১ মে থেকে দেশজুড়ে ডিম-মুরগির খামার বন্ধের ঘোষণা

১ মে থেকে দেশজুড়ে ডিম-মুরগির খামার বন্ধের ঘোষণা ১ মে থেকে দেশজুড়ে ডিম ও মুরগির খামার বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)। বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বিপিএ-এর সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার অভিযোগ করেন, পোল্ট্রি শিল্প সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে ঈদের মৌসুমেও ভয়াবহ লোকসান করেছে। দুই মাসে ডিম ও মুরগির খাতে লোকসান দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৬০ কোটি টাকা। রমজান ও ঈদ উপলক্ষে প্রান্তিক খামারিরা প্রতিদিন ২০ লাখ কেজি মুরগি উৎপাদন করেছেন। প্রতি কেজিতে ৩০ টাকা লোকসানে, এক মাসে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে বলে তিনি জানান। অন্যদিকে, এই মৌসুমে প্রান্তিক খামারিরা উৎপাদন করে তিন কোটি ডিম। প্রতি ডিমে দুই টাকা করে লোকসানে, দুই মাসে ডিমে লোকসান হয়েছে ৩৬০ কোটি টাকা। এমন অবস্থায় সারা দেশে প্রান্তিক ডিম ও মুরগির খামারিদের মধ্যে হাহাকার দেখা দিয়েছে অথচ সরকার নিশ্চুপ ভূমিকায় রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন বিপিএ-এর সভাপতি। সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নীরবতায় কিছু কর্পোরেট কোম্পানি পুরো পোল্ট্রি শিল্প দখলের ষড়যন্ত্রে নেমেছে বলেও অভিযোগ তার। বিবৃতিতে বলা হয়, করপোরেট কোম্পানিগুলো ফিড, বাচ্চা ও ওষুধের পাশাপাশি ডিম ও মুরগির বাজারও নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ‘কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের দাসত্বের’ দিকে ঠেলে দিচ্ছে প্রান্তিক খামারিদের। এর বিরুদ্ধে আগামী ১ মে থেকে সারা দেশে প্রান্তিক খামারিরা খামার বন্ধ রাখবেন বলে বিবৃতিতে ঘোষণা দেওয়া হয়। সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত সিন্ডিকেট ভাঙতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে বলে উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো: ১) পোল্ট্রি পণ্যের জন্য জাতীয় মূল্যনিয়ন্ত্রণ নীতিমালা ও নির্ধারণ কমিটি গঠন। ২) ‘কন্ট্রাক্ট ফার্মিং’ নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রণয়ন। ৩) পোল্ট্রি বাজার রেগুলেটরি অথরিটি গঠন। ৪) ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য সরকারের পুনর্বাসন প্যাকেজ। ৫) খামারিদের রেজিস্ট্রেশন ও আইডি কার্ড দেয়া। ৬) কোম্পানিকে শুধু কাঁচামাল উৎপাদনে সীমাবদ্ধ রাখা। ৭) কন্ট্রাক্ট ফার্মিং ও কোম্পানির খামার নিষিদ্ধ করা। ৮) কেজিভিত্তিক ডিম ও মুরগি বিক্রির নীতিমালা প্রণয়ন। ৯) ডিম-মুরগির রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধি। ১০) পূর্ণাঙ্গ ‘পোল্ট্রি উন্নয়ন বোর্ড’ গঠন। বিবৃতিতে এসব দাবি না মানা হলে কঠোর কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)।
প্রয়াসের স্মার্ট প্রকল্পের জলবায়ু বিপদাপন্নতা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

প্রয়াসের স্মার্ট প্রকল্পের জলবায়ু বিপদাপন্নতা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে পিকেএসএফের সাসটেইনেবল মাইক্রো-এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ট্রান্সফরমেশন স্মার্ট প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু বিপদাপন্নতা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)’র সহযোগিতায় স্মার্ট প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি। আজ সকালে প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী। এসময় তিনি বলেন, রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে পানি, মাটি, বায়ু সব দূষণ হচ্ছে। তাই সব প্রথমে আমাদের মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হবে তবেই আমরা ভালো ফসল পাবো। ভালো ফসল পেলে আমরা সুস্থ থাকবো। তিনি আরো বলেন, ভূউপরস্থ ৬ ইঞ্চি যে মাটি তার সব উপাদান ঠিক থাকলে সেটি কৃষি কাজের জন্য উপযুক্ত মাটি এবং জমিতে টিএসপি, ডিএপি একই সাথে ব্যবহার করা যাবে না, দুটিই একিই কাজের জন্য ব্যবহৃত হয় তাই যেকোন একটি ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ কলেজের সহকারী অধ্যাপক মজিবুর রহমান। প্রশিক্ষণে সভাপতিত্ব করেন প্রয়াসের কনিষ্ঠ সহকারী