১৬ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে দক্ষিণ আফ্রিকা

ফুটবলের অভিজাত আঙিনায় আবারও ফিরল আফ্রিকা মহাদেশের সর্বদক্ষিণের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে হুগো ব্রোসের শিষ্যরা। বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে রুয়ান্ডাকে ৩-০ গোলে পরাজিত করার মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নেয় তারা। বেনিন এবং নাইজেরিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে পেছনে ফেলে মহাদেশের অন্যতম কঠিন গ্রুপ থেকে উত্তীর্ণ হয়ে সারা বিশ্বকে চমকে দিয়েছে ‘বাফানা বাফানা’।

১৬ বছরের দীর্ঘ খরা
২০১০ সালে নিজেদের মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপের পর এই প্রথম বিশ্বমঞ্চে দেখা যাবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। মাঝে কেটে গেছে দীর্ঘ ১৬টি বছর। এর আগে ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স এবং ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল তারা। ২০০২ সালে তারা ১৭তম স্থান অর্জন করেছিল, যা এখন পর্যন্ত তাদের সেরা সাফল্য। এবার সেই রেকর্ড ভাঙার লক্ষ্যে মাঠে নামবে দলটি।

 

ধারাবাহিকতা ও নতুন প্রজন্মের উত্থান
বাছাইপর্বে ৩০ পয়েন্টের মধ্যে ১৮ পয়েন্ট সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের শৃঙ্খলা ও মানসিক শক্তির পরিচয় দিয়েছে। পার্সি টাউ, লাইল ফস্টার এবং তেবোহো মোকোয়েনার মতো তরুণ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নেতৃত্বে এক নতুন ফুটবলীয় দর্শনের জন্ম দিয়েছে দলটি। জোহানেসবার্গের রাস্তায় হাজার হাজার সমর্থকের ভুভুজেলা আর উল্লাস প্রমাণ করে দিচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকান ফুটবলের হারানো গৌরব ফিরে এসেছে। বিশ্বকাপে ১২ জুন মেক্সিকো, ১৮ জুন চেক প্রজাতন্ত্র এবং ২৫ জুন দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকা।

প্লেয়ার টু ওয়াচ
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে এখন পর্যন্ত ২৬ ম্যাচে ১০ গোল করেছেন লাইল ফস্টার। এই সেন্টার ফরওয়ার্ড বর্তমানে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল বার্নলিতে খেলছেন। বার্নলির হয়ে ২০২৫-২৬ মৌসুমে তিনি ২৫ ম্যাচে তিন গোল ও দুই এসিস্ট করতে সক্ষম হয়েছেন। পার্সি টাউ যিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৪৭ ম্যাচে গোল করেছেন ১৫টি। এই রাইট উইঙ্গার বর্তমানে ভিয়েতনামের ক্লাব ‘থেপ জান নাম দিন এফসির’ হয়ে খেলছেন। দলটির বেলজিয়ান কোচ হুগো ব্রোস মূলত ৪-২-৩-১ ফরমেশনে দল সাজিয়ে থাকেন।

২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন লক্ষ্য
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপটি হবে ৪৮ দলের এক বিশাল মহাযজ্ঞ। আফ্রিকার ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ দল নিয়ে এই আসরে অংশ নেবে তারা। দক্ষিণ আফ্রিকার লক্ষ্য এখন স্পষ্ট, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বে (রাউন্ড অব ১৬) পৌঁছানো। এক গতিশীল ফুটবল শৈলী এবং লড়াকু মানসিকতা নিয়ে বিশ্বমঞ্চে আবারও শোনা যাবে তাদের সেই চিরাচরিত স্লোগান ‘শশোলোজা’!
সূত্র: বেইন স্পোর্টস