প্রকাশ্যে আসলো বিজয়-রাশমিকার বিয়ের তারিখ

প্রকাশ্যে আসলো বিজয়-রাশমিকার বিয়ের তারিখ দক্ষিণী সিনেমার দুই সুপারস্টার বিজয় দেবেরাকোন্ডা এবং রাশমিকা মান্দানা অবশেষে তাদের দীর্ঘদিনের ভালোবাসাকে পরিণয়ের মোড়কে বাঁধছেন। গত অক্টোবরে হায়দরাবাদে বিজয়ের বাড়িতে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিবারের উপস্থিতিতে বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল। যদিও বাগদানের কোনো ছবি প্রকাশ্যে আসেনি, দুজনের আঙুলে থাকা এনগেজমেন্ট রিং থেকেই বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়। বিজয়ের টিম ইতিমধ্যেই জানিয়েছিল, বাগদান সম্পন্ন হয়েছে এবং বিয়ে হবে ২০২৬ সালে। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের উদয়পুরের একটি ঐতিহাসিক রাজকীয় প্রাসাদে অনুষ্ঠিত হবে এই তারকাবহুল বিয়ে। অনুষ্ঠান হবে একান্ত ব্যক্তিগত, যেখানে উপস্থিত থাকবেন শুধুমাত্র পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনরা। তবে বিয়ের পরপরই হায়দরাবাদে ইন্ডাস্ট্রির বন্ধুদের জন্য আলাদা উদযাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। সম্প্রতি রাশমিকার ‘দ্য গার্লফ্রেন্ড’ সিনেমার সাফল্য উদযাপনে দুজনের প্রকাশ্য ভালোবাসার মুহূর্ত দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ে। একটি অনুষ্ঠানে বিজয় রাশমিকার হাত ধরে চুম্বন করেন এবং রাশমিকা মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকান, যা তৎক্ষণাৎ আলোচনার জন্ম দেয়। উল্লেখ্য, রাশমিকার জীবনে এটি দ্বিতীয়বারের মতো বাগদান থেকে বিয়ের পথে এগোনো। ২০১৭ সালে অভিনেতা রক্ষিত শেঠির সঙ্গে তার বাগদান হয়েছিল, যা ২০১৮ সালে ভেঙে যায়। বিজয় ও রাশমিকার বয়সের ব্যবধান সাত বছর, রাশমিকার জন্ম ১৯৯৬ সালে এবং বিজয়ের ১৯৮৯ সালে। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের দক্ষিণী শোবিজের সবচেয়ে আলোচিত ও প্রতীক্ষিত বিয়ের তালিকায় এই জুটির নাম শীর্ষে থাকবে।

