দুর্ভিক্ষের শঙ্কা: একবেলা খেয়ে বেঁচে আছেন সুদানের লাখো মানুষ

সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধ তৃতীয় বছরে পা দিতে চলেছে। যার প্রভাবে খাদ্য সংকট পৌঁছেছে চরম পর্যায়ে। যুদ্ধের কারণে চাষাবাদ ব্যাহত ও বাজার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। খাদ্যকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় ‘একবেলা খেয়ে বেঁচে থাকা’ এখন দেশটির অনেক পরিবারের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়নমূলক সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি দুর্ভিক্ষে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে দেশটির নর্থ দারফুর ও সাউথ কর্ডোফান অঞ্চলের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। অনেক পরিবার পুরো দিন না খেয়েও থাকছেন বলে জানিয়েছে একাধিক এনজিও।

অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার, কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি), মার্সি কর্পস ও নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের (এনআরসি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের কারণে খাদ্য উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সংকট দিন দিন বাড়ছে। অনেক মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে গাছের পাতা ও পশুখাদ্য পর্যন্ত খেতে বাধ্য হচ্ছেন। এই অবস্থা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে সংকট অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুদানের মোট জনসংখ্যার ৬১.৭ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২৮.৯ মিলিয়ন মানুষ বর্তমানে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পরিবারগুলো শুধু একবেলা খাবার খেতে পাচ্ছেন। এর মধ্যে প্রায় ৫ মিলিয়ন মানুষ দুর্ভিক্ষের খুব কাছাকাছি রয়েছে। উম বারু ও কেরনোয় শিশুদের তীব্র অপুষ্টির হার দুর্ভিক্ষের সীমা ছাড়িয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন আনে নারীরা। খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেকে ধর্ষণ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। পুরুষপ্রধান পরিবারের তুলনায় নারীপ্রধান পরিবারগুলো তিনগুণ বেশি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে অপুষ্টি এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে দ্রুত। এনজিও সংস্থাগুলো জোর দিয়ে বলেছে, যুদ্ধবিরতি ও মানবিক করিডোর খুলে দেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুদানে গৃহযুদ্ধের অন্যতম কারণ সেনাবাহিনী ও আধা-সামরিক বাহিনীর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। ২০১৯ সালে ওমর আল বশিরকে উৎখাতের পর বেসামরিক-সামরিক যৌথ সরকার গঠিত হয়। কিন্তু ২০২১ সালে আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান ও মোহাম্মদ হামদান দাগালো সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। পরবর্তী সময়ে র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) সেনাবাহিনীতে একীভূত করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়। এই দ্বন্দ্বই দেশজুড়ে সশস্ত্র সংঘাতের সৃষ্টি করে এবং পরে তা গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।