর ছেলে। আবেদনের পর বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সীমান্তে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া।
আমনুরা জংশনে তেলবাহী দুই ওয়াগান লাইনচ্যুত, ট্রেন চলাচল বন্ধ

আমনুরা জংশনে তেলবাহী দুই ওয়াগান লাইনচ্যুত, ট্রেন চলাচল বন্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আমনুরা জংশনে প্রবেশের সময় একটি তেলবাহী ট্রেনের দুটি ওয়াগান লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় রহনপুর–রাজশাহী রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শনিবার দুপুরে এই দুর্ঘটনার কারণে রাজশাহীগামী ৭৮ ডাউন কমিউটার ট্রেনটি আমনুরা জংশনে আটকা পড়ে। আমনুরা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার হাসিবুল হাসান জানান, আমনুরা পাওয়ার প্লান্টের জন্য ৩০টি বগি নিয়ে একটি তেলবাহী ট্রেন শনিবার দুপুরে আমনুরা জংশনে প্রবেশ করছিল। এ সময় জংশনে ঢোকার মুহূর্তে ট্রেনটির দুটি ওয়াগান লাইনচ্যুত হয়। এর ফলে রহনপুর–রাজশাহী রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং রাজশাহীগামী ৭৮ ডাউন কমিউটার ট্রেনটি আমনুরা জংশনে আটকা পড়ে। তিনি আরও জানান, দুপুর ১টায় ৭৮ ডাউন ট্রেনটি রহনপুর থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করে এবং বিকেল ৩টা ৪৯ মিনিটে ৭৭ আপ ট্রেন হিসেবে রাজশাহী থেকে রহনপুরের পথে ফেরার কথা ছিল। রাত পৌন ৮টার দিকে স্টেশন মাস্টার জানান, ঈশ্বরদী থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন এসে বিকেল ৫টা থেকে লাইনচ্যুত দুটি ওয়াগান উদ্ধারের কাজ শুরু করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম চলমান ছিল। তবে তিনি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহীগামী অন্যান্য রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নির্বাচনী অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নির্বাচনী অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত ‘সচেতন, সংগঠিত ও সোচ্চার জনগোষ্ঠীই গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে নির্বাচনী অলিম্পিয়াড। শনিবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অলিম্পিয়াডে জেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় আড়াইশ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। অলিম্পিয়াডে অংশ নেয় এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ ও শাহ নেয়ামতুল্লাহ কলেজের শিক্ষার্থীরা। ৫০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ১০ জনকে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়। দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের সহযোগিতায় সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এই নির্বাচনী অলিম্পিয়াডের আয়োজন করে। অলিম্পিয়াড শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা সুজনের সহ-সভাপতি মাসিদুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সুজন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন জুয়েল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুজনের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান, শাহ নেয়ামতুল্লাহ কলেজের সহকারী অধ্যাপক বিলকিস আরা মহুয়া, সহকারী অধ্যাপক শামিমা আক্তার জুঁই, প্রভাষক আনোয়ার হোসেন, সদর উপজেলা সুজনের সভাপতি অ্যাডভোকেট নূরে আলম সিদ্দিকি আসাদ, পৌর সুজনের সভাপতি জমসেদ আলী ও পৌর সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্যরা। এ সময় অলিম্পিয়াডের প্রধান সমন্বয়ক ও সুজন জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সেঞ্চুরির জবাব সেঞ্চুরিতে: হাসানের ঝড়ের পর তাওহীদের কারিশমা

সেঞ্চুরির জবাব সেঞ্চুরিতে: হাসানের ঝড়ের পর তাওহীদের কারিশমা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) এক ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরির ঘটনা নতুন নয়। আগের আসরগুলোতে একই ম্যাচে দুই ইনিংসে দুই সেঞ্চুরির নজির রয়েছে। তবে বিপিএলের দ্বাদশ আসরে এবারই প্রথম এমন দৃশ্য দেখা গেল। রোববার রাউন্ড রবিন লিগের শেষ দিনে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হাসান ইসাখিলের সেঞ্চুরির জবাব সেঞ্চুরিতে দেন রংপুর রাইডার্সের তাওহীদ হৃদয়। দুজনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ম্যাচটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়। তবে দিন শেষে হাসিটা টিকিয়ে রাখতে পারেননি হাসান। বড় ব্যবধানে হেরেছে তার দল নোয়াখালী। প্রথমে ব্যাটিং করে নোয়াখালী এক্সপ্রেস হাসান ইসাখিলের সেঞ্চুরিতে ভর করে ২ উইকেটে ১৭৩ রান তোলে। জবাবে রংপুর রাইডার্স ১৯.৪ ওভারে ৮ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার তিন নম্বরে থেকে লিগ শেষ করেছে রংপুর। ফলে তারা দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সিলেট টাইটান্সের মুখোমুখি হবে। পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে উঠতে হলে রংপুরকে ম্যাচটি জিততে হতো মাত্র ৭.