পরিচালক ও স্মার্ট প্রকল্পের ফোকাল পার্সন ফারুক আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন- প্রয়াসের স্মার্ট প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম, প্রয়াসের কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান, স্মার্ট প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার রিফাত আমিন হিরা, পরিবেশ কর্মকর্তা ইকবাল মাহমুদ, এমআইএস ও ডকুমেন্টেশন অফিসার মোমেনা ফেরদৌস, সহকারী টেকনিক্যাল অফিসার আল মামুন শাহ, প্রয়াসের ইউনিট-১ ব্যবস্থাপক ওজিউর রহমান, অফিসার শাহরিয়ার শিমুলসহ আরো অনেকে। স্মার্ট প্রকল্প নিয়ে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জ, নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলায় এবং রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও পবা উপজেলায় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পের মেয়াদকাল ৪ বছর। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রিসোর্স ইফিশিয়েন্ট অ্যান্ড ক্লিনার প্রোডাকশন (আরইসিপি) চর্চার মাধ্যমে আম উৎপাদনকারী / আমচাষি / আম ব্যবসায়ী / আম প্রক্রিয়াজাতকারী (আমসত্ব, আচার, ম্যাংগোবার, ম্যাংগোজুস, ম্যাংগো পাউডার) / আমবাজারতাকারী (দেশ ও বিদেশ) / আম উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণে সরঞ্জাম বা মেশিনারিজ যানবাহন / নার্সারি / জৈব সার উৎপাদন ও বাজারজাতকারী অর্থাৎ আমের সাথে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাগণ এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত। প্রশিক্ষণে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক ধারণা, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ, প্রভাব, রোধে করণীয়, পরিবেশ দূষণের প্রকারভেদ ( বায়ু, পানি, মাটি ও শব্দ), বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কৌশল ও পদ্ধতি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
৩৪ জেলায় বজ্রবৃষ্টির আভাস, সতর্কতামূলক ১০ পরামর্শ

৩৪ জেলায় বজ্রবৃষ্টির আভাস, সতর্কতামূলক ১০ পরামর্শ আজ দুপুর ১২টা থেকে পরবর্তী চার ঘণ্টার মধ্যে দেশের ৩৪ জেলায় বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হকের সই করা বজ্রপাতের সতর্কতাজনিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, আগামী চার ঘণ্টার মধ্যে নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলার ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে প্রতি ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতসহ বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসময়ে নিচের পদক্ষেপগুল্যে গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হলো: ১. বজ্রপাত হলে ঘরের মধ্যে থাকুন ২. জানালা ও দরজা বন্ধ রাখুন ৩. সম্ভব হলে যাত্রা এড়িয়ে চলুন ৪. নিরাপদ আশ্রয়ে, আশ্রয় নিন ৫. গাছের নিচে আশ্রয় নেবেন না ৬. কংক্রিটের মেঝেতে শয়ন করবেন না এবং কংক্রিটের দেয়ালে হেলান দেবেন না ৭. বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের প্লাগ খুলে দিন ৮. জলাশয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে উঠে আসুন ৯. বিদ্যুৎ পরিবাহক বস্তু থেকে দূরে থাকুন ১০. শিলাবৃষ্টির সময় ঘরে অবস্থান করুন।
আন্দোলন কঠোর করার ঘোষণা কারিগরি শিক্ষার্থীদের

আন্দোলন কঠোর করার ঘোষণা কারিগরি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনায় সন্তুষ্ট নন জানিয়ে কর্মসূচি আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছেন ছয় দফা দাবিতে আন্দোলনরত কারিগরির শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কারিগরি অনুবিভাগ) রেহানা ইয়াছমিনের সঙ্গে বৈঠকের পর কারিগরি ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি মাসফিক ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে কারিগরি ও মাদরাসার শিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে দুপুর ১২টার দিকে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে কারিগরি ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশের ১৮ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। বৈঠক চলে টানা তিন ঘণ্টা। বিকেল ৩টায় বৈঠক শেষ হয়।
আবারও বাবা হচ্ছেন আরবাজ খান?

