আজ পবিত্র হজ, লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর আরাফাতের ময়দান

আজ পবিত্র হজ, লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর আরাফাতের ময়দান আজ (বৃহস্পতিবার, ৫ জুন) পবিত্র হজ। ভোর থেকে দলে দলে হজযাত্রীরা মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে হাজির হচ্ছেন। আরাফাতের ময়দান মুখর হয়ে উঠেছে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এ ময়দানে অবস্থান করবেন বিশ্বের দেড় শতাধিক দেশ থেকে আসা লাখ লাখ মুসলমান। আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। বুধবার (৪ জুন) মিনায় অবস্থান করেছেন হজযাত্রীরা। সেলাইবিহীন দুই টুকরা সাদা কাপড় পরে হজের নিয়ত করে তারা মক্কা থেকে মিনায় যান। মিনায় নিজ নিজ তাঁবুর মধ্যে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত করেন। আজ ফজরের নামাজ আদায় করেই তারা আরাফাতের ময়দানে যেতে শুরু করেন। লাখো কণ্ঠে আরাফাতের ময়দানে ধ্বনিত হচ্ছে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক। ’ অর্থাৎ আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার। পবিত্র হজ মহান আল্লাহর একটি বিশেষ বিধান। হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান সব মুসলমান পুরুষ ও নারীর ওপর হজ ফরজ। আরাফাতের ময়দান মক্কা থেকে ২২ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। এটি দৈর্ঘ্যে দুই কিলোমিটার, প্রস্থেও দুই কিলোমিটার। এ ময়দানের তিন দিক পাহাড়বেষ্টিত। আরাফাতে রয়েছে জাবালে রহমত বা রহমতের পাহাড়। এ ময়দানে উপস্থিত হজযাত্রীদের উদ্দেশে খুতবা দেওয়া সুন্নত। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এখানকার মসজিদে নামিরা থেকে বিখ্যাত বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। আরাফাতে অবস্থান হজের শ্রেষ্ঠ রুকন। কারণ আরাফাতের ময়দান যেন বিশ্ব সম্মিলন। লাখ লাখ হাজির এ ময়দানে মুসলিমদের একতার ইঙ্গিত বহন করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে এ নামাজ আদায় করেছে আর এর আগে আরাফায় অবস্থান করেছে দিনে বা রাতে, তার হজ পূর্ণ হয়েছে এবং সে তার ইহরাম শেষ করেছে। (সুনানে নাসায়ি) আরাফাতের ময়দান থেকে মুসলিমদের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও শান্তির বার্তা সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। মহান আল্লাহ আরাফাতের দিন ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে ঘোষণা দেন। পবিত্র কোরআনে এসেছে, আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত পরিপূর্ণ করলাম এবং ইসলাম তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম। (সুরা: মায়েদা, আয়াত: ৩) আজ মসজিদে নামিরা থেকে খুতবা দেবেন পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. সালেহ বিন হুমাইদ। স্থানীয় সময় দুপুর ১২:১০ মিনিটে মানারাতুল হারামাইন (manaratal haramain) ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে তা সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। এদিকে কয়েক বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় এ খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার করা হচ্ছে। বিগত কয়েক বছরের মতো এবার বাংলাসহ ৩৪টি ভাষায় আরাফাতের খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার করা হবে। এ বছর ষষ্ঠবারের মতো বাংলা ভাষায় হজের খুতবা অনুবাদ করা হচ্ছে। এবার খুতবার বাংলা অনুবাদ উপস্থাপন করবেন ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান। হজের অংশ হিসেবে জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ এ পাঁচদিনে মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা ও মক্কায় অবস্থান করে হজযাত্রীরা হজের কার্যক্রম পালন করবেন। এর মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার (সৌদি আরবে ০৯ জিলহজ) আরাফাতের ময়দানে জোহর ও আসর নামাজ একসঙ্গে পড়া হবে। এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া-মোনাজাতে