১ ওভারে, যা ছিল কার্যত অসম্ভব। তাই স্বাভাবিক ছন্দেই রান তাড়া করে দলটি। ওপেনিং জুটিতে ডেভিড মালান ও তাওহীদ হৃদয় ৭৮ রানের জুটি গড়েন। যদিও মালান ছিলেন অনেকটাই দর্শকের ভূমিকায়। ১৭ বলে মাত্র ১৫ রান করেন তিনি। অন্যপ্রান্তে তাওহীদ আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন। ২৭ বলেই ফিফটি তুলে নেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। তিন নম্বরে নামা লিটন দাস ইনিংসের শুরুতে মেহেদী হাসান রানার হাতে জীবন পেলেও ধীরগতির ইনিংস খেলেন। তবে তাওহীদের দাপুটে ব্যাটিংয়ে রানের গতি কমেনি। আগের ম্যাচে রাজশাহীর বিপক্ষে ৯৭ রানে অপরাজিত থাকা তাওহীদ এবার সেঞ্চুরির অপেক্ষা ঘোচান। ৫৭ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। ১৪টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি শেষ হয় ১০৯ রানে। সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ব্যাট ঝাঁকিয়ে উদযাপনের পর হেলমেট খুলে মাঠে সিজদাহ দেন তিনি। পরে হাসান মাহমুদের স্লোয়ারে বোল্ড হয়ে ফেরেন। লিটন দাস অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করেন। ৩৫ বলে ৩৯ রান করেন তিনি, যেখানে ছিল ২টি চার ও ১টি ছক্কা। এর আগে নোয়াখালীর ইনিংসের মূল ভরসা ছিলেন হাসান ইসাখিল। সিলেটে অভিষেক ম্যাচে ৬০ বলে ৯২ রান করে অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিস করা এই ব্যাটসম্যান ঢাকায় এসে অপেক্ষার অবসান ঘটান। রংপুরের বিপক্ষে ইনিংসের শেষভাগে ঝড় তুলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। ইনিংসের শুরুতে ছিলেন বেশ ধীর। প্রথম ৮ বলে তার রান ছিল মাত্র ১। তৃতীয় ওভারে নাহিদ রানার বিপক্ষে চার ও ছক্কা হাঁকিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান। এরপর ফাহিম আশরাফের বলে মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা মারলেও ডট বলের কারণে রান তুলতে সময় নেন। ফিফটি করতে লাগে ৫০ বল। তবে ফিফটির পর একেবারেই রূপ বদলে যায় তার ব্যাটিং। পরের ২০ বলে হাঁকান ৭টি বাউন্ডারি, যার মধ্যে ৬টিই ছিল ছক্কা। নার্ভাস নাইন্টিজে বিচলিত না হয়ে আকিফ জাভেদের ওভারে টানা দুই ছক্কা হাঁকান। অনসাইডে আলতো ঠেলে দুই রান নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হাসান। শেষ পর্যন্ত ৭২ বলে ৪টি চার ও ১১টি ছক্কায় ১০৭ রান করেন তিনি। ৩৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক হায়দার আলীর সঙ্গে ৭৪ বলে ১৩৭ রানের জুটি গড়েন হাসান ইসাখিল। যা এবারের বিপিএলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি। হায়দার আলী ৩২ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন, তার ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ১টি ছক্কা। হাসান ইসাখিলের সেঞ্চুরির আলো শেষ পর্যন্ত ম্লান করে দেয় তাওহীদ হৃদয়ের সেঞ্চুরি। ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে রংপুরের এই ব্যাটসম্যানের হাতেই।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার নির্দেশ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার নির্দেশ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে গণভোট বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ প্রচারণায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে গুরুত্বারোপ করতে বলা হয়েছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কার্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউজিসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা সূত্রে জানা যায়, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল ও মাদরাসা পর্যায়ে গণভোট বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘পরিবর্তনের জন্য হ্যাঁ’ শিরোনামে লিফলেট ও পুস্তিকা বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি মোবাইল ফোন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে গণভোটভিত্তিক ডকুমেন্টারি, ভিডিও ক্লিপ ও গান প্রকাশ করা হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে ব্যানার, ফেস্টুন ও স্টিকার সাঁটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আলী রীয়াজ বলেন, এবারের গণভোট ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। তিনি আরও বলেন, একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে রায় দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, ইউজিসি চেয়ারম্যান এস এম এ ফায়েজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এবং ইউজিসি সদস্য প্রফেসর মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান উপস্থিত ছিলেন।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থানের ব্যাখ্যা দিল সরকার

