গাজায় নিহতের সংখ্যা ৫২,৩০০ ছাড়াল

গাজায় নিহতের সংখ্যা ৫২,৩০০ ছাড়াল গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের মোট সংখ্যা ৫২ হাজার ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। সোমবার (২৯ এপ্রিল) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় ৭১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৫৩ জন আহত হয়েছেন। এর ফলে গাজায় গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় নিহত মোট ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৫২ হাজার ৩১৪ জনে পৌঁছেছে। একইসঙ্গে অবরুদ্ধ নগরীতে আহতের সংখ্যা এখন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৯২ জনে পৌঁছেছে। মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি। কারণ অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় পড়ে থাকলেও উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেননি। উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই হামলায় প্রায় ১২০০ নিহত ও দুই শতাধিক ইসরায়েলিকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে গেছে হামাস যোদ্ধারা। এর জবাবে ওই দিনই গাজায় বিমান হামলা ও পরে স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।  দীর্ঘ ১৫ মাস ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় হামাস ও ইসরায়েল। তবে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় ফের তীব্র হামলা শুরু করে ইসরায়েল। জাতিসংঘ বলছে, ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযানের ফলে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং এটি প্রায় বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের মতে, দীর্ঘ এ সময় ধরে চলা সংঘাতের কারণে মানবিক সংকটে দিন পার করছেন ফিলিস্তিনিরা। খাবার, পানি, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তার অভাবে উপত্যকাটির ২৩ লাখেরও বেশি বাসিন্দা চরম ক্ষুধা ও ভয়াবহ অপুষ্টিতে ভুগছেন। গাজায় ইসরায়েলি হামলা নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ৭০ শতাংশই নারী ও শিশু বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

কেন নিজের প্রস্রাব পান করেন বলিউডের এই অভিনেতা

কেন নিজের প্রস্রাব পান করেন বলিউডের এই অভিনেতা বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা পরেশ রাওয়াল সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে চমকপ্রদ এক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। বেশ আগে একবার হাঁটুর চোট সারাতে তিনি টানা ১৫ দিন নিজের প্রস্রাব পান করেন বলে জানিয়েছেন এ অভিনেতা। ঘটনাটি ঘটেছিল রাজকুমার সন্তোষী পরিচালিত ‘ঘটক’ সিনেমার শুটিং চলাকালে। শুটিংয়ের সময় হাঁটুতে আঘাত পান পরেশ। পরে মুম্বাইয়ের নানাবতী হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। হাসপাতালে তাকে দেখতে আসেন বলিউড অভিনেতা অজয় দেবগনের বাবা, খ্যাতনামা অ্যাকশন কোরিওগ্রাফার বীরু দেবগন। তিনি পরেশকে চোট দ্রুত সারানোর একটি অদ্ভুত উপায় বাতলে দেন। সেটি হলো সকালে খালি পেটে নিজের প্রস্রাব পান করার পরামর্শ। পরেশ রাওয়াল বলেন, ‘বীরুজি আমাকে বলেছিলেন, সব যোদ্ধারাই এই পদ্ধতি অনুসরণ করে। যদি এটি অভ্যাস করতে পারো তাহলে ভবিষ্যতে আর কখনো চোটের জন্য সমস্যায় পড়বে না।’ সেই সঙ্গে অ্যালকোহল, রেড মিট ও তামাক পরিহার করার পরামর্শও দেন বীরু দেবগন। অভিজ্ঞতার বর্ণনায় পরেশ জানান, ‘আমি নিজের প্রস্রাবকে বিয়ারের মতো করে পান করতাম। টানা ১৫ দিন এভাবে চলার পর চিকিৎসকেরা এক্স-রে রিপোর্ট দেখে রীতিমতো হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন!’ চিকিৎসকদের হিসাব অনুযায়ী, পরেশের চোট সারতে সময় লাগার কথা ছিল আড়াই মাস। কিন্তু নিজের প্রস্রাব পানের পথ্য মেনে চলায় মাত্র ১৫ দিনেই তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে দাবি করেছেন অভিনেতা।