মগ্ন থাকবেন। সূর্যাস্তের পর সবাই আরাফাত থেকে ৯ কিলোমিটার দূরত্বে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে একসঙ্গে মাগরিব ও এশার নামাজ পড়ে রাত্রিযাপন করবেন। শয়তানকে পাথর মারার জন্য মুজদালিফা থেকে তারা পাথর সংগ্রহ করবেন। পরদিন রোববার (১০ জিলহজ) মিনায় জামারায় (জামারা হল হজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ—এটি মিনায় অবস্থিত তিনটি নির্দিষ্ট পাথরের স্তম্ভ, যেগুলোকে প্রতীক হিসেবে ধরা হয় শয়তানের। হজের সময় হাজিরা এ তিনটি জামারায় ছোট ছোট পাথর নিক্ষেপ করেন, যা শয়তানকে প্রতীকীভাবে প্রত্যাখ্যান করার অংশ হিসেবে পালন করা হয়। তিনটি জামারা হলো: ছোট জামারা, মধ্যম জামারা, ও বড় জামারা) গিয়ে বড় শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করা হবে। এরপর কোরবানি করে মাথা ন্যাড়া করবেন হাজিরা। তখন ইহরামের কাপড় বদলে স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ সাতবার তাওয়াফ করবেন। কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় সাঈ (সাতবার দৌড়ানো) করবেন। সেখান থেকে অনেকে আবার মিনার তাঁবুতে ফিরে যাবেন, অনেকে মক্কার বিভিন্ন হোটেলে থাকবেন। তবে যেখানেই হাজিরা থাকুন না কেন সেখান থেকে তারা দুই দিন বা তিন দিনের (১১ থেকে ১২ বা ১৩ জিলহজ) মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাকি দুই শয়তানকে (মধ্যম ও ছোট) সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। এরপর মক্কায় বিদায়ি তাওয়াফ করে হজের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত-নিহতদের পরিবারের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত-নিহতদের পরিবারের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও নিহতদের পরিবারের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে তাদের মধ্যে এই উপহার বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদের সভাপতিত্ব বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আফাজ উদ্দিন, সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মো. আব্দুর রাহিমসহ আরো অনেকে। অনুষ্ঠানে ২০ জনকে অর্থ ও ঈদ উপহার এবং ৮ জনকে স্বাস্থ্যকার্ড প্রদান করা হয়। জেলা পরিষদের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন এই ঈদ উপহার বিতরণের আয়োজন করে।
১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৬০ হাজার ৫২১ জন

১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৬০ হাজার ৫২১ জন ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এতে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬০ হাজার ৫২১ জন প্রার্থী। বুধবার (৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ফল প্রকাশ করা হয়। এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মাদ মফিজুর রহমানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বছরের ১২ ও ১৩ জুলাই ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৮৩ হাজার ৮৬৫ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। তাদের মধ্যে ৮১ হাজার ২০৯ জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মধ্যে চূড়ান্তভাবে ৬০ হাজার ৫২১ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। ফল জানা যাবে যেভাবে ফল প্রকাশের পর তা প্রার্থীদের মোবাইল ফোনের নিবন্ধিত নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে তা জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে এনটিআরসিএ। ধারাবাহিকভাবে সবাই এসএমএস পাবেন। এছাড়া প্রার্থীরা এনটিআরসিএর ওয়েবসাইট http://ntrca.gov.bd এবং টেলিটক লিমিটেডের ওয়েবসাইট http://ntrca.teletalk.com.bd থেকে পরীক্ষার ফল ও ব্যাচ নম্বর দিয়ে ফলাফল জানতে পারবেন। জানা যায়, ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। এ পরীক্ষায় অংশ নিতে রেকর্ড প্রায় ১৯ লাখ প্রার্থী আবেদন করেন। ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ এ নিবন্ধনের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। এতে ৮৩ হাজার ৮৬৫ জন উত্তীর্ণ হন। তাদেরকে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে অস্ত্র-গুলিসহ মদ্যপ বিএসএফ সদস্যকে আটকের পর বিএসএফ’র নিকট হস্তান্তর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে অস্ত্র-গুলিসহ মদ্যপ বিএসএফ সদস্যকে আটকের পর বিএসএফ’র নিকট হস্তান্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলা সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্ত্র,গোলা-বারুদসহ মদ্যপ অবস্থায় ভারতীয় সীামান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ এর এক সদস্যকে আটকের পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি সদস্যদের হাতে সোপর্দ করেছে গ্রামবাসী। পরে তাঁকে কোম্পানী কামন্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ’র নিকট হস্তান্তর করেছে বিজিবি। পতাকা বৈঠকে বিএসএফ সদস্যের অস্ত্র-গোলাবারুদসহ মদ্যপ অবস্থায় বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের কড়া প্রতিবাদ জাননো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। স্থানীয় ও বিজিবি সূত্র জানায়, আজ সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নারায়নপুন ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সাতরশিয়া গ্রামে পোষাকধারী একজন বিএসএফ সদস্যকে একটি ৫.৫ এম.এম রাইফেলসহ প্রথমে আটক করে গ্রামবাসী। আটকের পর তাঁকে একটি কলাগাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়। সকাল ৭টার দিকে ৫৩বিজিবির জোহরপুর বিওপি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই বিএসএফ সদস্যকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। সিনিয়র কনস্টেবল গনেশ মুতির্ (৪৩) নামের ওই বিএসএফ সদস্য তারকাঁটাবিহীন সীমান্তে গবাদিপশুর পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে সীমান্তের শুণ্য লাইন অতিক্রম করে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি। বিজিবি জানায়, মেইন আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১৯/৭ এস এর নিকট ঘটনাটি ঘটে। ওই বিএসএফ সদস্য ৭১ ব্এিসএফ ব্যাটালিয়নের নূরপুর ক্যাম্পে কর্মরত। ৫৩ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যন্ট কর্নেল ফাহাদ মাহমুদ রিংকু ্এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, সকাল সাড়ে ১১টায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিধি মোতাবেক বিএসএফ’র ওই জওয়ানকে নিরাপদে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই জওয়ান বাংলাদেশের প্রায় ২শত থেকে ৩শত গজ অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিল বলেও জানান অধিনায়ক। ওই বিএসএফ সদস্য যে অবস্থায় যেভাবে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছিল তাতে সে যে কোন অঘটন ঘটাতে পারত বলেও মত প্রকাশ করেন অধিনায়ক। নারায়নপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন বলেন,সীমান্তে শুণ্যরেখার পাশে এখন এমনকি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রনাধীন এলাকাতেও গরু-ছাগল চরতে যায় না স্থানীয়রা। কখনও গেলেও বিএসএফ মাঝে মাঝে তাড়া করে। ২ নং ওয়ার্ড সদস্য রমজান আলী বলেন, ওই বিএসএফ সদস্য মদ্যপ, ক্ষিপ্ত অবস্থায় গালি দিতে দিতে বাংলাদেশের প্রায় আড়াইশ গজ ভেতরে ঢুকে পড়লে গ্রামবাসী ও মাঠে অবস্থানরত রাখালরা তাঁকে আটক করে। তাঁর মতিগতি ভাল ছিল না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়েছে যে, সে গুলি চালাতেও প্রস্তুত ছিল।
ত্রাণ সংগ্রহকারীদের মাথা ও বুক লক্ষ্য করে গুলি করছে ইসরায়েলি বাহিনী

