বাংলাদেশের সামনে বাঁচা-মরার লড়াই, ইতিহাস কার পক্ষে?

বাংলাদেশের সামনে বাঁচা-মরার লড়াই, ইতিহাস কার পক্ষে?\ প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ছন্দ হারিয়েছে বাংলাদেশ। পেসার নাহিদ রানার গতির ঝলক আর ব্যাটসম্যান তানজিদ হাসান তামিমের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে সিরিজের শুরুটা দারুণ করেছিল টাইগাররা। তবে পরের ম্যাচে প্রতিপক্ষের দাপটে বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে স্বাগতিকদের।  প্রতিপক্ষের হয়ে ঝোড়ো ব্যাটিং করেন মাজ সাদাকাত। পাশাপাশি তার বাঁহাতি ঘূর্ণি বোলিংয়ের ফাঁদে পড়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ফলে সহজ জয় তুলে নেয় সফরকারীরা। এই হারের পর তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। ফলে শেষ ম্যাচটি পরিণত হয়েছে কার্যত বাঁচা–মরার লড়াইয়ে। যে দল জিতবে, তার হাতেই উঠবে লাল-সবুজে মোড়ানো সিরিজের ট্রফি। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। রবিবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে শুরু হবে ম্যাচটি। পরিসংখ্যান বলছে, এমন পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কম নয়। এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচের এক দিনের আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ মোট ৭৯টি। এর মধ্যে ২৫টি সিরিজের ফল নির্ধারিত হয়েছে ২-১ ব্যবধানে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে ১২টি সিরিজ, আর ১৩টিতে হেরেছে। এই ২৫ সিরিজের মধ্যে প্রথম দুই ম্যাচ শেষে ১-১ সমতা হয়েছিল ১৬ বার। এর মধ্যে আটবার শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করেছে বাংলাদেশ। বাকি আটবার জয় গেছে প্রতিপক্ষের ঘরে। ১-১ সমতা থেকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের যে আটটি ঘটনা আছে, তার ছয়বারই প্রথম ম্যাচ জয়ের পর দ্বিতীয়টিতে হেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর শেষ ম্যাচ জিতে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। এবারও ঠিক তেমন এক চ্যালেঞ্জের সামনে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ১১৪ রানে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে বৃষ্টিবিঘ্নিত লড়াইয়ে বাংলাদেশও গুটিয়ে যায় ঠিক ১১৪ রানে। তাই শেষ ম্যাচে প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সই আবার দেখতে চাইবে স্বাগতিকরা। সাম্প্রতিক সময়েও এমন পরিস্থিতি সামলানোর নজির আছে বাংলাদেশের। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ হেরে সিরিজ হারার শঙ্কা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়েছিল দলটি। একইভাবে ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কা এবং ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ হারলেও শেষ পর্যন্ত সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার ২০২৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষেও সেই কীর্তি গড়তে পারলে র‍্যাঙ্কিংয়েও মিলবে সুখবর। সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিততে পারলে ৭৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে এক ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠবে বাংলাদেশ। আর শেষ ম্যাচ হারলে ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে দশম স্থানেই থাকতে হবে টাইগারদের। তবে অতীতে প্রথম ম্যাচ জয়ের পরও সিরিজ হারার তিক্ত অভিজ্ঞতাও আছে বাংলাদেশের। ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ড এবং ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জয়ের পর বাকি দুটি ম্যাচ হেরে সিরিজ হাতছাড়া করেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