দাম্পত্য জীবনের ইতি টানলেন সালমা

দাম্পত্য জীবনের ইতি টানলেন সালমা জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও ‘ক্লোজআপ ওয়ান’ তারকা মৌসুমি আক্তার সালমার দাম্পত্য জীবনে আবারও ছেদ পড়েছে। দীর্ঘ সাত বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনে আলাদা হয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিচ্ছেদের বিষয়টি জানান তাঁর স্বামী আইনজীবী সানাউল্লাহ নূর সাগর। পরে নিজেও বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সালমা। সালমা জানান, ‘হ্যাঁ, আমাদের বিচ্ছেদ হয়েছে। গত ২৯ নভেম্বর আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ হয়। বিষয়টি নিয়ে এখন আর কিছু বলতে চাই না।’ বিচ্ছেদের পর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই জনপ্রিয় শিল্পী জানান, ব্যক্তিগত জীবনের অধ্যায় পেছনে ফেলে এখন তিনি পুরোপুরি গানেই মনোযোগ দিতে চান। তাঁর ভাষায়, ‘এখন শুধু গানে মনোযোগ দিতে চাই। বিচ্ছেদ নিয়ে ভাবতে চাই না। ভালো ভালো গান গাইতে চাই।’ অন্যদিকে সানাউল্লাহ নূর সাগর তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে পারস্পরিক মতের অমিল ও মানসিক দূরত্বের কথা উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, ‘কণ্ঠশিল্পী সালমার সঙ্গে আমার দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনেছি। পারস্পরিক মতের অমিল, চিন্তা ও মানসিকতার দূরত্বই আলাদা হওয়ার কারণ। পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদা বজায় রেখেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করছি, এ বিষয়ে সবাই নেতিবাচক মন্তব্য থেকে বিরত থাকবেন।’ ‘ক্লোজ-আপ ওয়ান-তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসরের চ্যাম্পিয়ন সালমা খুব অল্প সময়েই সংগীতাঙ্গনে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। লোকগান ও আধুনিক গানের সমান জনপ্রিয় এই শিল্পী ২০১১ সালে পারিবারিকভাবে শিবলী সাদিককে বিয়ে করেছিলেন। তবে সেই সংসারের বিচ্ছেদ হয় ২০১৬ সালে। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে আইনজীবী সানাউল্লাহ নূর সাগরের সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সালমা। কিন্তু সাত বছরের সাজানো সেই সংসারও শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হলো না।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-হাসপাতালের আশপাশে সিগারেট বিক্রি করলে জরিমানা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-হাসপাতালের আশপাশে সিগারেট বিক্রি করলে জরিমানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশুপার্কের আশপাশে সিগারেট বা তামাক বিক্রির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রেখে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছে। ২০০৫ সালের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন সংশোধন করে এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করবেন না বা করাবেন না। সরকার বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সময় সময় সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দিয়ে এ সীমানার পরিধি বাড়াতে পারবে বলে অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, কোনো ব্যক্তি এ বিধান লঙ্ঘন করলে তিনি সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার মুখে পড়বেন। দ্বিতীয়বার বা বারবার এ অপরাধ করলে দ্বিগুণ হারে শাস্তি পেতে হবে।

ই-সিগারেট ও ভেপ নিষিদ্ধ করে অধ্যাদেশ জারি

ই-সিগারেট ও ভেপ নিষিদ্ধ করে অধ্যাদেশ জারি ই-সিগারেট, ভেপসহ সব ধরনের ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট এবং কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতায় মোড়ানো বিড়ি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়। ২০০৫ সালের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন সংশোধনের মাধ্যমে এ অধ্যাদেশ কার্যকর করা হয়েছে। অধ্যাদেশে তামাক, তামাকজাত দ্রব্য, নিকোটিন ও নিকোটিন দ্রব্যের সংজ্ঞা নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তামাকজাত দ্রব্যের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস), হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট, নিকোটিন পাউচসহ সরকার ঘোষিত অন্যান্য নিকোটিন পণ্য। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ই-সিগারেট, ভেপ, ভেপিং, ভেপার, ই-লিকুইড, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট বা যে নামেই পরিচিত হোক না কেন—এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিজ্ঞাপন, প্রচার-প্রচারণা, বিপণন, বিতরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন করতে পারবেন না। এই বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। একই অপরাধ পুনরায় করলে দণ্ড দ্বিগুণ হবে। কোনো কোম্পানি এ অপরাধে জড়িত হলে সংশ্লিষ্ট মালামাল জব্দসহ কোম্পানির মালিক, ব্যবস্থাপক বা দায়ী ব্যক্তি সর্বোচ্চ ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার মুখে পড়বেন। পাশাপাশি ওই কোম্পানির তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন ও বিক্রির লাইসেন্স বাতিল করা যাবে। অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ই-সিগারেট বা ভেপজাত পণ্য ব্যবহার করলে তাকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। এছাড়া কুম্ভি পাতা, টেন্ডু পাতা বা অন্য কোনো গাছের পাতা দিয়ে মোড়ানো বিড়ি উৎপাদন, আমদানি, মজুত, বিপণন, পরিবহন ও ক্রয়-বিক্রয় করলে তিন মাসের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এসব বিড়ি ব্যবহার করলেও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে।