‘বিয়ের পাত্র খুঁজে পাচ্ছি না’ বিষয়টি মজার ছলে বলেছি: মিলা

‘বিয়ের পাত্র খুঁজে পাচ্ছি না’ বিষয়টি মজার ছলে বলেছি: মিলা দেশের শ্রোতাপ্রিয় সংগীতশিল্পী মিলা ইসলাম। নিয়মিত গান করছেন তিনি।  সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত জীবন ও বিয়ে নিয়ে কথা বলেছেন এই তারকা। তার সেই বক্তব্য ঘিরে হঠাৎ করেই বিয়ের খবরে আলোচনায় এই গায়িকা, যা নিয়ে বিপাকে তিনি। এমন খবরে বিব্রত মিলা। তিনি বলেন, ‘বিয়ের পাত্র খুঁজে পাচ্ছেন না মিলা, আগ্রহীদের বলছেন বায়োডাটা পাঠাতে’ – বিষয়টি মজার ছলে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। এটা সিরিয়াসভাবে নেওয়ার কিছু নেই। দেখলাম বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিয়ে প্রসঙ্গে বলা অংশটুকু শিরোনাম করছেন। আমি আপাতত বিয়ে নিয়ে ভাবছি না, এখন ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবছি। যখন ভাবব, আপনাদের জানিয়ে বিয়ে করব। সকল সাংবাদিকদের অনুরোধ করব ওই প্রসঙ্গ উপস্থাপন না করার। তিনি আরও বলেন, বিয়ের খবর সংবাদ মাধ্যমে আসার পর মোবাইলে ম্যাসেজে ভরে গেছে। মোটকথা আমি বিপাকে পড়েছি। এমন খবর আমাকে বিব্রত করছে। সবাইকে অনুরোধ করব, অহেতুক খবর এড়িয়ে কাজের খবর ফোকাস করুন। সম্প্রতি মিলা ‘ইনসাফ’ সিনেমার পার্টি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। এই গানে কণ্ঠ দেওয়ার মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে দীর্ঘ সাত বছরের বিরতি ভাঙেন মিলা। তার গাওয়া ওই গানের সুরকার ও সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমন। আসছে ঈদে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

কাশ্মীর হামলায় বড় সিদ্ধান্ত নিলেন সালমান

কাশ্মীর হামলায় বড় সিদ্ধান্ত নিলেন সালমান কাশ্মীর হামলার আতঙ্ক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি ভারতের সাধারণ মানুষ। ভ্রমণে গিয়ে পর্যটকদের এমন পরিণতি দেখে সবাই স্তব্ধ। বলিউড ভাইজান সালমান খানেরও একই অবস্থা। তিনি জঙ্গি হামলার পর বড় সিদ্ধান্ত নিলেন। ভাইজানকে এমনিতে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের হুমকিতে দিন পার করতে হচ্ছে। বিষ্ণোই শুধু তাকে হত্যার হুমকি দেয়নি, সালমানের পরিজনদের নিশানায় রেখেছেন। ফলে নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে সালমানের বাসভবনে। জানলার কাচও বদলে ফেলা হয়েছে। কিন্তু এমন আতঙ্কের মধ্যেও ‘সিকান্দার’ সিনেমার শুটিংও করেন সালমান। এবার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের হুমকির সঙ্গে যুক্ত হলো কাশ্মীরের পহেলগামের জঙ্গি হামলা। তাই বড় একটি অনুষ্ঠান পিছিয়ে দিলেন এ অভিনেতা। ইংল্যান্ডে ‘দ্য বলিউড বিগ ওয়ান শো’ নামে একটি অনুষ্ঠান করার কথা ছিল সালমানের। কিন্তু আনন্দ করার সময় এটা নয়, কারণ দেশের মানুষ ভীত হয়ে আছেন। সবাই এমন ঘটনায় শোকাচ্ছন্ন। তাই এ অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভাইজান। আজ (২৮ এপ্রিল) সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এ অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তিনি লেখেন, ‘কাশ্মীরের দুঃখজনক ঘটনার জেরে সবাই ভারাক্রান্ত। এ অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। লন্ডনে ‘দ্য বলিউড বিগ ওয়ান শো’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ৪ ও ৫ মে। আমরা জানি, অনুরাগীরা আমাদের অনুষ্ঠান দেখার জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু আমরা বুঝতে পেরেছি, শোকের সময়ে এই অনুষ্ঠান বন্ধ রাখাই ভালো। এই অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়ার কারণে কারও কোনো অসুবিধা হয়ে থাকলে তার জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।’ সালমান খান ছাড়াও এ অনুষ্ঠানে থাকার কথা ছিল সারা আলি খান, বরুণ ধওয়ান, মাধুরী দীক্ষিত, টাইগার শ্রফ, কৃতি শ্যানন, সুনীল গ্রোভারসহ আরও অনেকের।