ব্যাটিং ধসে পাকিস্তানের কাছে ১২৮ রানের হার বাংলাদেশের

ব্যাটিং ধসে পাকিস্তানের কাছে ১২৮ রানের হার বাংলাদেশের বৃষ্টি-বিঘ্নিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই ছন্দ হারিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ২৩.৩ ওভারে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে ১২৮ রানে জিতে সিরিজে ১-১ সমতা ফেরায় পাকিস্তান। মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আগে ব্যাট করে পাকিস্তান ৪৭.৩ ওভারে তোলে ২৭৪ রান। পরে বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকায় ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সামনে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ২৪৩ রান। পাকিস্তানের বড় সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান দ্রুত ফিরে যাওয়ার পর ঝড়ো বাতাস ও বজ্রপাতের কারণে সাময়িকভাবে খেলা বন্ধ করে দেন আম্পায়াররা। পাকিস্তানের ২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই প্রথম ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বড় শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান। ৭ বলে মাত্র ১ রান করে ফেরেন তিনি।  এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অপর ওপেনার সাইফ হাসানও। মোহাম্মদ ওয়াসিমের অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে ঠিকমতো টাইমিং করতে পারেননি। আব্দুল সামাদের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ১২ বলে দুই চারে ১২ রান করেন সাইফ। টপ অর্ডারের আরেক ধাক্কা আসে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেটে। শাহিনের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন শান্ত। ২ বল খেলে কোনো রান করতে পারেননি তিনি। এই অবস্থায় ৬.৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭ রান। লিটন দাসের সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন তাওহীদ হৃদয়। এর মধ্যেই মাঠে ঝড়ো বাতাস ও আশপাশে বজ্রপাত শুরু হলে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটে খেলা বন্ধ ঘোষণা করেন দুই আম্পায়ার।  রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আবার খেলা শুরু হয়। লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দুজন মিলে ৪৮ বলে ৫৮ রানের জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। লিটন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ৩৩ বলে ৪১ রান করেন। তবে বাঁহাতি স্পিনার মাজ সাদাকাতের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হলে ভেঙে যায় জুটি। লিটনের বিদায়ের পর দ্রুতই ছন্দ হারায় বাংলাদেশের ব্যাটিং। আফিফ হোসেন ১৪ বলে ১৫ রান করে আউট হন, মেহেদী হাসান মিরাজ মাত্র ১ রান করে ফিরেন। সাদাকাতের স্পিনে রিশাদ হোসেনও টিকতে পারেননি। এক প্রান্তে কিছুটা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন হৃদয়। কিন্তু হারিস রউফের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ৩৮ বলে ২৮ রান করে তার ইনিংস শেষ হলে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনাও কার্যত শেষ হয়ে যায়। পরে মোস্তাফিজুর রহমানও রউফের বলে কট বিহাইন্ড হলে বাংলাদেশের নবম উইকেটের পতন ঘটে। শেষ পর্যন্ত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দল। তাসকিন আহমেদও বিদায় নেন ১৪ বলে ৫ রান করে। এর আগে পাকিস্তানের দুই ওপেনার মাজ সাদাকাত ও সাহিবজাদা ফারহানের ব্যাটে দারুণ শুরু পেয়েছে সফরকারীরা। শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেসারদের ওপর চড়াও হয়ে দ্রুত রান তুলেছেন সাদাকাত। মাত্র ৩১ বলে ফিফটির ঘরে পৌঁছান তিনি। তাদের শতরানের জুটি ভাঙেন অধিনায়ক মিরাজ। পাকিস্তানের শতরানের আগে বাংলাদেশ কোনো উইকেটের সুযোগ ই পায়নি। নাহিদ রানার ডেলিভারিতে সাহিবজাদা ফারহানের এলবিডব্লিউর আবেদন মেনে আউট দেন আম্পায়ার তানভির আহমেদ। তবে সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন ব্যাটসম্যান। তাতেই বদলে যায় সিদ্ধান্ত। সাদাকাতের বিপক্ষেও কট বিহাইন্ডের আবেদন করে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। তাসকিনের বল ব্যাটে লাগেনি, তাই রিভিউ হারাতে হয় স্বাগতিকদের। তবে ১৩তম ওভারের শেষ বলে আর শেষ রক্ষা হয়নি। মিরাজের বলে সহজেই বল তালুবন্দী করেন লিটন দাস। শুরুতে অনেকক্ষণ ক্রিজে থাকলেও সাবলীল ছিলেন না ফারহান। রান তোলার গতি বাড়াতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত উইকেট দেন তিনি। তাসকিন আহমেদের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় ডিপ থার্ড ম্যান অঞ্চলে। সেখানে সহজ ক্যাচ নেন তাওহীদ হৃদয়। ফারহান ৪৬ বলে ৩১ করেন। এরপর কিছুক্ষণ পর আরেকটি সাফল্য পায় বাংলাদেশ। পেসার নাহিদ রানার অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ঠিকঠাক লাগাতে পারেননি শামিল হুসাইন। ক্যাচ নেন মোস্তাফিজুর রহমান। ২২ বলে ৬ রান করে ফেরেন তিনি। সেখান থেকে ইনিংস সামলান মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা। দুজন মিলে গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি।  পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। ৩৪তম ওভারে পাকিস্তান স্পর্শ করে দুইশ রানের মাইলফলক।  ৫০ বলে ৫০ রান করা সালমান পান ওয়ানডে ক্যারিয়ারের নবম ফিফটি। রিজওয়ানের সঙ্গে তার জুটি একশ ছাড়ায় মাত্র ১০৮ বলে। তবে নাটকীয়ভাবে ভাঙে এই জুটি। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ফ্লিক করে রিজওয়ান বল ফেরত দিলে ক্রিজের বাইরে ছিলেন সালমান। দ্রুত বল তুলে স্ট্যাম্প ভেঙে দেন মিরাজ। ৬২ বলে ৬৪ রান করেন তিনি। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিদায় নেন রিজওয়ানও। ৫৯ বলে ৪৪ রান করেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। পরের ধাক্কা আসে হুসাইন তালাতের উইকেটে। ১৩ বলে ৯ রান করে বিদায় নেন তালাত। এরপর রান আউটে ফেরেন আব্দুল সামাদ। মিডউইকেটে বল পাঠিয়ে দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে বিপদে পড়েন তিনি।  অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ওয়াসিম ছিলেন ব্যর্থ। তবে ফাহিম আশরাফ ১৫ বলে ১৪ রানের ক্যামিও উপহার দেন। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের ইনিংস থামে ২৭৪ রানে।