জার্মানির ব্যাংকে সিনেমা স্টাইলে ডাকাতি, ৩০ মিলিয়ন ইউরো লুট

জার্মানির ব্যাংকে সিনেমা স্টাইলে ডাকাতি, ৩০ মিলিয়ন ইউরো লুট জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখার ভল্ট ভেঙে আনুমানিক ৩০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করেছে চোরেরা। পুলিশ জানিয়েছে, চোরেরা একটি বড় ড্রিল মেশিন ব্যবহার করে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। খবর বিবিসির। পুলিশের একজন মুখপাত্র এই চুরির ঘটনাটিকে ব্যাংক ডাকাতি নিয়ে হলিউডের বিখ্যাত সিনেমা ‘ওশেন’স ইলেভেন’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফটিতে তিনি বলেন, “এটি খুবই পেশাদারিত্বের সঙ্গে করা হয়েছে।” জেলসেনকির্খেন শহরের স্পার্কাসে সেভিংস ব্যাংকে চোরেরা তিন হাজারেরও বেশি নিরাপদ ব্যক্তিগত লকার ভেঙেছে, যেগুলোতে নগদ টাকা, সোনা এবং গয়না ছিল। চোরেরা বড়দিনের ছুটির শান্ত পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে এই ডাকাতি চালায়। গত শনিবার রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। জেলসেনকির্খেন পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার ভোরে ব্যাংকে ফায়ার অ্যালার্ম বেজে উঠলে পুলিশ ও ফায়ার ব্রিগেড তল্লাশি চালিয়ে ব্যাংকের ভূগর্ভস্থ ভল্ট রুমের দেয়ালে একটি বড় গর্ত দেখতে পায়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, চোরেরা ব্যাংকের পাশের একটি পার্কিং গ্যারেজের দেয়াল ড্রিল মেশিন দিয়ে গর্ত করে ভেতরে প্রবেশ করেছিল এবং সেই পথেই পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা শনিবার গভীর রাতে গ্যারেজের সিঁড়িতে কয়েকজন লোককে বড় বড় ব্যাগ বহন করতে দেখেছেন। সিসিটিভি ফুটেজে সোমবার ভোরে একটি কালো রঙের অডি আরএস-সিক্স গাড়ি গ্যারেজ থেকে বের হতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার ব্যাংকের সামনে অনেক গ্রাহক ভিড় করেন এবং তথ্যের দাবি জানান। এক বৃদ্ধ গ্রাহক রয়টার্সকে বলেন, “আমি গতরাতে ঘুমাতে পারিনি। আমাদের কোনো তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। ওখানে আমার শেষ বয়সের সব সঞ্চয় ছিল।” স্পার্কাসে ব্যাংকের শাখাটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং গ্রাহকদের জন্য একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৯৫ শতাংশ নিরাপদ ব্যক্তিগত লকার ভেঙে ফেলা হয়েছে, তাই গ্রাহকদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি।

