নির্বাচন ঘিরে দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নির্বাচন ঘিরে দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচন ঘিরে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। একইসঙ্গে যারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবেন, তারা ব্যর্থ হবেন- এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৯তম সভা শেষে সাংবাদিকদের উপদেষ্টা এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সভায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি, জুলাইয়ের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা/বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতি, অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ এর অগ্রগতি পর্যালোচনা, অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারকরণ এবং সীমান্ত ও পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছি। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম আরও জোরদার করাসহ অধিক সক্রিয় ও তৎপর থাকা এবং সব বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য-উপাত্ত সমন্বয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সর্বস্তরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের দ্রুত প্রশিক্ষণ সম্পন্নের বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে ও মাঠ পর্যায়ে আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রচার-প্রচারণাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সভায় নির্দেশনা দেওয়া হয়। আমি সাধারণ জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করছি- সবাই যেন নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সহযোগিতা করেন এবং নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলেন। উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে অটল। যারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবেন, তারা ব্যর্থ হবেন- এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এবারের জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর বা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যে কোনো অপতৎপরতা প্রতিরোধে ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ভোটকেন্দ্রসহ যে কোনো সময় যে কোনো স্থানে প্রবেশ করতে পারবেন।
মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের অপহরণের ঘটনা ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের ইঙ্গিত

মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের অপহরণের ঘটনা ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর, ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ ইয়ার ল্যাপিড তেহরানকে সতর্ক করে বলেছেন, “ভেনেজুয়েলায় যা ঘটছে সেদিকে ইরান সরকারের কড়া নজর রাখা উচিত।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করার এবং ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার হুমকি দেওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে মাদুরোকে জোরপূর্বক ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো। ভেনেজুয়েলা ও ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার কারণ সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোর বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। খবর আল-জাজিরার। ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট জামাল আবদির মতে, “আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের সম্পূর্ণ নতুন ধরনের দৃষ্টান্ত বিশ্বকে অস্থিতিশীল এবং যুদ্ধকে আরো সম্ভাব্য করে তুলছে।” তিনি আরো বলেন, “মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের অপহরণের ঘটনাটি ইরানকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি বা মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা প্রতিরোধে পূর্বপ্রস্তুতি নিতে প্ররোচিত করতে পারে, যা তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে উসকে দেবে।” সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র ফেলো নেগার মোর্তাজাভি আল-জাজিরাকে বলেন, “ভেনেজুয়েলায় মার্কিন পদক্ষেপ ট্রাম্পের সর্বোচ্চ লক্ষ্যগুলো প্রদর্শন করে, যা কূটনীতির সম্ভাবনাকে আরো ক্ষীণ করে দিচ্ছে।” তিনি বলেন, “ইসরায়েল, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি সম্ভাব্য সংঘাতের পথে রয়েছে।” ইরান-ভেনেজুয়েলা জোট মাদুরোকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার এই মার্কিন অভিযানটি ট্রাম্পের কয়েক মাসের তীব্র বাগাড়ম্বরের পর চালানো হলো। মার্কিন কর্মকর্তারা মাদুরোর বিরুদ্ধে একটি মাদক সংগঠন পরিচালনার অভিযোগ এনেছেন এবং ট্রাম্প দাবি করছেন, ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের অধিকারী হওয়ার যোগ্য। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মাদুরোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, ভেনেজুয়েলা ইরান সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে দেশটিতে শক্ত অবস্থান করে দিচ্ছে। ইরানের মিত্র সিরিয়ার বাশার আল-আসাদের সরকারের পতন এবং লেবাননে হিজবুল্লাহ দুর্বল হওয়ার পর, মাদুরোর বিদায়ে ইরানের মিত্রদের বলয় আরো সংকুচিত হতে পারে। ইরান সরকার ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং জাতিসংঘকে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে। শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ইঙ্গিত দেন যে, মাদুরোর অপহরণ ওয়াশিংটনের প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য একটি বার্তা। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এই অভিযানের পরও তার কঠোর বার্তা বজায় রেখেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “আমরা শত্রুর কাছে নতি স্বীকার করব না। আমরা শত্রুকে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করব।” ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের হুমকি গত সপ্তাহে ফ্লোরিডায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প হুমকি দেন, ইরান যদি তাদের ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন করে তাহলে তিনি আবারও দেশটিতে বোমা হামলা করবেন। ইসরায়েল গত জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল, এতে তেহরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার, বেশ কয়েকজন পারমাণবিক বিজ্ঞানী এবং কয়েক শ’ বেসামরিক মানুষ নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্রও সেই হামলায় যোগ দিয়ে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। ট্রাম্প এই যুদ্ধকে সফল দাবি করলেও ইরানে সরকার টিকে রয়েছে। তেহরান ইসরায়েলের দিকে শত শত রকেট নিক্ষেপ করে এর জবাব দিয়েছিল। ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট জামাল আবদির মতে, ইরানে ভেনেজুয়েলার অভিযান চালানো অনেক বেশি কঠিন হবে, কারণ ইরানের পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা অনেক বেশি। মাদুরোবিহীন ভেনেজুয়েলা ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে সরিয়ে দিলেও দেশটির শাসনব্যবস্থায় ধস নামেনি। ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এখন দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি মাদুরোকেই ভেনেজুয়েলার ‘প্রকৃত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে মানার কথা বলেছেন। ট্রাম্প রদ্রিগেজকেও হুমকি দিয়েছেন যে, তিনি যদি মার্কিন দাবি না মানেন তাহলে তাকে মাদুরোর চেয়েও ‘বড় মূল্য’ দিতে হবে। ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় আবারো বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন। তেলের ইস্যু যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিনসহ আরো কয়েকজন যুক্তি দিচ্ছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণে সফল হয়, তাহলে তারা ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের ফলে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলা করতে পারবে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ইরানের হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ হয়, যা যুদ্ধের সময় তেহরান বন্ধ করে দিতে পারে। আবদি বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল তাত্ত্বিকভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের রপ্তানি হ্রাসের ক্ষতি পূরণ করতে পারে, তবে এটি নির্ভর করছে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা কতটা সফল হয় তার ওপর।
মাদক-সন্ত্রাসবাদের মামলায় মার্কিন আদালতের মুখোমুখি মাদুরো

মাদক-সন্ত্রাসবাদের মামলায় মার্কিন আদালতের মুখোমুখি মাদুরো ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আজ সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে মাদক-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভিযানে মাদুরো আটক হওয়ার মাত্র দুইদিন পরেই এই শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা তেলসমৃদ্ধ এই দক্ষিণ আমেরিকান দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬৩ বছর বয়সী মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। গত শনিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি আকস্মিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী তাদের আটক করে। মার্কিন জেলা জজ আলভিন কে হেলরস্টেইনের আদালতে স্থানীয় সময় আজ দুপুর ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়) তাদের হাজির করার কথা রয়েছে। তারা কোনো আইনজীবী নিয়োগ করেছেন কি না বা তারা নিজেদের দোষ স্বীকার করবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে মাদুরো বিজয় ঘোষণা করার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাকে একজন অবৈধ স্বৈরশাসক হিসেবে অভিহিত করে আসছিল। তার এই গ্রেপ্তার ৩৭ বছর আগে পানামায় মার্কিন আগ্রাসনের পর ল্যাটিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিতর্কিত হস্তক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি, মাদুরো ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কার্টেলের মূল হোতা। অভিযোগ করা হয়েছে যে, তারা কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন মাদক পাচারকারী গোষ্ঠী এবং যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যোগসাজশ করে যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার টন কোকেন পাচার করেছে। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের একটি মামলায় মাদুরোকে প্রথম অভিযুক্ত করা হয়েছিল। গত শনিবার প্রকাশিত একটি নতুন অভিযোগপত্রে মার্কিন প্রসিকিউটররা দাবি করেন, মাদুরো ব্যক্তিগতভাবে একটি রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট কোকেন পাচার নেটওয়ার্ক তদারকি করতেন। এই নেটওয়ার্ক মেক্সিকোর সিনালোয়া ও জেতাস কার্টেল, কলম্বিয়ার আধাসামরিক গোষ্ঠী এফএআরসি এবং ভেনেজুয়েলার গ্যাং ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’র মতো বিশ্বের সবচেয়ে সহিংস ও শক্তিশালী মাদক পাচারকারী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছিল। নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি অফিসের প্রসিকিউটরদের দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, “ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমান কার্যত শাসক হিসেবে মাদুরো নিজের, তার পরিবারের এবং তার শাসকগোষ্ঠীর সদস্যদের স্বার্থে কোকেন-নির্ভর দুর্নীতির বিকাশ ঘটিয়েছেন।” মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদ, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র, মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক সরঞ্জাম রাখা এবং সেগুলো ব্যবহারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তার কয়েক দশক থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। প্রসিকিউটররা আরো বলছেন, ২০০০ সালে ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে নির্বাচিত হওয়া থেকে শুরু করে ২০০৬-২০১৩ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং ২০১৩ সালে হুগো শাভেজের উত্তরসূরি হিসেবে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেও মাদুরো মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন মাদুরো পরিচিত মাদক পাচারকারীদের কাছে কূটনৈতিক পাসপোর্ট বিক্রি করেছেন এবং মেক্সিকো থেকে ভেনেজুয়েলায় মাদক বিক্রির টাকা পরিবহনের জন্য বিমানের কূটনৈতিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, ২০০৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মাদুরো ও তার স্ত্রী রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট অপরাধী গ্যাং ব্যবহার করে ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষের জব্দ করা কোকেন পাচার করেছেন এবং নিজেদের কার্যক্রম রক্ষা ও ঋণ আদায়ের জন্য অপহরণ, মারধর ও হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন মাদুরো কোকেন পাচারের রুট নির্ধারণ, চালানের সুরক্ষায় সামরিক বাহিনী ব্যবহার, সহিংস পাচারকারী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেওয়া এবং মাদক সরানোর জন্য প্রেসিডেন্সিয়াল সুবিধা ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদুরোর সাজা নিশ্চিত করতে প্রসিকিউটরদের মাদক পাচারে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ দেখাতে হবে। যদি তিনি নিজেকে পর্দার আড়ালে রেখে সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন, তবে তা প্রমাণ করা কঠিন হতে পারে। মাদুরো দীর্ঘ ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে শক্ত হাতে ভেনেজুয়েলা শাসন করেছেন। তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের অভ্যন্তরীণ বিরোধী দল ও বিদেশি সরকারগুলোর চাপ প্রতিরোধ করে এসেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েক মাসের চাপের পর মাদুরোকে আটক করা হয়। আন্তর্জাতিক আইনের নজিরবিহীন লঙ্ঘন করে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা ও মাদুরোকে আটকের ঘটনায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আজ সোমবার জরুরি বৈঠক ডেকেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মার্কিন অভিযানটিকে একটি ‘বিপজ্জনক নজির’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভেনেজুয়েলার প্রধান সমর্থক রাশিয়া ও চীনও যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে।
ভারতের ওপর আরো শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

ভারতের ওপর আরো শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের রুশ তেল কেনা কমানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের দাবি ভারত না মানলে নয়াদিল্লির ওপর আরো শুল্ক বাড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন হুমকি দিয়েছেন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় রবিবার (৪ জানুয়ারি) ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটন ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদি একজন ভালো মানুষ। কিন্তু তিনি জানেন আমি খুশি নই এবং আমাকে খুশি করাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।” ভারতের রুশ তেল কেনা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “তারা রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করে এবং আমরা তাদের ওপর খুব দ্রুত শুল্ক বাড়িয়ে দিতে পারি।” ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জেরে যুক্তরাষ্ট্র গত বছর ভারতীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করেছিল। এরপর থেকে কয়েক মাস ধরে দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা চললেও বাণিজ্য চুক্তি এখনো অধরাই থেকে গেছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি তারই ধারাবাহিকতা। সোমবার ভারতের শেয়ার বাজারে এর প্রভাব দেখা গেছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের স্টক ইনডেক্স প্রায় ২.৫ শতাংশ কমে গত এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীরা শঙ্কিত যে, তিক্ত বাণিজ্য সম্পর্কের কারণে মার্কিন-ভারত বাণিজ্য চুক্তি আরো বিলম্বিত হতে পারে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং সফরসঙ্গী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, রুশ তেল কোম্পানিগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং ভারতের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ নয়াদিল্লিকে তেল আমদানি কমাতে বাধ্য করেছে। গ্রাহাম এমন একটি আইনের সমর্থন করছেন যা ভারতের মতো দেশগুলোর ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে, যদি তারা রাশিয়ার তেল কেনা অব্যাহত রাখে। তিনি বলেন, “আপনি যদি সস্তায় রুশ তেল কেনেন, তবে আপনি পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে সচল রাখছেন। আমরা প্রেসিডেন্টকে এমন ক্ষমতা দেওয়ার চেষ্টা করছি যাতে তিনি শুল্কের মাধ্যমে বিষয়টিকে একটি পথে নিয়ে যেতে পারেন।” গ্রাহামের মতে, ট্রাম্পের পদক্ষেপের কারণেই ভারত এখন ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কম রুশ তেল’ কিনছে। তবে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন বলেছেন, নয়াদিল্লির এই সতর্ক অবস্থান তাদের অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, ভারতীয় রপ্তানি পণ্য ইতিমধ্যেই ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্কের মুখোমুখি হচ্ছে, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে আরোপ করা হয়েছে। তিনি বলেন, যদিও ভারতীয় কোম্পানিগুলো রুশ তেল কেনা কমিয়েছে কিন্তু কেনাকাটা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এটি ভারতকে একটি ‘কৌশলগত অবস্থানে’ রেখে দিয়েছে। শ্রীবাস্তব বলেন, “অস্পষ্টতা এখন আর কাজে আসবে না।” তিনি ভারতকে রুশ তেলের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ করলেও মার্কিন চাপ কমবে না; বরং তা অন্য বাণিজ্যিক দাবিতে স্থানান্তরিত হতে পারে। কিন্তু উচ্চ শুল্কের কারণে রপ্তানিতে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।” এদিকে, গত শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ভারত সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছে। ওয়াশিংটনের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ভারত সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ভারত সরকার দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি সপ্তাহে রুশ ও মার্কিন তেল ক্রয়ের তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে। শুল্ক আরোপের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি অন্তত তিনবার ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। গত মাসে ভারতের বাণিজ্য সচিব মার্কিন বাণিজ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করলেও আলোচনা এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
বৈধ ও অবৈধ সব মনোনয়নপত্রের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ আছে: ইসি সচিব

বৈধ ও অবৈধ সব মনোনয়নপত্রের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ আছে: ইসি সচিব বৈধ ও অবৈধ ঘোষিত উভয় ধরনের মনোনয়নপত্রের বিরুদ্ধেই আপিল করা যাবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেছেন, যাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং যাদের অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, দুই ক্ষেত্রেই আপিল করার সুযোগ রয়েছে। এ আপিল কার্যক্রম আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আপিল গ্রহণের বুথ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ইসি সচিব। আখতার আহমেদ বলেন, ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের অডিটোরিয়ামে আপিলের শুনানি হবে। হলফনামা যাচাই প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে আপিল গ্রহণই মূল বিষয়। যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রার্থীদের দেওয়া হলফনামা সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দেখা হয়েছে। তবে, এসব তথ্য নিয়ে কারো আপত্তি থাকলে তা আপিলের মাধ্যমে উত্থাপন করা যাবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন যাচাই নিয়ে ইসি সচিব বলেন, প্রত্যেক প্রার্থীর বিষয় আলাদা আলাদা হতে পারে। নির্দিষ্ট কোনো কারণের বাইরে আপিল গ্রহণে কমিশনের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেকোনো বিষয়ে আপিল করতে পারবেন এবং সেসব কাগজপত্র যাচাই করে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। ১ শতাংশ ভোটার সংগ্রহ করতে গিয়ে মারধর ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আখতার আহমেদ বলেন, এ ধরনের অভিযোগ এখনো আমার কানে আসেনি। তবে, যদি এমন কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তা রিটার্নিং কর্মকর্তার দেখার বিষয়। এরপরও কেউ সংক্ষুব্ধ হলে আপিলে বিষয়টি উত্থাপন করতে পারবেন এবং শুনানিতে তা বিবেচনা করা হবে। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও কিছু প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ-সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ বা তথ্য থাকলে তা আপিলের মাধ্যমে আসবে। সেজন্য ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করা হচ্ছে।
