অতি দরিদ্র ২০ শতাংশ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসার সুপারিশ

অতি দরিদ্র ২০ শতাংশ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসার সুপারিশ দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে আসা মোট রোগীর মধ্যে অতি দরিদ্র ২০ শতাংশ রোগীকে বিনামূল্যে সম্পূর্ণ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন। সোমবার (৫ মে) রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে কমিশনের সদস্যরা এ তথ্য জানিয়েছেন। মোট রোগীর ২০ শতাংশের মধ্যে ১০ শতাংশকে সরকারি হাসপাতালে এবং বাকি ১০ শতাংশকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সদস্য ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেছেন, চিকিৎসক-ফার্মাসিউটিক্যাল নীতি সম্পর্কিত বিষয়ে কমিশন সুপারিশ করেছে, ওষুধের নমুনা বা উপহার দিয়ে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। তিনি বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সংখ্যা বাড়ানো এবং দুই বছর পর পর এই ওষুধের তালিকা আপডেট করার সুপারিশ করেছে কমিশন। এছাড়াও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ প্রাথমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সংবিধান সংশোধনপূর্বক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে দেওয়ার সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন। দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও বৈষম্যের শৃঙ্খলে আটকে থাকা দেশের স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে চূড়ান্ত সুপারিশ পেশ করেছে এই কমিশন। দেশের কোটি কোটি মানুষ এখনো মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। অনেকে চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন। যাদের সামর্থ্য আছে, তারাও বেসরকারি হাসপাতালের চড়া ব্যয়ের কারণে সীমাহীন কষ্টে পড়েন। এই বাস্তবতা বদলাতেই সরকার বড় ধরনের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পথে হাঁটতে চায়। স্বাস্থ্যসেবাকে সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন তাদের প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যসেবাকে সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। একইসঙ্গে প্রস্তাব করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ হেলথ সার্ভিস’ নামের একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান গঠনের। এর মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে পরিকল্পনা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য বিনামূল্যে নিশ্চিত করার পাশাপাশি কমিশন ইউনিক হেলথ আইডি ও স্মার্ট হেলথ কার্ড চালুর সুপারিশ করেছে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য ডিজিটালি সংরক্ষিত থাকবে, যা চিকিৎসা কার্যক্রমকে আরো কার্যকর ও স্বচ্ছ করবে। বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সেবার মূল্য নির্ধারণ, মান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির সুপারিশ এসেছে কমিশনের প্রতিবেদনে। একইসঙ্গে প্রস্তাব এসেছে, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির প্রতিনিধিরা আর সরাসরি চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন না, বরং তাদের তথ্য ই-মেইলের মাধ্যমে দিতে হবে। এতে ঘুষ ও অপ্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহারের প্রবণতা কমবে বলে দাবি করা হয়। কমিশন জানিয়েছে, প্রতিটি বিভাগে আন্তর্জাতিক মানের একটি করে আঞ্চলিক রেফারেল হাসপাতাল গড়ে তোলা উচিত। পাশাপাশি যেসব হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ মানহীন ও অপ্রাতিষ্ঠানিক, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়ার সুপারিশ করেছে তারা। নারী স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট গঠনের প্রস্তাব প্রতিবেদনে একটি জাতীয় নারী স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট গঠনের প্রস্তাবও এসেছে। একইসঙ্গে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা সম্প্রসারণ, ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবেশাধিকার সহজ করার জন্য আলাদা আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে। কমিশনের মতে, এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে দুই বছর। এজন্য আইনি সংস্কার, বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে হবে। ‘মেডিকেল পুলিশ’ নামে বিশেষ ইউনিট গঠনের