আবারও বাবা হচ্ছেন আরবাজ খান? বাবা হতে যাচ্ছেন সালমান খানের ভাই, অভিনেতা-প্রযোজক আরবাজ খান! বলিউডে এমনই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে বুধবার সকাল থেকে। কারণ, এদিন স্ত্রীর সঙ্গে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে দেখা গেছে তাকে। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে জল্পনা- তবে কি পরিবারে আসতে চলেছে নতুন সদস্য? ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রেমিকা ও মেকআপ আর্টিস্ট শৌরা খানকে বিয়ে করেন আরবাজ। বিয়ের পর থেকে এই দম্পতি একাধিকবার সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে এসেছেন। তবে বুধবার তাদের হাসপাতাল যাত্রা ঘিরেই ফের আলোচনায় এসেছেন এই জুটি। প্রসূতিবিভাগে তাদের উপস্থিতি এবং শৌরার ঢিলেঢালা পোশাক দেখেই গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। এদিন হাসপাতাল থেকে বেরনোর সময় ছবি তুলতে আসা ফটোগ্রাফারদের ক্যামেরা থেকে স্ত্রীর মুখ আড়াল করার চেষ্টা করেন আরবাজ। এমন পোশাক ও আচরণ বলিউডে অনেক সময় গর্ভাবস্থার ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হয়। এর আগেও ঈদের পার্টিতে আরবাজকে স্ত্রী শৌরার প্রতি অতিরিক্ত যত্নবান ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল। সেদিন থেকেই গুঞ্জনের শুরু। এবার হাসপাতালে তাদের একসঙ্গে দেখে সেই গুঞ্জন যেন আরও দৃঢ় হলো। তবে এখনো পর্যন্ত আরবাজ বা শৌরা কেউই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি। সামাজিকমাধ্যমেও এই বিষয়ে একদম চুপ তারা। তবে তাদের ভক্তদের আশা- খুব শিগগিরই সুখবর শোনাবেন এই দম্পতি। অভিনেত্রী না হলেও, শৌরা সরাসরি যুক্ত গ্ল্যামার দুনিয়ার সঙ্গে। পেশায় তিনি একজন সফল মেকআপ আর্টিস্ট। ইতালীয় মডেল জর্জিয়া আন্দ্রিয়ানির সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার পরই শৌরার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান আরবাজ। নিজেই জর্জিয়া সংবাদমাধ্যমে তাদের বিচ্ছেদের কথা জানিয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, নব্বইয়ের দশকে বলিউডে পা রাখার সময়েই অভিনেত্রী মালাইকা আরোরার প্রেমে পড়েন আরবাজ। ১৯৯৮ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের একমাত্র ছেলে আরহান জন্ম নেয় ২০০২ সালে। দীর্ঘ ১৯ বছরের দাম্পত্যজীবন শেষ হয় ২০১৬ সালে। ২০১৭ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ আইনি স্বীকৃতি পায়।
অশ্রুসিক্ত চোখে আবারও মাঠ ছাড়তে হয়েছে নেইমারকে

অশ্রুসিক্ত চোখে আবারও মাঠ ছাড়তে হয়েছে নেইমারকে সান্তোসে আজ বিশেষ ম্যাচেই মাঠে নেমেছিলেন নেইমার। ক্লাবটির মাঠে নিজের ১০০তম ম্যাচ রাঙাতে শুরুর একাদশেই ছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান। তবে এই উপলক্ষ রাঙানোর আগেই পুরোনো চোট ঝেঁকে বসল। অশ্রুসিক্ত চোখেই ছাড়তে হলো মাঠ। নেইমারের এই বিশেষ ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনা কম ছিল না ভক্ত-সমর্থকদেরও। গ্যালারিতে তারা ভিড় করে এই ব্রাজিলিয়ানের ম্যাজিক দেখার জন্য। তবে আতলেতিকো মিনেইরোর বিপক্ষে নামার আগে দেখা যায় দুই উরুতেই টেপ পেচিয়েছেন তিনি। ৩৪তম মিনিটে গিয়ে খান বড় ধাক্কা। বাঁ উরুতে হাত রেখে খোড়াতে থাকেন