পূজা চেরির বাবার বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ

সিনেমা নির্মাণের নামে ১৩ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে চিত্রনায়িকা পূজা চেরির বাবা দেবু প্রসাদ রায়ের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান। এজাহার সূত্রে জানা যায়, সিনেমা প্রযোজনার ব্যবসার কথা বলে ভুক্তভোগী ও তার বন্ধু মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন পশ্চিম মাটিকাটার বাসায় এসে দেবু প্রসাদ রায় নগদ ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ধার হিসেবে গ্রহণ করেন। পরে একই ব্যবসার কথা বলে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডের মাধ্যমে আরও ৫০ লাখ এবং ২০২৪ সালের ১৫ মে ১০০ টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প সম্পাদনের মাধ্যমে নগদ ৬ কোটি টাকা গ্রহণ করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিকাশ, নগদ ও রকেটের একাধিক নম্বরে মোট ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পাঠানো হয়। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ বিকেল ৩টার দিকে অভিযুক্তের অনুরোধে আরও ১০ হাজার ২০০ টাকা বিকাশে পাঠান তিনি।

 

ভুক্তভোগীর দাবি, দীর্ঘদিন পার হলেও অভিযুক্ত কোনো টাকা ফেরত দেননি। টাকা চাইলে নানা ধরনের তালবাহানা করেন এবং পরে হুমকি দিতে থাকেন। এতে তার সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে মোট ১৩ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এজাহারে আরও বলা হয়, গেল ১৭ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন ইসিবি চত্বরে অভিযুক্তকে দেখতে পেয়ে টাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। একপর্যায়ে গালাগাল ও মারধরের চেষ্টা করলে আশপাশের লোকজন তাকে আটক করে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ এসে তাকে থানায় নিয়ে যায়। রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা দৈপায়ন মণ্ডল তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সিনেমা বানানোর নাম করে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ১২ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিকাশ, ব্যাংকসহ অন্যান্য মাধ্যমে আরও ১ কোটি ২০ লাখ ২ হাজার ২০০ টাকা গ্রহণ করা হয়। সব মিলিয়ে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ২০ লাখ ২ হাজার ২০০ টাকা।

তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে পূজা চেরি বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পূজা চেরির পরিচিতি ও পূর্ব সম্পর্কের কারণে টাকা দেওয়ার বিষয়টি জানিয়ে অভিযোগকারী মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি আমার অভিযোগের কথা থানায় জানিয়ে মামলা করেছি। বাকিটা আদালতে গিয়ে কথা বলব। অভিযোগের বিষয়ে দেবু প্রসাদ রায়কে মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। বাবার অভিযোগ নিয়ে পূজা চেরি বলেন, ‘আপনারা যেই অভিযোগ কিংবা মামলার বিষয়ে কথা বলছেন তার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নাই। আপনারা আমাকে টানবেন না। প্রথম কথা হচ্ছে, মামলাটির তদন্ত চলমান। বিষয়টি আমার পরিবারকেন্দ্রিক হলেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য আমার জানা নাই। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান। বিষয়টি বিজ্ঞ আদালত দেখবেন এবং সিদ্ধান্ত নিবেন।