প্রতিটি অফিস যেন হয় জনগণের অফিস

প্রতিটি অফিস যেন হয় জনগণের অফিস চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সরকারি সকল দপ্তরপ্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন সদর আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর উপজেলা পর্যায়ের দপ্তরপ্রধানদের সাথে এটাই তার প্রথম সভা। সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন— সরকারের কোন সেক্টরে কী সেবা পাওয়া যায় তা অধিকাংশ মানুষই জানে না। ফলে তারা সঠিক সেবাটাও পায় না। সেই জায়গাটায় আমাদের কাজ করার আছে। তিনি বলেন— প্রত্যেকটি অফিস যেন জনগণের অফিস হয়। মনে রাখবেন, জনগণের যে প্রত্যাশা তা পূরণ করতে হবে। এজন্য সেবা প্রাপ্তির পথ সহজীকরণ করতে হবে। স্বচ্ছতার সাথে কাজ করতে হবে। সরকারের যেসব সুযোগ-সুবিধাগুলো আছে তা যৌক্তিক জায়গায় প্রয়োজনীয় জায়গায় আমাদের পৌঁছে দিতে হবে। নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন— নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে আমার একটি কমিটমেন্ট ছিল। তা হচ্ছে দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত, মানবিক নিরাপদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ গড়ে তুলব। এই কমিটমেন্ট বাস্তবায়নে আপনাদের সহযোগিতা চাই। একেবারে প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন। আপনারা আমার সাথে থাকবেন, উপজেলা পরিষদের একজন সদস্য হিসেবে আমিও আপনাদের সাথে থাকব। আপনাদের যেসব সমস্যা আছে আমি তা শুনব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমাদের সীমিত সামর্থ্য দিয়েই এই চাঁপাইনবাবগঞ্জকে একটি আধুনিক চাঁপাইনবাবগঞ্জ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কী ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করা যায়, সে ব্যাপারে আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন। একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। পরে নূরুল ইসলাম বুলবুল সাংবাদিকদের বলেন— আমি পৌরসভার সঙ্গেও মতবিনিময় করেছি এবং সমস্যাগুলো শুনেছি। আগামী দিনে সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করা হবে। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন। বক্তব্য দেন— সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম। সভায় সরকারি দপ্তরপ্রধানরা ছাড়াও জামায়াত নেতা সাবেক এমপি লতিফুর রহমান, সাবেক মেয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমির আবুজার গিফারী ও সেক্রেটারি আবু বকরসহ অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জকে গ্রীন-ক্লিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলা হবে- নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি

চাঁপাইনবাবগঞ্জকে গ্রীন-ক্লিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলা হবে- নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ সদর আসনের নবনির্বাচিত এমপি একং ঢাকা মহনগর দক্ষিন জামায়াতের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, নির্বাচনী ইশতহোর অনুযায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জকে গ্রীন-ক্লিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আজ সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিজ উদ্যোগে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেয়ার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বুলবুল এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সকালে শহরের বড় ইন্দারা মোড় থেকে শুরু হয়েছে নিমতলা মোড় পর্যন্ত অনুষ্ঠিত কর্মসূচীতে ঝাড়ু হাতে অংশ নেন বুলবুল। বুলবুল বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু নাগরিক দায়িত্বই নয়, এটি ঈমানের অংশ। তিনি বলেন, শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে এ ধরণের অভিযান নিয়মিত চালানো হবে। তিনি সকল নাগরিককে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলতে এবং নিজ নিজ বাড়ির আশপাশের পারিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার অনুরোধ জানান। এসবের মাধ্যমে শহর ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যসম্মত,পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে পরিণত হবে। কর্মসূচীতে জেলা জামায়াত আমীর আবু জার গিফারী,জেলা সেক্রেটারী আবু বকর সহ নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

“জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বরেন্দ্র অঞ্চলে খরা-সহনশীল কৃষি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত”

“জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বরেন্দ্র অঞ্চলে খরা-সহনশীল কৃষি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত” বরেন্দ্র অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় খরা সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি বিস্তারের লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার রানীহাটি ইউনিয়নে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। আজ সকালে রাণীহাটি ইউনিয়ন পরিষদে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এক্সটেনডেড কমিউনিটি ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রজেক্ট-ড্রাউট (ইসিসিসিপি-ড্রাউট) প্রকল্পের আওতায়, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও গ্রীণ ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)-এর সহযোগিতায় প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন ২০ জন সিসিএজি সদস্য। এ সময় সিসিএজি সদস্যদের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, এর প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা, টেকসই কৃষি অনুশীলন ও খরা সহনশীল কৃষি কৌশল সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা হয়। একইসাথে খরা সহিষ্ণু ফল ও ফসল নির্বাচন, বসতবাড়ির উঠানবাগান তৈরি, ভার্মিকম্পোস্ট প্রস্তুত এবং পানি সংরক্ষণ কৌশল নিয়ে হাতে-কলমে নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ শামসুল আলম, কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমান এবং প্রকল্পের মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন অফিসার কৃষিবিদ মোঃ ফয়জুল হক। বরেন্দ্র অঞ্চলের বাস্তব জলবায়ুগত চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে করণীয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন প্রকল্প সমন্বয়কারী বকুল কুমার ঘোষ। প্রশিক্ষণের অন্যতম বিষয় ছিল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করা, কৃষি সেচকাজে ভূপৃষ্ঠের পানির ব্যবহার বৃদ্ধি করা এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি বিস্তারে জৈব সার ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া। এই লক্ষ্যে ভার্মিকম্পোস্ট তৈরির উপায় ও উপকারিতা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি প্রয়াসের ইসিসিসিপি-ড্রাউট প্রকল্পের আওতায় চালু থাকা ঋণ কার্যক্রম সম্পর্কেও অবহিত ইউনিট-১০ এর শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ আরমান আলী। কর্মশালায় সকল ধরনের সহযোগিতা করেন সিএমও সিভিল মোঃ রোকনুজ্জামান। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ তাদের খরা পরিস্থিতিতে কৃষি অভিযোজন এবং নতুন প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি পদ্ধতি গ্রহণে অনুপ্রাণিত করবে।

নাচোলে পরিস্কার পরিছন্নতা অভিযান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন নবনির্বাচিত এমপি ড. মিজানুর রহমান

নাচোলে পরিস্কার পরিছন্নতা অভিযান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন নবনির্বাচিত এমপি ড. মিজানুর রহমান নাচোলে পরিস্কার পরিছন্নতা অভিযান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের এমপি ড. মিজানুর রহমান। আজ সকাল ৯টায় নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্তরে আবর্জনা পরিস্কার করে পরিস্কার পরিছন্নতা অভিযান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচএ ডাঃ মাহবুবুউল আলম, জামায়াতের উপজেলা আমীর প্রভাষক ই্য়াকুব আলী, পৌর জামায়াতের আমীর মনিরুল ইসলাম, নায়েবে আমীর রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্যরা। এমপি ড. মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, জামায়াতে ইসলামী সারা বাংলাদেশে ক্লিন ও গ্রীণ কর্মসূচীর অংশসূচী অংশ হিসাবে নাচোল হাসপাতালে পরিস্কার পরিছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এছাড়া হাসপাতালের দ্রুত অপারেশন চালু, এ্যামবুলেন্স সার্ভিস চালু করণ, জেনারটের সচল রাখার জন্য ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে ১০০লিটার ফুয়েল প্রদান এর আশ্বাস দেন। এছাড়া তিন তলায় রোগীদের উঠার জন্য লিফ্ট ও রেইন সিড়ি নির্মানে ব্যবস্থা করবেন বলে জানান। সেই সাথে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষে পরিস্কার পরিছন্নতা রাখার তাগিদ দেন। আগামীতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