তিনি। বদলির জন্য নির্দেশ করেন মাঠ থেকেই। তখন বসেই পড়েন তিনি। এরইমধ্যে তার চোখ দিয়ে পানি গড়াতে দেখা যায়। ভক্তরাও নিশ্চুপ হয়ে পড়েন। তাকে সান্ত্বনা দিতে থাকেন গ্যালারি থেকেই। কিন্তু আর উঠতে পারেননি। দুজনের সহায়তায় কার্টে বসে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। সেসময় দর্শকরা বিপুল করতালিতে সাহস দেন নেইমারকে। পরে ডাগআউটে কাঁদতে দেখা যায় নেইমারকে। পায়ে বরফ লাগিয়ে বসে থাকেন তিনি। নেইমারের এই চোট নিত্যদিনে সঙ্গী। এই কারণেই আল হিলাল ছাড়তে হয়েছে তাকে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসের হয়ে মাঠে নামেন তিনি। এরপর টানা সাত ম্যাচ খেলেন এই ব্রাজিলিয়ান। গত ২ মার্চ করিঞ্চাসের বিপক্ষে চোটে পড়েন আবার। ছয় সপ্তাহ পর ফের মাঠে ফেরেন তিনি। তবে সুখকর হয়নি এবারের প্রত্যাবর্তনও। আনুষ্ঠানিকভাবে চোটের বিষয়ে এখনও জানা যায়নি কিছুই।
শাকিবের জন্য এলাহি আয়োজন

শাকিবের জন্য এলাহি আয়োজন ঢাকাই চলচ্চিত্রের আঁতুরঘর এফডিসিতে বেশ জাকজমকভাবে বর্ষবরণ উৎসব উদযাপন করা হয়। এই উৎসবে দেশের তারকা শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন। এই তালিকায় রয়েছেন— নন্দিত নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, বাপ্পারাজ, রুবেল, নায়িকা রত্না, মুক্তি প্রমুখ। তবে এফডিসিতে উপস্থিত থেকেও উৎসবে অংশ নেননি দেশ সেরা নায়ক শাকিব খান। শিল্পী সমিতির পাশের ফ্লোরে শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন। সেখানে নির্মাতা রায়হান রাফির ‘তাণ্ডাব’ সিনেমার শুটিং করছেন এই ঢালিউড কিং। সন্ধ্যা নামার ঠিক কিছুক্ষণ আগে ‘তাণ্ডব’ সিনেমার সেটে চক্কর দিই। শুটিং সেটের প্রবেশ মুখে বাউন্সার আর নিরাপত্তা প্রহরীদের প্রশ্নের মুখামুখি হই। এরই মধ্যে বাউন্সারের ওয়াকিটকিতে শোনা যায়, “সাংবাদিক ভাইয়েরা আসছেন তাদের রিসিভ করুন।” পরিচালকের এমন নির্দেশে আমাদের ভিতরে নিয়ে যান তারা। সেটে ঢুকেই বুঝতে পারি, কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা কোনো স্থানে প্রবেশ করেছি। চারপাশ ‘সোয়াট’ টিমে ঘেরা। যদিও এসবই শুটিংয়ের প্রয়োজনে। অন্যদিকে নিরাপত্তার জন্য রয়েছেন বাউন্সার। তাদের ওয়াকিটকিতে আসছে বিভিন্ন বার্তা। কুশলবিনিময়ের পর পরিচালক রায়হান রাফি শুটিং সেট ঘুরে দেখান। শুটিং সেটের প্রত্যেকটা জিনিসপত্র আসল। একটি টেলিভিশন স্টেশনের সেট নির্মাণ করা হয়েছে। স্টুডিও থেকে শুরু করে ওয়াশরুম সবই নতুনভাবে নির্মিত। সেটে পাওয়া যায় বলিউডের টেকনিশিয়ানদেরও। শাকিব খানের সঙ্গে দেখা করাতে নির্মাতা নিয়ে যান তার মেকআপ রুমে। মেকআপ রুমের সামনে দেখা মেলে কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীর। আমাদের পরিচয় বার্তা শাকিব খানের কাছে পৌঁছানোর পর মেকআপ রুমে প্রবেশের অনুমতি মেলে। মেকআপ রুমে প্রবেশ করে অনুভব করি, সত্যি কোনো সুপারস্টারের মেকআপ রুমে আছি। এফডিসির সেই চিরচেনা মেকআপ রুম নয় এটি। শাকিব খানের জন্য নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে কী নেই! সোফা, ফ্রিজ, এসি, দেয়ালে পেপার আর ফ্লোরে বিছানো কার্পেট। আমাদের পেয়ে শাকিব খান সেই পুরোনো দিনে ফিরে গেলেন। নানা বিষয়ে স্মৃতিচারণ করলেন। ঢাকাই চলচ্চিত্র বেশ কয়েকবার সংকটে পড়ে। তা উল্লেখ করে রাইজিংবিডিকে শাকিব খান বলেন, “অশ্লীলতা বাংলা সিনেমায় প্রথম আঘাত হানে। বাংলা সিনেমা বেশ ভালোই যাচ্ছিল। অশ্লীলতার কারণে পরিবার নিয়ে সিনেমা হলে যাওয়া বন্ধ করে দেন দর্শক। হল সংখ্যা কমতে শুরু করে। আন্দোলন-সংগ্রাম করে সেটা বন্ধ করতে পেরেছি। এটা বাংলা সিনেমায় প্রথম ধাক্কা।” পরের পরিস্থিতি জানিয়ে শাকিব খান বলেন, “দেখুন, কলকাতার ইন্ডাস্ট্রিতে এত প্রতিযোগিতার মধ্যেও দর্শক সিনেমা দেখেন। অশ্লীলতার ঝড় থামতেই দেশে আসে ডিজিটাল সিনেমা। সিনেমা ডিজিটাল আর সিনেমা হল অ্যানালগ। এ নিয়ে প্রযোজকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। মেশিন, সার্ভার নিয়ে সংকটে পড়ে ইন্ডাস্ট্রি। এসব যখন কাটিয়ে উঠছে, তখন দেশের পরিবেশ অস্থির হয়ে ওঠে। আমার ধারণা ছিল, এই অস্থির পরিবেশে দর্শক সিনেমা হলে যাবেন না।” ঈদুল ফিতরে মুক্তি পেয়েছে শাকিব খান অভিনীত ‘বরবাদ’ সিনেমা। মুক্তির পর দারুণ সাড়া ফেলেছে। এ বিষয়ে শাকিব খান বলেন, “পট পরিবর্তনের পর সিনেমা মুক্তি দেওয়া এক ধরনের ঝুঁকি মনে হয়েছিল। কারণ, এই সময়ে দর্শক হলমুখী হবেন কি না এ নিয়ে বেশ চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু যে ভয় পেয়েছি তার কিছুই হয়নি। সিনেমাপ্রেমী দর্শকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে ‘বরবাদ’ দেখছেন। জেনেছি, দর্শক চাপে লায়ন সিনেমাস, মধুবন সিনেপ্লেক্স’সহ বেশ কয়েকটি হলে মিডনাইট শো চলছে। এটা বাংলা সিনেমার জন্য খুবই ইতিবাচক দিক। ঈদের আমেজ শেষ হলেও এখনো টিকিট নিয়ে হাহাকার, এটা শুনতে বেশ ভালো লাগছে।” ‘বরবাদ’ সিনেমার সাফল্যের পরে ‘তাণ্ডব’ সিনেমার বাজেট বেড়েছে। এ তথ্য জানিয়ে শাকিব খান বলেন, “আমি সবসময় সব ধরনের দর্শকদের হৃদয়ে দাগ কাটতে চেয়েছি। আমার টার্গেট ছিল গুলশান টু গুলিস্তানের দর্শক, সবাইকে হলমুখী করা। তা পেরেছিও। এখন সব শ্রেণির মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে হলে গিয়ে বাংলা সিনেমা দেখছেন। তারই প্রমাণ ‘বরবাদ’। এই সিনেমার দর্শক সাড়ার ফলে ‘তাণ্ডব’ সিনেমার বাজেট দিগুণ বেড়েছে। দর্শকদের প্রত্যাশাও অনেক। তাদের কথা মাথায় রেখেই কাজ করছি। ‘তাণ্ডব’ সিনেমায় দর্শক নতুন কিছু দেখতে পাবেন। প্রত্যাশা করছি, এই সিনেমাও দর্শকদের ভালো লাগবে।” কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ শাকিব খানের ঝুলিতে জমা পড়েছে বেশ কিছু পুরস্কার। এই তালিকায় অন্যতম বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কার। ২০১৮ সালে সর্বশেষ এই পুরস্কার পান। এরপর আর কোনো পুরস্কার দেয়নি বাচসাস। এ পুরস্কার নিয়ে শাকিব খান বলেন, “বাংলাদেশে প্রথম চলচ্চিত্র পুরস্কার দেয় বাচসাস। এই পুরস্কার অনেক সম্মানের। সিনিয়র শিল্পীদের মুখে আমরা অনেক শুনেছি।” আক্ষেপ করে দেশ সেরা এই নায়ক বলেন, “শুধু চলচ্চিত্র নিয়ে আমাদের দেশে তেমন কোনো পুরস্কার দেয়া হয় না। বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ডে দেখা যাচ্ছে, কারা পুরস্কার পাচ্ছেন বা কেন পাচ্ছেন কিছুই বুঝি না। আর একটা বিষয় খুব অবাক লাগে তা হলো দ্বৈত পুরস্কার। দুজনকে কেন দিতে হবে। যাকে যোগ্য মনে হবে তাকেই দেন। এসব কারণে পুরস্কার অনুষ্ঠানে যেতে ইচ্ছে করে না। লাস্ট বাচসাস পুরস্কারে গিয়েছিলাম, ভালো লেগেছিল।” খুব