
গোমস্তাপুরের বিভিষণ সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক ১৭ জন পুশইন গোমস্তাপুরের বিভিষণ সীমান্ত দিয়ে শিশুসহ ১৭ জনকে পুশইন করেছে বিএসএফ। আজ ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের বিভিষণ সীমান্তের ২১৯ বাই ৭১ পিলারের ১৬০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে লালমাটিয়া এলাকা থেকে বিজিবি তাদের আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে ৯ জন শিশু, ৪জন নারী ও ৪ জন পুরুষ রয়েছে। তারা কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। বিজিবি তাদেরকে আটকের পর গোমস্তাপুর থানায় সোপর্দ করেছে। গোমস্তাপুর থানার ওসি রইস উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে বিভিষণ সীমান্তের ২১৯/৭১ পিলারের ১৬০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে লালমাটিয়া এলাকা থেকে বিজিবির একটি টহলদল তাদের আটক করে। আটকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তারা দীর্ঘদিন থেকে ভারতীয় অভ্যন্তরে বসবাস করে আসছিলেন। গত ১৭ মে ভারতীয় পুলিশ তাদেরকে হরিয়ানা প্রদেশ থেকে আটক করে ট্রেনযোগে হাওড়া জেলায় নিয়ে আসে। গত ২৪ মে হাওড়া থেকে বাসে করে ৮৮ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ ইটাভাটা ক্যাম্পের কাছে হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে তারা ওই সীমান্ত দিয়ে তাদের পুশইন করে। এদিকে বিকেলে রোকনপুর কোম্পানি ও ৮৮ ইটাভাটা বিএসএফ কোস্পানী পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে গোমস্তাপুর থানার ওসি রইসউদ্দীন জানান, বিএসএফ কর্তৃক পুশইন হওয়া ১৭ জনকে আটক করে বিজিবি। পরে তাদেরকে গোমস্তাপুর থানায় হস্তান্তর করে। তারা থানা হেফাজতে রয়েছে।
গোমস্তাপুরে সর্প দংশনে শিশুর মৃত্যু

গোমস্তাপুরে সর্প দংশনে শিশুর মৃত্যু গোমস্তাপুর উপজেলায় বিষাক্ত সর্প দংশনে সিফাত আলী নামে ৮ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে রাধানগর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের উপর সাগরাইল গ্রামের উকিলের ছেলে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গতকাল দিবাগত রাত ১টার দিকে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল সিফাত। এমন সময় একটি সাপ বিছানার উপর তার ডান হাতের আঙ্গুলে কামড় দেয়। এরপর তার কান্নাকাটি ও চিৎকারে বাড়ির সদস্যরা বিষয়টি টের পায়। ভোররাতে তাঁরা সিফাতকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সংশ্লিস্ট ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান এবং ওয়ার্ড সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, সাপের কামড়ে সিফাতের আঙ্গুল থেকে রক্ত বের হয়ে যায়। তবে সাপটি ধরা বা মারা সম্ভব হয়নি। গোমস্তাপুর থানার অফিসার ওসি রইস উদ্দিন ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৌনে তিন কেজি হেরোইন মামলায় দম্পতির যাবজ্জীবন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৌনে তিন কেজি হেরোইন মামলায় দম্পতির যাবজ্জীবন চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৌনে তিন কেজি হেরোইন বিক্রির উদ্দেশ্যে হেফাজতে রাখার অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের একটি মামলায় আব্দুস সামাদ এবং মর্জিনা খাতুন নামের এক দম্পতিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সেই সাথে উভয়কে পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। আজ বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দায়রা জজ মিজানুর রহমান আসামী মর্জিনা খাতুনের উপস্থিতিতে আদেশ প্রদান করেন। এ সময় তাঁর স্বামী আব্দুস সামাদ অনুপস্থিত ছিলেন। দন্ডিত সামাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কোদালকাঠি মধ্যচর গ্রামের ইস্কান্দার আলীর