প্রাথমিকের ৩২ হাজার শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের নির্দেশ

প্রাথমিকের ৩২ হাজার শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের নির্দেশ দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়। প্রেস উইং জানায়, গতকাল সোমবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক বৈঠকে এ নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দেশের ৩২ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান বলেও প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন তিনি। বৈঠকে প্রধান শিক্ষক পদে পদায়নের পাশাপাশি নতুন নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘স্কুলগুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কীভাবে যোগ্যদের নিয়ে আসা যায় সে বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে। কয়েকটা ক্যাটাগরি করে দিতে হবে। যারা বহু বছর ধরে শিক্ষকতা করে আসছেন, অভিজ্ঞ তারা প্রাধান্য পাবেন। এর পাশাপাশি তরুণদেরও প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য সুযোগ দিতে হবে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হবে। ’ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে সমন্বয় করে অতিদ্রুত বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্নের নির্দেশ দেন তিনি। এর পাশাপাশি শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রেও নীতিমালায় পরিবর্তন আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘অনেক সময় এক উপজেলায় নিয়োগ পেয়ে পরে অন্য উপজেলায়, শহরের কাছে কোনো স্কুলে শিক্ষকরা বদলির জন্য চেষ্টা করেন, তারা সুপারিশ-তদবির নিয়ে বিভিন্ন মহলে ঘোরেন। এক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা ও প্রক্রিয়া থাকতে হবে। কেবল ওই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তিনি বদলি হতে পারবেন। স্কুলগুলোতে মেয়েদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা, স্কুলের অবকাঠামো নারীবান্ধব কি না এসব বিষয়েও জানতে চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘স্কুলের ভবন নির্মাণের সময় কমিটিতে অন্তত একজন নারী স্থপতি রাখতে হবে যাতে নারীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ হয়। পরিকল্পনায়, চিন্তায়, বাস্তবায়নে মেয়েদের বিষয় আলাদা করে গুরুত্ব দিতে হবে, সব ব্যবস্থা রাখতে হবে। ’ এছাড়া দেশের সকল প্রাথমিক স্কুলকে ধারাবাহিকভাবে ইন্টারনেট সংযোগ ও মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ তৈরির বিষয়েও জোর দেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান সম্পর্কে এবং কোন স্কুলগুলো ভালো করছে সে ব্যাপারে মূল্যায়ন জানতে চান। উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য অনেক অর্থ ব্যয় হয়েছে। কিন্তু মূল যে উদ্দেশ্য-শিক্ষার মান বৃদ্ধি, সেটা সাধন হয়নি। আমরা মূল্যায়ন করে স্কুলগুলোকে র্যাংকিং করছি। যে সব স্কুলের বাচ্চারা পিছিয়ে আছে তাদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি নিচ্ছি। তিনি জানান, মূল্যায়নে দেখা গেছে যে সব স্কুলের মান ভালো সেখানে প্রধান শিক্ষকের যোগ্যতা ও তার সঙ্গে অন্য সহকর্মীদের সম্পর্ক-ব্যবহার বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে।
‘কন্যা’ পর কনার নতুন ধামাকা ‘সোনা জান’