মঞ্চ মাতাতে ভারত আসছেন শাকিরা

মঞ্চ মাতাতে ভারত আসছেন শাকিরা আবারও ভারত সফরে আসছেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা শাকিরা। আগামী ১০ এপ্রিল মুম্বাই এবং ১৫ এপ্রিল দিল্লিতে তার লাইভ পারফরম্যান্স হওয়ার কথা রয়েছে। ‘ফিডিং ইন্ডিয়া কনসার্ট ২০২৬’-এর তৃতীয় সংস্করণ আয়োজন করছে ফিডিং ইন্ডিয়া ও ডিসট্রিক্ট বাই জোমাটো। জানা গেছে, মুম্বাইয়ে শাকিরা পারফর্ম করবেন মহালক্ষ্মী রেসকোর্সে এবং দিল্লিতে জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে। আয়োজকদের মতে, এই কনসার্ট শুধু সংগীতের আসর নয়, ক্ষুধা ও অপুষ্টি নিয়ে সচেতনতা তৈরির একটি বড় উদ্যোগ। এক বিবৃতিতে শাকিরা জানান, ‘ভারতে পারফর্ম করা সব সময়ই আমার জন্য বিশেষ। মুম্বাই ও দিল্লির ভক্তদের সঙ্গে আবারও যুক্ত হতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত। ফিডিং ইন্ডিয়া কনসার্ট শুধু সংগীত নয়; এটি একসঙ্গে দাঁড়িয়ে নিশ্চিত করা যে প্রতিটি শিশু তার বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়। শিল্পী হিসেবে খ্যাতির পাশাপাশি সামাজিক কাজেও সক্রিয় শাকিরা। নিজের ‘বেয়ারফুট ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও শিশু কল্যাণে কাজ করছেন। এই লক্ষ্যই ‘ফিডিং ইন্ডিয়া কনসার্ট’-এর উদ্দেশ্যের সঙ্গে মিল রয়েছে। উল্লেখ্য, প্রায় দুই দশক আগে শেষবার ভারতে কনসার্ট করেছিলেন শাকিরা। ২০০৭ সালে তার ‘ওরাল ফিক্সেশন’ ট্যুরের অংশ হিসেবে মুম্বাইয়ে পারফর্ম করেছিলেন তিনি। সূত্র: এনডিটিভি

অভিনয় থেকে সাময়িক ‘বিরতি’, পাড়ি দিলেন যুক্তরাষ্ট্রে

অভিনয় থেকে সাময়িক ‘বিরতি’, পাড়ি দিলেন যুক্তরাষ্ট্রে শোবিজ অঙ্গনে বিরতির ঘোষণার হিড়িকের মধ্যেই এবার অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতির কথা জানালেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মাহি জানান, জীবনের এই পর্যায়ে এসে তার কিছুটা থামা প্রয়োজন। ভক্তদের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, ‘জীবনের প্রতিটি যাত্রায় মাঝেমধ্যে বিরতি দরকার হয়—এবার সেই সময়টাই নিচ্ছেন তিনি।’তবে এটি স্থায়ী বিদায় নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন অভিনেত্রী। তার ভাষায়, ‘প্রিয় ভক্তরা, জীবনের প্রতিটি যাত্রায় মাঝেমধ্যে একটু বিরতি দরকার হয়। এইবার সেই বিরতিটাই নিচ্ছি। মনটা একটু ভারী, কারণ কাজ আর তোমাদের ভালোবাসা ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ।’এই বিরতিকে যেন কেউ বিদায় না ভাবেন— এমনটাও জানিয়েছেন। শিগগিরই তিনি আবার ফিরবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হলেও মাহি বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেননি। পোস্টের মন্তব্যঘরে ভক্তরা তাকে শুভ কামনা জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, কাজের চাপ থেকে মানসিক প্রশান্তির জন্যই হয়তো এই বিরতি। এদিকে বিরতির ঘোষণা দেওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্রগামী একটি ফ্লাইটে উঠে দেশ ছেড়েছেন মাহি। সেখানে নিজের বোনের সঙ্গে কিছুদিন সময় কাটানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার।

জানুয়ারি মাসে ৫৫২ সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৬ জন নিহত

জানুয়ারি মাসে ৫৫২ সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৬ জন নিহত জানুয়ারি মাসে ৫৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৬ জন নিহত এবং ১২০৪ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে যাত্রীকল্যাণ সমিতি। এই মাসে রেলপথে ৩৭টি দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত, ২৮ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় নিহত ৭ জন, আহত ৬ জন ও ৩ জন নিখোঁজ রয়েছে। দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌপথের দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। আজ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়ক, রেল ও নৌপথে সর্বমোট ৫৯৭টি দুর্ঘটনায় ৫৮৬ জন নিহত এবং ১২৩৮ জন আহত হয়েছে। এই সময়ে ২০৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২২৩ জন নিহত, ১৩২ জন আহত হয়েছে। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৭.৮৬ শতাংশ, নিহতের ৪০.৮৪ শতাংশ ও আহতের ১০.৯৬ শতাংশ। এই মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে ঢাকা বিভাগে। ১৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩৩ জন নিহত ও ৩২৮ জন আহত হয়েছে। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে সিলেট বিভাগে। ২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৩ জন আহত হয়েছে। সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ১৫ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১৩১ জন চালক, ৮৯ জন পথচারী, ৫৩ জন পরিবহণ শ্রমিক, ৭৯ জন শিক্ষার্থী, ৯ জন শিক্ষক, ৬২ জন নারী, ৬৭ জন শিশু, ৪ জন চিকিৎসক, ৪ জন সাংবাদিক, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ১১ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে। এদের মধ্যে নিহত হয়েছে- দুজন পুলিশ সদস্য, দুজন সেনা সদস্য, একজন নৌবাহিনীর সদস্য, চারজন চিকিৎসক, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১২৭ জন বিভিন্ন পরিবহণের চালক, ৮৯ জন পথচারী, ৫৪ জন নারী, ৪৮ জন শিশু, ৫৭ জন শিক্ষার্থী, ২১ জন পরিবহণ শ্রমিক, ৮ জন শিক্ষক ও ১১ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। এই সময় সড়ক দুর্ঘটনায় সংগঠিত ৮২৯টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। এতে দেখা যায়, ২৮.৪৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৩.৬৪ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৪.৩৫ শতাংশ বাস, ১৩.৬৩ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৫.৫৪ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৯.০৪ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৫.৩০ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৪৮.৩৬ শতাংশ গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনা, ২৮.৬২ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৬.৮৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৫.৬১ শতাংশ বিবিধ কারণে, ০.১৮ চাকায় ওড়না পেছিয়ে এবং ০.৩৬ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটে। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই মাসে সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৪২.৫৭ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৭.৮৯ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৪.০৯ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৪.৫২ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৫৪ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.৩৬ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।

পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে বৃষ্টির জয়

পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে বৃষ্টির জয় এ রকম আবহাওয়ায় শ্রীলঙ্কা যে ক্রিকেটের জন্য আদর্শ নয়—এমন ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড নারী দলের সাবেক অধিনায়ক সোফি ডিভাইন। গত বছর মেয়েদের ওয়ানডে বিশ্বকাপে যে ১০ ম্যাচ বৃষ্টির কবলে পড়েছিল, তার মধ্যে সাতটিরই ভেন্যু ছিল শ্রীলঙ্কা। সেই শ্রীলঙ্কায় এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও বৃষ্টি জেঁকে বসেছে। আসরের গ্রুপ পর্বে একমাত্র যে ম্যাচটি (জিম্বাবুয়ে-আয়ারল্যান্ড) বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছিল, সেটির ভেন্যু ছিল শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়াম। আজ সুপার এইট পর্বের প্রথম ম্যাচটাও জিতে নিল বৃষ্টি। রিজার্ভ ডে না থাকায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করে সন্তুষ্ট থাকতে হলো পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডকে। এবার ভেন্যু শ্রীলঙ্কার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় খেলা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অবিরাম বর্ষণে একটি বলও মাঠে গড়ায়নি। ফলে আম্পায়াররা ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হন।

নাটকের রাতে শীর্ষে ফিরল পিএসজি

নাটকের রাতে শীর্ষে ফিরল পিএসজি ফরাসি লিগ আঁ-র শিরোপা দৌড়ে নতুন মোড়। ঘরের মাঠ পার্ক দেস প্রিন্সেসে দুর্বল মেত্জকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আবারও শীর্ষে উঠেছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। তবে এই সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে শিরোপা প্রতিদ্বন্দ্বী লেন্স। শুরুতে দুই গোলে এগিয়ে থেকেও মোনাকোর কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বসে তারা। দিনের শুরুতে পিএসজির চেয়ে এক পয়েন্ট এগিয়ে ছিল লেন্স। ঘরের মাঠে দ্বিতীয়ার্ধে ২-০-তে এগিয়ে থেকেও আগস্টের পর প্রথমবার হোম লিগ ম্যাচে হার দেখল তারা। এতেই শীর্ষস্থান পুনর্দখলের সুবর্ণ সুযোগ পায় ফরাসি জায়ান্টরা। মেৎজের বিপক্ষে তিন মিনিটেই গোলের খাতা খোলেন দিজিরে দুয়ে। ওয়ারেন জায়ের-এমেরির লম্বা পাস ধরে মাঝমাঠ থেকে দৌড়ে গিয়ে জাল খুঁজে নেন তরুণ ফরোয়ার্ড। বিরতির ঠিক আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। কর্নার থেকে লুকাস হার্নান্দেজের হেড গোলরক্ষক ঠেকালেও লাইনের কাছ থেকে বল জালে ঠেলে দেন তিনি। শেষ দিকে গঞ্জালো রামোস জোরালো ফিনিশে নিজের মৌসুমের ১১তম গোল করে জয় নিশ্চিত করেন। মোনাকোর মাঠে চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে-অফের প্রথম লেগে ৩-২ জয়ে জোড়া গোল করা দুয়ে আজ শুরু থেকেই ছিলেন একাদশে। চোটে থাকা উসমান দেম্বেলের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজনকে বিশ্রাম দেন কোচ লুইস এনরিকে। আগামী বুধবারই মোনাকোর বিপক্ষে প্লে-অফের দ্বিতীয় লেগ। ১১ ম্যাচ বাকি থাকতে পিএসজি এখন লেন্সের চেয়ে দুই পয়েন্টে এগিয়ে। তৃতীয় স্থানে থাকা লিঁও রোববার স্ট্রাসবুর্গকে হারাতে পারলে শীর্ষের সঙ্গে ব্যবধান ছয়ে নামাতে পারবে।

