১২৮ বছর পর ক্রিকেট ফিরছে অলিম্পিকে: ৬টি করে দল পুরুষ ও নারী বিভাগে

১২৮ বছর পর ক্রিকেট ফিরছে অলিম্পিকে: ৬টি করে দল পুরুষ ও নারী বিভাগে ২০২৮ সালের ‘লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক গেমসে’ পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগেই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অংশ নেবে ছয়টি করে দল। অলিম্পিকে নতুন যে পাঁচটি খেলার সংযোজন হয়েছে, তার মধ্যে ক্রিকেট অন্যতম। প্রতিটি দল ১৫ সদস্যের স্কোয়াড নিয়ে অংশ নেবে। অলিম্পিক কমিটির প্রকাশিত অফিসিয়াল সূচি অনুযায়ী, পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগের জন্যই বরাদ্দ থাকবে ৯০ জন করে খেলোয়াড়ের কোটা। তবে এখনো ঠিক হয়নি কোন নিয়মে দলগুলো অলিম্পিকে জায়গা পাবে কিংবা বাছাই প্রক্রিয়া কেমন হবে। যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র এবারের আয়োজক দেশ, তারা সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পেতে পারে। সেক্ষেত্রে বাকি দলগুলোর জন্য সুযোগ কমে যাবে। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে কারা খেলবে সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ, অলিম্পিকে ক্যারিবীয় দ্বীপগুলো আলাদা আলাদা দেশ হিসেবে অংশ নেয়। যেমনটা তারা কমনওয়েলথ গেমসেও করে। ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে নারী টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলেছিল বার্বাডোস। তারা ছিল তখনকার আঞ্চলিক টুর্নামেন্ট ‘টোয়েন্টি-টোয়েন্টি ব্লেজ’-এর চ্যাম্পিয়ন। ক্রিকেটের অলিম্পিকে ফেরা হলো বহু বছর পর। সর্বশেষ ১৯০০ সালে প্যারিস অলিম্পিকে ক্রিকেট ছিল। এরপর দীর্ঘদিন বাদে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে মুম্বাইয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিকেটকে আবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আগেই জানা গিয়েছিল, ‘এলএ অলিম্পিকে’ দলগত খেলাগুলোতে ছয়টি করে দল খেলবে — পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগেই। এবার সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তাদের প্রস্তাবে বলেছিল, নির্ধারিত একটি সময় পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে দল বাছাই করা যেতে পারে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে ২০২৫ সালের মধ্যেই তা চূড়ান্ত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দল, যারা এখনো আইসিসির পূর্ণ সদস্য নয়, তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে আইওসি’র ক্রীড়া পরিচালক কিট ম্যাককনেল বলেছিলেন, ‘‘সাধারণত আয়োজক দেশগুলো দলগত খেলায় একটি দল দেয়। এরপর বাকি দলগুলো নির্ধারিত হয় বিশ্ব শক্তি ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য বিবেচনায়। কোটা অনুযায়ী এ ভারসাম্য বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য।’’
স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে ফ্রান্স

স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে ফ্রান্স ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তার দেশ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার ফ্রান্স ফাইভ টেলিভিশনের সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপে এ কথা বলেন মাখোঁ। আজ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ম্যাক্রোঁ বলেন, “ফ্রান্সের লক্ষ্য জুন মাসে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের কনফারেন্সে নেতৃত্ব দেওয়া, যেখানে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ফিলিস্তিনকে একটি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।” ফরাসি প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, “আমি কাউকে খুশি করার জন্য এটি করছি না। আমি এটি করব, কারণ আমি মনে করি এক সময় এটি সঠিক হবে এবং আমি একটি যৌথ গতিশীলতাতে যুক্ত হতে চাই, যেটিতে যারা ফিলিস্তিনকে সমর্থন করেন, তারা এর বদলে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবেন। যেটি তাদের অনেকেই করেন না।” জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে প্রায় ১৫০টি দেশ ফিলিস্তিনকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে বেশিরভাগ পশ্চিমা শক্তি এখনও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়নি, যার মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্যে, ফ্রান্স, জার্মানি এবং জাপান। অন্যদিকে, যেসব দেশ ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না, তাদের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, সিরিয়া এবং ইয়েমেন। ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন আলাদা দুটি রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে মতামত দিয়ে আসছে। তবে তারা বিষয়টিতে এতদিন আনুষ্ঠানিকভাবেই সমর্থন জানিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স যদি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে এটি তাদের পররাষ্ট্রনীতির বড় পরিবর্তন হবে।