দুর্দান্ত জয়ে শীর্ষে কোহলির বেঙ্গালুরু

দুর্দান্ত জয়ে শীর্ষে কোহলির বেঙ্গালুরু দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে আইপিএলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা ছয়টি অ্যাওয়ে ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়লো রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। রোববার (২৭ এপ্রিল) রাতে শক্তিশালী দিল্লি ক্যাপিটালসকে ৬ উইকেটে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এলো তারা। ভুবনেশ্বর কুমার ও জশ হ্যাজেলউডের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শুরু থেকেই দিল্লিকে চাপে ফেলে বেঙ্গালুরু। নির্ধারিত ২০ ওভারে দিল্লির ইনিংস থামে মাত্র ১৬২ রানে, ৮ উইকেট হারিয়ে। ব্যাট হাতে সবচেয়ে ভালো খেলেন লোকেশ রাহুল। তবে তার ৩৯ বলের ৪১ রানের ইনিংস ছিল যথেষ্ট ধীর। ঝলক দেখান ট্রিস্টান স্টাবস। তিনি মাত্র ১৮ বলে ৫টি চার ও ১টি ছয়ে করেন ৩৪ রান। শুরুটা ভালো করলেও ওপেনার অভিষেক পোরেল ২৮ রানের বেশি করতে পারেননি। আর ফাফ ডু প্লেসি থেমে যান ২২ রানে। বেঙ্গালুরুর হয়ে ভুবনেশ্বর ৩টি ও হ্যাজেলউড ২টি উইকেট নেন। লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা মোটেও স্বস্তির ছিল না বেঙ্গালুরুর জন্য। মাত্র ২৬ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় তারা। কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও ক্রুনাল পান্ডিয়া। দুজনের ৮৪ বলের ১১৯ রানের অসাধারণ পার্টনারশিপ দলকে জয়ের পথে ফিরিয়ে আনে। কোহলি ৪৭ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ৫১ রান করে আউট হন। তবে ক্রুনাল পান্ডিয়া একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলেন অসাধারণ ইনিংস, ৪৭ বলে ৫টি চার ও ৪টি ছয়ে করেন অপরাজিত ৭৩ রান। শেষদিকে মাঠে নামেন টিম ডেভিড। যিনি দ্রুতগতির ইনিংসে জয় নিশ্চিত করেন বেঙ্গালুরুর। ৫ বল মোকাবিলা করে ৩টি চার ও ১টি ছয়ে ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন ডেভিড। বিশেষ করে ১৯তম ওভারে টানা এক ছক্কা ও তিনটি চার মেরে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। ১০ ম্যাচে সপ্তম জয়ে ১৪ পয়েন্ট অর্জন করে টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করেছে বেঙ্গালুরু। তারা শীর্ষে ওঠায় একধাপ করে নিচে নেমে গেছে গুজরাট টাইটান্স, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও দিল্লি ক্যাপিটালসের মতো দলগুলো।