পা নয়, মাথা নয়, পিঠ দিয়ে গোল করে আলোচনায় রোনালদো

পা নয়, মাথা নয়, পিঠ দিয়ে গোল করে আলোচনায় রোনালদো সৌদি প্রো লিগে রীতিমতো নাটকীয় এক রাতের সাক্ষী হলো বিশ্ব ফুটবল। টানা ১০ ম্যাচ জয়ের দুর্দান্ত সূচনা থেমে গেল আল-নাসরের। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে আল-ইত্তিফাকের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে পয়েন্ট খোয়াতে হলো তাদেরকে। তবে ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে এলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। একেবারে অদ্ভুত ভঙ্গিতে, পিঠে বল লাগিয়ে গোল করে চমকে দিলেন সবাইকে। এই ম্যাচে শুরু থেকেই উত্তেজনার পারদ ছিল চড়া। প্রথমার্ধে আল-ইত্তিফাক এগিয়ে যায় জর্জিনিও ওয়াইনালডামের নিখুঁত ফিনিশে। তবে বিরতির পরপরই ঘুরে দাঁড়ায় আল-নাসর। জোয়াও ফেলিক্সের পাওয়ারফুল শটে ম্যাচে সমতা ফেরে। নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় অতিথিদের আক্রমণ। এরপরই আসে সেই অবিশ্বাস্য মুহূর্ত। আবারও শট নেন ফেলিক্স, কিন্তু বল সরাসরি লক্ষ্যে না গিয়ে হঠাৎই রোনালদোর পিঠে লেগে দিক পরিবর্তন করে জড়িয়ে যায় জালে। পুরোপুরি দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন আল-ইত্তিফাকের গোলরক্ষক। ৪০ বছর বয়সেও গোলের সামনে রোনালদোর উপস্থিতি যে কতটা ভয়ংকর, তা যেন আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল। যদিও এবার গোলটা এলো সবচেয়ে অপ্রচলিত উপায়ে। এই গোল রোনালদোর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের গোলসংখ্যাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল সেই বহু আলোচিত এক হাজার গোলের মাইলফলকের দিকে। পা নয়, মাথা নয়, পিঠে করা এই গোলটি নিশ্চিতভাবেই জায়গা করে নেবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে অদ্ভুত অথচ স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর তালিকায়। তবে রোনালদোর ঝলকানিতেও হার মানতে রাজি ছিল না আল-ইত্তিফাক। ম্যাচের শেষ দিকে আবারও ওয়াইনালডাম গোল করে সমতা ফেরান, ২-২ স্কোরলাইনে থামে ম্যাচ। এর ফলে মৌসুমের শুরুতে টানা জয়ের রেকর্ড ভেঙে যায় আল-নাসরের। ড্র হলেও সৌদি প্রো লিগের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে আল-নাসর। তবে শিরোপা দৌড়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চাপ যে এখন আরও বাড়বে, তা বলাই যায়। আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য এই ‘পিঠ দিয়ে করা গোল’ ফুটবল ইতিহাসে যুক্ত হলো আরেকটি বিস্ময়কর অধ্যায় হিসেবে, যা বহুদিন ধরেই স্মরণে থাকবে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে।

রশিদ খানের নেতৃত্বে আফগানিস্তানের শক্তিশালী দল ঘোষণা