ত্রাণ সংগ্রহকারীদের মাথা ও বুক লক্ষ্য করে গুলি করছে ইসরায়েলি বাহিনী ত্রাণ বিতরণের নামে গাজার বেসামরিক নাগরিকদের পাখির মতো গুলি করে মারছে ইসরায়েলি বাহিনী। ত্রাণ সংগ্রহ করতে যাওয়া ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্টভাবে মাথা ও বুক লক্ষ্য করে গুলি করা হচ্ছে। মঙ্গলবার আল-জাজিরা অনলাইন এ তথ্য জানিয়েছে। বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলগুলো ফিলিস্তিনিদের জন্য খাবার বিতরণ কেন্দ্রগুলোকে মৃত্যুর ফাঁদ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইসরায়েলি বাহিনী রাফার পশ্চিমাঞ্চলে এই বিতরণ কেন্দ্রগুলো স্থাপন করেছিল। এই এলাকাটি একটি নিরাপদ মানবিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ইসরায়েলি বাহিনী কেবল খাবারের জন্য সেখানে যাওয়া হাজার হাজার ফিলিস্তিনিদের উপর গুলি চালিয়েছে। এমন ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা হয়েছে যারা খাবারের প্যাকেট ধরে রেখেছিলেন। এমনকি নিজের সন্তানদের এবং পরিবারের সদস্যদের খাওয়ানোর চেষ্টা করার সময় একজন নারীকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। আহতদের অনেকেই এখনো হাসপাতালে রয়েছেন। তারা আইসিইউতে রয়েছেন। কারণ ইসরায়েলি বাহিনী মূলত মাথা, বুক এবং শরীরের উপরের অংশগুলো লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের বেশিরভাগের অবস্থা খুবই গুরুতর। এরমধ্যে আবার অধিকাংশ হাসাপাতালই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, এই বিতরণ কেন্দ্রগুলো স্থাপনের পর থেকে কমপক্ষে ১০২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪৬০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
ট্রাম্পের ‘সুন্দর’ বাজেট বিলকে ‘জঘন্য’ বললেন মাস্ক

ট্রাম্পের ‘সুন্দর’ বাজেট বিলকে ‘জঘন্য’ বললেন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর ও ব্যয় বিলের তীব্র সমালোচনা করেছেন শীর্ষ মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। ট্রাম্পের ‘সুন্দর’ দাবি করা বাজেট বিলটিকে তিনি ‘জঘন্য’ বলে বর্ণনা করেছেন। এ ঘটনা দুই মিত্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিরোধের সৃষ্টি করেছে। বুধবার (৪ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। নতুন বিলে বহু ট্রিলিয়ন ডলারের কর ছাড় ও প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং একই সাথে মার্কিন সরকারকে আরো অর্থ ধার করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। বিলটি গত মাসে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে মাস্ক বলেন, ‘যারা এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন তাদের জন্য লজ্জা। এই বিল যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর অসহনীয় ঋণের বোঝা চাপাবে।’ মাস্ক কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প প্রশাসনের “ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি বা (ডিওজিই)- এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব শেষ করেছেন। ওই দপ্তরে তার কাজ ছিল সরকারি খরচ কমানো ও ‘অপ্রয়োজনীয়’ খাত চিহ্নিত করে সেগুলো বাতিল করা। মাস্ক তার পোস্টে বলেন, ‘আমি দুঃখিত, কিন্তু আমি আর সহ্য করতে পারছি না। এই বিশাল শুয়োরের মাংসে ভরা কংগ্রেসীয় বিলটি জঘন্য ন্যক্কারজনক। যারা এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন, আপনারা জানেন যে আপনারা ভুল করেছেন। বিলটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে এবং এর ফলে দেশের নাগরিকরা ভয়াবহ ঋণের চাপে পড়বে।’ আমেরিকান রাজনীতিতে “শুয়োরের মাংস” বলতে আইন প্রণেতাদের নির্বাচনী এলাকায় প্রকল্পে ব্যয় বোঝায়। মাস্ক অন্য একটি পোস্টে একটি রাজনৈতিক সতর্কতা যোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আগামী বছরের নভেম্বরে, আমরা আমেরিকান জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতাকারী সমস্ত রাজনীতিবিদকে বরখাস্ত করব।’ “ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল” নামে পরিচিত এই বাজেট প্রস্তাবটি ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উদ্যোগ। বিলে রয়েছে ২০১৭ সালের করছাড় অব্যাহত রাখা, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য ৪৬.৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ, জাতীয় ঋণের সীমা ৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়ানো। তবে এসব খরচের ভার সামলাতে গিয়ে বিলটি সামাজিক নিরাপত্তা খাতে কড়া কাটছাঁট করার প্রস্তাব দিয়েছে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও) বলছে, এর ফলে মেডিকেইডে ৬৯৮ বিলিয়ন ডলার কমানো হবে, খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচি (এসএনএপি) থেকেও কমিয়ে দেয়া হবে ২৬৭ বিলিয়ন ডলার। এদিকে, মাস্কের সমালোচনার জবাব দিয়েছে হোয়াইট হাউজ। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট সাংবাদিকদের বলেন, “প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যেই জানেন যে, এই বিলের ব্যাপারে ইলন মাস্ক কী অবস্থান নিয়েছেন। তবে, মাস্কের এই মন্তব্য তার মতামত পরিবর্তন করে না। প্রেসিডেন্টের মতে, এটি একটি বড় এবং সুন্দর বিল। প্রেসিডেন্ট এই ক্ষেত্রে অটল আছেন।”
সন্ধ্যা ৬টায় ডিনার, সাড়ে ৯টায় ঘুম, কারিনার অন্যরকম জীবন

সন্ধ্যা ৬টায় ডিনার, সাড়ে ৯টায় ঘুম, কারিনার অন্যরকম জীবন বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খান ব্যক্তিগত জীবনে সাইফ আলী খানের সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন। সংসার আলো করে জন্ম নিয়েছে দুই পুত্রসন্তান। স্বামী-সন্তান নিয়েই অধিক ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে ৪৪ বছর বয়সি কারিনার জীবনযাপন পুরোপুরি বদলে গেছে। বন্ধু-সহকর্মীদের সঙ্গে আড্ডা-পার্টিকে ‘না’ বলতে শিখেছেন। কোভিডের অভিজ্ঞতা তার জীবনে এই পরিবর্তন এনে দিয়েছে। নড ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে কথা বলেছেন কারিনা কাপুর খান। খাবার খাওয়া, ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার রুটিন বর্ণনা করে ‘ক্রু’ তারকা বলেন, “সন্ধ্যা ৬টায় রাতের খাবার খাই। রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে লাইট বন্ধ হয়। পৃথিবীর ঘুম ভাঙার আগে উঠে ওয়ার্কআউট করি।” পার্টিতে যান না কারিনা কাপুর খান। এ তথ্য উল্লেখ করে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমার বন্ধুরা আমাকে পার্টিতে আশা করে না। তারা এটাকে সম্মান করে।” এভাবে জীবনযাপন করার কারণ ব্যাখ্যা করে কারিনা কাপুর খান বলেন, “আমি যদি ওয়ার্কআউট না করি, তাহলে আমার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। কোভিডের পর বুঝতে পেরেছি ফিটনেস কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এটা অহংকারের জন্য নয় বরং সুস্থতার জন্য। এটি আমার মেজাজ স্থিতিশীলকারী, আমার নোঙর।” বাড়িতে সবাই মিলে রান্না করেন কারিনা। তা জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, “পরিবারের সদস্যরা মিলে রান্না করতে খুব ভালোবাসি। সাইফ, বাচ্চারা, আমি— রান্না ঘরেই থাকি। সাইফ কেরালা খাবারের ভক্ত। সে সবসময় নতুন রেসিপি রান্নার চেষ্টা করে। যেমন: ইডিয়াপাম, নারিকেল দিয়ে তৈরি স্টু ইত্যাদি। আমার প্রতিদিন একটি ভারতীয় খাবার দরকার।” অভিনেত্রী অমৃতা সিংয়ের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর কারিনা কাপুরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান সাইফ আলী খান। ২০০৭ সালে ‘টশান’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় পরস্পরের প্রেমে পড়েন তারা। এরপর দীর্ঘ পাঁচ বছর লিভ-ইন করেন এই জুটি। ২০১২ সালে বিয়ে করেন সাইফ-কারিনা। ২০১৬ সালে জন্ম নেয় এ দম্পতির প্রথম সন্তান তৈমুর আলী খান। ২০২১ সালের ২১ ফ্রেব্রুয়ারি এ জুটির সংসার আলো করে জন্ম নেয় দ্বিতীয় পুত্র সন্তান। কারিনা কাপুর খান অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘সিংহম এগেন’। গত বছরের ১ নভেম্বর মুক্তি পায় এটি। বর্তমানে তার হাতে রয়েছে ‘ডায়রা’ সিনেমার কাজ। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন মালায়ালাম সিনেমার অভিনেতা-নির্মাতা পৃথ্বীরাজ সুকুমারন। এটি পরিচালনা করছেন মেঘনা গুলজার। তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
শাকিব-নিশোর কাঁধে কাঁধ, জয় বললেন ‘ব্যবসায়ীদের হাতের পুতুল’

