সব বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার নি‌র্দেশ

সব বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার নি‌র্দেশ নির্বাচনের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে ও মাঠ পর্যায়ে আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দি‌য়ে‌ছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় তি‌নি এ নি‌র্দেশনা দেন। এর আগে নির্বাচনসহ একা‌ধিক বিষয় নি‌য়ে আইন শৃঙ্খলাবা‌হিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা‌দের স‌ঙ্গে বৈঠক ক‌রেন তি‌নি।  আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির এ সভায় সভাপ‌তির বক্ত‌ব্যে মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ব‌লেন, “নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে ও মাঠ পর্যায়ে আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রচার-প্রচারণাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সভায় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।” সাধারণ জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।  অন্তর্বর্তী সরকার দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর জা‌নি‌য়ে উপ‌দেষ্টা ব‌লেন, “আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছি।” তি‌নি ব‌লেন, “দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম আরো জোরদার করাসহ অধিক সক্রিয় ও তৎপর থাকা এবং সকল বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য-উপাত্ত সমন্বয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সর্বস্তরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের দ্রুত প্রশিক্ষণ সম্পন্নের বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে ব‌লেও জানান তি‌নি। সরকার যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজনে অটল জা‌নি‌য়ে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ব‌লেন,  “যারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবেন, তারা ব্যর্থ হবেন- এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে আরো কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এবারের জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর বা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোন অপতৎপরতা প্রতিরোধে ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ভোটকেন্দ্রসহ যেকোন সময় যেকোনো স্থানে প্রবেশ করতে পারবেন।

এই লজ্জা আমরা নিজেরাই ডেকে এনেছি: মুস্তাফিজ ইস্যুতে শশী থারুর

এই লজ্জা আমরা নিজেরাই ডেকে এনেছি: মুস্তাফিজ ইস্যুতে শশী থারুর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নতুন করে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন ভারতীয় কংগ্রেস নেতা শশী থারুর। তিনি বলেছেন, এই বিব্রতকর পরিস্থিতি ভারত নিজেরাই ডেকে এনেছে। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শশী থারুর লেখেন, এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। এই লজ্জা আমরা নিজেরাই ডেকে এনেছি। মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অপ্রয়োজনীয় ও অযৌক্তিক উল্লেখ করে শশী থারুর ইনডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, বাংলাদেশ পাকিস্তান নয়। বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসী পাঠাচ্ছে না। পরিস্থিতি মোটেও তুলনাযোগ্য নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এক নয়। বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের যে পর্যায়ে রয়েছে ভারত, তা পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের পর্যায় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এই দুই দেশকে এক সরল সমীকরণে ফেলা যায় না। এর আগে, ২০২৬ আইপিএলের নিলামে নয় কোটি বিশ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। এটি আইপিএলে কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটারের জন্য রেকর্ড পারিশ্রমিক। তবে গত কিছুদিন ধরে মোস্তাফিজের আইপিএলে খেলা নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে নানা বিতর্ক উঠে আসে। গত আঠারো ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনা এবং বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একটি অংশ এবং উগ্র ধর্মীয় সংগঠন মোস্তাফিজের আইপিএলে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এই প্রেক্ষাপটে হুমকির মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়া জানান, মোস্তাফিজকে বাদ দিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরে কলকাতা নাইট রাইডার্স আনুষ্ঠানিকভাবে এই বাঁহাতি পেসারকে দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেয়। ২০২৬ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যৌথভাবে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের কথা রয়েছে। আগামী সাত ফেব্রুয়ারি কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা ছিল। গ্রুপ পর্বের আরও দুটি ম্যাচ একই মাঠে এবং শেষ ম্যাচ মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার সূচি ছিল। কিন্তু মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল না পাঠানোর ঘোষণা দেয়। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে আইসিসিকে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। রবিবার বিসিবির এক বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয় দল টুর্নামেন্ট খেলতে ভারতে যাবে না। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণে সরকারের পরামর্শে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর কাছে নতি স্বীকার করে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড কলকাতা নাইট রাইডার্সকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তিনি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধের উদ্যোগ নিতে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টাকে অনুরোধ করার কথাও বলেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, বাংলাদেশ, বাংলাদেশের ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের অবমাননা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া হবে না। আরেক পোস্টে আসিফ নজরুল লেখেন, যেখানে চুক্তিবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার ভারতে খেলতে পারেন না, সেখানে পুরো বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে নিজেদের নিরাপদ মনে করতে পারে না। মোস্তাফিজ ইস্যুর পর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ বিষয়ে চুপ করে বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই। সেই বক্তব্যের ভিডিও শেয়ার করে শশী থারুর এক্সে আরেকটি পোস্টে লেখেন, শি ইজ রাইট অ্যালাস।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ সরে গেলে ভারতের ক্ষতি কতটা