লিটনের সঙ্গে কী কথা হয়েছিল মনে নেই সালমানের

লিটনের সঙ্গে কী কথা হয়েছিল মনে নেই সালমানের বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মেহেদী হাসান মিরাজের সেই বিতর্কিত রান আউট ঘিরে মিরপুরের মাঠে তৈরি হয়েছিল চরম উত্তেজনা। আউটের সিদ্ধান্ত আসার পর পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগার সঙ্গে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের বেশ কয়েক দফা বাক্যবিনিময় হতে দেখা যায়। বিশেষ করে উইকেটকিপার লিটন কুমার দাসকে বেশ ক্ষুব্ধ ভঙ্গিতে সালমানের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা গিয়েছিল। তবে ম্যাচ শেষে সেই তিক্ততা ভুলে শান্ত মেজাজেই ধরা দিলেন পাক অধিনায়ক। ঘটনাটি ঘটে যখন রান আউটের সিদ্ধান্ত নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। শুরুতে সালমান বিষয়টি কিছুটা হালকাভাবে নিলেও আম্পায়ার আউটের সংকেত দেওয়ার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। মিরাজের আন্ডারআর্ম থ্রোতে আউট হওয়া মেনে নিতে না পেরে সালমান মাঠেই মেজাজ হারান। সে সময় লিটন কুমার দাস, সাইফ হাসান ও আফিফ হোসেনের সঙ্গে তাকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করতে দেখা যায়। লিটন দাসের আগ্রাসী ভঙ্গি সে সময় পরিস্থিতির পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে লিটনের সঙ্গে ঠিক কী কথা হয়েছিল, তা জানতে চাওয়া হলে হাসিমুখেই উত্তর দেন সালমান। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, লিটনকে ঠিক কী বলেছিলাম তা এখন আর মনে করতে পারছি না। এটাও মনে নেই যে সে আমাকে কী বলছিল। তবে এটুকু নিশ্চিত, আমি যেমন ভালো কিছু বলিনি, সে-ও খুব একটা ভালো কিছু বলেনি। তবে ওটা স্রেফ ‘হিট অব দ্য মোমেন্ট’ ছিল। এখন আমরা দুজনেই ঠিক আছি।” মাঠে হেলমেট ও গ্লাভস ছুঁড়ে মেরে মেজাজ হারানোর বিষয়টি নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন সালমান। তিনি মনে করেন, মাঠের প্রচণ্ড উত্তেজনার কারণেই এমনটা ঘটেছে। তার ভাষায়, ‘ঘটনার পরে কী হয়েছে তা সবাই দেখেছে। মুহূর্তের উত্তেজনায় অনেক কিছুই ঘটে যায়। তবে এরপর যা হয়েছে, সবটুকুই ওই সময়ের পরিস্থিতির কারণে। এটাকে বড় করে দেখার কিছু নেই।’ মাঠের লড়াই শেষে পাকিস্তান বড় জয় পেলেও মিরাজের রান আউট এবং লিটন-সালমানের সেই বাদানুবাদ ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে এখনো আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে।

নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না : প্রধানমন্ত্রী

নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না : প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না। শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।  তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি মানুষের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে পারে, কিন্তু ধৈর্য, সততা, কৃতজ্ঞতা, সহনশীলতা, উদারতা ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জন ছাড়া প্রকৃত মানবিক সমাজ গড়ে ওঠে না। এসব মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তিনি পবিত্র হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যার আমানতদারি নেই, যার কাছে নিরাপত্তা নেই, সে প্রকৃত ইমানদার নয়। যার ওয়াদা ঠিক নেই, তার কোনো ধর্মই নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিহিংসা ও সহিংসতামুক্ত একটি সমাজ গঠনে ধর্মের এই মানবিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারেক রহমান বলেন, দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদ রয়েছে এবং এগুলোকে ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার সুযোগ রয়েছে। তিনি স্মরণ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় দেশে ‘ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি’ চালু হয়েছিল এবং পরে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা’ কার্যক্রম চালু করেছিল। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদানের পাশাপাশি তাদের দক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, এ কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের চার হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির এবং ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহারের মোট ১৬ হাজার ৯৯২ জন ধর্মীয় নেতা মাসিক সম্মানি পাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের ধর্মীয় নেতাদের এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। তিনি আরো বলেন, প্রতিটি জেলার আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক বৈঠকে একজন ইমাম, খতিব বা ধর্মীয় প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান, সবাই মিলে আমরা ভালো থাকব। কেউ যেন আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে। তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিল ইতালি

ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিল ইতালি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের ওপর ইরানের আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। ইতালির সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর ইরাক থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করছে দেশটি। ইরাকি কুর্দিস্তানের এরবিলের ক্যাম্প সিঙ্গারা বিমানঘাঁটিতে রাতভর ড্রোন হামলা হয়। ন্যাটোর প্রায় ৩০০ সেনা এই ঘাঁটিতে অবস্থান করছে। হামলায় একটি রেস্তোরাঁ এবং দুটি যানবাহন ধ্বংস হয়েছে।  হামলায় কেউ আহত হয়নি, তবে ইরান এই অঞ্চলে আক্রমণ তীব্র করায় ইতালির প্রায় ১০০ সেনাকে রোমে ফিরে নেওয়া হয়েছে। কুর্দি সেনাদের বিদ্রোহের আশঙ্কায় সরকার কুর্দিস্তান অঞ্চলে বোমাবর্ষণ করেছে। ইরাকি কুর্দিরা সংঘাতের প্রথম দিনগুলোতে তেহরানে স্থল থেকে আক্রমণ শুরু করে বলে জানা গেছে, যদিও পরে কুর্দি নেতারা তা অস্বীকার করেছেন। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে ক্যাম্প সিঙ্গারায় এই আক্রমণ ইচ্ছাকৃত ছিল। কারণ সেখানে ইতালীয় সেনারা কুর্দি পেশমার্গা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল। মার্কিন নেতৃত্বাধীন আইসিস-বিরোধী জোটের অংশ হিসেবে ইতালীয় সেখানে অবস্থান করছিল। এটি ইচ্ছাকৃত কি না জানতে চাইলে ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইডো ক্রোসেটো বলেন, ‘অবশ্যই হ্যাঁ। এটি অপারেশন ইনহেরেন্ট রেজলভের মধ্যে একটি ন্যাটো ঘাঁটি, তাই এটি একটি আমেরিকান ঘাঁটিও।’ তিনি হামলার জন্য কে দায়ী তা উল্লেখ করেননি তবে বলেছেন, ঘটনাস্থলে থাকা ১৪১ জন ইতালীয় সেনা বাড়ি ফিরে আসবে।   তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই সেই মিশন থেকে ১০২ জনকে ফিরিয়ে এনেছি এবং আমরা প্রায় ৪০ জনকে জর্দানে নিয়েছি।’ ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলেছেন, ড্রোনটি কোথা থেকে এসেছে তা স্পষ্ট নয়। এটি সম্ভবত ইরাকে অবস্থিত ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের কাজ। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, ‘আমি আমাদের সেনাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি। তারা হামলার পরে অক্ষত আছেন।’ ঘাঁটির কমান্ডার কর্নেল স্টেফানো পিজোত্তি বলেছেন, ‘সামরিক কর্মীদের বিমান হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল এবং হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে তারা বাংকারে আশ্রয় নিয়েছিল।’ পিজোত্তি আরো বলেন, ‘আমরা এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত এবং প্রশিক্ষিত। আমাদের কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিমান হামলার সতর্কতা শেষ হয়ে গেছে।’ এক বিবৃতিতে কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্সি বলেছে, ‘ইরাকি সরকারকে কূটনৈতিক দূত এবং জোট বাহিনীকে রক্ষা করার দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং অবৈধ গোষ্ঠীগুলোকে আর দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ বিপন্ন করতে দেওয়া উচিত নয়।’ মেলোনি এর আগে বলেছিলেন, ইরানের যুদ্ধে ইতালির যোগদানের কোনো ইচ্ছা তার নেই। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্র হওয়া সত্ত্বেও তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে’ কাজ করার অভিযোগ করেছেন। ইতালি উপসাগরীয় দেশগুলোকে বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে এবং প্রতিরক্ষা জোরদার করতে এই সপ্তাহের শুরুতে একটি ইতালীয় যুদ্ধজাহাজ সাইপ্রাসে পৌঁছেছে। এ ছাড়া জানা গেছে, ইতালি ও ফ্রান্স ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির জন্য আলোচনা শুরু করেছে, যার মাধ্যমে তাদের জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। সূত্র : ডেইলি মেইল।

ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ইরাকের বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। ইরাকি কর্মকর্তাদের বরাতে এই খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।  প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন দূতাবাস থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর অপর একটি সূত্রও কূটনৈতিক মিশনে এ হামলার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। দূতাবাসের ভেতরের একটি হেলিপ্যাডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।  এদিকে, বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, একটি ড্রোন দূতাবাসে আঘাত হেনেছে। ইরাকের রাজধানীতে হামলায় ইরান-সমর্থিত দুই যোদ্ধা নিহত হওয়ার কিছুক্ষণ পরই এ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত গ্রিন জোনের ভেতরে বাগদাদে অবস্থিত বিশাল এই দূতাবাস প্রাঙ্গণটি প্রায়ই ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের রকেট ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস থেকে সংবাদমাধ্যমগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।  উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার দূতাবাসটি ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য লেভেল-৪ নিরাপত্তা সতর্কতা পুনরায় কার্যকর করে। এতে সতর্ক করা হয় যে, ইরান এবং ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এর আগে মার্কিন নাগরিক, স্বার্থ ও অবকাঠামোর ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তারা আবারও এসবকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।

ইমাম-পুরোহিতদের সম্মানি কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ইমাম-পুরোহিতদের সম্মানি কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের মাসিক সম্মানি প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে দেশের হাজার হাজার ধর্মীয় সেবককে মাসিক ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই কার্যক্রমে ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত ও সেবাইতকে মাসিক সম্মানি প্রদান করা হবে। এ ছাড়া ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজকসহ অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। প্রকল্পের আর্থিক রূপরেখা অনুযায়ী, প্রতিটি মসজিদের জন্য মোট ১০ হাজার টাকা মাসিক সম্মানি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট মসজিদের ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা করে পাবেন। অন্যদিকে, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপাসনালয়গুলোর জন্য প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মন্দিরের পুরোহিত ৫ হাজার টাকা এবং সেবাইত ৩ হাজার টাকা পাবেন। একইভাবে বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ৫ হাজার ও উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা এবং খ্রিস্টান চার্চের পালক বা যাজক ৫ হাজার ও সহকারী যাজক ৩ হাজার টাকা করে সম্মানি পাবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ধর্মের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মধ্যপ্রাচ্য সংকট : আজও বাতিল ২৪ ফ্লাইট

মধ্যপ্রাচ্য সংকট : আজও বাতিল ২৪ ফ্লাইট মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সাতটি দেশ তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। যার প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। যুদ্ধপরিস্থিতিতে আকাশপথ বন্ধের কারণে ঢাকা থেকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৪৭৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ শনিবার বাতিল হয়েছে ২৪টি ফ্লাইট। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি ফ্লাইট, ২ মার্চ ৪৬টি এবং ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি এবং ৯ মার্চ ৩৩টি, ১০ মার্চ ৩২ টি, ১১ মার্চ ২৭ টি, ১২ মার্চ ২৮ টি, ১৩ মার্চ ২৫ টি এবং ১৪ মার্চ শনিবার ২৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। আজ শনিবারের বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে– কুয়েত ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ, ইউএই) ২টি, গালফ এয়ার (বাহরাইন) ৪টি কাতার এয়ারওয়েজ (কাতার) ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইনস (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ৪টি, জাজিরা (কুয়েত) ৪টি, ফ্লাইদুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ৪টিসহ মোট ২৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এছাড়া সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত সর্বমোট বাতিলকৃত ফ্লাইট সংখ্যা ৪৭৫টি।