ছেলে। মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায় এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী(পিপি) আব্দুল ওদুদ বলেন, ২০২২ সালের ১৪ অক্টোবর রাতে র্যাব-৫ ব্যাটালিয়নের রাজশাহী ক্যাম্পের অভিযানে স্বামীর বাড়ি থেকে ২ কেজি ৭৫০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার হন মর্জিনা। অভিযানকালে তাঁর স্বামী সামাদ পালিয়ে যান। এ ঘটনায় পরদিন ১৫ অক্টোবর দম্পতিকে আসামী করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন র্যাবের তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুম বিল্লাহ। ২০২৩ সালের ১৩মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা(আইও) এবং র্যাবের তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারিফুল ইসলাম শুধুমাত্র ওই দম্পতিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। ১৮ জনের সাক্ষ্য, প্রমাণ এবং শুনানী শেষে আদালত স্বামী এবং স্ত্রী দু’জনকেই দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করেন। আাসামীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এড.রবিউল ইসলাম।
৩১ বার এভারেস্টের চূড়ায়

৩১ বার এভারেস্টের চূড়ায় ‘এভারেস্ট ম্যান’ নামেও পরিচিত নেপালি শেরপা কামি রিতা নিজের রেকর্ড ভেঙে আবার নতুন রেকর্ড গড়লেন। তিনি এবার নিয়ে ৩১ বার মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। ৩১তম অভিযানে তিনি আজ মঙ্গলবার বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতচূড়া এভারেস্টের শীর্ষে পৌঁছান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ভারতীয় সেনা কর্মকর্তাদের একটি দলকে নিয়ে নেপালের ৫৫ বছর বয়সী এই শেরপা আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোর ৪ টায় ৮,৮৯৪ মিটার উচ্চতার মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন। অভিযানের আয়োজক সেভেন সামিট ট্রেকস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “কামি রিতা শেরপাকে কোনো পরিচয়ের প্রয়োজন নেই। তিনি কেবল একজন জাতীয় পর্বতারোহী নায়ক নন বরং এভারেস্টেরই একজন বিশ্বব্যাপী প্রতীক।” কামি রিতা ১৯৯৪ সালে একটি বাণিজ্যিক অভিযানের নেতৃত্ব দিয়ে প্রথম এভারেস্ট জয় করেছিলেন এবং তারপর থেকে প্রায় প্রতি বছরই তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ এই পর্বতচূড়া জয় করে চলেছেন। এমনকি একই বছরের মধ্যে দুইবার এভারেস্ট জয়ের রেকর্ডও রয়েছে তার। যেমন ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে দুবার করে এভারেস্টে আরোহণ করেছিলেন তিনি। এভারেস্ট রেকর্ডের জন্য তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন তার সহকর্মী নেপালি শেরপা পাসাং দাওয়া, যিনি ২৯ বার এভারেস্ট জয় করেছেন। গত সপ্তাহে পাসাং দাওয়া তার ২৯তম এভারেস্ট অভিযান সম্পন্ন করেন। কামি রিতা শেরপা গত বছর তার ৩০তম এভারেস্ট অভিযান শেষে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “রেকর্ডের জন্য আমি খুশি। আমি আরো খুশি যে, আমার আরোহণ নেপালকে বিশ্বে স্বীকৃতি দিতে সাহায্য করেছে।” ব্রিটিশ পর্বতারোহী কেন্টন কুল ১৯তমবারের মতো এভারেস্ট জয়ের এক সপ্তাহ পরে কামি রিতার এই কৃতিত্বের খবর এলো। কেন্টন কুল গত ১৮ মে ১৯তম বারের মতো এভারেস্ট জয় করেন। শেরপা নন এমন আরোহীদের মধ্যে এটি নতুন রেকর্ড। ৫১ বছর বয়সী ব্রিটিশ পর্বতারোহী কেন্টন কুল গত ১৮ মে সকাল ১১টায় নেপালি শেরপা দর্জি গ্যালজেনের সঙ্গে এভারেস্টের শীর্ষে পৌঁছান। এবারের মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ এবং তাদের গাইড (শেরপা) সফলভাবে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছেন। নেপালের পর্যটন বিভাগ জানিয়েছে, এ মৌসুমে এভারেস্ট ও অন্যান্য পর্বতে ১,০০০ জনেরও বেশি আরোহণের অনুমতিপত্র জারি করেছে নেপাল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এভারেস্ট আরোহণের প্রচেষ্টার সংখ্যা বেড়েছে। তবে এর ফলে অতিরিক্ত ভিড় ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত বছর, নেপাল কর্তৃপক্ষ একটি নিয়ম চালু করেছিল যাতে পর্বতারোহীদের তাদের নিজস্ব মল পরিষ্কার করতে হবে এবং তা বেস ক্যাম্পে ফিরিয়ে আনতে হবে।