শিগগির বলিউডের সিনেমার সঙ্গে ঢাকাই সিনেমা প্রতিযোগিতা করবে বলেই মত শাকিবের। তার ভাষায়, “বাংলাদেশের সিনেমা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ছড়িয়ে পড়তে খুব বেশি দিন লাগবে না। আশা করছি, নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন বছর খানেকের মধ্যেই বাংলাদেশে ঢুকবে। সিনেমার বাজেট বেড়ে যাবে। বলিউডের সঙ্গে বাংলাদেশের সিনেমার প্রতিযোগিতা হবে।” সালমান খানের তারকা খ্যাতি এবং তার নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন শাকিব খান। র্দীঘ আড্ডার মাঝেই পরবর্তী শটের সময় আসে। শুরু হয় মেকআপরে প্রস্তুতি। বলে রাখা ভালো, ‘তাণ্ডব’ সিনেমার লুক প্রকাশ না করতেই এফডিসির বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেননি শাকিব খান। ‘বরবাদ’ সিনেমা দিয়ে প্রথমবারের মতো শাকিব খানের ‘এসকে ফিল্মস’ আন্তর্জাতিক পরিবেশনায় যুক্ত হচ্ছে। ১৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে ‘বরবাদ’ মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। এমন খবরে আনন্দিত এই নায়ক। এ বিষয়ে শাকিব খান বলেন, “আমাদের সিনেমার বাজার বড় হচ্ছে। প্রবাসে বসবাসরত বাঙালিরা দেশের সিনেমা দেখতে চান। অন্য দেশের দর্শকেরাও আমাদের সিনেমা দেখছেন। এটা অবশ্যই ইতিবাচক। ইন্ডাস্ট্রিকে আন্তর্জাতিক মানের গড়ে তুলতে হলে সব দেশের মানুষের কাছেই সিনেমা নিয়ে যেতে হবে।”
টাইম ম্যাগাজিনে ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় ড. ইউনূস

টাইম ম্যাগাজিনে ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় ড. ইউনূস টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। লিডার বা নেতা ক্যাটাগরিতে প্রভাবশালীর তালিকায় তিনি স্থান পেয়েছেন। বুধবার টাইম ম্যাগাজিন এই তালিকা প্রকাশ করেছে। একই তালিকায় রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া সেইনবোম এবং বিশ্বের সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্কের নাম। টাইম ম্যাগাজিনে ড. ইউনূসকে নিয়ে লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। হিলারি লিখেছেন, “ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানে গত বছর বাংলাদেশের স্বৈরশাসক প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর, একজন চেনা নেতা: নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস দেশকে গণতন্ত্রের দিকে নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে আসেন। কয়েক দশক আগে ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়ন করতে ইউনূস বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। যা কয়েক লাখ মানুষকে নিজস্ব ব্যবসা শুরু, তাদের পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে এবং তাদের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে সহায়তা করেছে। এই ক্ষুদ্র ঋণের সুবিধা নেওয়া ৯৭ শতাংশই নারী।” সাবেক এই মার্কিন ফার্স্টলেডি লিখেছেন, “ইউনূসের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়েছিল যখন তিনি তৎকালীন গভর্নর বিল ক্লিনটন এবং আমাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একই ধরণের কর্মসূচি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করার