ইরান থেকে দেশে ফিরলেন ৩০ বাংলাদেশি

ইরান থেকে দেশে ফিরলেন ৩০ বাংলাদেশি তেহরান থেকে তৃতীয় দফায় আরও ৩০ জন বাংলাদেশি নাগরিক ঢাকায় ফিরেছেন। সোমবার (১৪ জুলাই) ভোরে তারা ঢাকায় পৌঁছেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বাংলানিউজকে জানান, তেহরান থেকে ৩০ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। সোমবার (১৪ জুলাই) ভোরে তারা এয়ার এরাবিয়ার একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম দফায় গত ১ জুলাই ২৮ জন বাংলাদেশি ঢাকায় ফিরেছেন। তেহরান থেকে প্রথম দফায় গত ২৫ জুন সড়ক পথে ২৮ জন বাংলাদেশি রওয়ানা দেন। এদের মধ্যে ছিলেন বেশিরভাগই নারী, শিশু ও সেখানে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগী। তারা তেহরান থেকে সড়ক পথে বেলুচিস্তানের তাফতান সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করেন। পরে করাচি-দুবাই হয়ে তারা ঢাকায় আসেন। এরপর দ্বিতীয় দফায় গত ৮ জুলাই ঢাকায় আসেন আরও ৩২ বাংলাদেশি। সোমবার তৃতীয় দফায় ৩০ জন নাগরিকের দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে ইরান থেকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শেষ হলো। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরান থেকে দেশে ফেরার জন্য ইতোমধ্যেই ২৫০ জন বাংলাদেশি তেহরান দূতাবাসে নিবন্ধন করেছেন। তবে দুই দফায় ৬০ জন বাংলাদেশি ইতোমধ্যেই দেশে ফিরেছেন। আর তৃতীয় দফায় ফিরেছেন ৩০ জন। এ নিয়ে মোট ৯০ জন নাগরিককে ফিরিয়ে আনা হলো। উল্লেখ্য, ইরানে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন। এর মধ্যে তেহরানে ৪০০ বাংলাদেশি আছেন। ইরানে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশির সংখ্যা ৬৭২ জন। এর মধ্যে শিক্ষার্থী রয়েছেন ৬৬ জন।

টলিউডে মুক্তি পাচ্ছে নওশাবার প্রথম সিনেমা

টলিউডে মুক্তি পাচ্ছে নওশাবার প্রথম সিনেমা অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ এবার টলিউডে হাজির হচ্ছেন প্রথম সিনেমা নিয়ে। অনিক দত্ত পরিচালিত ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’ সিনেমাটির শুটিং শেষ হয়েছিল ২০২২ সালে, তবে নানা কারণে তা মুক্তি পায়নি। অবশেষে চলতি বছরের দুর্গাপূজায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিনেমাটি। সম্প্রতি সিনেমার মোশন পোস্টার প্রকাশ করেছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন। এতে মূল চরিত্রে রয়েছেন ওপার বাংলার অভিনেতা আবির চ্যাটার্জি, আর নওশাবা অভিনয় করেছেন এক বাংলাদেশি তরুণীর চরিত্রে, যে তার শিকড় খুঁজতে কলকাতায় আসে। নওশাবা বলেন, “সিনেমায় আমি আর আবির দুজনেই ফেলুদাভক্ত। গল্পের প্রতিটি পরতে পরতে আছে ফেলুদা ও সত্যজিৎ রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, যদিও এটি সরাসরি গোয়েন্দা কাহিনি নয়।” সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে নওশাবা বলেন, “সবকিছু যেন এক ম্যাজিকের মতো ঘটেছে। হঠাৎ করেই অনিকদার টেক্সট পাই, তারপর অডিশন দিয়ে সুযোগ পাই। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে শুটিং করি। এখন যখন সিনেমাটি দুর্গাপূজায় মুক্তি পাচ্ছে, তখন মনে হচ্ছে—স্বপ্ন সত্যি হচ্ছে। সব ঠিক থাকলে মুক্তির সময় কলকাতায় যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে নওশাবার। এটি তার জন্য শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং টলিউডে নতুন এক অধ্যায়ের শুরু।