সুপারিশ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সহিংসতা রোধে ‘মেডিকেল পুলিশ’ নামে প্রশিক্ষিত একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করতে সুপারিশ প্রস্তাব করেছে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্যসেবাগ্রহীতার অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি আধুনিক ডিজিটাল অভিযোগ নিষ্পত্তি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে। বিএমডিসি, বিএনএমসি, বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল অ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল কাউন্সিলের আইনগত ক্ষমতা ও কাঠামো কার্যকর করতে হবে। পেশাগত অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না; তদন্ত ও সিদ্ধান্ত ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সহিংসতা রোধে ‘মেডিকেল পুলিশ’ নামে প্রশিক্ষিত একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করতে হবে, যা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্টসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য মেডিকেল প্রফেশনাল ইন্স্যুরেন্স চালু করতে হবে। এমবিবিএস বা বিডিএস ব্যতীত কেউ ‘চিকিৎসক’ পরিচয়ে রোগী দেখলে, বিএমডিসি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে।
স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার দেশের স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিন থেকে যেসব সমস্যা রয়েছে তা নিরসনে স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে যেসব সুপারিশ এখনই বাস্তবায়নযোগ্য তা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (৫ মে) স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্কার কমিশন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার নিকট তাদের প্রতিবেদন পেশ করার পর তিনি এই নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্কার কমিশনের এই প্রতিবেদনকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য খাতের সমস্যাগুলো বহুদিনের সমস্যা।এর মাধ্যমে আমরা যদি এসব সমস্যার সমাধান করতে পারি তা হবে যুগান্তকারী ঘটনা।” তিনি বলেন, “সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেসব সুপারিশ আশু বাস্তবায়নযোগ্য তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের এখনি মনোযোগী হতে হবে।” প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “একটি বড় সমস্যা হচ্ছে ডাক্তারের সংকট, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডাক্তার থাকলেও যেখানে দরকার সেখানে ডাক্তার নেই। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।” চিকিৎসা ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “এটা ছাড়া সমস্যা নিরসন সম্ভব নয়। চিকিৎসকদের যেখানে পোস্টিং সেখানে থাকাটা নিশ্চিত করতে হবে।” কমিশন প্রধান জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খানের নেতৃত্বে এই কমিশনের সদস্যরা তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাকির হোসেন, অধ্যাপক লিয়াকত আলী, ডা. সায়েবা আক্তার; সাবেক সচিব এম এম রেজা, ডা. আজহারুল ইসলাম, ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন, ডা. সৈয়দ আতিকুল হক, ডা. আহমেদ এহসানুর রাহমান এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি উমায়ের আফিফ। স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্কার কমিশনের অন্য দুই সদস্য হলেন ডা. নায়লা জামান খান, ডা. মোজাহেরুল হক।
মনিরের মৃত্যু: শাকিবকে রত্নার খোলা চিঠি

মনিরের মৃত্যু: শাকিবকে রত্নার খোলা চিঠি কয়েক দিন আগে শাকিব খান অভিনীত ‘তাণ্ডব’ সিনেমার শুটিং সেটে স্টান্টম্যান মনির হোসেন অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। মনিরের মৃত্যু শোক ছড়িয়েছে গোটা চলচ্চিত্রাঙ্গনে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকরা মনিরকে যখন মৃত ঘোষণা করেন, তখন সহকর্মীদের কেউ তার পাশে ছিলেন না। সবচেয়ে বেদনার ব্যাপার— শুটিং সেটে উপস্থিত থাকার পরও একবারের জন্য হাসপাতালে যাননি সুপারস্টার শাকিব খান। এমনকি, মনিরের পরিবারের দিকেও সাহায্যের হাত বাড়াননি। এসব খবর বাইরে আসার পর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নেটিজেনরা। এবার কড়া ভাষায় সমালোচনা করে শাকিবের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি দিলেন রত্না। নিজের ফেসবুকে দীর্ঘ চিঠিটি পোস্ট করেছেন এই নায়িকা। রত্নার এই চিঠি শুধু ক্ষোভ নয়, যেন গোটা ইন্ডাস্ট্রির বেদনাবিধুর ভাষ্য। রত্না তার চিঠিতে বলেন, “সুপ্রিয় খান সাহেব! এই যে যুগের পর যুগ হাততালি পেয়ে যান, ভিলেনের ওপরে উড়ে এসে পড়েন, নায়িকাকে ভিলেন থেকে বাঁচান, তার পুরো কৃতিত্ব কিন্তু দর্শক না জানলেও আপনার আমার জানা। কাল আপনার ‘তাণ্ডব’ সিনেমার সেটে মনির মারা গেলেন। আপনি একবারও তার পাশে দাঁড়ালেন না। এটা নতুন নয়, আপনি কখনো পেছনের গল্প মনে রাখেন না। এখন সময় এসেছে পর্দায় নয়, বাস্তবে নায়ক হয়ে ওঠার। সিনেমা থেকে অনেক কিছু নিয়েছেন খান সাহেব, এবার দিতে শিখুন। মনিরের পরিবারের জন্য কিছু করুন, এটুকুই আশা।”