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ সরে গেলে ভারতের ক্ষতি কতটা আসন্ন টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচের তিনটি কলকাতার ইডেন গার্ডেনে এবং একটি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে আইপিএল থেকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ইস্যুকে কেন্দ্র করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি। নিরাপত্তা ইস্যুর কথা উল্লেখ করে বিসিবি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আইসিসিকে জানিয়েছে, ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দল পাঠানো হবে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্য ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বোর্ড। এ বিষয়ে আইসিসি এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে ক্রিকেটবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজ জানিয়েছে, তাদের সূত্র অনুযায়ী ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচ সরে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বাস্তবে যদি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে বিশ্বকাপে ভারতের ক্ষতি কতটা হতে পারে, সেই হিসাব প্রকাশ করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ম্যাচ সরে গেলে আইসিসির কেন্দ্রীয় রাজস্ব বা সম্প্রচার আয় বড় ধরনের প্রভাবের মুখে পড়বে না। তবে ম্যাচ ডে আয়, স্পনসরশিপ এবং স্থানীয় অ্যাক্টিভেশন ভ্যালুতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বকাপের সি গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ ইডেন গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওই তিন ম্যাচের পর নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল ওয়াংখেড়েতে। ইডেন গার্ডেনের দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ৬৩ হাজার এবং ওয়াংখেড়ের ধারণক্ষমতা প্রায় ৩৩ হাজার। এ হিসাবে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচে মোট প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার টিকিট বিক্রির সম্ভাবনা ছিল। আইসিসির ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতের ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম শুরু ১০০ রুপি থেকে। তবে অফিসিয়াল টিকিট ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, বাংলাদেশ ইতালি ম্যাচে সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ১০০ রুপি হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশের ম্যাচে সেই দাম ছিল ৩০০ রুপি। মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ নেপাল ম্যাচের টিকিটের দাম শুরু হয়েছে ২৫০ রুপি থেকে। হিন্দুস্থান টাইমস আরও জানিয়েছে, টিকিট বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের সরাসরি মালিক বিসিসিআই নয়। আইসিসির টিকিট নীতিমালা অনুযায়ী, টিকিটের মালিকানা থাকে আইসিসি বিজনেস করপোরেশনের হাতে। বিসিসিআই টুর্নামেন্টের আয়োজক হিসেবে মাঠ পরিচালনা ও অপারেশনাল চুক্তির আওতায় নির্ধারিত অর্থ পায়। এই কারণে বিসিসিআইয়ের মূল ক্ষতিটা হবে ম্যাচ ডে ভিত্তিক উদ্বৃত্ত আয় থেকে। এর মধ্যে রয়েছে স্পনসরশিপ, স্থানীয় অ্যাক্টিভেশন, আতিথেয়তা এবং ভেন্যু কেন্দ্রিক অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম। এসব খাত থেকেই বড় অঙ্কের অর্থ হারাতে পারে ভারতের বোর্ড। হিন্দুস্থান টাইমসের বিশ্লেষণে আইসিসির সামনে তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে। প্রথমত, যদি বাংলাদেশের সব ম্যাচ ভারত থেকে একেবারে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তার পরিবর্তে অন্য কোনো ম্যাচ ভারতে না দেওয়া হয়, তাহলে আনুমানিক ৭ থেকে ৩০ কোটি রুপি পর্যন্ত আয় ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এই হিসাব করা হয়েছে ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ দর্শক উপস্থিতি এবং গড় টিকিট মূল্য ৫০০ থেকে ১৫০০ রুপি ধরে। দ্বিতীয় পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশের ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া হলেও যদি তার বদলে অন্য ম্যাচ ভারতে আয়োজন করা হয়, তাহলে ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কমতে পারে। সে ক্ষেত্রে ক্ষতির অঙ্ক নির্ভর করবে বিকল্প হিসেবে কোন ম্যাচ দেওয়া হচ্ছে তার ওপর। তৃতীয় পরিস্থিতিতে, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সহ আয়োজক হিসেবে শুধু ভেন্যু ও তারিখ অদলবদল করা হলে এবং ভারতে মোট ম্যাচের সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকলে রাজস্বে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। সেক্ষেত্রে ক্ষতি সীমাবদ্ধ থাকবে লজিস্টিকস ও নতুন করে সূচি সাজানোর অতিরিক্ত খরচে। সব মিলিয়ে আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে, বাংলাদেশের ম্যাচ সরে গেলে বিশ্বকাপে ভারতের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ঠিক কতটা হবে।

ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন শফিউল

ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন শফিউল নিয়মিত ঘরোয়া লিগগুলোতে খেললেও, দীর্ঘদিন ধরেই নেই জাতীয় দলে। এক সময় দলের ভরসার প্রতীক ছিলেন শফিউল ইসলাম। তবে সেই পথচলাকেও এবার বিদায় বলে দিলেন তিনি।  রবিবার (৪ জানুয়ারি) রাতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন শফিউল। পোস্টে জাতীয় দলের সাবেক এই পেসার লিখেছেন, আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তটি নিতে যাচ্ছি। আমি শফিউল ইসলাম, আজ থেকে সকল ধরনের প্রফেশনাল ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিচ্ছি। বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সি গায়ে জড়ানো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয় ছিল। তিনি আরও লিখেছেন, এই দীর্ঘ পথচলায় পাশে থাকার জন্য আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), আমার সকল সতীর্থ, কোচ এবং অগনিত ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসা ছাড়া আজকে পর্যন্ত আসা সম্ভব ছিল না। শফিউল জানান, অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি আমি কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকি বা কেউ আমার ব্যবহারে মনক্ষুণ্ন হন, তাহলে দয়া করে ক্ষমা করে দেবেন। নতুন জীবনে পদার্পণ করছি, সবাই আমার এবং আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। ক্রিকেটের সাথে ছিলাম, ক্রিকেটের সাথেই থাকব।  ধন্যবাদ সবাইকে। ২০০৭ সালে লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ দিয়ে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু শফিউলের। শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ২০২০ সালের মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে। ৩৬ বছর বয়সী পেসার সব মিলিয়ে ৯১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন, উইকেট ১০৭টি।