সব বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ

সব বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ নির্বাচনের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে ও মাঠ পর্যায়ে আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। এর আগে নির্বাচনসহ একাধিক বিষয় নিয়ে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির এ সভায় সভাপতির বক্তব্যে মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে ও মাঠ পর্যায়ে আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রচার-প্রচারণাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সভায় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।” সাধারণ জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। অন্তর্বর্তী সরকার দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছি।” তিনি বলেন, “দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম আরো জোরদার করাসহ অধিক সক্রিয় ও তৎপর থাকা এবং সকল বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য-উপাত্ত সমন্বয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সর্বস্তরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের দ্রুত প্রশিক্ষণ সম্পন্নের বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজনে অটল জানিয়ে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “যারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবেন, তারা ব্যর্থ হবেন- এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে আরো কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এবারের জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর বা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোন অপতৎপরতা প্রতিরোধে ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ভোটকেন্দ্রসহ যেকোন সময় যেকোনো স্থানে প্রবেশ করতে পারবেন।
এই লজ্জা আমরা নিজেরাই ডেকে এনেছি: মুস্তাফিজ ইস্যুতে শশী থারুর

এই লজ্জা আমরা নিজেরাই ডেকে এনেছি: মুস্তাফিজ ইস্যুতে শশী থারুর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নতুন করে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন ভারতীয় কংগ্রেস নেতা শশী থারুর। তিনি বলেছেন, এই বিব্রতকর পরিস্থিতি ভারত নিজেরাই ডেকে এনেছে। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শশী থারুর লেখেন, এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। এই লজ্জা আমরা নিজেরাই ডেকে এনেছি। মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অপ্রয়োজনীয় ও অযৌক্তিক উল্লেখ করে শশী থারুর ইনডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, বাংলাদেশ পাকিস্তান নয়। বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসী পাঠাচ্ছে না। পরিস্থিতি মোটেও তুলনাযোগ্য নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এক নয়। বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের যে পর্যায়ে রয়েছে ভারত, তা পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের পর্যায় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এই দুই দেশকে এক সরল সমীকরণে ফেলা যায় না। এর আগে, ২০২৬ আইপিএলের নিলামে নয় কোটি বিশ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। এটি আইপিএলে কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটারের জন্য রেকর্ড পারিশ্রমিক। তবে গত কিছুদিন ধরে মোস্তাফিজের আইপিএলে খেলা নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে নানা বিতর্ক উঠে আসে। গত আঠারো ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনা এবং বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একটি অংশ এবং উগ্র ধর্মীয় সংগঠন মোস্তাফিজের আইপিএলে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এই প্রেক্ষাপটে হুমকির মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়া জানান, মোস্তাফিজকে বাদ দিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরে কলকাতা নাইট রাইডার্স আনুষ্ঠানিকভাবে এই বাঁহাতি পেসারকে দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেয়। ২০২৬ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যৌথভাবে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের কথা রয়েছে। আগামী সাত ফেব্রুয়ারি কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা ছিল। গ্রুপ পর্বের আরও দুটি ম্যাচ একই মাঠে এবং শেষ ম্যাচ মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার সূচি ছিল। কিন্তু মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল না পাঠানোর ঘোষণা দেয়। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে আইসিসিকে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। রবিবার বিসিবির এক বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয় দল টুর্নামেন্ট খেলতে ভারতে যাবে না। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণে সরকারের পরামর্শে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর কাছে নতি স্বীকার করে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড কলকাতা নাইট রাইডার্সকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তিনি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধের উদ্যোগ নিতে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টাকে অনুরোধ করার কথাও বলেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, বাংলাদেশ, বাংলাদেশের ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের অবমাননা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া হবে না। আরেক পোস্টে আসিফ নজরুল লেখেন, যেখানে চুক্তিবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার ভারতে খেলতে পারেন না, সেখানে পুরো বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে নিজেদের নিরাপদ মনে করতে পারে না। মোস্তাফিজ ইস্যুর পর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ বিষয়ে চুপ করে বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই। সেই বক্তব্যের ভিডিও শেয়ার করে শশী থারুর এক্সে আরেকটি পোস্টে লেখেন, শি ইজ রাইট অ্যালাস।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ সরে গেলে ভারতের ক্ষতি কতটা

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ সরে গেলে ভারতের ক্ষতি কতটা আসন্ন টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচের তিনটি কলকাতার ইডেন গার্ডেনে এবং একটি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে আইপিএল থেকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ইস্যুকে কেন্দ্র করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি। নিরাপত্তা ইস্যুর কথা উল্লেখ করে বিসিবি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আইসিসিকে জানিয়েছে, ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দল পাঠানো হবে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্য ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বোর্ড। এ বিষয়ে আইসিসি এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে ক্রিকেটবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজ জানিয়েছে, তাদের সূত্র অনুযায়ী ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচ সরে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বাস্তবে যদি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে বিশ্বকাপে ভারতের ক্ষতি কতটা হতে পারে, সেই হিসাব প্রকাশ করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ম্যাচ সরে গেলে আইসিসির কেন্দ্রীয় রাজস্ব বা সম্প্রচার আয় বড় ধরনের প্রভাবের মুখে পড়বে না। তবে ম্যাচ ডে আয়, স্পনসরশিপ এবং স্থানীয় অ্যাক্টিভেশন ভ্যালুতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বকাপের সি গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ ইডেন গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওই তিন ম্যাচের পর নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল ওয়াংখেড়েতে। ইডেন গার্ডেনের দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ৬৩ হাজার এবং ওয়াংখেড়ের ধারণক্ষমতা প্রায় ৩৩ হাজার। এ হিসাবে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচে মোট প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার টিকিট বিক্রির সম্ভাবনা ছিল। আইসিসির ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতের ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম শুরু ১০০ রুপি থেকে। তবে অফিসিয়াল টিকিট ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, বাংলাদেশ ইতালি ম্যাচে সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ১০০ রুপি হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশের ম্যাচে সেই দাম ছিল ৩০০ রুপি। মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ নেপাল ম্যাচের টিকিটের দাম শুরু হয়েছে ২৫০ রুপি থেকে। হিন্দুস্থান টাইমস আরও জানিয়েছে, টিকিট বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের সরাসরি মালিক বিসিসিআই নয়। আইসিসির টিকিট নীতিমালা অনুযায়ী, টিকিটের মালিকানা থাকে আইসিসি বিজনেস করপোরেশনের হাতে। বিসিসিআই টুর্নামেন্টের আয়োজক হিসেবে মাঠ পরিচালনা ও অপারেশনাল চুক্তির আওতায় নির্ধারিত অর্থ পায়। এই কারণে বিসিসিআইয়ের মূল ক্ষতিটা হবে ম্যাচ ডে ভিত্তিক উদ্বৃত্ত আয় থেকে। এর মধ্যে রয়েছে স্পনসরশিপ, স্থানীয় অ্যাক্টিভেশন, আতিথেয়তা এবং ভেন্যু কেন্দ্রিক অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম। এসব খাত থেকেই বড় অঙ্কের অর্থ হারাতে পারে ভারতের বোর্ড। হিন্দুস্থান টাইমসের বিশ্লেষণে আইসিসির সামনে তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে। প্রথমত, যদি বাংলাদেশের সব ম্যাচ ভারত থেকে একেবারে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তার