লিভারপুলের ঐতিহাসিক শিরোপা জয়: অ্যানফিল্ডে উচ্ছ্বাস আর বিজয়ের মহোৎসব

লিভারপুলের ঐতিহাসিক শিরোপা জয়: অ্যানফিল্ডে উচ্ছ্বাস আর বিজয়ের মহোৎসব লিভারপুল প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন হলো দুর্দান্ত স্টাইলে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ২০টি লিগ শিরোপার রেকর্ডে সমতা এনে। টটেনহ্যাম হটস্পারকে বিধ্বস্ত করে, অ্যানফিল্ডে তারা উদযাপন করল এক আবেগঘন ও গৌরবময় দিন। আর্নে স্লটের দলকে শিরোপা নিশ্চিত করতে দরকার ছিল মাত্র এক পয়েন্ট। যদিও সাবেক লিভারপুল স্ট্রাইকার ডমিনিক সোলাঙ্কে শুরুতেই গোল করে এক মুহূর্তের জন্য নাটকীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে সেই ধাক্কা লিভারপুলকে আরও উজ্জীবিত করে তোলে। মাত্র ১৬ মিনিটে লুইস দিয়াজ, ডমিনিক সোবোস্লাইয়ের পাস থেকে সমতাসূচক গোল করেন। প্রথমে অফসাইডের অভিযোগ উঠলেও, পরে ভিএআরের সহায়তায় গোলটি বৈধ ঘোষণা হয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ৮ মিনিট পর, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্তারর এক অবিশ্বাস্য দূরপাল্লার শটে গোলকিপার গুলিয়েলমো ভিকারিওকে পরাস্ত করে লিভারপুলকে এগিয়ে নেন। ৩৪ মিনিটে কোডি গাকপো দুর্বল টটেনহ্যাম রক্ষণের সুযোগ নিয়ে তৃতীয় গোলটি করেন। পুরো অ্যানফিল্ড তখন উৎসবের মঞ্চে রূপ নেয়। দ্বিতীয়ার্ধে লিভারপুল ছিল আরও আগ্রাসী। ৬৩ মিনিটে মোহামেদ সালাহ তার চিরচেনা কাট-ইন করে গোল করেন এবং এরপর গ্যালারি থেকে পাওয়া এক ভক্তের মোবাইল দিয়ে সামনে স্মরণীয় সেলফি তোলেন। আরও ছয় মিনিট পর, সালাহর চাপ সামলাতে না পেরে ডেস্টিনি উদোগি আত্মঘাতী গোল করে লিভারপুলের পঞ্চম গোলটি উপহার দেন। এই জয়ে লিভারপুল ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো সমর্থকদের সামনে লিগ শিরোপা জয় উদযাপন করল। ২০২০ সালের কোভিড মহামারির সময় তাদের শিরোপা জয় ঘটেছিল দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে, তাই এবারের উল্লাস ছিল অতুলনীয়। তিন দশকের অপেক্ষার অবসান প্রায় ৩৫ বছর আগে, ১৯৯০ সালের ২৮ এপ্রিল, কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সকে হারিয়ে অ্যানফিল্ডে শেষবারের মতো সমর্থকদের সামনে লিগ শিরোপা জিতেছিল লিভারপুল। দীর্ঘ এই অপেক্ষার শেষে এবার অ্যানফিল্ড যেন ফিরে পেল তার হারানো গৌরব। ম্যাচের আগেই লাল ধোঁয়ার মেঘে ঢেকে গিয়েছিল চারপাশ। লিভারপুলের টিম বাস যখন স্টেডিয়ামে পৌঁছায়, তখন থেকেই চারদিকে উন্মাদনা আর বিজয়ের প্রত্যাশা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। আর্নে স্লট, যাকে অনেকেই ইয়ুর্গেন ক্লপের উত্তরসূরি হওয়ার ‌‘অসম্ভব কাজ’ হিসেবে দেখেছিলেন, অসাধারণ দৃঢ়তা আর মসৃণ পরিকল্পনায় লিভারপুলকে পুনরায় ইংল্যান্ডের সিংহাসনে বসিয়েছেন — তাও তার প্রথম মৌসুমেই। শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে অ্যানফিল্ড জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে লাল রঙের ধোঁয়া। স্লট এবং তার সহকর্মীরা মাঠের কেন্দ্রে এসে দাঁড়ান, আর পুরো দল ছুটে যায় কপের সামনে — চ্যাম্পিয়নদের প্রাপ্য শ্রদ্ধা জানাতে।