‘কন্যা’ পর কনার নতুন ধামাকা ‘সোনা জান’ সবশেষ ‘কন্যা’ গান দিয়ে শ্রোতাদের মনে দোলা দিয়েছেন সংগীতশিল্পী দিলশাদ নাহার কনা। ভক্তদের জন্য সুখবর হলো এবার আরেকটা ধামাকা নিয়ে এসেছেন এই গায়িকা। কনার এবারের গানের শিরোনাম ‘সোনা জান’। ‘কন্যা’র পর এটিরও কথা লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন। সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন আদিব কবির। রোববার (১৩ জুলাই) বিকালে গানটি প্রকাশ পেয়েছে ভিডিও আকারে। যেখানে রোমান্স করেছেন কলকাতার জনপ্রিয় দুই অভিনয়শিল্পী অলিভিয়া সরকার ও অমিত পাল। বিভিন্ন মনোরম লোকেশনে এটির ভিডিও নির্মাণ করেছেন মোহন ইসলাম। কোরিওগ্রাফি করেছেন রোহান বেলাল। ট্রেন্ডি কথা-সুর ও ভরপুর ভালোবাসা সাজানো গান-ভিডিওটি তৈরি হয়েছে কেএম মিউজিকের ব্যানারে। প্রযোজনা করেছেন মাহামুদুল হাসান শোভন। গানটি প্রসঙ্গে শোভন বলেন, কনা আপু আমার খুব পছন্দের একজন গায়িকা। রবিউল ইসলাম জীবন ভাই এবং আদিব কবিরের কাজেরও ভক্ত আমি। সব মিলিয়ে তাদের নিয়ে কাজটি করা। গানটির মাধ্যমে আমরা শ্রোতা-দর্শকদের বিনোদন দিতে চেয়েছি। সবার ভালো লাগবে বিশ্বাস। তিনি বলেন, এই গানের ভিডিওতে অভিনয় করা দুজনই কলকাতার। বিশেষ করে অলিভিয়া সরকার স্টার জলশার অনেক পরিচিত মুখ। কয়েকটি সিনেমা এবং ওয়েব সিরিজও করেছেন। দুই বাংলার শ্রোতাদের কথা মাথায় রেখেই কাজটি করা। গানটি উন্মুক্ত করা হয়েছে ইউটিউবে ‘কেএম মিউজিক’ চ্যানেলে।
স্বামীর নামে ‘প্রেম তালা’ লাগালেন মেহজাবীন

স্বামীর নামে ‘প্রেম তালা’ লাগালেন মেহজাবীন দেশের আলোচিত তারকা দম্পতি মেহজাবীন চৌধুরী ও নির্মাতা আদনান আল রাজীব। এক যুগের বেশি সময় সম্পর্কে ছিলেন তারা। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিয়ে করেন এই তারকা জুটি। এবার মেহজাবীন নিজদের ভালোবাসাকে তালাবন্দী করলেন, যেন এই ভালোবাসার তালা কখনোই খুলে না যায়। কেননা তালার চাবি কখনোই খুঁজে পাওয়া যাবে না, চাবি পড়ে রয়েছে নদীর তলদেশে। ফ্রান্সের একটি নদীর ব্রিজে নিজের ও স্বামী আদনান আল রাজীবের নাম লিখে তালা লাগিয়েছেন মেহজাবীন। সেই তালার চাবি ফেলে দিয়েছেন নদীতে। এরই কয়েকটি ছবি সামাজিকমাধ্যমে শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী। ক্যাপশনে লিখেছেন লক। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের এই সেতুর রেলিং-এ প্রেমিক-প্রেমিকারা তাদের ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে তালা লাগিয়ে দেন। সাইন নদীর উপর ‘পঁ দে আর্টস’ সেতুতে ‘প্রেম তালা’ লাগিয়ে চাবি নদীতে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া পর্যটকদের মধ্যে এক ধরনের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। এই সেতুতেই তালা লাগিয়েছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। মেহজাবীন কখন এই তালা লাগিয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। কেননা সম্প্রতি তিনি ইউরোপ ভ্রমণের ছবি পোস্ট করছেন। একদিন ইতালির মিলান শহরে ঘোরার ছবি পোস্ট করেছেন। তার আগে দিলেন সুইজ্যারল্যান্ডে ঘোরার ছবি। কিছুদিন আগে কান চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়েছিলেন, এই ভ্রমণ তখনকার নাকি, জানা যায়নি। যতবে ‘প্রেম তালা’ লাগিয়ে দেওয়ার পর ভক্তরাও আশা প্রকাশ করছেন এই তালা যেন কখনোই না খোলে, আর ভাঙতেও না হয়।
দেশ ছাড়লেন শাকিব খান!