শাকিব খানকে খানিকটা কটাক্ষ করে রত্না বলেন, “আপনার প্রেমিকা প্রায়োরিটি বরাবরই ছিল নায়িকা, অনেক উঠতি নায়িকার স্বপ্ন ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, বেকারত্বকে বরণ করে আপনার চাইতেও অনেক কর্মঠ নায়িকা দেশ ছেড়েও চলে গিয়েছিল। এটা অবশ্য আপনার দোষ না, পর্দার নায়ক হিসেবে আপনি সত্যিই অতুলনীয়-অসাধারণ, সেটা নিয়ে দুঃখ নেই।” রুপালি পর্দার পাশাপাশি বাস্তব জীবনে নায়ক হয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে রত্না বলেন, “এখন বাস্তবে নায়ক হয়ে দেখান, সিনেমা থেকে অনেক পেয়েছেন অনেক নিয়েছেন। এখন দিতে শিখুন। যতই ইংরেজি শিখেন পাকিস্তানি ভাষা বলতে পারেন আর হিন্দি ভাষা বলে বাহবা পান। আপনি কিন্তু বাংলা চলচ্চিত্র আর বাংলাদেশেরই একজন মানুষ।” প্রয়াত স্টান্টম্যান মনিরের পরিবারের জন্য কিছু করার আহ্বান জানিয়ে রত্না বলেন, “আজকের এই শাকিব খান হওয়ার পিছনে, যে অবদানগুলো ছিল, আর কেউ না জানলেও আপনি কিন্তু জানেন। সব ভুলে যান দুঃখ নেই। কিন্তু যারা এখনো আপনার সাথে লেগে আছে, তাদেরকে ভুলে যাবেন না, তাদের পাশে একটু দাঁড়াবেন আশা করছি। স্টানম্যান মনিরের পরিবারের জন্য অবশ্যই কিছু করবেন প্রত্যাশা রাখলাম।” নারায়ণগঞ্জের সন্তান স্টান্টম্যান মনির। সিনেমার ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যগুলো আড়ালে থেকে বাস্তবে রূপ দিতেন। তার শেষ বিদায়টাও খুব নীরবে হয়ে গেল।
বাংলাদেশ-পাকিস্তান সীমান্তে বিএসএফের ‘ফিল্ড হেডকোয়ার্টার’ করবে ভারত

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সীমান্তে বিএসএফের ‘ফিল্ড হেডকোয়ার্টার’ করবে ভারত কাশ্মীরের পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার পর, ভারত শিগগির তার সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীকে (বিএসএফ) প্রায় ১৭ হাজার সৈন্যের ১৬টি নতুন ব্যাটালিয়ন তৈরি এবং দুটি নতুন ফিল্ড হেডকোয়ার্টার তৈরির অনুমোদন দিতে চলেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সাংগ্রি টুডে জানিয়েছে, সরকার ইতিমধ্যে নীতিগত ছাড়পত্র দিয়েছে। বিএসএফ পাকিস্তানের পাশাপাশি বাংলাদেশের সীমান্ত ‘সুরক্ষিত’ করার জন্য একটি আদেশ পেয়েছে। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ব্যাটালিয়ন গঠনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়সহ কিছু শেষ ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে, যা শিগগির জারি করা হতে পারে। ছাড়পত্র পাওয়ার পর, ভারতের বিএসএফ এই ব্যাটালিয়নের জন্য পুরুষ এবং নারী নিয়োগ শুরু করবে, তারপর তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তাই এই ব্যাটালিয়ন তৈরি করতে পাঁচ বা ছয় বছর সময় লাগতে পারে। বর্তমানে, বিএসএফ উভয় সীমান্ত রক্ষার জন্য ১৯৩টি ব্যাটালিয়ন পরিচালনা করে এবং একটি ব্যাটালিয়নে এক হাজারেরও বেশি সৈন্য রয়েছে। সূত্র জানায়, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিএসএফের দুটি ফিল্ড হেডকোয়ার্টার অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে একটি জম্মুতে পাকিস্তানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য জম্মু ও পাঞ্জাবে স্থাপন করা হবে এবং অন্যটি মিজোরামে বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর জন্য স্থাপন করা হবে। কর্মকর্তাদের মতে, ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিএসএফ কয়েক বছর আগে ২০-২১টি নতুন ব্যাটালিয়ন গঠনের জন্য ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল।
কুখ্যাত আলকাট্রাজ কারাগার পুনরায় চালুর নির্দেশ ট্রাম্পের