দেশের অবস্থা দেখে হৃদয় ভেঙেছে বাঁধনের

দেশের অবস্থা দেখে হৃদয় ভেঙেছে বাঁধনের ‘‘আমার বাবা-মা আমার নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত। আর আমার মেয়ে—শুধু আমিই তার। আমিই আমার মেয়ের পুরো পৃথিবী। কিন্তু এই রকম একটা দেশে আমি তাকে কীভাবে রক্ষা করব?’’ কথাগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন চিত্রনায়িকা আজমেরী হক বাঁধন। তিনি আরও লিখেছেন, ‘‘আমরা কেমন জায়গায় বাস করছি? যেখানে কোন নিরাপত্তা  নেই। মনে শান্তি নেই। আমরা আশা করেছিলাম পরিস্থিতি বদলে যাবে। আমরা আরও ভালো, নিরাপদ জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলাম।একটি নতুন সরকার এসেছিল। আমরা বিশ্বাস করেছিলাম। আমরা অপেক্ষা করেছিলাম।কিন্তু এখন আমরা যা দেখছি তা ভয়াবহ।’’ বাঁধন তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন দেশের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে তার হৃদয় ভেঙে গেছে। বাঁধনের ভাষায় ‘‘ যদি নির্বাচিত সরকারের কোন বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি না থাকে, পরিবর্তন আনার সাহস না থাকে—তাহলে লাভ কী? আমি ভীত। আমি রেগে আছি।আর সবকিছুর চেয়েও বেশি, আমার হৃদয় ভেঙে গেছে।’’ বুধবার (৯ জুলাই) রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের তিন নম্বর গেটের সামনে সোহাগ নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নড়ে ওঠে দেশবাসী। যে যার জায়গা থেকে প্রতিবাদ করেছে। মর্মান্তিক এ ঘটনা বাঁধনকে শুধু শোকাহত করেনি, তার নিজের নিরাপত্তা নিয়েও ভাবাচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডের একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন বাঁধন। ১১ জুলাই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এই অভিনেত্রী লেখেন, ‘‘এটা এক ধরনের মর্মান্তিক ছবি। কারো হত্যা হতে দেখা, যেখানে বাকি সবাই দাঁড়িয়ে দেখছে। কিছুই করছে না। এটা কীভাবে সম্ভব? কী ধরনের দেশে আমরা বেঁচে আছি? মানুষ দাঁড়িয়ে দেখল।কিন্তু কেউ এগিয়ে গেল না। কতটা ভয়াবহ?’’

ইতালি ক্রিকেট বিশ্বকাপে

ইতালি ক্রিকেট বিশ্বকাপে ফুটবলের দেশ হিসেবেই ইতালি বিশ্বে বেশি পরিচিত। চারটি বিশ্বকাপ তারা জিতেছে। যদিও তাদের ফুটবলে এখন ভাটার টান! সেই জায়গাটাই দখল করতে যাচ্ছে ইতালির জাতীয় ক্রিকেট দল। দেশটির এখন বড় পরিচয়,তারা প্রথমবারের মতো ক্রিকেটের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। আগামী বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন‌্য ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাই থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলা নিশ্চিত করেছে ইতালি। নেদারল‌্যান্ডসের বিপক্ষে ম‌্যাচ হারলেও নেট রান রেট ভালো থাকায় ইতালি চলে গেছে ক্রিকেটের সবচেয়ে সংক্ষিপ্তম ফরম‌্যাটের বিশ্বকাপে। যা নিশ্চিতভাবেই তাদের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল‌্য। ইতালির সঙ্গে বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে নেদারল‌্যান্ডসও। আগের ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল ইতালি। নেদারল‌্যান্ডসের বিপক্ষে বড় হার এড়াতে পারলেই বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত। তাদের প্রত‌্যাশা মতোই সব কাজ হয়েছে। আগে ব‌্যাটিংয়ে নেমে ইতালি ৭ উইকেটে ১৩৪ রান করে। জবাবে নেদারল‌্যান্ডস ১৬.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে লক্ষ‌্যে পৌঁছে যায়। জয় পায় ৯ উইকেটে। চার ম‌্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে নেদারল‌্যান্ডস। তারা শীর্ষে থেকেই নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপ। ইতালির সমান ম্যাচে পয়েন্ট ৫। সমান ম‌্যাচে জার্সিরও পয়েন্ট ৫। পিঠাপিঠি অবস্থান তাদের। তবে জার্সির (০.৩০৬) চেয়ে নেট রান রেটে এগিয়ে থাকায় ইতালির (০.৬১২) বিশ্বকাপের ভাগ‌্য খুলেছে। আগামী বছর ভারত ও শ্রীলঙ্কায় বসবে ২০ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ১৫ দল এরই মধ‌্যে চূড়ান্ত হয়েছে। ইষ্ট-এশিয়া প‌্যাসিফিক কোয়ালিফায়ার থেকে তিনটি এবং আফ্রিকা অঞ্চল থেকে দুটি দল সামনে নির্বাচিত হবে।

মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখলেন সাকিব

মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখলেন সাকিব ২৪ ঘণ্টাতেই সাকিব আল হাসান যেন পুরো অচেনা! আগের দিন ব্যাট-বল হাতে জ্বলে উঠে পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়েছিলেন। গতকাল বিবর্ণ তার ব্যাট। নির্বিষ তার বোলিং। তাতে মুদ্রার উল্টো পিঠটাই দেখলেন বাংলাদেশের সুপারস্টার। এটাই তো ক্রিকেট, একদিন হাসাবে…একদিন কাঁদাবে! গায়ানায় গ্লোবাল সুপার লিগে সাকিব দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে খেলছেন। নিজের প্রথম ম্যাচে বাঁহাতি অলরাউন্ডার ছিলেন দুর্বার। নিউ জিল্যান্ডের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের বিপক্ষে ৩৭ বলে ৫৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এরপর ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে মাত্র ১৩ রান খরচে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। দুবাই প্রথম ম্যাচ জেতে ২২ রানে। সাকিব হয়েছিলেন ম্যাচ সেরা। অবশ্য শুক্রবার দ্বিতীয় ম্যাচেই সাকিব এলোমেলো। ব্যাটিংয়ে ১০ বলে মাত্র ৭ রান করেন। যেখানে একটি ছক্কা ছিল। আর বোলিংয়ে ৪ ওভারে খরচ ৩৪ রান। উইকেট পাননি কোনো।   হেরেছে তার দলও। আগে ব‌্যাটিংয়ে নেমে দুবাই ৮ উইকেটে ১৪১ রান করে। জবাবে হোবার্ট হারিকেন্স ১৮ বল আগে ৭ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ‌্যে পৌঁছে যায়। দুবাইয়ের ব‌্যাটিং-বোলিং কোনোটাই ভালো হয়নি। ব‌্যাটিংয়ে তাদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন গুলবাদিন নাইব। এছাড়া সাদেকুল্লাহ অটল ২৫, কাদিম আলায়েন ১৪ এবং জেস বোটান ১৮ রান করেন। সাকিব পাঁচে নেমে একটি ছক্কা হাঁকান কেবল। আউট হন মোহাম্মদ নবীর বলে। জবাব দিতে নেমে হারিকেন্স বেন ম‌্যাকডরমটের ৪৮ ও ম‌্যাকাললিস্টার ওয়েস্টের ৫০ রানে সহজেই ম‌্যাচ জিতে নেয়। ২৩ রান করেন জেক ডোরান। ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে সাকিব ৩৪ রান দেন। ১০ ডট বল ছিল তার বোলিং স্পেলে। কোনো ছক্কা হজম করেননি। ৪ খেয়েছেন ৬টি।