দেশ ছাড়লেন শাকিব খান! ঢাকাই সিনেমার সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত ‘তাণ্ডব’ সিনেমা ঈদুল আজহায় মুক্তির পর দেশজুড়ে সাড়া ফেলেছিল। এবার সিনেমাটির আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু হলো যুক্তরাষ্ট্র দিয়ে। পরিচালক রায়হান রাফীর অ্যাকশন-থ্রিলার ঘরানার সিনেমাটি ইতোমধ্যে হিউস্টন, ক্যালিফোর্নিয়া, বোস্টন, অরল্যান্ডো, স্যাক্রামেন্টোসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১০টি শহরের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। মুক্তির দুই দিন পরই দেশ ছেড়েছেন ঢালিউডের এই মেগাস্টার। শনিবার (১৩ জুলাই) রাতে বিমানের ভেতর তোলা নিজের একটি ছবি শেয়ার করে শাকিব লেখেন, “রোমাঞ্চকর যাত্রা শুরু হোক!” ছবিতে দেখা যায়, সাদা টি-শার্ট, চোখে সানগ্লাস, মাথায় ‘লুলুলেমন’ ব্র্যান্ডের ক্যাপ—জানালার পাশে বসে আছেন তিনি। যদিও পোস্টে সফরের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেননি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, ‘তাণ্ডব’-এর প্রিমিয়ার শো এবং প্রবাসী দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি ছবি দেখা-সংক্রান্ত আয়োজনে অংশ নিতে তার এই সফর। এদিকে, শাকিব খানকে ঘিরে আরেকটি নতুন গুঞ্জন ছড়িয়েছে। শোনা যাচ্ছে, নব্বইয়ের দশকের কুখ্যাত আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন ‘কালা জাহাঙ্গীর’-এর জীবনী নিয়ে একটি সিনেমা নির্মাণ হতে যাচ্ছে, সিনেমাটির নাম ভূমিকায় দেখা যেতে পারে শাকিব খানকে। আগামী ঈদে মুক্তির লক্ষ্যে নির্মিত হচ্ছে সিনেমাটি।
পরাজয়ের মিছিল পেরিয়ে জয়ের অমৃত স্বাদ

পরাজয়ের মিছিল পেরিয়ে জয়ের অমৃত স্বাদ এতোদিন বাংলাদেশ যা করে এসেছে, আজ তা-ই করলো শ্রীলঙ্কা। যদি এক শব্দে বলতে হয়, শ্রীলঙ্কা এলোমেলো। আর বাংলাদেশ গোছালো। গোছালো সেই পারফরম্যান্সের সুর ধরেই পরাজয়ের মিছিল পেরিয়ে জয়সূর্যর দেখা পেল বাংলাদেশ। ছয় ম্যাচ পর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ। ক্যান্ডিতে বাংলাদেশ ৮৩ রানে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১ এ সমতা ফেরাল। এদিন ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং সবকিছুতেই বাংলাদেশ এ প্লাস। গোল্ডেনও হতে পারত। দুয়েকটি ভুলে হয়েছে। ওগুলো না হলে শ্রীলঙ্কাকে দর্শক বানিয়ে পুরো ম্যাচটিতেই বাংলাদেশের আধিপত্য থাকত। টস হেরে আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ১৭৭ রান করে। জবাবে শ্রীলঙ্কা গুটিয়ে যায় ৯৪ রানে। বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংস ছিল রোলার কোস্টার রাইডের মতো। এই নিচে নামে তো এই উপরে উঠে। পথ হারাতে সময় লাগে না…আবার ছন্দে ফিরতেও সময় নেয় না। ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা একদমই যুৎসই হয়নি। ৭ রানে দুই ওপেনার সাজঘরে। পারভেজ হোসেন ইমন (০) ও তানজিদ হাসান (৫) দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। সেখান থেকে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানো শুরু। অফফর্মে থাকা লিটনের সঙ্গী তাওহীদ হৃদয়। শুরুর আক্রমণটা তাওহীদ করেছিলেন। পরে লিটন সব আলো নিজের ওপর নিয়ে নেন। ৫৫ বলে ৬৯ রান যোগ করেন দুজন। ইনিংসের ১২তম ওভারে তাওহীদ ২৫ বলে ৩১ রান করে বিদায় নিলে ভাঙে এই জুটি। মিরাজ এসে টিকতে পারেননি। ২ বলে ১ রান করে একই ওভারে ফেরেন ড্রেসিংরুমে। দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে আবার চাপে বাংলাদেশ। কিন্তু শামীম ক্রিজে এসে সেই চাপ গায়ে লাগতে দেননি। প্রতি আক্রমণে গিয়ে রান তুলে ২৭ বরে করেন ৪৭ রান। ৫ চারের সঙ্গে হাঁকান ২ ছক্কা। লিটন ও শামীম পঞ্চম উইকেটে খেলার চিত্র পাল্টে দেন। ৩৯ বলে ৭৭ রান যোগ করেন দুজন। তাতে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে প্রাণ ফিরে পায়। প্রবল চাপে ছিলেন লিটন। রানই পাচ্ছিলেন না। আজ ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ১২ ইনিংস পর পেয়েছেন ফিফটি। ৫০ বলে ১ চার ও ৫ ছক্কায় ৭৬ রান করেন তিনি। শেষ দিকে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে কেবল সাইফউদ্দিন যোগ করতে পারেন ৬ রান। শ্রীলঙ্কার বোলারদের মধ্যে বিনুরা ফার্নান্দো নেন ৩ উইকেট। ১টি করে উইকেট পেয়েছেন থুসারা ও থিকসানা। জবাব দিতে নেমে পাওয়ার প্লে’তেই ইউটার্ন শ্রীলঙ্কার। ৩০ রানে তারা হারায় ৪ উইকেট। বাংলাদেশের জন্য ভয়ের কারণ ছিল কুশল মেন্ডিস ও পাথুম নিশাঙ্কার উইকেট। এই জুটি ভাঙে শামীমের থ্রোতে। সরাসরি থ্রোতে শামীম ফেরান মেন্ডিসকে। এরপর শরিফুল ফেরান কুশল পেরেরা ও আভিশকা ফার্নান্দোকে। সাইফ উদ্দিন নেন অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কার উইকেট। ব্যাটসম্যানরা কেউই দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। শুরুর সেই ধাক্কা হজমের পর জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন পাথুম নিশাঙ্কা ও দাসুন শানাকা। ৩১ বলে ৪১ রান করেন করেন তারা। কিন্তু মাত্র ৬ বলে ৩ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কা আরও বিপদে পড়ে। সেখান থেকে তারা কেউ আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি। নিশাঙ্কা ৩২, শানাকা ২০ রান করেন। ১৫.২ ওভারেই শেষ হয়ে যায় লঙ্কানদের ইনিংস। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে রিশাদ ১৮ রানে নেন ৩ উইকেট। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম ও সাইফ উদ্দিন। দলকে বহু প্রত্যাশিত জয় এনে দেওয়ায় ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন লিটন দাস। আগামী ১৬ জুলাই কলম্বোতে হবে সিরিজের শেষ ম্যাচ।
গুপ্তচরবৃত্তির শাস্তি কঠোর করে ইরানের পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাস

গুপ্তচরবৃত্তির শাস্তি কঠোর করে ইরানের পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাস ইরানের পার্লামেন্ট গুপ্তচরবৃত্তি এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি শত্রু রাষ্ট্রকে সহযোগিতার শাস্তি বাড়ানোর জন্য একটি বিলের সংশোধনী অনুমোদন করেছে। খবর বিবিসি ও ইরান ফ্রন্ট পেজের। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, সংশোধনী প্রস্তাবটি আজ সোমবারের অধিবেশনে বিপুল ভোটে পাস হয়েছে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী, যদি কেউ শত্রু রাষ্ট্র ও গোষ্ঠীর জন্য কোনো গোয়েন্দা ও গুপ্তচরবৃত্তির কার্যকলাপ এবং অপারেশনাল কার্যক্রমে জড়িত বলে প্রমাণিত হয়, তfহলে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা যাবে। সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলকে এই শত্রু রাষ্ট্র ও গোষ্ঠী চিহ্নিত করার কর্তৃপক্ষ এবং মিনিস্ট্রি অব ইন্টেলিজেন্সকে শত্রুদের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করার কর্তৃপক্ষ হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে প্রস্তাবের মূল বক্তব্যে। সুপ্রিম জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল (যারা ইতোমধ্যেই শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত) বাদে অন্যান্য শত্রু রাষ্ট্র ও গোষ্ঠীগুলোকে মনোনীত করার ক্ষমতা রয়েছে। সংশোধিত আইনে শত্রু রাষ্ট্রগুলোকে আর্থিক, প্রযুক্তিগত বা সামরিকভাবে সহায়তাকেও অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে। রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের লক্ষ্যে স্টারলিংকের মতো অবৈধ যোগাযোগ ডিভাইস ব্যবহারও দণ্ডনীয়। এছাড়াও সংশোধিত মূল প্রস্তাবের আরেকটি অনুচ্ছেদে জনসাধারণের মধ্যে বিভাজন বা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে শত্রু বা বিদেশি নেটওয়ার্কগুলোতে যারা তথ্য বা ভিডিও পাঠায় তাদের শাস্তি নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী এই কর্মকাণ্ডগুলো এখন থেকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। একইসাথে এর জন্য কারাদণ্ড এবং সরকারি ও জনসেবা থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করার শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়কে ‘প্রতিকূল মিডিয়া’ চিহ্নিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য দ্রুত আইনি পদক্ষেপ চালু করা হয়েছে। ইরানের আইনপ্রণেতারা জোর দিয়ে বলেছেন, ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য এই ব্যবস্থাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শত বছর বয়সেও প্রেসিডেন্ট পদে থাকতে নির্বাচনে লড়াইয়ের ঘোষণা বিয়ার