শাকিব-নিশোর কাঁধে কাঁধ, জয় বললেন ‘ব্যবসায়ীদের হাতের পুতুল’ বড় পর্দায় আফরান নিশোর অভিষেকের পর থেকেই শাকিব খানের সঙ্গে নানা সময়ে খোঁচাখুঁচি কথাবার্তা নিয়ে উঠে আসেন আলোচনায়। মিডিয়াপাড়ায় জোর গুঞ্জন, শাকিবের সঙ্গে নিশোর সম্পর্ক মোটেও ভালো নয়। এ নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে নানা সময়ে তুলনামূলক মন্তব্য করে উত্তাল করে রাখেন দুই তারকার ভক্তরা। সম্প্রতি জমকালো এক অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে মজার ছলে একই গানে কোমর দুলিয়ে অবাক করে দেন শাকিব-নিশো। কেউ কেউ ভাবছেন দুজনের মধ্যকার বরফ গলছে। তারপরও কিছু সংখ্যক ভক্ত নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে নারাজ। তবে মঙ্গলবার (০৩ জুন) সন্ধ্যায় সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হয়। এদিন নির্মাতা রায়হান রাফীর সামাজিকমাধ্যমের পোস্টে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নজরে আসেন শাকিব ও নিশো। এতেই স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়, শাকিব খান অভিনীত ‘তাণ্ডব’ সিনেমায় গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্সে থাকছেন আফরান নিশো। রাফীর সেই ছবিটি নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করেছেন আলোচিত উপস্থাপক এবং অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়। এর ক্যাপশনে জয় লেখেন, ‘মনোমালিন্যের অবসান হয় না রে পাগল। সবই ব্যবসায়ীদের হাতের পুতুল। যেমনি নাচাও তেমনি নাচে পুতুলের কি দোষ? যে ভক্তরা গত দুই বছর ধরে যুদ্ধ করল- ওদেরও মিলায়ে দেন। অথবা এরপর বলে দেবেন ভক্তরা যেন মাতামাতি না করে। কারণ দিনশেষে অঙ্কটা আপনারাই মিলান। মাঝে ঝগড়া, বিবাদ, ফ্যাসাদ। রায়হান রাফী এবং শাকিব খান জুটির সিনেমা এমনিতেই ব্লকবাস্টার হবে। নিশো তাণ্ডবকে এক্সট্রা মাইলেজ দেবে নিঃসন্দেহে। ’ শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে নিশোর একক নায়ক হিসেবে করা সিনেমাগুলো রিস্কে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন জয়। এ ধরনের বিস্ফোরক মন্তব্যের প্রতিবাদে সামাজিকমাধ্যমে বেশ সমালোচিত হচ্ছেন তিনি। মন্তব্য ঘরে এক ভক্ত লেখেন, ‘জয় ভাই, আপনি হচ্ছেন একজন হিপোক্রেট এবং হিংসাত্মক মনোভাবাপন্ন মানুষ!’ প্রসঙ্গত, রায়হান রাফী পরিচালিত শাকিব খানের ‘তাণ্ডব’ সিনেমাতে নিশোর উপস্থিতি সিনেভক্তদের মনে কতটা ‘তাণ্ডব’ ঘটায় তা সময়ই বলে দেবে। সিনেমাটিতে শাকিবের বিপরীতে থাকছেন সাবিলা নূর। এ ছাড়াও সিনেমাটির বিশেষ চরিত্রে হাজির হবেন দুই বাংলার নন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসান। আরও থাকছেন এফএস নাঈম, আফজাল হোসেন, রোজি সিদ্দিকীসহ অনেকে।
ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস আজ, কাল থেকে শুরু ১০ দিনের ছুটি

ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস আজ, কাল থেকে শুরু ১০ দিনের ছুটি ঈদুল আজহার আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শেষ কর্মদিবস বুধবার (৪ জুন)। বৃহস্পতিবার (৫ জুন) থেকে শুরু হচ্ছে টানা ১০ দিনের ছুটি। শেষ কর্মদিবসে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়সহ সরকারি দপ্তরগুলো স্বাভাবিক। অন্যান্য দিনের মধ্যেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিস করছেন। উপস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আগামী ৭ জুন দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। বুধবার সকাল থেকে সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাভাবিক উপস্থিতি দেখা গেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখা গেছে অন্যান্য দিনের মধ্যেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করছেন। উপস্থিতি স্বাভাবিক। সচিবালয়ের গাড়ি রাখার স্থানগুলোও অন্যান্য দিনের মতো গাড়িতে পূর্ণ ছিল। ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস হওয়ায় অনেকেই সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা বিনিময় করে নিচ্ছেন। লিফট চালকদের কর্মকর্তা ও সচিবালয়ে আসা অতিথিদের কাছ থেকে ঈদের বকশিশ আদায়ের তৎপর দেখা গেছে। এক নম্বর ওই দুই নম্বর গেইটের মাঝখানে অতিথি অভ্যর্থনা কক্ষে অন্যান্য দিনের মতোই সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য দর্শনার্থীদের আনাগোনা দেখা গেছে। গ্রামের বাড়িতে থাকা প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে সাধারণত ঈদের ছুটিতে রেল, সড়ক ও নৌপথে অসংখ্য মানুষ রাজধানী ছাড়েন। যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দূর-দূরান্তে ঈদ উদযাপন করবেন তাদের কেউ কেউ বুধবার অফিস করেই কর্মস্থল ত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ জুন (বুধ ও বৃহস্পতিবার) নির্বাহী আদেশের ছুটি ঘোষণা করে এরইমধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে এবার ঈদুল আজহায় ৫ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত টানা ১০ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রথমবারের মতো টানা ১০ দিনের ছুটি দিতে এরইমধ্যে গত ১৭ ও ২৪ মে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস খোলা রেখেছিল সরকার।
‘আমার হৃদয় বেঙ্গালুরুর সঙ্গে, আইপিএল জেতা অবিশ্বাস্য অনুভূতি’

‘আমার হৃদয় বেঙ্গালুরুর সঙ্গে, আইপিএল জেতা অবিশ্বাস্য অনুভূতি’ অযুত-নিযুত ঘামবিন্দু ঝরিয়ে, নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে গড়ে, সামর্থ্যের সবটুকু নিংড়ে দিয়েও অরাধ্য শিরোপা পাওয়া হচ্ছিল না। তিন তিনবার খুব কাছে গিয়েও শূন্য হাতে ফিরে আসতে হয়েছিল। শৈশবে যে স্বপ্ন দেখা শুরু হয়েছিল কৈশোরে তা পূরণ হতে হতেও হয়নি। অবশেষে যৌবনে দেখা মিলল সাফল্য চূড়া। বিরাট কোহলি পেলেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা। তার দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুও পেল শিরোপার স্বাদ। বেঙ্গালুরু ও বিরাট মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ২০০৮ সাল থেকে সমান্তরাল পথে চলছে দুজনের মিশন। গন্তব্য একটাই, আইপিএল শিরোপা। আগের ১৭ আসরে হয়নি। ১৮ বসন্তে মিলল দেখা। তাইতো ম্যাচ শেষে হওয়ার আগেই বিরাটের চোখে জল। শেষ হতে হতে নিজেকে আটকে রাখতে পারেন না। আবেগে ভাসলেন। কাঁদলেন। অনুভূতি প্রকাশ করলেন এই শিরোপার ওজনটা আসলেও কত বড় তার কাছে। ম্যাথু হেডেনকে দেয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিরাট বলেছেন, ‘‘এ জয় দলের জন্য যতটা, সমর্থকদের জন্য ততটাই। দীর্ঘ ১৮ বছর কেটে গেল। এই দলকে আমি নিজের যৌবন, নিজের সেরা সময় ও অভিজ্ঞতা বিলিয়ে দিয়েছি। প্রতি মৌসুমে এটা (আইপিএল ট্রফি) জেতার চেষ্টা করেছি, নিজের সর্বস্ব নিংড়ে দিয়েছি। এ মুহূর্তের দেখা পাওয়া আমার কাছে অবিশ্বাস্য অনুভূতি।’’ ‘‘এই দিনটির দেখা পাব কখনো ভাবিনি। শেষ বলটি হওয়ার পরই আবেগ ভর করেছে। এটা আমার কাছে অনেক কিছু। দলটির জন্য আমি নিজের প্রতি আউন্স শক্তির সঞ্চার করেছি। শেষ পর্যন্ত এটা জিততে পারা অসাধারণ ব্যাপার।’’ – বলতে থাকেন বিরাট। বেঙ্গালুরু তার কাছে শুধু একটি দল কিংবা ফ্রাঞ্চাইজি নয়। এই দলটা তার হৃদয়ের খুব কাছে। চরম উত্থান-পতনের পরও হাল ছাড়েনি কেউ। নতুন করে লড়াই করেছে। দলছুট হননি কেউ। শিরোপা অর্জনের মঞ্চে আরো একবার বেঙ্গালুরুকে নিয়ে ভাবনা প্রকাশ করেছেন বিরাট, ‘‘১৮ বছর ধরে নিজের সবকিছু নিংড়ে দিয়েছি। এই দলটির প্রতি অনুগত থেকেছি। এমন কিছু মুহূর্ত এসেছে, যখন অন্য কিছুও ভেবেছি। তবু এই দলের সঙ্গে থেকেছি, আমি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি, তারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। সব সময় তাদের হয়েই এটা (আইপিএল) জেতার স্বপ্ন দেখেছি।’’ ‘‘অন্য কারও হয়ে জেতার চেয়ে এটা বিশেষ কিছু। কারণ, আমার হৃদয় বেঙ্গালুরুর সঙ্গে। যেটা বলেছি, এই দলটির হয়ে আমি আইপিএলে নিজের শেষ দিন পর্যন্ত খেলব। এই মুহূর্তটি (আইপিএল জয়) ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্তগুলোর একটি।’’