বাংলাদেশে আইপিএলের সব সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশ

বাংলাদেশে আইপিএলের সব সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশ ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) দল থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সব খেলা ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান প্রচার ও সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সই করেন সহকারী সচিব ফিরোজ খান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক আগামী ২৬ মার্চ ২০২৬ থেকে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) ক্রিকেট খেলায় বাংলাদেশের তারকা খেলোয়াড় মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এহেন সিদ্ধান্তের কোনো যৌক্তিক কারণ জানা নেই এবং এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণকে ব্যথিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এমতাবস্থায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল)-এর সব খেলা এবং অনুষ্ঠান প্রচার/সম্প্রচার বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ও জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হলো। উল্লেখ্য, ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী দলগুলোর লাগাতার বিক্ষোভের মুখে গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার নির্দেশনা দেন। এর পরপরই কলকাতা নাইট রাইডার্স আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, মুস্তাফিজ আর তাদের স্কোয়াডে নেই। খেলোয়াড়দের প্রতি এমন আচরণের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপকে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা সমর্থন জানাচ্ছেন। এর ফলে ২০২৬ সালের আইপিএল বাংলাদেশের কোনো টেলিভিশন চ্যানেল বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দেখা যাবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ভেনেজুয়েলায় অন্তত ৪০ জন নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ভেনেজুয়েলায় অন্তত ৪০ জন নিহত ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার লক্ষ্যে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন সামরিক অভিযানে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বেসামরিক মানুষও রয়েছেন বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়। খবর আল-জাজিরার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভেনেজুয়েলার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মার্কিন  হামলায় অন্তত ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও সেনাসদস্য রয়েছে।’মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে ১৫০টির বেশি মার্কিন বিমান মোতায়েন করা হয়, যাতে সামরিক হেলিকপ্টারগুলো নিরাপদে সেনা নামাতে পারে। এরপর সেই সেনারাই মাদুরোর অবস্থানে হামলা চালায়। ভেনেজুয়েলার সূত্র জানায়, কারাকাস বিমানবন্দরের পশ্চিমে দরিদ্র উপকূলীয় এলাকা ‘কাটিয়া লা মার’ এলাকার একটি আবাসিক ভবনেও বিমান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে রোসা গঞ্জালেজ নামে ৮০ বছর বয়সী এক নারী ও তার পরিবারের সদস্যরা নিহত হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, মাদুরোকে আটক করে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্লোরিডায় একটি সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, আপাতত ভেনেজ়ুয়েলার শাসনভার যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই থাকবে। তিনি বলেন, “যতদিন না আমরা নিরাপদ, সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পারছি, ততদিন আমরাই ওই দেশ পরিচালনা করব। ভেনেজ়ুয়েলার স্বার্থ বোঝে না এমন কারো হাতে আমরা ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার ঝুঁকি নিতে পারি না।” সেই সঙ্গে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের ভাণ্ডার ব্যবহার করে তা অন্যান্য দেশে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াশিংটনের। ইরাক যুদ্ধের পর কোনো দেশে এমন সরাসরি ক্ষমতা দখলের ঘটনা নজিরবিহীন। সমালোচকরা ইতিমধ্যেই এই অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। যদিও মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, মাদুরোকে বন্দি করার প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ আইনত।

নিউ ইয়র্কে বন্দি মাদুরোর ভিডিও প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র

নিউ ইয়র্কে বন্দি মাদুরোর ভিডিও প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোতে গতকাল শনিবার ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’ নামক এক ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমে কারাকাস থেকে আটক করে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আটকের পর মার্কিন একটি যুদ্ধজাহাজে করে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে মাদুরোকে নিউ ইয়র্কের স্টুয়ার্ট বিমানঘাঁটি থেকে হেলিকপ্টারে করে নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রুকলিন বরোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মাদুরোকে সেখানকার মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে উচ্চ-নিরাপত্তার আসামিদের রাখা হয়। এই কারাগারে এর আগে এল চ্যাপো এবং জেফরি এপস্টাইনের মতো হাই-প্রোফাইল বন্দিদের রাখা হয়েছিল। হোয়াইট হাউজের ‘র‍্যাপিড রেসপন্স’ অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা দেখা যাচ্ছে যে, মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে একটি করিডোর দিয়ে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “অপরাধী হেঁটে যাচ্ছেন।”মাদুরোর হাত হ্যান্ডকাফ দিয়ে বাঁধা রয়েছে এবং তার চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। তার বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাস, যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচার এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মাদুরোকে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হতে পারে। ভেনেজুয়েলায় সামারিক অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে আটক এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ঘটনা। বিশ্বজুড়ে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে। রাশিয়া এবং চীন এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং লাতিন আমেরিকার অনেক দেশ বিষয়টিকে সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হলেন ডেলসি রদ্রিগেজ