নতুন মৌসুমের শুরুতেই সনের দাপটে ম্লান মেসি

নতুন মৌসুমের শুরুতেই সনের দাপটে ম্লান মেসি মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) নতুন মৌসুমের শুরুতেই বৈশ্বিক দুই সুপারস্টারের লড়াই। কিন্তু আলোটা কেড়ে নিলেন সন হিউং-মিন। তার অনবদ্য পারফরম্যান্সে লস অ্যাঞ্জেলেস ৩-০ গোলে হারিয়েছে মেসির ইন্টার মায়ামিকে। আর আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী লিওনেল মেসি ম্যাচে ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজের প্রথম পূর্ণ মৌসুম খেলতে নামা দক্ষিণ কোরিয়ান তারকা শুরু থেকেই ছিলেন প্রাণবন্ত। প্রথমার্ধে ডেভিড মার্টিনেজের গোলের যোগান দেন সন। পরে ডেনিস বুয়াঙ্গা ও বদলি নাথান অর্ডাজ ব্যবধান বাড়িয়ে নিশ্চিত করেন দাপুটে জয়। ম্যাচটি দেখতে মেমোরিয়াল কলিসিয়ামে প্রায় ৭৬ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন, যা এমএলএস ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপস্থিতি। তবে যারা মেসির জাদু দেখতে এসেছিলেন, তাদের জন্য রাতটি ছিল হতাশার। বল দখলে এগিয়ে থেকেও এলএএফসির গোলমুখে তেমন হুমকি তৈরি করতে পারেনি মায়ামি। দুই সপ্তাহ আগে প্রীতি ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং চোট পাওয়ার পর পর্যাপ্ত অনুশীলনের সুযোগ না পাওয়া মেসিকে ছন্দহীনই দেখিয়েছে। শুরুটা দারুণ ছিল এলএএফসির। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে বারবার চাপে ফেলে মায়ামিকে। একবার বুয়াঙ্গার পাসে একক প্রচেষ্টায় সুযোগ পেলেও শট নিতে ব্যর্থ হন সন। তবে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল বলের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া করলে তা যায় সনের কাছে। ডিফেন্ডারদের ঢিলেঢালা রক্ষণে সময় পেয়ে ডানদিকে মার্টিনেজকে পাস দেন তিনি। ভেনেজুয়েলান তরুণ প্রথম স্পর্শেই বল জড়িয়ে দেন জালে। বিরতির আগে প্রায় একই ভঙ্গিতে আবারও গোলের কাছাকাছি গিয়েছিলেন মার্টিনেজ। আর প্রথমার্ধের একমাত্র স্পষ্ট সুযোগে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া মেসির শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা আক্রমণাত্মক হয় মায়ামি। মেসিও মাঝমাঠ থেকে খেলা সাজানোর চেষ্টা করেন, নেন দূরপাল্লার শট। একপর্যায়ে রায়ান পোর্তেউসের সঙ্গে সংঘর্ষে মুখ থুবড়ে পড়েন বিশ্বকাপজয়ী তারকা। তবে দ্রুতই উঠে দাঁড়ালে স্বস্তি ফেরে সমর্থকদের মাঝে। চাপ সামলে ধৈর্যের ফল পায় এলএএফসি। নিজেদের অর্ধ থেকে টিমোথি টিলম্যানের উঁচু থ্রু পাস ধরে বুয়াঙ্গা প্রথমে হেডে গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে বল তোলেন, পরে ঘুরে জালে পাঠান। ম্যাচ কার্যত সেখানেই শেষ। শেষদিকে সন আরেকটি অ্যাসিস্টের সম্ভাবনা তৈরি করলেও বুয়াঙ্গা সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। কিছুক্ষণ পর করতালির মধ্যেই তুলে নেওয়া হয় সনকে। এরপর বদলি নামা নাথান অর্ডাজ মায়ামির কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে এলএএফসির জয় নিশ্চিত করেন।