বাংলাদেশের মঙ্গল কামনা ভারতের ডিএনএতে রয়েছে: জয়শঙ্কর

বাংলাদেশের মঙ্গল কামনা ভারতের ডিএনএতে রয়েছে: জয়শঙ্কর বাংলাদেশের মঙ্গল কামনা করা ভারতের ডিএনএতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি দাবি করেছেন, ভারতের চেয়ে বেশি কোনো দেশ বাংলাদেশের মঙ্গল কামনা করে না। বুধবার (৯ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, সম্প্রতি থাইল্যান্ডে ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাক্ষাৎ করেন। এরপর গতকাল বুধবার ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নয়াদিল্লিতে রাইজিং ভারত সামিটে ভাষণ দেওয়ার সময় বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য করলেন। নিউজ১৮ আয়োজিত সামিটের দ্বিতীয় দিনে ড. ইউনূস-মোদির সাম্প্রতিক বৈঠক সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “আমি মনে করি আমাদের পক্ষ থেকে বৈঠকে যে প্রধান বার্তাটি বেরিয়ে এসেছে তা হলো, ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই অনন্য। এটি মূলত জনগণের সঙ্গে জনগণের সংযোগ, সম্ভবত অন্য যেকোনো সম্পর্কের চেয়ে অনেক বেশি। এবং এটিই আমাদের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।’ তিনি বলেন, “দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে যে বক্তব্য বেরিয়ে আসছে তা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে। আমরা যে মৌলবাদী প্রবণতা দেখছি তা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে। এবং আমি মনে করি আমরা সেই উদ্বেগগুলো প্রকাশের বিষয়ে খুব খোলামেলা ছিলাম।” জয়শঙ্কর জোর দিয়ে বলেন, “ভারত বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন।” তিনি দাবি করেন, “একটি দেশ হিসেবে, আমাদের (ভারতের) চেয়ে বেশি কোনো দেশ বাংলাদেশের মঙ্গল কামনা করে না। এটা আমাদের ডিএনএতে রয়েছে। একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে, একজন বন্ধু হিসেবে, আমি মনে করি আমরা আশা করি তারা সঠিক পথে চলবে এবং সঠিক কাজ করবে।” ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, তিনি আশা করেন যে- বাংলাদেশে শিগগিরই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি দাবি করেন, “গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের অধিকারী একটি দেশ হিসেবে, গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচন প্রয়োজন। এভাবেই ম্যান্ডেট দেওয়া হয় এবং ম্যান্ডেট পুনর্নবীকরণ করা হয়। তাই আমরা আশা করি তারা সেই পথেই যাবে।
টানা চার জয়ে শীর্ষে গুজরাট

টানা চার জয়ে শীর্ষে গুজরাট আইপিএলের এবারের আসরে শুরুটা প্রত্যাশামতো না হলেও ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে গুজরাট টাইটান্স। প্রথম ম্যাচে হারলেও এরপর টানা চার জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে শুভমন গিলের নেতৃত্বাধীন দলটি। সবশেষ ম্যাচে বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) রাতে রাজস্থান রয়্যালসকে ৫৮ রানে হারিয়েছে তারা। আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ব্যাট ও বল—দু’দিকেই আধিপত্য দেখায় গুজরাট। আগে ব্যাট করে সাই সুদর্শনের ঝড়ো ইনিংস ও রাহুল তেওয়াটিয়া-রশিদ খানের ছোট ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংসে ভর করে তারা তোলে ৬ উইকেটে ২১৭ রান। জবাবে রাজস্থান ১৯.২ ওভারে থেমে যায় মাত্র ১৫৯ রানে। শুরুটা ভালো হয়নি গুজরাটের। অধিনায়ক শুভমন গিল মাত্র ২ রান করে আউট হন। তবে এরপর সাই সুদর্শন সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন ব্যাটিংয়ে। প্রথমে জশ বাটলারের সঙ্গে ৮০ রানের জুটি গড়েন। পরে শাহরুখ খানের সঙ্গে ৬২ রানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ করেন। ৫৩ বলে ৮২ রানের অসাধারণ ইনিংসে তিনি মারেন ৮টি চার ও ৩টি ছক্কা। শেষ দিকে তেওয়াটিয়ার ১২ বলে ২৪ এবং রশিদের ৪ বলে ১২ রানের ঝোড়ো ক্যামিওতে স্কোরটা বিশাল হয়ে ওঠে। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রাজস্থান রয়্যালস শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। যদিও অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন ও শিমরন হেটমায়ার কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। সঞ্জু ৪১ ও হেটমায়ার ৫২ রান করেন। রিয়ান পরাগের ব্যাট থেকে আসে ২৬ রানে। তবে অন্যদের ব্যর্থতায় ১৫৯ রানেই গুটিয়ে যায় রাজস্থান। গুজরাটের প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা বল হাতে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন। রশিদ খান ও সাই কিশোরের ঝুলিতে জমা পড়ে দুটি করে উইকেট। ব্যাটিংয়ে দুর্দান্ত ইনিংস খেলার পর দুটি ক্যাচ নিয়ে ম্যাচসেরা হন সুদর্শন। এই জয়ে ৫ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে গেছে গুজরাট টাইটান্স। অন্যদিকে, রাজস্থান রয়্যালস ৫ ম্যাচে ৩ হারে ৪ পয়েন্ট নিয়ে নেমে গেছে সপ্তম স্থানে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস, তাদের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট।
গাজায় আবাসিক ভবনে ইসরায়েলের বিমান হামলা, নিহত ৩৫

গাজায় আবাসিক ভবনে ইসরায়েলের বিমান হামলা, নিহত ৩৫ গাজা সিটির শুজায়া এলাকার আবাসিক ভবনগুলোতে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে কমপক্ষে ৩৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরো ৫৫ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে ৮০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বুধবার গাজার শুজায়া এলাকার একাধিক বসতবাড়ি লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু বোমা বর্ষণ করেছে ইসরায়েল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের বোমা হামলার শব্দ থেকেই বোঝা যাচ্ছিল তারা গণহত্যা চালাচ্ছে। গাজায় ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেছেন, আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হামলার পর আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ সরঞ্জামের অভাব থাকা সত্ত্বেও জরুরি কর্মীরা ‘তাদের যথাসাধ্য চেষ্টা’ করছে। বাসল বলেন, “ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কয়েক ডজন মানুষ আটকা পড়ে আছে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে আমরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছি না। তাদেরকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।” তিনি বলেন, “ইসরায়েল গাজায় যন্ত্রপাতি আসতে দিতে চায় না। যতক্ষণ পর্যন্ত এই সরঞ্জাম আসতে না দেওয়া হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দুর্ভোগ অব্যাহত থাকবে।” দীর্ঘ ১৫ মাস সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় হামাস ও ইসরায়েল। তবে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে ফের গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় নতুন করে ইসরায়েলের বিমান হামলায় প্রায় ১৫০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও তিন হাজার ৭০০ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে গাজায় হামলা আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৫০ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহতের সংখ্যা ১ লাখ ১৫ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ‘বাড়তি চাপ’ না দেওয়ার অনুরোধ শিক্ষা উপদেষ্টার

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ‘বাড়তি চাপ’ না দেওয়ার অনুরোধ শিক্ষা উপদেষ্টার পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকরা নানা রকম চাপের মধ্যে থাকেন, জানিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার) বলেছেন, কোনো বাড়তি অন্যায় চাপ যেন সৃষ্টি না করা হয়, সেজন্য সবার কাছে আমি অনুরোধ জানাচ্ছি। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর দিন বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) বেলা ১১টায় রাজধানীর মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষা উপদেষ্টা এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শনে যাবেন কি না, তা নিয়ে কিছু জানায়নি মন্ত্রণালয়। তবে, আকস্মিকভাবে কোনো কেন্দ্রে তিনি যেতে পারেন বলে গুঞ্জন ছিল। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ শিক্ষা উপদেষ্টা রাজধানীর মতিঝিল বালক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। তার সঙ্গে অল্প কয়েকজন কর্মকর্তাকে দেখা যায়। খুব বেশি সময় তিনি কেন্দ্রে অবস্থান করেননি। কেন্দ্র থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সারা দেশে এসএসসি এবং সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ১৯ লাখ ২৮ হাজার ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। ৩০ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩ হাজার ৮১৫ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে। এটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি এটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে। আমরা মনে করি, পরীক্ষার শেষ দিন পর্যন্ত এ পরিবেশ বজায় থাকবে। আশা করি, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।” গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম পাবলিক পরীক্ষা এবং প্রশ্ন ফাঁসের মতো বিষয়ে এ পরীক্ষাকে টার্গেট করা হতে পারে, এজন্য বাড়তি কী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা অবশ্যই বিবেচনার মধ্যে ছিল। সে হিসেবে যে সূত্র থেকে, প্রশ্নফাঁস তো অতীতে হয়েছে বলে জানা গেছে। আমরা চেষ্টা করেছি, সেই সূত্রগুলো প্লাক করা। সেখান থেকে যেন না হতে পারে, আমরা আশা করি, আমরা সফল হব। এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটা অবশ্যই টপ প্রায়োরিটি এরিয়া হিসেবে আমরা দেখেছি এবং কার্যকরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়ায়, এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, আমরা আশা করব, তারা বিরত থাকবেন। দেশের মঙ্গলের জন্য আমরা যে যেখানেই থাকি না কেন, আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান বা পছন্দ থাকতে পারে; পরীক্ষা এমন একটা বিষয়, এটা অনেক প্রস্তুতির পর নেওয়া হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের নানা রকমের মানসিক চাপ এখানে থাকে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের মানসিক চাপ থাকে। তো এটার সাথে বাড়তি অন্যায় চাপ যেন সৃষ্টি না করেন, সকলের কাছে আমি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, প্রশ্নফাঁসের তথ্য পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগে জানাতে হবে। যাতে তারা যাচাই-বাছাই করতে পারে। কিন্তু, আপনি একটা বিষয় পেলেন, সেটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলেন, তার দায়-দায়িত্ব অবশ্যই আপনাকে নিতে হবে। এর মাধ্যমে কিন্তু অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। তাই, আমাদের আবেদন থাকবে, আপনারা এসব থেকে বিরত থাকবেন। পরীক্ষা শেষে দুই মাসের মধ্যে ফল প্রকাশের একটা রেওয়াজ আছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, যদি রেওয়াজ থেকে থাকে, আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করব। উপদেষ্টা জানান, পরীক্ষার তারিখ ইস্টার সানডে-তে পড়েছিল। আমরা সেটা বিবেচনার মধ্যে নিয়েছি। সেটি পরিবর্তন করা হয়েছে। সাংবাদিকদের ছাড়াই বেলা ১১টার দিকে পরীক্ষা কেন্দ্রের কয়েকটি কক্ষ পরিদর্শন করেন শিক্ষা উপদেষ্টা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আপনারা সকলেই বাইরে ছিলেন, যার ফলে ভেতরে ছাত্রছাত্রীরা যে পরিবেশে পরীক্ষাটা দিচ্ছে, সেখানে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।” এজন্য সাংবাদিকদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান তিনি। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। শেষ হয় দুপুর ১টায়। আগামী ১৩ মে শেষ হবে পরীক্ষা। ব্যবহারিক পরীক্ষা হবে ১৫ থেকে ২২ মে পর্যন্ত। এদিকে, সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের লক্ষ্যে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
৩০৯ জন মা ও শিশুকে স্বাস্থ্য সেবা দিয়েছে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ

৩০৯ জন মা ও শিশুকে স্বাস্থ্য সেবা দিয়েছে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ চাঁপাইনবাবগঞ্জে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ ঈদুল ফিতরের ছুটিতেও কার্যক্রম চালু রেখেছে। গত ২৮ মার্চ হতে শুক্রবার দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা সেবা কেন্দ্র এবং মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র চালু রাখা হয়েছিল। এসময় সেবা কেন্দ্র এবং মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ৫২ জনকে প্রসবপূর্ব সেবা, ৩৮ জনকে প্রসব সেবা, ৪৪ জনকে প্রসবোত্তর সেবা, ৪৩ জনকে নবজাতক সেবা এবং ৩ জনকে প্রসবোত্তর পিপিএফপি সেবা দেয়া হয়েছে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সেবাগ্রহীতাদের মধ্য থেকে ১৯ জনকে প্রসবপূর্ব সেবা, ১৩ জনকে প্রসব সেবা, ১৮ জনকে প্রসবোত্তর সেবা এবং নবজাতক সেবা দেয়া হয়েছে ১৭ জনকে। এই ৮ দিন ছুটিকালীন জেলায় মোট ৩০৯ জনকে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক শুকলাল বৈদ্য এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন- প্রসূতি মা ও নবজাতকের কথা বিবেচনায় রেখে ঈদুল ফিতরের ছুটির মধ্যেও জেলার সেবা কেন্দ্র এবং মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো চালু রাখা হয়েছে; যাতে সেবাগ্রহীতারা এই সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।