ওয়েলচের পর উইলিয়ামসের ফিফটি, দ্রুত রান বাড়ছে জিম্বাবুয়ের

ওয়েলচের পর উইলিয়ামসের ফিফটি, দ্রুত রান বাড়ছে জিম্বাবুয়ের ধীরগতির শুরুর পর বিদায় নিলেন দুই ওপেনার। এই ধাক্কা সামলে প্রতিরোধ গড়েছেন নিক ওয়েলচ ও শন উইলিয়ামস। দ্রুত রান বাড়াচ্ছেন তারা। দুজনেই পেয়েছেন ফিফটির দেখা। দলকে নিয়ে যাচ্ছেন বড় সংগ্রহের দিকে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২ উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ১৫৪ রান। ট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে বোলিংয়ে পাঠায় জিম্বাবুয়ে। নিজের অভিষেক ম্যাচে বল করতে নেমে প্রথম উইকেটটি তুলে নেন তানিজিম। তার অফ স্টাম্পের বাইরের বল ঠিকঠাক টাইমিং করতে পারেননি ব্রায়ান বেনেট। ব্যাটে লেগে বল তালুবন্দি হয় জাকের আলির। ৩৩ বলে ফেরেন ২১ রান করে জিম্বাবুয়ে ওপেনার।  আরেক ওপেনার বেন কারেন চেষ্টা করে প্রতিরোধ গড়ার। কিন্তু তাইজুল তা হতে দেননি। তার বল কারেনের ব্যাটের কানায় লেগে চলে যায় স্টাম্পে। নিক ওয়েলচের সঙ্গে ভাঙে ৩১ রানের জুটি। কারেন ফেরেন ৫০ বলে ২১ রান করে। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর জুটি গড়েন ওয়েলচ ও উইলিয়ামস। ১০৭ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ করেন ওয়েলচ। ১১৪ বল লাগে উইলিয়ামসের।