পরিবর্তে অন্য কোনো ম্যাচ ভারতে না দেওয়া হয়, তাহলে আনুমানিক ৭ থেকে ৩০ কোটি রুপি পর্যন্ত আয় ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এই হিসাব করা হয়েছে ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ দর্শক উপস্থিতি এবং গড় টিকিট মূল্য ৫০০ থেকে ১৫০০ রুপি ধরে। দ্বিতীয় পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশের ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া হলেও যদি তার বদলে অন্য ম্যাচ ভারতে আয়োজন করা হয়, তাহলে ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কমতে পারে। সে ক্ষেত্রে ক্ষতির অঙ্ক নির্ভর করবে বিকল্প হিসেবে কোন ম্যাচ দেওয়া হচ্ছে তার ওপর। তৃতীয় পরিস্থিতিতে, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সহ আয়োজক হিসেবে শুধু ভেন্যু ও তারিখ অদলবদল করা হলে এবং ভারতে মোট ম্যাচের সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকলে রাজস্বে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। সেক্ষেত্রে ক্ষতি সীমাবদ্ধ থাকবে লজিস্টিকস ও নতুন করে সূচি সাজানোর অতিরিক্ত খরচে। সব মিলিয়ে আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে, বাংলাদেশের ম্যাচ সরে গেলে বিশ্বকাপে ভারতের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ঠিক কতটা হবে।
ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন শফিউল

ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন শফিউল নিয়মিত ঘরোয়া লিগগুলোতে খেললেও, দীর্ঘদিন ধরেই নেই জাতীয় দলে। এক সময় দলের ভরসার প্রতীক ছিলেন শফিউল ইসলাম। তবে সেই পথচলাকেও এবার বিদায় বলে দিলেন তিনি। রবিবার (৪ জানুয়ারি) রাতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন শফিউল। পোস্টে জাতীয় দলের সাবেক এই পেসার লিখেছেন, আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তটি নিতে যাচ্ছি। আমি শফিউল ইসলাম, আজ থেকে সকল ধরনের প্রফেশনাল ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিচ্ছি। বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সি গায়ে জড়ানো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয় ছিল। তিনি আরও লিখেছেন, এই দীর্ঘ পথচলায় পাশে থাকার জন্য আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), আমার সকল সতীর্থ, কোচ এবং অগনিত ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসা ছাড়া আজকে পর্যন্ত আসা সম্ভব ছিল না। শফিউল জানান, অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি আমি কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকি বা কেউ আমার ব্যবহারে মনক্ষুণ্ন হন, তাহলে দয়া করে ক্ষমা করে দেবেন। নতুন জীবনে পদার্পণ করছি, সবাই আমার এবং আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। ক্রিকেটের সাথে ছিলাম, ক্রিকেটের সাথেই থাকব। ধন্যবাদ সবাইকে। ২০০৭ সালে লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ দিয়ে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু শফিউলের। শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ২০২০ সালের মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে। ৩৬ বছর বয়সী পেসার সব মিলিয়ে ৯১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন, উইকেট ১০৭টি।
বাংলাদেশে আইপিএলের সব সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশ

বাংলাদেশে আইপিএলের সব সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশ ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) দল থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সব খেলা ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান প্রচার ও সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সই করেন সহকারী সচিব ফিরোজ খান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক আগামী ২৬ মার্চ ২০২৬ থেকে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) ক্রিকেট খেলায় বাংলাদেশের তারকা খেলোয়াড় মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এহেন সিদ্ধান্তের কোনো যৌক্তিক কারণ জানা নেই এবং এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণকে ব্যথিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এমতাবস্থায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল)-এর সব খেলা এবং অনুষ্ঠান প্রচার/সম্প্রচার বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ও জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হলো। উল্লেখ্য, ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী দলগুলোর লাগাতার বিক্ষোভের মুখে গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার নির্দেশনা দেন। এর পরপরই কলকাতা নাইট রাইডার্স আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, মুস্তাফিজ আর তাদের স্কোয়াডে নেই। খেলোয়াড়দের প্রতি এমন আচরণের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপকে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা সমর্থন জানাচ্ছেন। এর ফলে ২০২৬ সালের আইপিএল বাংলাদেশের কোনো টেলিভিশন চ্যানেল বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দেখা যাবে না।