সপ্তাহের বাজারদর : ডিমের হালি আবার ৪০ পেঁয়াজের দাম বাড়তি

সপ্তাহের বাজারদর : ডিমের হালি আবার ৪০ পেঁয়াজের দাম বাড়তি চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাল, ডাল, আটা-ময়দার দাম গত সপ্তাহের মতো থাকলেও এক হালি ডিমের দাম আবার ৪০ টাকায় ঠেকেছে। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমেছে বেগুনের দাম। অন্যদিকে বেড়েছে ভালো মানের গরুর মাংস, মুরগি ও পেঁয়াজের দাম। শুক্রবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাশহরের নিউমার্কেট কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। নিউমার্কেটের আব্দুর রহমান বাবু জানান, জিরাসাইল ও মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮৫ টাকা। সাদা স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০-৫২ টাকা, লাল স্বর্ণা ৫৬-৫৮ টাকা, ৬৩ ধানের চাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা, আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে থেকে ৭৫-৭৬ টাকা কেজি দরে। এছাড়া প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, চিনি ১২০ টাকা, মসুর ডাল ১১০-১৩০ টাকা, দেশী ছোলার ডালের দাম ১৪০ টাকা, খেসাড়ির ডাল ১২০ টাকা, মটর ডাল ১৪০ টাকা, মাসকলাইয়ের ডাল ১৭০-১৮০ টাকা প্রতি কেজি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। আর ৪ টাকা বেড়ে ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি ৪০ টাকায়। তিনি জানান, খোলা আটা ৩৮-৪০ টাকা ও প্যাকেট আটা ৪৫-৫০ টাকা কেজি, এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ১৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে সবজি বিক্রেতা তাইফুর রহমান জানান, বেগুনের দাম মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা, আলু ২০-২৫ টাকা, সজনে ডাটা কিছুটা কমে বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা, দেশী করোলা ৭০-৮০ টাকা, ঢেঁড়শ কিছুটা কমে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, পটোল ৬০ টাকা, কাঁচকলা ৩৫-৪০ টাকা, পেঁপে ৩৫-৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, শসা ৫৫-৬০ টাকা, গাজরের দাম বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০ টাকা, টমেটো ৩০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। এদিকে মাছ বিক্রেতারা জানান, ছোট মিরকা মাছ বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা, রুই ওজনভেদে ২৬০-৩৫০ টাকা, বড় কাতলা ৩২০ টাকা, সিলভার কার্প ২০০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা, ট্যাংরা ৮০০-১১০০ টাকা, পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, সিং ৬০০-৮০০ টাকা, ছোট বোয়াল ৬০০ টাকা, আইড় মাছ বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা, পাঙ্গাস ১৬০ টাকা, বাঁশট ৩৬০ টাকা, পিয়ালি ৬০০ টাকা, রাইখড় ৬০০ টাকা, পুঁটি ৩৫০ টাকা, ময়া ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে মুরগি বিক্রেতা শরিফুল ও আলম জানান, দেশী মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৪০ টাকা, সোনালি বা পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৩০ টাকা, সাদা লিয়ার ২৮০ টাকা, প্যারেন্স মুরগি ৪০ টাকা এবং ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২০০ টাকা কেজি। অন্যদিকে মাংস বিক্রেতা সেলিম জানান, ভালো মানের গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ছাগলের মাংস ৯০০-১১০০ টাকা এবং ভেড়ার মাংস ১০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা ফেরাতে রাজি মিয়ানমার

প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা ফেরাতে রাজি মিয়ানমার বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রত্যাবাসনের যোগ্য হিসেবে এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা চূড়ান্ত করেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। কক্সবাজারে আশ্রিত এই জনগোষ্ঠীকে স্বদেশে ফেরানোর জন্য ২০১৮ থেকে ২০২০ সময়কালে ছয় ধাপে মিয়ানমারকে আট লাখ রোহিঙ্গার তালিকা দেয় বাংলাদেশ সরকার। এর মধ্যে এক লাখ ৮০ হাজার জনের তালিকা চূড়ান্ত করেছে মিয়ানমার। আরও ৭০ হাজার জনের চূড়ান্ত যাচাই চলমান। তাদের ছবি ও নাম যাচাই করার মধ্য দিয়ে ভাগ্য নির্ধারণ হবে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ থান শেও বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ (বিশেষ দূত) ড. খলিলুর রহমানের কাছে এ তথ্য প্রকাশ করেন। এটি রোহিঙ্গা সঙ্কটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে প্রথম নিশ্চিতকৃত তালিকা। মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, মূল তালিকার বাকি ৫ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গার যাচাইও দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। বৈঠকের সময় হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান মিয়ানমারে ভূমিকম্পে আক্রান্তদের জন্য সমবেদনা জানান এবং দুর্যোগকবলিত মানুষের জন্য আরও মানবিক সহায়তা পাঠাতে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেন। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযানে নামলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ৭ লাখ মানুষ। আগে থেকে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাসহ সব মিলিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয়ে রয়েছে জনগোষ্ঠীটির প্রায় ১০ লাখ লোক। মিয়ানমারের ওই অভিযানকে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ আখ্যা দেওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেয়। দুদেশের উচ্চপর্যায়ে সফর বিনিময় ও বৈঠক হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের হাতে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের তালিকা দেওয়া হয়। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এর মধ্যে গত মার্চে বাংলাদেশ সফরে আসেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি ও ড. ইউনূস কক্সবাজারে গিয়ে এক লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে ইফতার করেন। সেখানে জাতিসংঘ মহাসচিব বিশ্ববাসীর উদ্দেশে বলেন, রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরে যেতে চান, তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সেখানে ড. ইউনূস পরের ঈদটি যেন রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে নিজ ভূমিতে ফিরে করতে পারেন, সেজন্য নিজের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন এবং এজন্য তাদের কাছে দোয়াও চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর হাছে দোয়া গরি, সামনর ঈদত যেন অনারা নিজর বাড়িত যাইয়েরে ঈদ গরিন ফারন। ’
কলকাতার দ্বিতীয় জয়ে হায়দরাবাদের তৃতীয় হার

কলকাতার দ্বিতীয় জয়ে হায়দরাবাদের তৃতীয় হার আইপিএলের এবারের আসর দারুণ এক জয় দিয়ে শুরু করেছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। প্রথম ম্যাচে তারা রাজস্থান রয়্যালসকে ৪৪ রানে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা করেছিল। কিন্তু এরপর টানা তিন হারের স্বাদ পেল তারা। সবশেষ বৃহস্পতিবার (০৩ এপ্রিল) রাতে তাদের ৮০ রানে হারিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। ইডেন গার্ডেন্সে এদিন কেকেআর আগে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে ২০০ রান করে। এরপর ১৬.৪ ওভারে তারা হায়দরাবাদকে অলআউট করে মাত্র ১২০ রানে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বরুণ চক্রবর্তী ৪ ওভারে ২২ রানে ৩টি উইকেট নেন। বৈভব অরোরা ৪ ওভারে ১ মেডেনসহ ২৯ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। আন্দ্রে রাসেল ১.৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে নেন ২টি উইকেট নেন। এছাড়া হরিষত রানা ও সুনীল নারিন ১টি করে উইকেট নেন। কলকাতার বোলিং তোপে হায়দরাবাদের মাত্র চারজন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের কোটায় রান করতে পারেন। তার মধ্যে হেনরিখ ক্লাসেন ২ চার ও ২ ছক্কায় ৩৩ রান করেন। ১ চার ও ২ ছক্কায় কামিন্দু মেন্ডিস করেন ২৭ রান। নিতিশ কুমার রেড্ডি ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৯ ও প্যাট কামিন্স ২ চারে করেন ১৪ রান। তার আগে কলকাতার ইনিংসে ফিফটির দেখা পান ভেঙ্কটেশ আয়ার ও অঙ্গকৃষ রঘুবংশী। ভেঙ্কটেশ ২৯ বলে ৭টি চার ও ৩ ছক্কায় ৬০ রান করেন। রঘুবংশী ৩২ বলে ৫টি চার ও ২ ছক্কায় করেন ৫০ রান। এছাড়া আজিঙ্কা রাহানে ১ চার ও ৪ ছক্কায় ৩৮ এবং রিংকু সিং ১৭ বলে ৪টি চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ৩২ রান করেন। বল হাতে হায়দরাবাদের মোহাম্মদ শামি, প্যাট কামিন্স, জিশান আনসারি, হর্ষল প্যাটেল ও কামিন্দু মেন্ডিস ১টি করে উইকেট নেন। এই জয়ে ৪ ম্যাচ থেকে ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করে পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম স্থানে অবস্থান নিয়েছে কেকেআর। ৪ ম্যাচ থেকে ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানি তথা দশম স্থানে আছে হায়দরাবাদ।