রশিদ খানের নেতৃত্বে আফগানিস্তানের শক্তিশালী দল ঘোষণা ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ১৫ সদস্যের শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। প্রত্যাশিতভাবেই দলটির নেতৃত্বের ভার থাকছে তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খানের কাঁধে। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে গড়া এই দল নিয়ে আবারও বড় চমক দেখানোর স্বপ্ন দেখছে আফগানরা। বিশ্বকাপ অভিযানের আগে নিজেদের প্রস্তুত করতে জানুয়ারি মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান। এই সিরিজেও বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত একই স্কোয়াড মাঠে নামবে, যা দল গঠনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও কম্বিনেশন যাচাইয়ের বড় সুযোগ হয়ে উঠবে। দলের অধিনায়ক হিসেবে রশিদ খানের নাম ঘোষণা করার পাশাপাশি সুখবর এসেছে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার গুলবাদিন নাইব ও ডানহাতি পেসার নাভিন উল হকের ফেরার মধ্য দিয়ে। কাঁধের চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন নাভিন, যা পেস আক্রমণে বাড়তি শক্তি যোগাবে। এ ছাড়া বাঁহাতি ব্যাটার শাহিদুল্লাহ কামাল ও উইকেটকিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ ইশাক নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছেন। তরুণ পেসার আব্দুল্লাহ আহমদজাই এর অন্তর্ভুক্তিও চোখে পড়ার মতো। দলে ফিরেছেন রহস্যময় স্পিনার মুজিব উর রহমান। তার অন্তর্ভুক্তির ফলে তরুণ স্পিনার এ এম গজনফার মূল স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ে রিজার্ভ তালিকায় চলে গেছেন। রিজার্ভে আরও আছেন মিডল অর্ডার ব্যাটার ইজাজ আহমদজাই এবং তরুণ ফাস্ট বোলার জিয়া উর রহমান শরীফি। স্কোয়াডে আছেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মোহাম্মদ নবী, রহমানউল্লাহ গুরবাজ, নূর আহমদ ও ফজল হক ফারুকি। বিশেষ করে ফারুকির ফেরাটা পেস বিভাগকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করবে। ২০২৪ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল আফগানিস্তান। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ চারে পৌঁছানো সেই সাফল্য দলটির আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়েছে, যদিও সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে থামতে হয়েছিল তাদের যাত্রা। এবারের বিশ্বকাপের আগে আগামী ১৯ থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজটি হবে আফগানিস্তানের জন্য শেষ বড় প্রস্তুতির মঞ্চ। এখানেই নিজেদের সেরা একাদশ ও কৌশল চূড়ান্ত করতে চাইবে রশিদ বাহিনী। আফগানিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াড: রশিদ খান (অধিনায়ক), ইব্রাহিম জাদরান, রহমানউল্লাহ গুরবাজ (উইকেটকিপার), মোহাম্মদ ইশাক (উইকেটকিপার), সেদিকুল্লাহ অটল, দারবিশ রসুলি, শাহিদুল্লাহ কামাল, আজমতুল্লাহ ওমরজাই, গুলবাদিন নাইব, মোহাম্মদ নবী, নূর আহমদ, মুজিব উর রহমান, নাভিন উল হক, ফজল হক ফারুকি ও আব্দুল্লাহ আহমদজাই। রিজার্ভ: এ এম গজনফর, ইজাজ আহমদজাই ও জিয়া উর রহমান শরীফি।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গভীর শোক