জন্য আরকানসাসে গিয়েছিলেন। তারপর থেকে, আমি বিশ্বের যেখানেই ভ্রমণ করেছি, আমি তার কাজের অসাধারণ প্রভাব প্রত্যক্ষ করেছি – জীবন পরিবর্তিত হয়েছে, সম্প্রদায়গুলো উন্নীত হয়েছে এবং আশার পুনর্জন্ম হয়েছে।” তিনি আরো লিখেছেন, “এখন, ইউনূস আবারো তার দেশের ডাকে সাড়া দিয়েছেন। তিনি যখন বাংলাদেশকে নিপীড়নের ছায়া থেকে বের করে আনছেন, তখন তিনি মানবাধিকার পুনরুদ্ধার করছেন, জবাবদিহিতা দাবি করছেন এবং একটি ন্যায়সঙ্গত ও মুক্ত সমাজের ভিত্তি স্থাপন করছেন।”
হার্ভার্ডে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের হুমকি ট্রাম্প প্রশাসনের

হার্ভার্ডে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের হুমকি ট্রাম্প প্রশাসনের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দাবির কাছে নতি স্বীকার না করার পর, এবার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিষিদ্ধ করার হুমকি দিয়েছে মার্কিন সরকার। খবর বিবিসির। হোয়াইট হাউজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়টিকে নিয়োগ, ভর্তি এবং শিক্ষাদান পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, নতুন সংস্কার ক্যাম্পাসে ইহুদি-বিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করবে। গাজা যুদ্ধ ও ইসরায়েলকে সমর্থনের প্রতিবাদে বিক্ষোভের সময় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইহুদি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১৬ এপ্রিল) মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ এবং ‘ইহুদি-বিদ্বেষের কাছে নতজানু’ হওয়ার অভিযোগ এনেছেন। তিনি হার্ভার্ডকে দেওয়া এক চিঠিতে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিদেশি শিক্ষার্থীদের অবৈধ ও সহিংস কার্যকলাপ সম্পর্কিত রেকর্ড দাবি করেছেন। ক্রিস্টি নোয়েম বলেন, “যদি হার্ভার্ড তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতার বিষয়টি প্রমাণ করতে না পারে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ হারাবে।” চলতি বছর হার্ভার্ডে ভর্তির ২৭ শতাংশেরও বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী। এদিকে, গত সোমবার হার্ভার্ড কমিউনিটিতে দেয়া একটি চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রেসিডেন্ট অ্যালান গার্বার বলেছেন, “বিশ্ববিদ্যালয় এর স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারকে পরিত্যাগ করবে না।” যুক্তরাষ্ট্রে হার্ভার্ড প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় যারা নীতি পরিবর্তনে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপকে প্রত্যাখান করেছে। হার্ভার্ড তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া, নিয়োগ এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর সরকারি তদারকি মানতে অস্বীকার করায় ট্রাম্প এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ব্যাপক ক্ষুব্ধ। মার্কিন সরকার ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের ফেডারেল তহবিল স্থগিত করেছে। এছাড়াও ট্রাম্প বিশ্ববিদ্যালয়টির করমুক্ত মর্যাদাও বাতিল করার হুমকি দিয়েছেন। এর ফলে হার্ভার্ড প্রতি বছর লাখ লাখ ডলার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। বুধবার (১৬ এপ্রিল) ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে বলেছেন, “হার্ভার্ডকে আর শিক্ষার জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না এবং বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের কোনো তালিকায় এটিকে বিবেচনা করা উচিত নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, “হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে রসিকতা। এখানে ঘৃণা ও বোকামি শেখানো হয়। হার্ভার্ডের আর ফেডারেল তহবিল পাওয়া উচিত নয়।” হার্ভার্ডের ওপর প্রশাসনের আক্রমণ বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময়, ট্রাম্প বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেডারেল তহবিল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, সেগুলোকে রক্ষণশীলদের প্রতি শত্রু হিসেবে চিত্রিত করেছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে, তার প্রশাসন বিশেষ করে সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নজর দিয়েছে যেখানে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ হয়েছে। কিছু ইহুদি শিক্ষার্থী বলেছেন যে, তারা অনিরাপদ বোধ করেছেন এবং ক্যাম্পাসে হয়রানির সম্মুখীন হয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে গঠিত সরকারের ইহুদি-বিরোধী টাস্ক ফোর্স পর্যালোচনার জন্য কমপক্ষে ৬০টি বিশ্ববিদ্যালয় চিহ্নিত করেছে। গত মাসে, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকটি দাবি মেনে নেয়। ক্যাম্পাসে ইহুদি-বিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে ৪০০ মিলিয়ন ডলার ফেডারেল তহবিল স্থগিত করার ঘোষণা দিলে ট্রাম্পের দাবির কাছে নতি স্বীকার করে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ দাবির প্রতি প্রকাশ্যে সাড়া দেয়নি।
২ উইকেটে ১৩৪ থেকে ২২৭ রানে থামলো বাংলাদেশ

২ উইকেটে ১৩৪ থেকে ২২৭ রানে থামলো বাংলাদেশ প্রথম উইকেট চলে যায় ১৬ রানে। এরপর শতাধিক রানের জুটি। তবুও শেষটা ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ নারী দল। ২ উইকেটে ১৩৪ থেকে বাংলাদেশ থামে ২২৭ রানে। বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে লাহোরে বৃহস্পতিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামে বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে ২২৮ রানের লক্ষ্য দেয় নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। শুরুতেই ফেরেন সোবহানা মোস্তারি (৬)। প্রথম উইকেটের পতনের পর ১১৮ রানের জুটি গড়েন ফারজানা হক-শারমিন আক্তার। ফারজানা ৪২ রানে আউট হলে ভাঙে জুটি। ফারজানার আউটের পর ফেরেন ফিফটি হাঁকানো শারমিন আক্তারও। তার ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৬৭ রান। এরপর শুরু হয় উইকেটের মিছিল। কোনো ব্যাটারই লম্বা ইনিংস খেলতে পারেননি। শেষ দিকে নাহিদা আক্তার (২৫) ও রাবেয়া খানের (২৩) ব্যাটে ভর করে দুইশ পার করতে পারে বাংলাদেশ। অধিনায়ক জ্যোতি ৫ রান করেন। ১৫ রান আসে রিতু মণির ব্যাট থেকে। আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘর পেরোতে পারেনি। উইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন আলিয়াহ অ্যালিয়েন। এছাড়া ২ উইকেট করে নেন হ্যালি ম্যাথুস-আফি ফ্লেচার।