নাচে-গানে রং ছড়ালেন আদর-পূজা

নাচে-গানে রং ছড়ালেন আদর-পূজা ঈদুল আজহায় মুক্তি পাবে আলোচিত সিনেমা ‘টগর’। তার আগে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটির শিরোনামে গান। প্রকাশের পরপরই দর্শক-শ্রোতাদের মনে দোলা দিয়েছে গানটির ছন্দ, রঙ আর প্রাণের উচ্ছ্বাস। রণক ইকরামের কথা এবং কামরুজ্জামান রাব্বি ও কর্ণিয়ার গাওয়া এই গানে মিশে আছে দেশীয় উৎসবের আমেজ। সুরের তালে তাল মিলিয়ে নির্মিত ভিডিওটি যেন বিশুদ্ধ ভিজ্যুয়াল ফিয়েস্তা। গানটির কোরিওগ্রাফি করেছেন হাবিব রহমান। তার দক্ষ পরিকল্পনায় পুরো দৃশ্যপট রূপ নিয়েছে নৃত্যনির্ভর এক জমকালো আয়োজনে। ভিডিওতে জুটি বেঁধে নাচের ঝড় তুলেছেন অভিনেতা আদর আজাদ ও পূজা চেরি। তাদের সঙ্গে পারফর্ম করেছেন ৭০ জনেরও বেশি পেশাদার নৃত্যশিল্পী, যারা পুরো গানজুড়ে ছড়িয়েছেন বর্ণিলতা ও প্রাণচাঞ্চল্য। আদর আজাদ বলেন, “এমন এনার্জি ভরা গানে পারফর্ম করা এক দারুণ অভিজ্ঞতা। পুরো টিমের টানটান পরিশ্রম আর নিখুঁত কোরিওগ্রাফির কারণেই এমন চোখজুড়ানো দৃশ্য দর্শকদের উপহার দেওয়া সম্ভব হয়েছে।”এ গানের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে পূজা চেরি বলেন, “১০০% দেশি’ আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম রঙিন কাজ। গানটি করতে গিয়ে এত আনন্দ পেয়েছি, যা দর্শকরাও সহজেই টের পাবেন। কাজটি আমার কাছে সত্যিই বিশেষ।” আলোক হাসান পরিচালিত ও এআর মুভি নেটওয়ার্কের প্রযোজনা ও পরিবেশনায় নির্মিত হয়েছে ‘টগর’। গানটির এই সাফল্য যেন সিনেমাটিকে আরো একধাপ এগিয়ে দিল ঈদুল আজহার রঙিন উৎসবের দিকে।
৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা পাচ্ছে বিপিএলের ফ্রাঞ্চাইজিরা

৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা পাচ্ছে বিপিএলের ফ্রাঞ্চাইজিরা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আগেই ঘোষণা দিয়েছিল বিপিএলের টিকিট বিক্রি থেকে আয়ের একটি অংশ দেওয়া হবে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে। গতকাল বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের মিটিংয়ে আয়ের ভাগ চূড়ান্ত করেছে সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে সাতটি দলকে ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে। প্লে-অফে ওঠা চার দলের জন্য বরাদ্দ ৫৫ লাখ টাকা করে, অন্য তিন দলের জন্য ৪৫ লাখ টাকা করে। তবে এই অর্থ প্রাপ্তির জন্য বিসিবি শর্ত জুড়ে দিয়েছে। তা হলো, যেসব দল খেলোয়াড়দের শতভাগ পাওনা পরিশোধ করেছে, তাদেরই দেওয়া হবে বিপিএলের টিকিট বিক্রি থেকে আয়ের এই অংশ। এছাড়া একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও যেসব ফ্র্যাঞ্চাইজি এখনো খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পরিশোধ করেনি, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে বিসিবি। সবশেষ বিপিএলে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। খেলোয়াড়দের চেক বাউন্স, অনুশীলন বয়কট, ম্যাচ না খেলার হুমকি, বিদেশীদের ম্যাচ বয়কট…কত কিছু হয়েছে। এতো কিছুর মাঝেও বিসিবি এবার ফ্রাঞ্চাইজিদের পাশে দাঁড়িয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ জানান, এবারের বিপিএলে টিকিট বিক্রি ও টিকিটের স্বত্ব বিক্রি মিলিয়ে মোট সোয়া ১৩ কোটি টাকার মতো আয় হয়েছে। সেখান থেকেই এবার ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে অর্থ বরাদ্দ দিল বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। ঈদুল আজহার আগেই এই টাকা দেওয়া হবে। তবে খেলোয়াড়েরা তাদের পারিশ্রমিক পেয়েছেন বলে প্রমাণ দেওয়ার পরই দলগুলো এই টাকা পাবে।