সবার আগে একটি দেশের ঈদের তারিখ ঘোষণা

সবার আগে একটি দেশের ঈদের তারিখ ঘোষণা অস্ট্রেলিয়ায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির শীর্ষ ইসলামি সংগঠন অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ) অস্ট্রেলিয়ায় ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। দিনটি হবে ১৪৪৭ হিজরি সালের ১ শাওয়াল। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, অস্ট্রেলিয়ান ফতোয়া কাউন্সিল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং চাঁদ দেখার দায়িত্বে থাকা বিশেষায়িত বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলো তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে শুধু অস্ট্রেলিয়ার পর্যবেক্ষণই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের তথ্য বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর চাঁদ দেখার সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) পবিত্র রমজান মাসের শেষ দিন হবে। এর পরদিনই অস্ট্রেলিয়ার মুসলিমরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল আরো জানায়, রমজান মাসের শুরু ও শেষ নির্ধারণ, শাওয়াল মাসের সূচনা এবং ঈদুল ফিতরের দিন ঠিক করতে অস্ট্রেলিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি ও অস্ট্রেলিয়ান ফতোয়া কাউন্সিল নির্দিষ্ট কিছু বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড অনুসরণ করে। এর মধ্যে রয়েছে সূর্যাস্তের আগে নতুন চাঁদের আবির্ভাব, সূর্যাস্তের পর আকাশে চাঁদ কতক্ষণ দৃশ্যমান থাকতে পারে এবং অস্ট্রেলিয়া ও আশপাশের অঞ্চলে চাঁদ দেখা সম্ভব কিনা এসব বিষয়। কাউন্সিলের মতে, এই পদ্ধতি কেবল অস্ট্রেলিয়াতেই নয়, বিশ্বের অনেক স্বনামধন্য বৈজ্ঞানিক ও ইসলামি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং ফিকহভিত্তিক সংগঠনও অনুসরণ করে থাকে। এর মাধ্যমে চাঁদ দেখার বিষয়ে একটি সুসংগঠিত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়। সূত্র : খালিজ টাইমস

ভোটের কালি মোছার আগেই প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ শুরু হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

ভোটের কালি মোছার আগেই প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ শুরু হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘জনগণের রায়ে আল্লাহর রহমতে বিএনপি সরকার গঠনের পর ভোটের কালি নখ থেকে মোছার আগেই আমরা আমাদের সব প্রতিশ্রুতি ধারাবাহিকভাবে বাস্তাবায়নের কাজ শুরু করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, এর জন্য আমি আল্লাহর দরবারে লাখো শুকরিয়া জানাচ্ছি।’শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সরকারি সম্মানি প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে আছেন, তাদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেশে আর্থিক বৈষম্য কমানো হবে। জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।’ তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। আর সেই ভোটের কালি নখ থেকে মোছার আগেই সরকার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। তারেক রহমান আরো জানান, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা নারীদের জন্য ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে চার কোটি পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে। পাশাপাশি আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ থেকে কৃষক কার্ডের পাইলট প্রকল্প চালু করা হবে। এ ছাড়া আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে দেশের খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা বা সম্মানি প্রদানের একটি পাইলট কর্মসূচিও শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘নাগরিকরা দুর্বল থাকলে রাষ্ট্র কখনোই শক্তিশালী হতে পারে না। তাই ধীরে ধীরে দেশের মানুষকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।’ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার রাষ্ট্রীয় সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি মানুষের জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য আনতে পারে। তবে ধৈর্য, সততা, কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, উদারতা ও দায়িত্ববোধের মতো মানবিক গুণাবলি ছাড়া একজন মানুষ পূর্ণতা পায় না। এসব মূল্যবোধ গড়ে তুলতে ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্বও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।’ তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে যারা দেশকে নেতৃত্ব দেবে তাদের মধ্যে এই মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।