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থানের ব্যাখ্যা দিল সরকার আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রকাশ্য সমর্থন গণতান্ত্রিক আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানিয়েছে সরকার। রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়। পোস্টে বলা হয়, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়নে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ নিয়ে গণভোটে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থানকে কেউ কেউ অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করছেন। তবে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেট এবং আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চার আলোকে এ ধরনের সমালোচনার কোনো ভিত্তি নেই। সংকটকালে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়; বরং তা দায়িত্বশীল নেতৃত্বের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কেবল দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনা বা নির্বাচন তত্ত্বাবধানের জন্য গঠিত হয়নি। দীর্ঘদিনের অপশাসন, শাসনতান্ত্রিক দুর্বলতা ও জনঅনাস্থার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই সরকার গঠিত হয়েছে। এর মূল দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা, গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি করা। পোস্টে আরও বলা হয়, গত আঠারো মাসে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও তরুণদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনার ভিত্তিতেই বর্তমান সংস্কার প্রস্তাব তৈরি হয়েছে। যে সরকার সংস্কারের দায়িত্ব নিয়ে গঠিত, গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সেই সংস্কার থেকে নিজেদের দূরে রাখবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চার উদাহরণ টেনে সরকার বলেছে, বিশ্বের বহু দেশে সরকারপ্রধানরা গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনসংক্রান্ত গণভোটে প্রকাশ্যে পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। যুক্তরাজ্য, স্কটল্যান্ড, তুরস্ক, কিরগিজস্তান ও ফ্রান্সের গণভোটের নজির উল্লেখ করে বলা হয়, এসব ক্ষেত্রে সরকারপ্রধানদের ভূমিকা গণতান্ত্রিক রীতির অংশ হিসেবেই বিবেচিত হয়েছে। সরকার আরও জানায়, বাংলাদেশের গণভোটে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো নির্বাচনী বা রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত নয়। সংস্কার গৃহীত বা প্রত্যাখ্যাত হলে তার বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের ওপর। ফলে অযথা প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি সীমিত। জেলা পর্যায়ে সরকারি প্রচারণা প্রসঙ্গে বলা হয়, এর উদ্দেশ্য জনগণকে সংস্কারের বিষয়বস্তু ও গুরুত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া, যাতে বিভ্রান্তি দূর হয় এবং নাগরিকরা তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। উপসংহারে সরকার বলেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি সমর্থনে নয়, বরং দ্বিধা ও নীরবতায়। সংস্কারের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান কোনো নীতিগত লঙ্ঘন নয়; বরং এটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতারই প্রকাশ। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবে দেশের জনগণ—এটাই গণতন্ত্রের মূল শক্তি।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করে নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে বহুল প্রত্যাশিত এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথে আরও এক ধাপ অগ্রগতি হলো। রোববার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ পর্যায়ের সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর অধ্যাদেশটি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এর আগে বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত করার আগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও স্বচ্ছ ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মতামত গ্রহণ, জনমতের জন্য ওয়েবসাইটে খসড়া প্রকাশ এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের অভিমত নিয়ে একটি সর্বজনগ্রাহ্য কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, খসড়া অধ্যাদেশ প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের লক্ষ্য ছিল একটি আধুনিক, যুগোপযোগী ও অংশীজনদের প্রত্যাশা-প্রতিফলিত শিক্ষা কাঠামো তৈরি করা, যাতে বিদ্যমান উদ্বেগ ও প্রশ্নেরও সমাধান থাকে। এদিকে অধ্যাদেশটি বর্তমানে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলছে, একটি টেকসই ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিটি ধাপ সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা প্রয়োজন। এ সময় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় বা স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়—এমন কোনো কর্মসূচি কিংবা আবেগপ্রসূত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দীর্ঘদিনের এই অগ্রযাত্রাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়। অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের এই ধারা অব্যাহত থাকলে খুব শিগগিরই ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে, যা দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।