দেশজুড়ে বড় আন্দোলনের প্রস্তুতির নির্দেশ ইমরান খানের

দেশজুড়ে বড় আন্দোলনের প্রস্তুতির নির্দেশ ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার দলকে ‘পাকিস্তানজুড়ে বড় ধরনের আন্দোলন’ শুরুর প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। সোমবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তার বোন আলীমা খান। তিনি বলেন, “ইমরান খান বলেছেন, তার দলের এখন ইসলামাবাদের উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার পরিবর্তে দেশব্যাপী আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।” পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। আলীমা খান বলেন, “ইমরান খান বলেছেন- তারা (সরকার) যতই নির্যাতন করুক না কেন, তিনি কখনই দাসত্ব মেনে নেবেন না। মাথা নত করার চেয়ে তিনি সারাজীবন জেলে থাকতে পছন্দ করবেন।” আলেমা সংবাদিকদের জানান, ইমরান খান অভিযোগ করেছেন যে, তাকে একজন সাধারণ বন্দির ন্যূনতম অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে। গত আট মাসে, তাকে তার সন্তানদের সাথে মাত্র একবার কথা বলতে দেওয়া হয়েছে। আলিমা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের বোনদের তার সাথে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না, এমনকি আমরা যে বইগুলো পাঠাতে চাই তাও জেল প্রশাসন আটকে রেখেছে।” আলিমা আরো অভিযোগ করেন, ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তাকে পরীক্ষা করতে দেওয়া হচ্ছে না। আদালতের অবমাননার আবেদনের আদেশ সরকার অমান্য করছে। তিনি বলেন, “ইমরান খানকে চাপে রাখার জন্য তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তারপরও ইমরান বলেছেন, তিনি মাথা নত করবেন না।” আলিমা ভ্লগার ও ইউটিউবারদেরও সমালোচনা করেছেন যারা দাবি করেন যে, ইমরানের মুক্তির জন্য সরকারের সঙ্গে একটি গোপন সমঝোতা চুক্তি করেছে পিটিআই। আলিমা জানান, “দলের ভেতর বিশ্বাসঘাতকদের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে ইমরান বলেছেন, যারা উইকেটের দুই পাশে খেলে, তাদের জন্য দলে কোনো জায়গা নেই।” এদিকে, পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গোহর আলী খান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, আসন্ন ঈদুল আজহার আগেই দলের নেতা কারাবন্দী ইমরান খানকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে। সোমবার ইসলামাবাদ হাইকোর্টের (আইএইচসি) বাইরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় গোহর দলীয় কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সব আইনি বাঁধা শেষ হতে চলেছে। আমরা তার মুক্তির জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। আমরা বিক্ষোভ করেছি, সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছি ও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।” তিনি বলেন, “কর্মীদের প্রশ্ন তোলার পূর্ণ অধিকার আছে এবং আমরা তাদের আবেগকে মূল্য দিই। কেউ বুঝতে পারে না যে, ইমরান খান কীভাবে ও কেন দুই বছর ধরে কারাবন্দী রয়েছেন।” তিনি উল্লেখ করেন, “দলের ধৈর্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের জনগণ ক্লান্ত, এমনকি বিচারকরাও রায় লিখতে লিখতে ক্লান্ত। আমরা ইমরান খানের মামলাগুলো নিষ্পত্তি ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।” প্রসঙ্গত, ৭১ বছর বয়সি সাবেক ক্রিকেটার-রাজনীতিবিদ ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দী রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদ পর্যন্ত একাধিক মামলা রয়েছে, যা ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে অপসারণের পর থেকে শুরু হয়।
সালমান খুব বাজে অভিনেতা, কারিনার বক্তব্য ভাইরাল