পাকিস্তানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত

পাকিস্তানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত ভারতনিয়ন্ত্রতি কাশ্মীরের পহেলগ্রামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।  রবিবার (২৭ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারত এই উত্তেজনা প্রশমনের বদলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পত্রিকাটি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া ব্রিফিংয়ের সঙ্গে জড়িত চার কূটনীতিকের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২২ এপ্রিলের পর থেকে এক ডজনেরও বেশি বিশ্বনেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে এসব প্রচেষ্টা মূলত শান্তি আনার জন্য নয়, বরং সামরিক হামলার পক্ষে ভারত তার যুক্তি তৈরি করছে বলে মনে হচ্ছে।  গত বৃহস্পতিবার দেয়া এক ভাষণে মোদি কঠোর শাস্তি এবং সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ধ্বংস করার প্রতিশ্রুতি দেন, যদিও তিনি সরাসরি পাকিস্তানের নাম নেননি।  নিউ ইয়র্ক টাইমস আরো জানায়, পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ভারতীয় বাহিনী কাশ্মীরে তল্লাশি অভিযান জোরদার করেছে এবং হামলার সাথে জড়িতদের খুঁজতে শত শত মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ হুঁশিয়ার করে বলেন, যদি পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়, আমাদের থামাতে কেউ পারবে না। তিনি আরো বলেন, যদি মোদি উত্তেজনা বাড়ানোর পথ বেছে নেন, তবে আমরা তাকে তার বাড়ি পর্যন্ত ধাওয়া করব। আসিফ অভিযোগ করেন, মোদি মিথ্যা প্রচারণা চালানোর জন্য পরিচিত এবং পুলওয়ামা ঘটনার সময়ও একই কৌশল নিয়েছিলেন। তবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, পাকিস্তান যথেষ্ট শক্তিশালী এবং প্রয়োজন হলে উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে। এর আগে পাকিস্তানের দিকে বয়ে যাওয়া নদীগুলোর পানিপ্রবাহ বন্ধ করার ঘোষণা দেয় ভারত। সেই সঙ্গে পাকিস্তানি দূতাবাসের সামরিক উপদেষ্টাদের বহিষ্কার ও ভারতে সফররত পাকিস্তানি নাগরিকদের দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাকিস্তানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ এবং ভারতীয়  বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে পহেলগ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পাঁচ দিন পরও ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নাম ঘোষণা করেনি এবং হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের জড়িত থাকার পক্ষে খুব কম প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার এই হামলায় নিজেদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কূটনৈতিক কর্মকর্তারা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনীতিক ব্রিফিংয়ে ভারতীয় কর্মকর্তারা ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তার পাকিস্তানের অতীত ইতিহাস’ তুলে ধরেছেন। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের ভারতীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, পহেলগ্রামে হামলার ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং হামলাকারীদের পাকিস্তানের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে এমন কিছু প্রযুক্তিগত প্রমাণ পাওয়া গেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, পরিস্থিতি কতটা অস্থিতিশীল তা বোঝা যায়, সীমান্তে দুই দেশের নিরাপত্তাবাহিনীর মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনায়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি কর্মকর্তা বলেছেন, রবিবার কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর টানা চতুর্থ রাতের মতো গুলি বিনিময় হয়েছে। সাত দশকের বেশি সময় ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, দুই দেশই এই অঞ্চল সম্পূর্ণ নিজেদের দাবি করে, তবে নিয়ন্ত্রণ করে আংশিকভাবে। কাশ্মীর ইস্যুতে দেশ দুটির মধ্যে তিনটি যুদ্ধ হয়েছে।