কুখ্যাত আলকাট্রাজ কারাগার পুনরায় চালুর নির্দেশ ট্রাম্পের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরে অবস্থিত কুখ্যাত আলকাট্রাজ কারাগারটি পুনর্নির্মাণ ও পুনরায় চালু করার জন্য ফেডারেল ব্যুরো অব প্রিজনসকে নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার (৫ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিপজ্জনক অপরাধীদের কুখ্যাত কারাগারটিতে আটক রাখতে চান ট্রাম্প। স্থানীয় সময় রবিবার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্ট করে বলেন, “আলকাট্রাজ পুনর্নির্মাণ করুন এবং খুলুন!” ট্রাম্প আরো বলেন, “আমরা যখন আরো সিরিয়াস জাতি ছিলাম, তখন আমরা সবচেয়ে বিপজ্জনক অপরাধীদের আটকে রাখতে এবং ক্ষতি করতে পারে এমন কারো থেকে তাদের দূরে রাখতে দ্বিধা করতাম না।” ১৯৬৩ সালে বন্ধ হওয়ার আগে আলকাট্রাজের ফেডারেল কারাগারটিতে আল ক্যাপোনের মতো কুখ্যাত মার্কিন অপরাধীদের রাখা হতো। এটি এখন সান ফ্রান্সিসকোর সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন এলাকাগুলোর মধ্যে একটি। ট্রুথ সোশ্যল পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “আজ আমি বিচার বিভাগ, এফবিআই এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সঙ্গে কারাগার ব্যুরোকে একটি উল্লেখযোগ্যভাবে বর্ধিত এবং পুনর্নির্মিত আলকাট্রাজ পুনরায় খোলার নির্দেশ দিচ্ছি।” ফ্লোরিডা থেকে হোয়াইট হাউজে ফিরে আসার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “কারাগারটি পুনরায় চালু করা ‘আমার মনে আসা একটি ধারণা’ এবং আমি তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” ট্রাম্প আরো বলেন, “এটি আইন-শৃঙ্খলার প্রতীক।” দ্বীপের অবস্থান, হিমশীতল পানি এবং তীব্র স্রোতের কারণে আলকাট্রাজকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নিরাপদ কারাগার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আলকাট্রাজ থেকে কোনো বন্দী সফলভাবে পালানোর রেকর্ড নেই, যদিও পাঁচজন বন্দী ‘নিখোঁজ এবং ডুবে মারা গেছে’ হিসেবে নথিভুক্ত করা আছে। ফেডারেল ব্যুরো অব প্রিজনস (বিওপি) ওয়েবসাইট অনুসারে, আলকাট্রাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, কারণ এর পরিচালনা চালিয়ে যাওয়া খুব ব্যয়বহুল ছিল, মূলত এর দ্বীপের অবস্থানের কারণে। বিওপি ওয়েবসাইটের তথ্যানুসারে, এটি পরিচালনা করা অন্য যেকোনো ফেডারেল কারাগারের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি ব্যয়বহুল ছিল। ট্রাম্পের নতুন এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন সাবেক হাউজ স্পিকার এবং ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা ন্যান্সি পেলোসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ এ একটি পোস্টে তিনি বলেন, “৬০ বছরেরও বেশি সময় আগে আলকাট্রাজ একটি ফেডারেল কারাগার হিসেবে বন্ধ হয়ে যায়। এটি এখন একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় জাতীয় উদ্যান এবং প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবটি গুরুত্বপূর্ণ নয়।”
ভয়ংকর রূপে মোশাররফ করিম

ভয়ংকর রূপে মোশাররফ করিম গেল মুক্তি পাওয়া ‘চক্কর’ সিনেমায় দেখা গেছে মোশাররফ করিমকে। মাসখানেকের ব্যবধানে একেবারে অন্যরূপে হাজির হয়ে সবাইকে চমকে দিলেন এই অভিনয়শিল্পী। নির্মাতা সঞ্জয় সমদ্দারের পরিচালনায় আসন্ন সিনেমা ‘ইনসাফ’র দ্বিতীয় পোস্টারে পাওয়া গেল তার রক্তাক্ত ভয়ংকর অবতার। যেখানে চোখে সানগ্লাস, মুখে ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি, পোশাকে রক্তের ছিটেফোঁটা, হাতে কুড়াল, আর ঘাড়ে ঝুলছে থেটোস্কোপ, সবমিলিয়ে এক প্রতিশোধপরায়ণ চরিত্রে হাজির হয়েছেন তিনি। রোববার (৪ মে) সন্ধ্যায় ‘ইনসাফ’র দ্বিতীয় পোস্টার উন্মোচন করেন নির্মাতা। তিনি বলেন, এই ডাক্তার রোগ নয়, পাপ সারায়! রক্তই তার ভাষা, ইনসাফই তার শপথ! এতে স্পষ্ট হয়ে যায়, সিনেমার গল্পে প্রতিশোধ ও ন্যায়বিচারের জোরালো উপস্থাপন থাকবে। এর আগে গত ২৫ এপ্রিল প্রকাশিত হয় সিনেমাটির প্রথম পোস্টার, যেখানে রক্তাক্ত কুড়াল হাতে, ঠোঁটে রহস্যময় হাসি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন সিনেমার নায়ক শরীফুল রাজ। নতুন পোস্টারে মোশাররফ করিমের চরিত্র প্রকাশ পেলেও তিনি ইতিবাচক না নেতিবাচক, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য দেননি নির্মাতা। জানা গেছে, অ্যাকশন থ্রিলার ঘরানার ‘ইনসাফ’র শুটিং শুরু হয় গেল ফেব্রুয়ারিতে। বর্তমানে চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। আসন্ন ঈদুল আজহায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিনেমাটি। সিনেমায় নায়িকা হিসেবে থাকছেন নাট্যাঙ্গনের পরিচিত মুখ তাসনিয়া ফারিণ, যিনি এই সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বড় পর্দার পুরোপুরি কমার্শিয়াল সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন। প্রযোজনায় রয়েছে তিতাস কথাচিত্র এবং টিওটি ফিল্মস।
নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলকে হারিয়ে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ

নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলকে হারিয়ে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ ওপেনার রিস মারিউর পর শেষদিকে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের হয়ে লড়েন ডিন ফক্সক্রফট। বাকিদের কেউ স্পর্শ করতে পারেননি দুই অঙ্ক। ফলে অল্প রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে আনামুল হক বিজয়ের পাশাপাশি মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের দারুণ ধৈর্যশীল ইনিংসে ৭ উইকেটের জয় পায় তারা। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দল। ৩৪.৩ ওভারে তারা সবগুলো উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ১৪৭ রান। যা তাড়ায় নেমে ৩ উইকেট হারাতে হয় বাংলাদেশকে। তবে অনেক আগেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা। নিউজিল্যান্ডের শুরুটা হয় ডেল ফিলিপসকে হারিয়ে। শরিফুল ইসলামের এলবিডব্লিউতে শূন্য রানে বিদায় নেন তিনি। খালেদ আহমেদের দারুণ বোলিংয়ে পরের দুজনেও রানের খাতা খুলতে পারেননি। পাঁচে নামা দলের অধিনায়কেরও হয় একই পরিণতি। তবে একপ্রান্ত আগলে লড়ে যাচ্ছিলেন মারিউ। যদিও ৪২ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। শিকার হন তানভির ইসলামের। ব্যাটারদের এমন ব্যর্থতার দিনে জ্বলে ওঠেন আট নম্বরে নামা ফক্সক্রফট। ৬৪ বলে ৪ ছক্কা ও ৬ চারে ৭২ রান করে দলের সংগ্রহ দেড়শর কাছে নিয়ে যান তিনি। বাংলাদেশের হয়ে ৭ ওভারে ২৭ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন খালেদ। সমান উইকেট পান তানভিরও। দুটি করে উইকেট নেন শরিফুল ও এবাদত। রান তাড়ায় নেমে শুরুটা তেমন ভালো হয়নি বাংলাদেশের। মোহাম্মদ নাঈম শেখ ১৮ রানে বিদায়ের পর ২৪ রান করে ফেরেন আরেক ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। তবে তিন নম্বরে নেমে চেষ্টা চালান বিজয়। ৪৫ বলে ৩৮ রান করেন তিনি। বাকি কাজ সারেন অঙ্কন ও নুরুল হাসান সোহান। ৬১ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন অঙ্কন। আর ২৬ বলে ২০ রানের ইনিংস খেলেন অধিনায়ক সোহান।
ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবনমন

ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবনমন ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে দুঃসংবাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। এক ধাপ পিছিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেছনে অবস্থান করছে তারা। আজ আইসিসির প্রকাশিত র্যাংকিংয়ে ৪ রেটিং পয়েন্ট হারিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দর। ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে আছে দশ নম্বরে। গত বছর ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স একদমই ভালো ছিল না। আট ম্যাচ খেলে তারা জিতেছে স্রেফ একটিতে। এছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও ভরাডুবি হয়েছে তাদের। গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে। এরপর শারজাহকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারে। গত ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সবগুলোতেই হেরে হয় হোয়াইটওয়াশড।বাংলাদেশ থেকে এক ধাপ ওপরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ নয় ম্যাচের ছয়টিতে জয়লাভ করেছে। ৫ রেটিং পয়েন্ট বেড়েছে তাদের। ৮৩ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে নয় নম্বরে। এছাড়া বাংলাদেশের মতো ইংল্যান্ডেরও ৪ রেটিং পয়েন্ট কমেছে। ৮৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা নেমে গেছে আটে। আফগানিস্তান ৪ রেটিং পয়েন্ট বেশিতে ৯১ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে উঠেছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতা ভারতের ২ রেটিং পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ১২৪। শীর্ষেই আছে তারা। ১০৯ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে নিউজিল্যান্ড। সমান পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে অস্ট্রেলিয়া। ৫ রেটিং পয়েন্ট বেড়ে ১০৪ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে শ্রীলঙ্কা। ১০৪ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে পাকিস্তান। ৯৬ পয়েন্ট নিয়ে ছয় নম্বরে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ওয়ানডেতে পয়েন্ট হারালেও টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে আগের মতোই নবম স্থানে আছে বাংলাদেশ।
