যুক্তরাষ্ট্রের ইউটার্ন, বাড়ালো রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর ছাড়ের মেয়াদ
বাড়াবে না বলেও রাশিয়ার তেল কেনায় ছাড়ের মেয়াদ আরও এক মাস বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকটে পড়া দেশগুলো এ সময় সাগর থেকে রাশিয়ার তেল কেনার সুযোগ পাবে। স্থানীয় সময় গতকাল রাতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এ–সংক্রান্ত একটি অনুমতিপত্র পোস্ট করা হয়েছে। অনুমতিপত্রে বলা হয়, গ্তকাল থেকে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত সমুদ্রে জাহাজ থেকে রাশিয়ার তেল ও পরিশোধিত তেলজাত পণ্য কেনা যাবে। অথচ মাত্র দুই দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, রাশিয়ার তেল কেনার ওপর ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের এই ছাড়ের সুযোগে দেশগুলো শুক্রবার থেকে ১৬ মে পর্যন্ত জাহাজে তোলা রাশিয়ার তেল ও পেট্রলিয়াম পণ্য কিনতে পারবে। এর আগে বিশ্ব বাজারে সৃষ্ট চাপ মোকাবেলায় রাশিয়ার তেল নিষেধাজ্ঞায় ৩০ দিনের ছাড়া দিয়েছিল ওয়াশিংটন যা ১১ এপ্রিল শেষ হয়েছে। ইরান, কিউবা ও উত্তর কোরিয়া সম্পর্কিত লেনদেন ওই ছাড়ের বাইরে রাখা হয়েছিল, সেটিই আবার নবায়ন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেয় ইরান। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয় ও জ্বালানির দাম চড়তে শুরু করে। বিশ্বজুড়ে সৃষট সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টার অংশ হিসেবে মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার তেল নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিতে বাধ্য হয়।
বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে। মূলত তারাই রাশিয়ার মতো নিষেধাজ্ঞায় থাকা উৎপাদকদের বাজারে প্রবেশ করার অনুমতি দিতে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের এক মুখপাত্র বলেছেন, “(ইরানের সঙ্গে) আলোচনা গতিশীল হওয়ায়, যাদের প্রয়োজন ট্রেজারি তাদের জন্য তেল সহজলভ্য করতে চেয়েছে।”
মাত্র দুই দিন আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট ব্যাসেন্ট বলেছিলেন, ওয়াশিংটন রাশিয়া তেল ও ইরানি তেলের নিষেধাজ্ঞা ছাড় আর নবায়ন করবে না। ইরানের তেলেও ওপর ছাড়ের মেয়াদ রোববার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।গ্তকাল ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা জানানোর পর বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রায় ৯০ ডলারে নেমে আসে। কিন্তু ইতোমধ্যে ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে জ্বালানি সরবরাহ সংকট তৈরি হয়ে গেছে বলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে। আজ ৮ সপ্তাহে প্রবেশ করা ইরান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের ৮০টির বেশি তেল ও গ্যাস স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এরমধ্যে ইরান জানিয়েছে, ইরানি বন্দরগুলো থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে না নিলে তারা আবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে।।
তেলের উচ্চ মূল্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহকর্মী রিপাবলিকানদের জন্যও একটি হুমকি হয়ে আছে। এর পাশাপাশি চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে জি২০ ভুক্ত মিত্র দেশগুলো, বিশ্ব ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বৈঠকের ফাঁকেও তেল ছাড়ের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ জানিয়েছিল।