এক মাসে নির্যাতিত ৪৪২ নারী-শিশু, ধর্ষণের শিকার ১৬৩

এক মাসে নির্যাতিত ৪৪২ নারী-শিশু, ধর্ষণের শিকার ১৬৩ চলতি বছরের মার্চ মাসে ৪৪২ জন নারী-শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এছাড়া, ধর্ষণের শিকার হয়েছের ১৬৩ জন। এরমধ্যে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছন ৩৬ জন।  সোমবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায়।  সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া বেগম শান্তি জানান, ধর্ষণের শিকার ২ জনকে হত্যা করা হয়। এছাড়া, ৫৫ জন কন্যাসহ ৭০ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।  সম্প্রতি নারীর মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে রাবেয়া বেগম শান্তি বলেন, “বর্তমানে নারীর প্রতি বিদ্বেষ, বিদ্বেষমূলক আচরণ ও ভাষা নারীর স্বাধীন চলাফেরাকে বাধাগ্রস্ত করে তুলছে। যেখানে সেখানে নারীর পোশাক, নারীর সাজসজ্জা, নারীর চলাফেরা নিয়ে প্রকাশ্যে অপমান করা হচ্ছে। গণপরিসরে নারীকে নানাভাবে শারীরিক ও মৌখিকভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্নভাবে নারীর প্রতি ঘৃণা ছাড়ানো হচ্ছে, নারীকে বহুভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, এবং, বাধাহীনভাবেই তারা সমাজে এসকল অপকর্ম সাধন করতে পারছে, যা তাদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। নারীর অগ্রগতিকে বাধা দেওয়ার লক্ষ্যে ভীতির পরিবেশ তৈরীর জন্য এ ধরণের অপচেষ্টা করা হচ্ছে।” “আমরা লক্ষ্য করছি যে, নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার সহিংসতার মাত্রা পূর্বের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। মাত্রা ক্রমবর্ধমান হারে বেড়েই চলেছে। ১৮ বছরের নীচে কন্যা শিশুদের উপর অন্যদিকে ধর্ষণ ও নারীর প্রতি যৌন সহিংসতার বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা হ্রাসের ক্ষেত্রে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।” দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা কারাগার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি (আবরার ফাহাদ হত্যা) পালিয়ে যাচ্ছে, শিশু ধর্ষণের আলোচিত ঘটনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামিনে মুক্তি পাচ্ছে। সারা দেশে ছিনতাইসহ অপহরণ, খুন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে নারীসহ সকল মানুষ নিরাপত্তাহীন ও বিপন্ন বোধ করছে।” নারী বিদ্বেষী অপসংস্কৃতির প্রভাব এ দেশের নারী জাগরণের পথিকৃত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের প্রতিও পরিলক্ষিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের প্রতিকৃতিতে কালি লেপন, রংপুরে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন হয়েছে। আমরা মনে করি, রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন সমাজের অচলায়তন ভেঙে নারীদের আলোর পথের সন্ধান দিয়েছেন। তিনি সমাজের অবরোধ ভাঙার জন্য, নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য, নারীর মুক্তির জন্য আজীবন যে সংগ্রাম করে গেছেন।“ এ সময় বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, সুফিয়া কামালসহ নারী জাগরণের পথিকৃতদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখার জোর দাবি জানানো হয়।  বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আন্দোলন সম্পাদক বলেন, “আপনারা জানেন যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে নারীর জন্য ৬০% কোটা বহাল ছিলো। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি যে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ খসড়া প্রজাপনে এই বিধান রোহিত করা হয়েছে। যা কিনা নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী শিকালে অগ্রসর করার জন্য অসঙ্গতিপূর্ণ।” বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫ এ নারী কোটা এখান রাখার দাবি জানায়। “সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করেছেন। নারী সমাজের দীর্ঘ দিনের দাবি দাওয়া নিয়ে নারী সমাজের পক্ষ থেকে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন বিভিন্ন সুপারিশসমূহ প্রধান উপদেষ্টার কাছে দিয়েছে।  