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হলেন ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক চেম্বার এ নির্দেশ দিয়েছেন। খবর আল-জাজিরার। আদালতের আদেশে বলা হয়, ‘প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা এবং জাতির সামগ্রিক প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে’ রদ্রিগেজ ‘বলিভারিয়ান রিপাবলিক অব ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের’ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। আদালত আরো জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা, সরকার পরিচালনা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য কোন আইনগত কাঠামো প্রযোজ্য হবে তা নির্ধারণে আদালত আরো আলোচনা ও পর্যালোচনা করবেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আপাতত ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রক্ষমতায় অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের ব্যবস্থা কার্যকর হলো। এদিকে, রবিবার (৪ জানুয়ারি) দিনের শুরুর দিকে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা দখল করবে না, যদি রদ্রিগেজ ‘যুক্তরাষ্ট্র যা চায় তা করেন’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্র যা চাইবে, তা করতে তিনি প্রস্তুত- এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্পের এমন বক্তব্য অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হয়েছে। কারণ ডেলসি রদ্রিগেজ এবং তার ভাই হোর্হে রদ্রিগেজ, যিনি বর্তমানে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন; দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরো সরকারের সবচেয়ে দৃঢ় সমর্থক। ডেলসি রদ্রিগেজ মাদুরোর সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তিনিই প্রথম কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা, যিনি প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাদুরো ও তার স্ত্রীর জীবিত থাকার প্রমাণ দেওয়ার আহ্বান জানান।

পোস্টাল ভোটের ছবি-ভিডিও শেয়ার করলে এনআইডি ব্লক করবে ইসি

পোস্টাল ভোটের ছবি-ভিডিও শেয়ার করলে এনআইডি ব্লক করবে ইসি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করা হবে। পাশাপাশি প্রচলিত আইনে নেওয়া হবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ইসি জানিয়েছে, পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদান-সংক্রান্ত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে এনআইডি ব্লক করাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করা প্রত্যেক ভোটারের সাংবিধানিক অধিকার ও দায়িত্ব। ব্যালট বা ভোট প্রদানের কোনো দৃশ্য প্রকাশ করলে ভোটের গোপনতা ক্ষুণ্ন হয়, যা আইনের লঙ্ঘন। সে কারণে পোস্টাল ভোট-সংক্রান্ত কোনো ছবি, ভিডিও বা পোস্ট শেয়ার না করার জন্য ভোটারদের অনুরোধ জানিয়েছে কমিশন। ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। এই নির্বাচনে প্রবাসী ভোটার, কয়েদি এবং সরকারি চাকরিজীবীরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। ডাকযোগে ভোট দেওয়ার কারণে এসব ভোটার সাধারণ ভোটারদের তুলনায় কয়েক সপ্তাহ আগেই ভোট প্রদান করেন। ভোটের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতেই কমিশন এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এনআইডি ব্লক হলে নাগরিকরা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত প্রায় ১৩ লাখ ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

সংসদ নির্বাচন: প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ২৫ থেকে ৮৪ লাখ টাকা, না মানলে ৭ বছর জেল

সংসদ নির্বাচন: প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ২৫ থেকে ৮৪ লাখ টাকা, না মানলে ৭ বছর জেল আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ থেকে ৮৪ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারবেন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর আসনের ভোটার সংখ্যার ওপর নির্ভর করবে তার ব্যয়সীমা। আর এই ব্যয়সীমা লঙ্ঘন করলে হতে পারে সাত বছর জেল ও জরিমানা। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে সংসদ নির্বাচনের আসনভিত্তিক ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র নেওয়ার সময় সেই তালিকার সিডি প্রার্থিরা সংগ্রহও করেছেন। নির্বাচনী ব্যয় সেই তালিকা মোতাবেক আইনে নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখতে হবে।  গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের অনুচ্ছেদ ৪৪ (খ) এর দফা তিন অনুযায়ী, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়, তাকে মনোনয়ন প্রদানকারী রাজনৈতিক দল থেকে তার জন্য কার ব্যয়সহ ভোটার প্রতি ১০ টাকা হারে অথবা মোট ২৫ লাখ টাকার মধ্যে যা সবোর্চ্চ, তার অধিক হবে না।  আসনভিত্তিক ভোটার তালিকা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ভোটার গাজীপুর-২ আসনে। আট লাখ চার হাজার ৩৩৩ জন ভোটারের এ আসনে মাথাপিছু ১০ টাকা করে ব্যয় হলে ব্যয় করা যাবে ৮৪ লাখ তিন হাজার ৩৩০ টাকা। ভোটারের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা-১৯ আসন। সাত লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন ভোটারের এই আসনে একই হারে ব্যয়সীমা দাঁড়ায় ৭৪ লাখ ৭০ হাজার ৭০০ টাকা।  তৃতীয় সর্বোচ্চ ভোটার গাজীপুর-১ আসনে।