শত বছর বয়সেও প্রেসিডেন্ট পদে থাকতে নির্বাচনে লড়াইয়ের ঘোষণা বিয়ার বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সী ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধান ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পল বিয়া (৯২)। তিনি চলতি বছরের নির্বাচনে অষ্টম মেয়াদের জন্য প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী ১২ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি শতবর্ষ ছুঁইছুঁই বয়সেও দেশটির ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। রবিবার (১৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “‘আমি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব, আপনারা নিশ্চিত থাকুন জাতি যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি আমি তা দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করব।” সোমবার (১৪ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চার দশকেরও বেশি সময় আগে ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে আহমেদো আহিদজো পদত্যাগ করলে ১৯৮২ সালে ক্ষমতায় আসেন বিয়া। তার স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরেই জল্পনা-কল্পনা চলছে। সর্বশেষ গত বছরে তিনি ৪২ দিনের জন্য জনসাধারণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অদৃশ্য হয়ে যান। তবে তার পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা ব্যাপকভাবে প্রত্যাশিত ছিল। রবিবার পল বিয়া আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার আগে, বেশ কিছুদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় ছিলেন। ২০১৮ সালে, প্রথমবারের মতো, তিনি সেই বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থীতা ঘোষণা করার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেছিলেন, যা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জনসাধারণের সঙ্গে একটি বিরল সরাসরি যোগাযোগ ছিল। ক্ষমতাসীন ক্যামেরুন পিপলস ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (সিপিডিএম) নেতাকর্মীরা এবং তার সমর্থকরা গত বছর থেকে প্রকাশ্যে বিয়ার আরেক মেয়াদে প্রার্থী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কিন্তু বিরোধী দল এবং কিছু নাগরিক সমাজের গোষ্ঠী যুক্তি দিচ্ছে যে তার দীর্ঘ শাসন অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এরই মধ্যে দুই মিত্র ক্ষমতাসীন জোট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে এবং আলাদাভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। ক্যামেরুনের মানবাধিকার আইনজীবী নংহো ফেলিক্স আগবর সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, “প্রেসিডেন্ট বিয়ার আবারো প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা ক্যামেরুনের স্থবির রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্পষ্ট লক্ষণ। ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকার পর দেশটির যা প্রয়োজন তা হল পুনর্নবীকরণ, পুনরাবৃত্তি নয়। ক্যামেরুনবাসী গণতান্ত্রিক পরিবর্তন এবং জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব পাওয়ার অধিকার রাখে।” রবিবার বিয়ার প্রেসিডেন্ট পদে নতুন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা নিশ্চিতভাবেই তার স্বাস্থ্য নিয়ে বিতর্ক পুনরুজ্জীবিত করবে। তিনি খুব কমই জনসমক্ষে উপস্থিত হন এবং প্রায়ই তার কার্যালয়ের ক্ষমতা শক্তিশালী চিফ অফ স্টাফের (সেনাপ্রধান) কাছে দায়িত্ব অর্পণ করেন। গত বছরের অক্টোবরে তিনি ৪২ দিন অনুপস্থিতির পর ক্যামেরুনে ফিরে আসলেও স্বাস্থ্য নিয়ে বিতর্ক চলতে থাকে। যদিও সরকার দাবি করে যে তিনি ভালো আছেন এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় উল্লেখ করে তার স্বাস্থ্য নিয়ে সবধরনের আলোচনা নিষিদ্ধ করেছে। ২০০৮ সালে বিয়া প্রেসিডেন্টের নির্দিষ্ট মেয়াদসীমা বাতিল করে দেন, যার ফলে তার অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পথ পরিষ্কার হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ৭১.২৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন, যদিও বিরোধী দলগুলো ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিল। ক্যামেরুন ১৯৬০-এর দশকের গোড়ার দিকে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে মাত্র দুজন প্রেসিডেন্ট পেয়েছে। আফ্রিকান কোকো ও তেল উৎপাদনকারী এই দেশটিকে বিয়ার দীর্ঘ শাসনামলে অর্থনৈতিক সংকট, বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতা ও উত্তরাঞ্চলে বোকো হারাম জঙ্গি হামলার মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ২০২৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী বিরোধী নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।তাদের মধ্যে রয়েছেন ২০১৮ সালের ক্যামেরুন রেনেসাঁ আন্দোলনের রানার-আপ মরিস কামটো, সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের জোশুয়া ওসিহ, ক্যামেরুন পার্টি ফর ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশনের আইনজীবী আকেরে মুনা ও ক্যাব্রাল লিবি। তারা সবাই বিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দীর্ঘ শাসনামলের সমালোচনা করেছেন এবং ২০২৫ সালে সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন পদ্ধতিতে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
৬৪ জেলায় হবে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ: সংস্কৃতি উপদেষ্টা

৬৪ জেলায় হবে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ: সংস্কৃতি উপদেষ্টা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে দেশের ৬৪ জেলায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সোমবার (১৪ জুলাই) গণভবনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা’ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। আজ থেকেই নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে বলেও তিনি জানান। সংস্কৃতি উপদেষ্টা বলেন, “জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে এ নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে এবং আগামী ৪ আগস্টের মধ্যে সব জেলায় এটি সম্পন্ন হবে।” সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, জুলায়ে নারী যোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ হাতে নিয়েছে মন্ত্রণালয়। এছাড়া, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণলায়ে কাজ করবেa জুলাই কন্যারা।
‘আমি বোকা’—পেদ্রোকে থাপ্পড় মারা নিয়ে এনরিকের স্বীকারোক্তি

‘আমি বোকা’—পেদ্রোকে থাপ্পড় মারা নিয়ে এনরিকের স্বীকারোক্তি ম্যাচ শেষ, তবু উত্তেজনার শেষ হয়নি। ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে চেলসির কাছে ৩-০ গোলে হারার পর পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে জড়িয়ে পড়েন মারাত্মক এক বিতর্কে। চেলসির ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রোকে ঘিরে ঘটে সংঘর্ষ, যার এক পর্যায়ে এনরিকে তার গলা চেপে ধরেন এবং মুখে থাপ্পড় দেন—এই দৃশ্য ধরা পড়ে ‘ডিএজেডএন’-এর ক্যামেরায়। ঘটনার পরপরই পিএসজির সহকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এনরিকে। ক্যামেরায় তার ঠোঁট পড়তে দেখা যায়, ‘আমি বোকা। ও দাঁড়িয়ে ছিল, আমাকে ধাক্কা দেয়। আমি ছুঁয়ে দিই, আর সে লাফিয়ে পড়ে। ’ পরবর্তীতে এনরিকে বলেন, ‘আমি আমার অনুভূতি লুকাই না। এটা এমন এক পরিস্থিতি, যা সবাই এড়াতে পারত। আমি শুধু উত্তেজনা থামাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু স্বীকার করছি—এটাই সবচেয়ে ভালো কাজ হয়নি। ’ঘটনার সূচনা হয় পিএসজির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার সঙ্গে পেদ্রোর মুখোমুখি সংঘর্ষ থেকে। কথা কাটাকাটি শুরু হলে আশরাফ হাকিমি অঙ্গভঙ্গিতে বোঝান, পেদ্রো বেশি কথা বলছে। এর মধ্যেই এনরিকে ছুটে আসেন এবং ধাক্কাধাক্কির মাঝে প্রেসনেল কিম্পেম্বে তাকে ঠেকানোর চেষ্টা করলেও, তিনি থাপ্পড় মেরে বসেন পেদ্রোকে। ফিফার সম্ভাব্য শাস্তির মুখে এনরিকে ম্যাচ শেষে হলেও, মাঠে মারধরের জন্য ফিফার পক্ষ থেকে এনরিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন এবং দ্রুতই সিদ্ধান্ত জানানো হবে। আল খেলাইফির সাফাই পিএসজি প্রেসিডেন্ট নাসের আল খেলাইফি এনরিকেকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কোচ বিশ্বের সবচেয়ে শৃঙ্খলাপরায়ণ ও সম্মানযোগ্য ব্যক্তি। তিনি শুধু বল নিতে গিয়েছিলেন এবং ধাক্কা খেয়েছেন। কোচদের প্রতিও সম্মান থাকা উচিত। ’
ওয়াশিংটনকে হারিয়ে শিরোপা জিতল এমআই নিউইয়র্ক

ওয়াশিংটনকে হারিয়ে শিরোপা জিতল এমআই নিউইয়র্ক মাত্র ৬ বলে দরকার ১২ রান, ক্রিজে ছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও গ্লেন ফিলিপস। দেখে মনে হচ্ছিল ওয়াশিংটন ফ্রিডমই হয়তো ধরে রাখবে শিরোপা। কিন্তু চাপের মুখে মাথা ঠাণ্ডা রেখে অসাধারণ এক শেষ ওভারে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন মাত্র ২২ বছর বয়সী রুশিল উগারকার। শিরোপা ওঠে এমআই নিউইয়র্কের ঘরে। বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালে ডালাসে অনুষ্ঠিত মেজর লিগ ক্রিকেটের (এমএলসি) ফাইনালে ওয়াশিংটনকে ৫ রানে হারায় নিকোলাস পুরানের দল এমআই নিউইয়র্ক। ১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ১৭৫ রানেই থেমে যায় গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ওয়াশিংটন। শেষ ওভারে প্রথম তিন বলে মাত্র ২ রান দেন উগারকার। চতুর্থ বলে ছক্কার চেষ্টায় ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ তুলে দেন ম্যাক্সওয়েল। নতুন ব্যাটার ওবাস পিয়েনার পঞ্চম বলে রান না পেলে এক দফা উদযাপন শুরু করে নিউইয়র্ক শিবির। শেষ বলে বাউন্ডারি হজম করলেও ম্যাচটা হাতছাড়া হতে দেননি তরুণ এই পেসার। শেষ পর্যন্ত তাকে ঘিরেই শিরোপা উৎসবে মাতে দলটি। চলতি বছরে এটি এমআই ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় টি-টোয়েন্টি শিরোপা। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টুয়েন্টি লিগে চ্যাম্পিয়ন হয় এমআই কেপটাউন এবং মেয়েদের উইমেন’স প্রিমিয়ার লিগ জেতে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। ফাইনালে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে এমআই নিউইয়র্কের হয়ে ওপেনিং জুটিতে ৭২ রান যোগ করেন কুইন্টন ডি কক ও মোনাঙ্ক প্যাটেল। ২২ বলে ২৮ রান করে ফেরেন মোনাঙ্ক। ডি কক ৬ চার ও ৪ ছক্কায় খেলেন ৪৬ বলে ৭৭ রানের ঝকঝকে ইনিংস। মাঝের সময়টায় রান তোলার গতি কমে যায় পুরান, পোলার্ড ও ব্রেসওয়েলের ব্যর্থতায়। তবে শেষ দিকে কুনওয়ারজিত সিংয়ের ১৩ বলে ২২ রানের ক্যামিওতে দল পৌঁছায় ১৮০ রানে। ওয়াশিংটনের হয়ে ফার্গুসন নেন ৩টি উইকেট। জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারে দুই ওপেনার মিচেল ওয়েন ও আন্দ্রেস গাউসকে হারিয়ে চাপে পড়ে ওয়াশিংটন। এরপর রাচিন রবীন্দ্র ও জেইক এডওয়ার্ডসের ৮৪ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ২২ বলে ৩৩ রান করে ফেরেন এডওয়ার্ডস। মাত্র ২৪ বলে হাফসেঞ্চুরি করেন রাভিন্দ্রা। শেষ পর্যন্ত তার ব্যাট থেকে আসে ৪১ বলে ৭০ রান। শেষ দিকে ম্যাক্সওয়েল ও ফিলিপসের ব্যাটে জমে ওঠে লড়াই। শেষ তিন ওভারে দরকার ছিল ৪১ রান। যার মধ্যে ১৮ ও ১৯তম ওভারে ওঠে ২৯ রান। তবে শেষ ওভারে উগারকারের দৃঢ়তায় শিরোপা হাতছাড়া হয় ওয়াশিংটনের। ফিলিপস ৫ ছক্কায় ৩৪ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত থাকলেও, ম্যাক্সওয়েলের ইনিংস ছিল হতাশাজনক। ১৬ বলে মাত্র ১৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।