আবরার হত্যা: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

আবরার হত্যা: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ সাড়ে পাঁচ বছর আগে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ জনের যাবজ্জীবন বহালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের স্বাক্ষরের পর ১৩১ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। শনিবার (৩ মে) আসামিপক্ষের আইনজীবী এস এম শাহজাহান বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। মৃত্যুদণ্ডের ২০ আসামি হলেন, বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার অপু (মেকানিক্যাল ইঞ্জনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির (ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ), সদস্য মোজাহিদুর রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), সদস্য এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাজেদুর রহমান মাজেদ (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), খন্দকার তাবাক্কারুল ইসলাম তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ), মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), এস এম নাজমুস সাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মিজানুর রহমান (ওয়াটার রিসোসের্স, ১৬ ব্যাচ), শামছুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), উপ-দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল) ও এসএম মাহামুদ সেতু (কেমিকৌশল)। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন, বুয়েট ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪তম ব্যাচ, সিই বিভাগ), গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ), আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং), সদস্য আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ) ও মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭ ব্যাচ)। গত ১৬ মার্চ আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনের যাবজ্জীবনের আদেশ বহাল রাখা হয়। বুয়েটের শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরারকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনায় ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে বুয়েট। বুয়েটে নিষিদ্ধ হয় ছাত্র রাজনীতি। ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলা বিচারে এসেছিল। দুই পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর রায় আসে, যাতে ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। তাদের মধ্যে তিন জন মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। বাকি ২২ জনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুনতাসির আল জেমির কারাগার থেকে পালিয়েছেন। গণঅভ্যুত্থানে সরকারপতনের পর গত ৬ অগাস্ট তিনি গাজীপুরের হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের দেয়াল ভেঙে পালিয়ে যান। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বুয়েটে বিক্ষোভ দেখান কয়েকশ শিক্ষার্থী। আবরার ছিলেন বুয়েটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন তিনি। মামলার আসামিদের সবাই বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। গ্রেপ্তার ২১ জনের মধ্যে আট জন আদালতে দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আবরারকে কীভাবে ক্রিকেট স্টাম্প আর স্কিপিং রোপ দিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে বেধড়ক পেটানো হয়েছিল, সেই ভয়ঙ্কর বিবরণ উঠে আসে তাদের জবানবন্দিতে। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর সন্ধ্যার পর আবরারকে ওই হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে নির্যাতনের পর দোতলা ও নিচতলার সিঁড়ির মাঝামাঝি জায়গায় তাকে অচেতন অবস্থায় ফেলে যায় কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী। ভোরে চিকিৎসক এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আবরার ফেইসবুকে তার শেষ পোস্টে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের করা কয়েকটি চুক্তির সমালোচনা করেছিলেন। বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাই যে ফেইসবুক পোস্টের সূত্র ধরে ‘শিবির সন্দেহে’ আবরারকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে, তা সংগঠনটির তদন্তে উঠে এলে ১২ জনকে বহিষ্কার করা হয়। আবরার ফাহাদ নিহত হওয়ার পর আন্দোলনে নেমে ১০ দফা দাবি তোলেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে বুয়েট শিক্ষক সমিতি ও সাবেক শিক্ষার্থীরাও সমর্থন প্রকাশ করেন। তাদের দাবির মুখে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ, আবরার হত্যার আসামিদের সাময়িক বহিষ্কার এবং হলগুলোতে নির্যাতন বন্ধে নানা পদক্ষেপ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আবরারকে যে রাতে হত্যা করা হয়, তার পরদিন ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর তার বাবা ১৯ শিক্ষার্থীকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ এজাহারের ১৬ জনসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে। পাঁচ সপ্তাহ তদন্ত করে তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান ওইবছর ১৩ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে যে অভিযোগপত্র জমা দেন, সেখানে আসামি করা হয় মোট ২৫ জনকে। অভিযোগপত্র গ্রহণ করে গত ১৮ নভেম্বর পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। তাদের মধ্যে একজন পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে মামলাটি পরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ স্থানান্তর করে আদেশ জারি হয়। বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এ মামলার বাদী ও আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর আদালতে সাক্ষ্য দেন। এর মধ্য দিয়ে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ৬০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। কারাগারে থাকা ২২ আসামি গত ১৪ সেপ্টেম্বর আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তিন আসামি পলাতক থাকায় তারা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি। এরপর কয়েকজন আসামি নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্যও দেন। এ মামলার চার্জ গঠনের সময় শব্দগত ত্রুটি থাকায় ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ তা সংশোধনের আবেদন করে। পরদিন ২৫ আসামির বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগ গঠন করে আদালত। আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পর দুইপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর রায় দেওয়া হয়। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি ৬ হাজার ৬২৭ পৃষ্ঠার ডেথ রেফারেন্স ও মামলার যাবতীয় নথি হাই কোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয়। এরপর আসামিরা দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিল করেন। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। দণ্ডিত আসামিরা উচ্চ আদালতে ফৌজদারি আপিল এবং জেল আপিল করতে পারেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি দ্রুত শুরুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। এরপর শুনানি শেষে ১৬ মার্চ আপিলের রায় ঘোষণা করা হয়।
চিলি ও আর্জেন্টিনায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প

চিলি ও আর্জেন্টিনায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প চিলি ও আর্জেন্টিনা দক্ষিণ উপকূলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার এ ভূমিকম্প হয়েছে বলে জানিয়েছে এবিসি নিউজ। ভূমিকম্পের কারণে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ম্যাগালানেস অঞ্চলজুড়ে চিলির উপকূলরেখায় লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আর্জেন্টিনার টিয়েরা দেল ফুয়েগো প্রদেশে পানি কার্যক্রম এবং নৌ চলাচল স্থগিত করা হয়। প্রাথমিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া শহর থেকে ২১৯ কিলোমিটার (১৭৩ মাইল) দক্ষিণে সমুদ্রের তলদেশে। এর গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। চিলির কর্তৃপক্ষ দেশের দক্ষিণে অবস্থিত ম্যাগেলান প্রণালীর সমগ্র উপকূলীয় অংশ থেকে স্থানীয়দের সরে যাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে। চিলির জাতীয় দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়া পরিষেবা জনসাধারণের কাছে পাঠানো এক বার্তায় বলেছে, “সুনামির সতর্কতার কারণে, ম্যাগালানেস অঞ্চলের উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ অঞ্চলে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।”