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গভীর শোক বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁকে বাংলাদেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র গভীর শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাস গঠনে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করেছে। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এক শোকবার্তায় বলেছে, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র গভীর শোক প্রকাশ করছে।” তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের কথা উল্লেখ করে দূতাবাস বলেছে, “বেগম জিয়া তাঁর দেশের আধুনিক ইতিহাস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং তাঁর নেতৃত্ব বাংলাদেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।” চীন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পাঠানো শোকবার্তায় খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিক এবং চীনা জনগণের পুরোনো বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেছেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রিত্বকালে চীন-বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্ব ও সমন্বিত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছিল, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে।” চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করে চীনের প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, “এ সম্পর্ক জোরদারে তাঁর ভূমিকা চীন উচ্চভাবে মূল্যায়ন করে।” শোকবার্তায় আরো বলা হয়, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বেইজিং। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করতে চীন প্রস্তুত রয়েছে, যেন উভয় দেশের জনগণ আরো বেশি উপকৃত হয়। ভারত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে গভীর শোক জানিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, “ঢাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তাঁর পরিবার এবং বাংলাদেশের সব মানুষের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা। সর্বশক্তিমান তাঁর পরিবারকে এই মর্মান্তিক ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দান করুন।” ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরো লিখেছেন, “বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, বাংলাদেশের উন্নয়নে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান, সেইসাথে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে, সর্বদা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ২০১৫ সালে ঢাকায় তাঁর সাথে আমার উষ্ণ সাক্ষাতের কথা আমি স্মরণ করছি। আমরা আশা করি তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং উত্তরাধিকার আমাদের অংশীদারিত্বকে পরিচালিত করবে। তাঁর আত্মা শান্তিতে থাকুক।” পাকিস্তান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও শোকবার্তায় খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং পাকিস্তানের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শাহবাজ শরীফ নিজের ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে শোকবার্তা প্রকাশ করে লিখেছেন, “বিএনপির চেয়ারপারসন এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে তাঁর আজীবনের অবদান এক স্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে গেছে।” পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরো লিখেছেন, “বেগম জিয়া পাকিস্তানের একজন নিবেদিতপ্রাণ বন্ধু ছিলেন। পাকিস্তান সরকার এবং পাকিস্তানের জনগণ এই শোকের মুহূর্তে বাংলাদেশের জনগণের পাশে রয়েছে। এই কঠিন সময়ে আমাদের চিন্তাভাবনা এবং প্রার্থনা তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে রয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তার আত্মার শান্তি কামনা করুন। আমিন!” নেপাল নেপালের প্রধানমন্ত্রী  সুশীলা কার্কিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে গভীর শোক জানিয়েছেন। সুশীলা কার্কি লিখেছেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। নেপাল সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে, আমি তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।” নেপালের প্রধানমন্ত্রী আরো লিখেছেন, “বেগম জিয়া আজীবন জনসেবার এক অনন্য উত্তরাধিকার রেখে গেছেন। তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় এক ঐতিহাসিক অধ্যায় হয়ে থাকবে। নেপালের একজন অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে, নেপাল ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর বিদেহী আত্মা চির শান্তিতে থাকুক।” যুক্তরাজ্য যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁর পরিবার এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। এক শোকবার্তায় বাংলাদেশে অবস্থিত ব্রিটিশ হাইকমিশন বলেছে, “বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।” এই অত্যন্ত দুঃখজনক সময়ে হাইকমিশন তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে। জাপান জাপান বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এক শোকবার্তায় বলেন, “বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সম্মানিত চেয়ারপারসন মহোদয়া বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি।” রাষ্ট্রদূত জানান, জাপান বেগম জিয়ার পরিবার, বিএনপির সব সদস্য এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, “প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বেগম জিয়া দুইবার জাপান সফর করেছিলেন এবং দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে অমূল্য অবদান রেখেছিলেন।” রাষ্ট্রদূত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা ও অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য জাপান সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সবশেষে তিনি বলেন, “তাঁর বিদেহী আত্মা চিরশান্তিতে থাকুক।” জার্মানি ঢাকাস্থ জার্মান দূতাবাস এক শোকবার্তায় বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, দেশের প্রথম নারী সরকার প্রধান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দীর্ঘকালীন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে। তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে দূতাবাস জানায়, “নিজের দীর্ঘ জনজীবনে বেগম জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।” প্রয়াত এই নেত্রীর সঙ্গে জার্মানির উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের কথা স্মরণ করে বার্তায় বলা হয়, “জার্মানি তাঁর সাথে কয়েক দশকের সম্পৃক্ততার কথা স্মরণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০০৪ সালে ঢাকা সফরকালে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোশকা ফিশারের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ এবং ২০১১ সালে জার্মান প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান উলফের রাষ্ট্রীয় সফর চলাকালীন তাঁর সাথে বৈঠক।” শোকবার্তায় আরো বলা হয়, “তিনি বছরের পর বছর ধরে জার্মানির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিদের সাথেও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।” “এই শোকের মুহূর্তে জার্মানি তাঁর জাতীয় জীবনের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে এবং তাঁর পরিবার, দল ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছে।”সবশেষে বলা হয়, “জার্মানি আমাদের দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর আত্মা শান্তিতে থাকুক।” ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। ইইউ এক শোকবার্তায় বলেছে, “বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।” মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় ‘দেশনেত্রী’, ‘আপসহীন’ উপাধিতে ভূষিত বেগম খালেদা জিয়া ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া লিভার, কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আথ্রাইটিস ও ইনফেকশনজনিত সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। উল্লেখ্য চলতি বছর ৭ জানুয়ারি তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে তার স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতি ঘটে। তিনি দেশে ফিরে আসেন। তবে বয়স প্রতিকূল থাকায় এবং নানাবিধ রোগের জটিলতার কারণে তিনি প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন। সর্বশেষ গত ২৩ নভেম্বর বেগম খালেদা জিয়াকে রাজধানীর  এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে তিনি সেখানেই  চিকিৎসাধীন ছিলেন। দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল, তিনি পূর্বের ন্যায় এবারও কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে চিরদিনের মতো না ফেরার দেশে

খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন

খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।  বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় তার নামাজে জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় পৌনে ৩টার দিকে। বেলা ৩টায় জানাজা শুরু হয়। সেখানে প্রথমে খালেদা জিয়ার জীবনের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। জানান, ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ৪১ বছরই বলিষ্ঠ হাতে দলের নেতৃত্ব দেন।  জনগণের কল্যাণে করেছেন কাজ।  খালেদা জিয়ার জানাজা পড়ান জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। তাঁর জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, প্রধান বিচারপতি, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।   তার জানাজায় অংশ নিতে এসেছেন ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জানাজাস্থলে ছিলেন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ইরান, কাতারসহ ৩২ দেশের রাষ্ট্রদূত। হাজির ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধান। মানুষের ঢল নামে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং সংসদ ভবনের সামনের মাঠে। জানাজা শেষে সংসদ ভবন এলাকাসংলগ্ন জিয়া উদ্যানে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হবে।  জানাজায় অংশ নিতে মঙ্গলবার রাত থেকেই সংসদ ভবন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।  খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে তারা গণপরিবহন, ট্রেন, লঞ্চ ও ব্যক্তিগত যানবাহনে করে রাজধানীতে আসেন।  জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানিক মিয়া এভিনিউসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের মৃত্যুতে তিন দিনের শোক ঘোষণা করে সরকার। আজ সকাল থেকে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিতসহ সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বুধবার একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। দলের চেয়ারপারসেন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সাতদিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার থেকে আগামী একসপ্তাহ দলটির সব কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। এই সময়ে কালো ব্যাজ ধারণ করবেন দলের নেতাকর্মীরা। গতকাল মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় ‘দেশনেত্রী’, ‘আপসহীন’ উপাধিতে ভূষিত বেগম খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বেগম খালেদা জিয়া লিভার, কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আথ্রাইটিস ও ইনফেকশনজনিত সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। উল্লেখ্য চলতি বছর ৭ জানুয়ারি তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে তার স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতি ঘটে। তিনি দেশে ফিরে আসেন। তবে বয়স প্রতিকূল থাকায় এবং নানাবিধ রোগের জটিলতার কারণে তিনি প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন। সর্বশেষ গত ২৩ নভেম্বর বেগম খালেদা জিয়াকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল, তিনি পূর্বের ন্যায় এবারও কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে চিরদিনের মতো না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।

“জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বরেন্দ্র অঞ্চলে খরা-সহনশীল কৃষি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত”

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বরেন্দ্র অঞ্চলে খরা-সহনশীল কৃষি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত বরেন্দ্র অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় খরা সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি বিস্তারের লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার রানীহাটি ইউনিয়নে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। আজ সকালে রাণীহাটি ইউনিয়ন পরিষদে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এক্সটেনডেড কমিউনিটি ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রজেক্ট-ড্রাউট (ইসিসিসিপি-ড্রাউট) প্রকল্পের আওতায়, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও গ্রীণ ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)-এর সহযোগিতায় প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন ২০ জন সিসিএজি সদস্য। এ সময় সিসিএজি সদস্যদের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, এর প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা, টেকসই কৃষি অনুশীলন ও খরা সহনশীল কৃষি কৌশল সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা হয়। একইসাথে খরা সহিষ্ণু ফল ও ফসল নির্বাচন, বসতবাড়ির উঠানবাগান তৈরি, ভার্মিকম্পোস্ট প্রস্তুত এবং পানি সংরক্ষণ কৌশল নিয়ে হাতে-কলমে নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কল্যানপুরে অবস্থিত হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ খালেদুর রহমান, যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র প্রশিক্ষক কৃষিবিদ মাসুম রেজা এবং প্রকল্পের মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশন অফিসার কৃষিবিদ ফয়জুল হক। বরেন্দ্র অঞ্চলের বাস্তব জলবায়ুগত চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে করণীয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন প্রকল্প সমন্বয়কারী বকুল কুমার ঘোষ। প্রশিক্ষণের অন্যতম বিষয় ছিল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করা, কৃষি সেচকাজে ভূপৃষ্ঠের পানির ব্যবহার বৃদ্ধি করা এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি বিস্তারে জৈব সার ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া। এই লক্ষ্যে ভার্মিকম্পোস্ট তৈরির উপায় ও উপকারিতা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি প্রয়াসের ইসিসিসিপি-ড্রাউট প্রকল্পের আওতায় চালু থাকা ঋণ কার্যক্রম সম্পর্কেও অবহিত করেন ইউনিট-১৬ এর শাখা ব্যবস্থাপক মোসাঃ মোসলেমা খাতুন। কর্মশালায় সকল ধরনের সহযোগিতা করেন সিএমও সিভিল মোঃ রোকনুজ্জামান । প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ তাদের খরা পরিস্থিতিতে কৃষি অভিযোজন এবং নতুন প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি পদ্ধতি গ্রহণে অনুপ্রাণিত করবে।