ফ্রান্সে এক্সের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

ফ্রান্সে এক্সের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু ফ্রান্সে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্সের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক তদন্ত শুরু হয়েছে। প্ল্যাটফর্মটির অ্যালগরিদমে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন এনে ‘বিদেশি হস্তক্ষেপ’ ঘটানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ফরাসি পুলিশ।  শনিবার (১২ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়া।  শুক্রবার (১১ জুলাই) প্যারিসের প্রসিকিউটর অফিস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, এক্সের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে দুটি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে- অ্যালগরিদম পরিবর্তন এবং ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে প্রতারণামূলকভাবে তথ্য সংগ্রহ। এই অভিযোগ ‘সংগঠিত তথ্য সিস্টেম হ্যাকিং’-এর আওতায় পড়ে, যা ফরাসি আইনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। প্রসিকিউটর লোর বেকো বলেছেন, জাতীয় জেনডারমারিকে এই মামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে, প্যারিসের প্রসিকিউটর অফিসের সাইবার ক্রাইম ইউনিট এক্সের বিরুদ্ধে দুটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেয়েছিল। ফরাসি সংসদের একজন সদস্য এবং একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই মামলার অভিযোগ দাখিল করেন। উভয় অভিযোগেই বলা হয়েছে যে, এক্সের অ্যালগরিদম বিদেশি হস্তক্ষেপের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফরাসি সংসদের আরো কয়েকজন সদস্য সম্প্রতি এক্সের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন, বিশেষ করে প্ল্যাটফর্মের এআই চ্যাটবট ‘গ্রোক’-এর সাম্প্রতিক ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই মামলায় এক্স প্ল্যাটফর্ম ছাড়াও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি আইনি সত্তা এবং কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তদন্তের আওতায় এসেছে। তদন্তকারীরা এখন প্রমাণ খুঁজছেন- এক্স প্ল্যাটফর্ম কীভাবে কনটেন্ট প্রদর্শনের অ্যালগরিদম পরিবর্তন করে চরম ডানপন্থি মতাদর্শকে এগিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপের সাম্প্রতিক নির্বাচনে ডানপন্থি প্রার্থীদের পোস্টগুলো বেশি প্রচারিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, এক্স-এ সাম্প্রতিক সময়ে ঘৃণামূলক, বর্ণবাদী, এলজিবিটিকিউ+ বিরোধী ও সমকামবিরোধী রাজনৈতিক কনটেন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ফ্রান্সের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। এক্স ফ্রান্সের সিইও লরেন্ট বুয়ানেক জানুয়ারিতে একটি পোস্টে বলেছিলেন, ঘৃণামূলক কনটেন্ট ঠেকাতে এক্সের কঠোর ও স্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। তিনি আরো যোগ করেন, প্ল্যাটফর্মটি ‘ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে’ এবং এর অ্যালগরিদম ‘ঘৃণাত্মক কনটেন্ট’ ঠেকাতে ডিজাইন করা হয়েছে।

গাজায় নিহতের সংখ্যা ৫৭ হাজার ৮০০ ছাড়াল

গাজায় নিহতের সংখ্যা ৫৭ হাজার ৮০০ ছাড়াল গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের মোট সংখ্যা ৫৭ হাজার ৮০০ ছাড়িয়ে গেছে। শুক্রবার (১১ জুলাই) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় ৬১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২৩১ জন আহত হয়েছেন। এর ফলে গাজায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় নিহত মোট ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৫৭ হাজার ৮২৩ জনে পৌঁছেছে। একইসঙ্গে অবরুদ্ধ নগরীতে আহতের সংখ্যা এখন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮৮৭ জনে পৌঁছেছে। মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি। কারণ অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় পড়ে থাকলেও উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেননি। উল্লেখ্য, ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে বড় ধরনের হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই হামলায় প্রায় ১২০০ নিহত ও দুই শতাধিক ইসরায়েলিকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে গেছে হামাস যোদ্ধারা। এর জবাবে ওই দিনই গাজায় বিমান হামলা ও পরে স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। দীর্ঘ ১৫ মাস ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় হামাস ও ইসরায়েল। তবে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় ফের তীব্র হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজায় নতুন করে ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ২৬১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২৫ হাজার ৮৪৬ জন আহত হয়েছেন। জাতিসংঘ বলছে, ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযানের ফলে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং প্রায় ৮৫ শতাংশ জনসংখ্যা অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের মতে, দীর্ঘ এ সময় ধরে চলা সংঘাতের কারণে মানবিক সংকটে দিন পার করছেন ফিলিস্তিনিরা। খাবার, পানি, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তার অভাবে উপত্যকাটির ২৩ লাখেরও বেশি বাসিন্দা চরম ক্ষুধা ও ভয়াবহ অপুষ্টিতে ভুগছেন। গাজায় ইসরায়েলি হামলা নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ৭০ শতাংশই নারী ও শিশু বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। জানুয়ারিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন রায়ে তেল আবিবকে গণহত্যা বন্ধ করতে এবং গাজার বেসামরিক নাগরিকদের মানবিক সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে রায় উপেক্ষা করে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ১,৩০০-এর বেশি কর্মীকে ছাঁটাই শুরু