সালমান খুব বাজে অভিনেতা, কারিনার বক্তব্য ভাইরাল সালমান খানের সময় ভালো যাচ্ছে না। বক্স অফিসে টানা ব্যর্থ তার সিনেমা। লরেন্স বিষ্ণোইয়ের হত্যার হুমকি। সবকিছু মিলিয়ে খারাপ সময় পার করছেন বলিউডের এই মোস্ট এলিজেবল ব্যাচেলর। এরই মধ্যে কারিনা কাপুর খানের একটি বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে নেট দুনিয়ায়। যেখানে কারিনা কাপুর বলেন— “সালমান খান একজন বাজে অভিনেতা।” বেশ আগে উমেশ জিবনানিকে সাক্ষাৎকার দেন কারিনা কাপুর খান। পুরোনো সেই সাক্ষাৎকার নতুন করে অন্তর্জালে ছড়িয়ে পড়েছে। আলাপচারিতার শুরুতে তিন খানের প্রসঙ্গ উঠে আসে। এরপরই কারিনা কাপুর খান বলেন, “আমি তাকে খুবই ভালোবাসি। তার বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞাসা করবেন না। কারণ আমি যদি শুরু করি, তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যাবে তবু শেষ হবে না। অমিতাভ বচ্চন এবং শাহরুখ খান এই দুই অভিনেতার ভক্ত আমি।” বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট আমির খান প্রসঙ্গে কারিনা কাপুর খান বলেন, “আমিরও ভালো। ‘হাম হ্যায় রাহি প্যায়ার কে’, ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ সিনেমায় তাকে আমার ভালো লেগেছিল। তবে সব খানদের মধ্যে আমি শাহরুখের ভক্ত।” সালমান খান প্রসঙ্গে কারিনা কাপুর খান বলেন, “আমি সালমান খানের ভক্ত নই। আমি তাকে পছন্দ করি না। সে খুব বাজে অভিনেতা। আমি তাকে ব্যাপারটি বলেছিও। সে সবসময় অতিরঞ্জিত করে।” বলিউডের তিন খানের সঙ্গে অনেক সিনেমায় অভিনয় করেছেন কারিনা কাপুর। তবে সবচেয়ে বেশি জুটি বেঁধেছেন সালমান খানের সঙ্গে। আলোচিত ‘বডিগার্ড’ সিনেমা থেকে শুরু করে ‘কিউ কি’, ‘ম্যায় আউর মিসেস খান্না’-এরে মতো সিনেমায় জুটি বেঁধেছেন সালমান-কারিনা। দর্শকরা এ জুটির রসায়ন পছন্দও করেছেন। তারপর কারিনার কেন ভালো লাগেনি তা এক রহস্য!
রূপান্তরের আভাস দিয়ে আনচেলোত্তির ব্রাজিল দল ঘোষণা

রূপান্তরের আভাস দিয়ে আনচেলোত্তির ব্রাজিল দল ঘোষণা বিশ্বকাপের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, এবার ব্রাজিল দলের হাল ধরেছেন এক ইউরোপীয় ঘরানার মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলোত্তি। জুনের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচগুলো সামনে রেখে তার ঘোষিত প্রথম স্কোয়াড দেখেই বোঝা যাচ্ছে, এই ইতালীয় কোচ বড় ধরনের কৌশলগত রূপান্তরের দিকে হাঁটছেন। ব্রাজিলের ২৬ সদস্যের এই দল দেখলেই চোখে পড়ে কিছু নতুন নাম, কিছু চেনা মুখের অনুপস্থিতি। সবচেয়ে বড় কথা, এই তালিকায় নেই চোট থেকে ফেরা নেইমার। এ নিয়ে জল্পনা থাকলেও আনচেলোত্তি পরিষ্কার করেছেন, ‘‘নেইমারের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে, সে সেরে উঠলে ফিরে আসবে।’’ নেইমারের অনুপস্থিতি একদিকে যতটা বিস্ময়, রদ্রিগোর বিশ্রাম ঠিক ততটাই কৌশলগত। ক্লান্ত রদ্রিগোকে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্তটা এসেছে কোচ ও খেলোয়াড়—দুজনের বোঝাপড়ায়। তবে হতাশার ভিড়ে আশার আলোও আছে। মিডফিল্ডে ফিরেছেন কাসেমিরো, যিনি দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন। পাশাপাশি দলে জায়গা করে নিয়েছেন বেশ কিছু উদীয়মান প্রতিভা, যাদের মধ্যে পালমেইরাসের এস্তেভাও অন্যতম চমক। আক্রমণভাগে থাকছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রিচার্লিসন ও মার্তিনেল্লির মতো পরিচিত নাম। উইং থেকে জ্বলে উঠতে পারেন অ্যান্টনি ও রাফিনিয়া। গোলবারে আছেন লিভারপুলের আলিসন, অভিজ্ঞ ও নির্ভরতার প্রতীক হয়ে। ডিফেন্সে ভরসা মারকিনিয়োস, বেরালদো ও ওয়েসলির উপর। ব্রাজিল আগামী ৫ জুন খেলবে ইকুয়েডরের মাঠে। এরপর ১০ জুন নিজভূমে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা। দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আপাতত ১৪ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে ব্রাজিল অবস্থান করছে চতুর্থ স্থানে। শীর্ষ ছয় দল সরাসরি যাবে বিশ্বকাপে, আর সপ্তম স্থানের দল পাবে প্লে-অফের সুযোগ। সুতরাং, প্রতিটি পয়েন্ট এখন স্বর্ণমূল্য! এখন প্রশ্ন