যেখানে এ দেশের গত পাঁচ দশকের নারী আন্দোলনের অবাস্তবায়িত মূল মূল দাবিসমূহের প্রতিফলন ঘটেছে, যা নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি অতীতের মতো সুপারিশ পেশের সঙ্গে সঙ্গে মৌলবাদী, নারী বিদ্বেষী গোষ্ঠী ধর্মের দোহাই দিয়ে নারীর অধিকার এবং নারী- পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শুরু করেছে। আমরা আশা করবো এই অপতৎপরতা, অপকৌশল রোধে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর মানবাধিকার রক্ষা করার ক্ষেত্রে সরকার, সকল রাজনৈতিক দল ও সমাজ এগিয়ে আসবে।” তিনি বলেন, “সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে উচ্ছৃঙ্খল জনতা প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। বিবেক বা যুক্তির জায়গায় মনোজগতে স্থান নিয়েছে প্রতিহিংসা। এই উচ্ছৃঙ্খল জনতা শুধু জনসমক্ষে প্রতিপক্ষকে হেনস্তা, মারধর ও অপমান করেই ক্ষান্ত হচ্ছেনা। গণপিটুনির মাধ্যমে প্রকাশ্যে হত্যা করা হচ্ছে মানুষকে, এর সাথে চলছে লুটপাট, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এর মাধ্যমে ধ্বংসের খেলা।” শিক্ষার্থীরাও দলে দলে বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “দাবি আদায়ের নামে জনদুর্ভোগসৃষ্টি করছে তারা। শিক্ষাঙ্গনেও বিভিন্নভাবে শিক্ষকদের অবমাননা, জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা, এবং পদত্যাগে বাধ্য করার জন্য শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের গায়ে হাত তুলতেও দ্বিধা করছে না। এই হেনস্থা থেকে নারী শিক্ষকগণও রেহাই পাচ্ছেন না।” “বিচার প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা ও বিভিন্ন জটিলতা এবং বিচার প্রাপ্তির প্রতি তৈরী হওয়া এক ধরনের অনীহার কারণে বিভিন্ন ঘটনায় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য যখন তখন মব সহিংসতার অপতৎপরতা চালু হয়েছে যার ফলে সকল ক্ষেত্রে দেশের সামগ্রিক সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির সম্মুখীন। এইসকল ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সবসময় কার্যকর ভূমিকা পালন করতে দেখা যাচ্ছে না। সবকিছু মিলিয়ে দেশের এক বিশেষ জটিল, সঙ্কটময়, পরিস্থিতিতে সৃষ্টি হয়েছে।” আমাদের দেশের সকল পর্যায়ে নারীর অবস্থান এবং অংশগ্রহণ দৃশ্যমান হলেও দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর সমঅধিকার, সমমর্যাদা এবং সমঅংশীদারিত্বের প্রশ্নে সমপ্রতিনিধিত্বে নারী এখনও উপেক্ষিত, এখনও অনেক পিছিয়ে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, “নারীর সম্পদ সম্পত্তিতে সমঅধিকার নেই, নীতিনির্ধারণী এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যায়েও নারীর উপস্থিতি অপ্রতুল। আমাদের দেশে নারীর অংশগ্রহণে দেশের অর্থনীতির পশ্চাৎপদতা হ্রাস পেলেও জনগণের মনোজগতে মধ্যযুগীয় ধ্যান ধারণা এখনও বিরাজমান।” “আমরা মনে করি মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে নারীর মুক্তির যে আকাঙ্খা প্রতিফলিত হয়েছে, তা নিয়ে নানা বাধা বিপত্তির মধ্য দিয়ে নারী সমাজ নিজেদেরকে অগ্রসর করে নিয়ে চলেছে। এই নারী সমাজকে আরও অগ্রসর করে নিতে হলে আমাদের নারীর প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং ধর্মের দোহাই না দিয়ে বক্তিগতভাবে একজন নাগরিক এবং একজন মানুষ হিসেবে এদেশের ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে অর্ধেক জনগোষ্ঠী- নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সকলেরই যুক্তিসঙ্গত চিন্তা ভাবনার প্রতিফলন ঘটবে- এই প্রত্যাশা করি।” বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, নারী বিদ্বেষী প্রচার প্রচারণা বন্ধ করার লক্ষ্যে এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা। মব সহিংসতার অবসান ঘটনোর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা। মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির প্রয়াস প্রতিহত করা উল্লেখযোগ্য।

কুমিল্লায় বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু

কুমিল্লায় বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু কুমিল্লায় বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলার মুরাদনগর ও বরুড়া উপজেলায় পৃথক দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়। পুলিশ জানায়, মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার কোরবানপুর গ্রামে বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত হয়েছেন। তারা হলেন- দেওড়া গ্রামের জসীম উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে জুয়েল ভূঁইয়া (৩৫) ও কোরবানপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত বীরচরণ দেবনাথের ছেলে নিখিল দেবনাথ (৬০)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা মাঠে কৃষি কাজ করছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। অপরদিকে, বরুড়া উপজেলার খোশবাস ইউনিয়নের পয়ালগচ্ছ গ্রামে বজ্রপাতে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলো- ওই গ্রামের মৃত খোকন মিয়ার ছেলে ফাহাদ হোসেন (১৩) ও আব্দুল বারেক মিয়ার নাতি সায়মন হোসেন (১৩)। তারা বড়হরিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে কয়েকজন শিশু মাঠে ঘুড়ি ওড়াচ্ছিল। এসময় বজ্রপাতে হলে দুই জন আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বাঙ্গুরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজুর রহমান ও বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী নাজমুর হক ও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।