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ১,৩০০-এর বেশি কর্মীকে ছাঁটাই শুরু যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি কর্মীকে ছাঁটাই করা শুরু করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। শনিবার (১২ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।  প্রতিবেদনে বলা হয়, কূটনৈতিক খাতে ‘গঠনমূলক সংস্কার’ আনার অংশ হিসেবে পররাষ্ট্র দপ্তরে বড় ধরনের ছাঁটাই শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১১ জুলাই) থেকে এই প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।  সমালোচকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ বিদেশে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা এবং প্রচারের মার্কিন ক্ষমতাকে দুর্বল করবে। পররাষ্ট্র দপ্তরের জারি করা এক নোটিশে জানানো হয়, মোট ১ হাজার ৩৫৩ জনকে ছাঁটাই করা হচ্ছে, যার মধ্যে ১ হাজার ১০৭ জন সিভিল সার্ভিস এবং ২৪৬ জন ফরেন সার্ভিস অফিসার। পররাষ্ট্র দপ্তরের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ছাঁটাই হবে ধাপে ধাপে, যেখানে স্বেচ্ছা অবসানসহ প্রায় ৩ হাজার কর্মীকে বিদায় জানানো হবে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার যে মোট ১৮ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই পদক্ষেপ তারই অংশ। রয়টার্স বলছে, এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে যখন ওয়াশিংটন বিশ্ব মঞ্চে একাধিক সংকটের সঙ্গে লড়াই করছে: ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ, প্রায় দুই বছর ধরে গাজা সংঘাত এবং ইসরায়েল-ইরানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্য সংকট। ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের কাছে ট্রাম্প প্রশাসনের পাঠানো পাঁচ পৃষ্ঠার একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে তারা পররাষ্ট্র ভবন ও তাদের ইমেল ঠিকানায় প্রবেশাধিকার হারাবেন। ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের জন্য ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশেষ অফিস খোলা হয়েছে, যেখানে তাদের অফিসিয়াল ব্যাজ, ল্যাপটপ, টেলিফোন ও অন্যান্য দপ্তরের সম্পদ জমা দিতে হচ্ছে। এসময় কর্মীদের অনেককেই সহকর্মীদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে বিদায় নিতে দেখা গেছে। ট্রাম্প তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি নিশ্চিত করার জন্য যে পুনর্গঠন চেয়েছেন, তার প্রথম ধাপ হলো এই পদক্ষেপ। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক অবস্থানকে দুর্বল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে চীন ও রাশিয়ার মতো প্রতিপক্ষ যখন আগ্রাসী কূটনীতির মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান আরো জোরদার করছে। ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন কড়া প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “এটি একটি হাস্যকর সিদ্ধান্ত এবং এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন চীন বিশ্বজুড়ে সামরিক ও পরিবহন ঘাঁটি স্থাপন করছে, রাশিয়া সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর বর্বর হামলা চালাচ্ছে, আর মধ্যপ্রাচ্য একের পর এক সংকটে জর্জরিত। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত শুধু দুর্ভাগ্যজনকই নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।” চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এই পুনর্গঠন পরিকল্পনার অনুমোদন দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। দপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, কাজের ধরন ও কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এতে সরকারি অর্থের কতটা সাশ্রয় হবে, সে সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব দিতে পারেনি প্রশাসন। ট্রাম্প ফেব্রুয়ারিতে রুবিওকে প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্র নীতি ‘বিশ্বস্ততার সঙ্গে’ বাস্তবায়িত হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য পররাষ্ট্র পরিষেবা পুনর্গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ট্রাম্প জানান, তিনি যেসব আমলাকে বিশ্বাসঘাতক বলে মনে করেন তাদের বরখাস্ত করে ‘রাষ্ট্রকে পরিষ্কার’ করবেন। এই রদবদল ট্রাম্পের ফেডারেল আমলাতন্ত্রকে সংকুচিত করার এবং করদাতাদের অর্থের অপচয় কমানোর এক অভূতপূর্ব প্রচেষ্টার অংশ। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল এইড, যা বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য কাজ করে তা ভেঙে দিয়েছে এবং এটিকে স্টেট ডিপার্টমেন্টের অধীনে গুটিয়ে এনেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পুনর্গঠনটি মূলত ১ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল কিন্তু চলমান মামলা-মোকদ্দমার মধ্যে পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারেনি। কারণ, পররাষ্ট্র দপ্তর মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই বন্ধ করার বিচারিক আদেশের বিষয়ে বিবেচনা করার জন্য অপেক্ষা করছিল। মঙ্গলবার, মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য চাকরি ছাঁটাই ও অসংখ্য সংস্থার আকার পরিবর্তনের পথ পরিষ্কার করে দেয়।

পুতুলকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠালো ডব্লিউএইচও

পুতুলকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠালো ডব্লিউএইচও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশীয়ার আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (১১ জুলাই) থেকে তাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। কয়েক মাস আগে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি, প্রতারণা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে মামলা করে। হেলথ পলিসি ওয়াচের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইসাস ই-মেইলের মাধ্যমে জানান, পুতুল তাৎক্ষণিকভাবে ছুটিতে যাচ্ছেন। তিনি আরো জানান, ডাব্লিউএইচও সহকারী মহাপরিচালক ড. ক্যাথারিনা বোহমে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয়ার আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। আগামী ১৫ জুলাই নয়দিল্লিতে অবস্থিত আঞ্চলিক কার্যালয়ে তিনি পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা পুতুলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি ওই পদে যোগ দেন, তবে অভিযোগ রয়েছে—তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মেয়ের জয় নিশ্চিত করতে প্রভাব খাটিয়েছেন। দুদক জানায়, জানুয়ারিতে তদন্ত শুরু করে মার্চে পুতুলের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। দুদকের উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম জানান, মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় পুতুল নাকি তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুয়া তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মানসূচক পদে কাজ করছেন বলে মিথ্যা দাবি করেন, যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব তথ্য তার যোগ্যতা বাড়িয়ে দেখানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। দুদকের আরো অভিযোগ, পুতুল ক্ষমতার অপব্যবহার করে ‘সুচনা ফাউন্ডেশন’-এর নামে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ২৮ লাখ ডলার তুলেছেন। ওই অর্থ কোথায় ব্যবহার হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। এই অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রতারণা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি দমন আইনের ৫(২) ধারায় ক্ষমতার অপব্যবহার দেখানো হয়েছে। ডব্লিউএইচও এখনো তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হ‌য়ে‌ছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হ‌য়ে‌ছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পুরান ঢাকার মিটফোর্ড (স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে (৩৯) হত্যার ঘটনায় জড়িতদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। শ‌নিবার (১২ জুলাই) রাজধানীর পুরান ঢাকার মিল ব্যারাকে অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশের তিনটি প্রতিষ্ঠান— ঢাকা জেলা পুলিশ লাইন, রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ) ও ট্রাফিক অ্যান্ড ড্রাইভিং স্কুল (টিডিএস) পরিদর্শন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি। উপদেষ্টা বলেন, শুধু মিটফোর্ড নয়, সারা দেশে সংঘটিত এ ধরনের ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে, মিটফোর্ডের ঘটনাটি বড়ই দুঃখজনক৷ একটা সভ্য দেশে এমন ঘটনা কখনোই আশা করা যায় না৷ এ ঘটনায় দায়ী পাঁচজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ তিনি বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনার পরপরই সেখান থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বিকেলে র‍্যাব অস্ত্রসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল রাতেও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ সব মিলিয়ে এ ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ডিবির টিমও কাজ করছে৷ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আমরা জাতি হিসেবে খুব অসহিষ্ণু হয়ে গেছি৷ এই অসহিষ্ণুতা আমাদের সবাই মিলে কমিয়ে আনতে হবে৷ এটা আমাদের সবার দায়িত্ব। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের নীতিনির্ধারক, অভিভাবক, শিক্ষক, চিকিৎসক সবাইকে এ বিষয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মোদ্দাকথা, এ বিষয়ে আমাদের সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। উপদেষ্টা বলেন, আমরা সবাইকে অনুরোধ করছি, কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়৷ কোনো ঘটনা ঘটলে, সেটা যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জানানো হয়৷ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নেবে৷ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন কঠোর হচ্ছে না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর না হলে পাঁচজনকে কিভাবে গ্রেপ্তার করা হলো? তিনি বলেন, গতকাল কাঠমান্ডুগামী বিমানের ফ্লাইট ফেরত নিয়ে আসার ঘটনায় যে মহিলা টেলিফোন করেছিল, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ তাকে যে পরামর্শ দিয়েছে, তাকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে৷ চাঁদপুরের ঘটনাতেও দোষীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে৷ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ অবস্থা মোটেও নির্লিপ্ততা নয়৷ অনেক সময় দু-এক জায়গায় কোনো কারণে একটু হয়ত দেরি হতে পারে৷ তবে, এ সমস্ত ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাথে সাথে অ্যাকশনে যাচ্ছে। প্রেস ব্রিফিংকালে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বিপিএম, স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের (এসবি) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. গোলাম রসুল, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উপদেষ্টা এর আগে ঢাকা জেলা পুলিশ লাইন আয়োজিত বিশেষ কল্যাণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। তিনি পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন ও তা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।