হলো, এই রূপান্তরাত্মক স্কোয়াড কি ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে নতুন চেহারায় দেখতে দেবে? আনচেলোত্তির এই ভিন্নধর্মী সিদ্ধান্ত কি সঠিক পথে এগোচ্ছে? না কি বড় কিছু চাওয়া-পাওয়ার মাঝপথে হারিয়ে যাবে ব্রাজিলের ঐতিহ্য? উত্তর মিলবে মাঠে। ২৬ সদস্যের ব্রাজিল দল: গোলরক্ষক: আলিসন (লিভারপুল), বেন্তো (আল নাসর) ও উগো সুজা (করিন্থিয়ানস)। ডিফেন্ডার: আলেক্স সান্দ্রো, দানিলো, লিও ওরতিজ ও ওয়েসলি (সব ফ্ল্যামেঙ্গো), বেরালদো ও মারকিনিয়োস (পিএসজি), আলেক্সসান্দ্রো (লিল), কার্লোস আলগুস্তো (ইন্টার মিলান) ও ভ্যান্ডারসন (মোনাকো)। মিডফিল্ডার: আন্দ্রেয়াস পেরেইরা (ফুলহাম), ব্রুনো গিমারাইস (নিউক্যাসল), আন্দ্রেই সান্তোস (স্ত্রাসবুর্গ), কাসেমিরো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), এদেরসন (আতালান্তা) ও গেরসন (ফ্ল্যামেঙ্গো)। ফরোয়ার্ড: এস্তেভাও (পালমেইরাস), অ্যান্টনি (বেতিস), গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি (আর্সেনাল), মাতেউস কুনিয়া (উলভস), ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ), রাফিনিয়া (বার্সেলোনা) ও রিচার্লিসন (টটেনহাম)।
সচিবালয়ে আন্দোলনরত কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসছে সরকার

সচিবালয়ে আন্দোলনরত কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসছে সরকার সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ বাতিলের দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ করছেন সচিবালয়ের কর্মচারীরা। এই উত্তাল পরিস্থিতিতে সরকার আজ মঙ্গলবার দুপুরে আন্দোলনরত কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসছে। একইসঙ্গে অধ্যাদেশটি পর্যালোচনার জন্য ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব শেখ আবু তাহেরকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিতে সরকারের সাতজন গুরুত্বপূর্ণ সচিব এবং আন্দোলনরত কর্মচারীদের পক্ষ থেকে তিনজন প্রতিনিধি রাখা হবে। সকালে সচিবালয়ে এক জরুরি বৈঠক করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ, যেখানে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকেই অধ্যাদেশটি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সূত্র জানায়, সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতার পথ খুঁজে বের করতে চাচ্ছে। এদিকে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ আজ দুপুর আড়াইটায় আন্দোলনরত কর্মচারী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বৈঠকে আরও সাতজন সচিবের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের একাংশের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘‘ভূমি সচিবের ডাকে আমরা বৈঠকে যাচ্ছি। ফলাফল দেখে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করব। আন্দোলন অব্যাহত থাকবে কি না সেটা তখন জানাবো।’’ অন্যদিকে সংযুক্ত পরিষদের আরেক অংশের সভাপতি মো. বাদিউল কবীর বলেন, ‘‘যদি আলোচনায় কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি হয়, তাহলে আমরা আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করতে পারি।’’ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সচিবালয়ের সব সংগঠন একত্রিত হয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। ‘অধ্যাদেশ বাতিল করো’, ‘সরকারি কর্মচারীদের অপমান চলবে না’ স্লোগানে মুখর ছিল সচিবালয় এলাকা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সচিবালয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। সচিবালয়ে প্রবেশে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও, দুপুর ১টা পর্যন্ত সাংবাদিকরাও ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। যদিও সাংবাদিক প্রবেশে আনুষ্ঠানিক কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না।