মানুষের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রকৃতি

নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য—পৃথিবী এখন মানুষের চাহিদার চাপ সামলাতে প্রায় সীমায় পৌঁছে গেছে। বর্তমানে বিশ্বের জনসংখ্যা প্রায় ৮৩০ কোটি। কিন্তু গবেষকদের মতে, প্রকৃতি যত দ্রুত নিজেকে পুনর্গঠন করতে পারে, মানুষ তার চেয়ে অনেক দ্রুত সম্পদ ব্যবহার করছে ফ্লাইন্ডারস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কোরি ব্র্যাডশ’র নেতৃত্বে করা এই গবেষণা এনভাইরনমেন্টাল রিসার্স লেটারস -এ প্রকাশিত হয়েছে। দুই শতাব্দীরও বেশি সময়ের জনসংখ্যার তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, বর্তমানে মানুষের পরিবেশগত চাপ পৃথিবীর জৈব সক্ষমতার (প্রকৃতি যত সম্পদ পুনরায় তৈরি করতে পারে) তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। সহজভাবে বললে, বর্তমান জীবনধারা টিকিয়ে রাখতে পৃথিবীর মতো প্রায় ১.৮টি গ্রহ দরকার।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৫০ সালের পর জনসংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করলে মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে যে ভারসাম্য ছিল, তা ভেঙে যায়। বিজ্ঞানীরা এটিকে ‘নেতিবাচক জনসংখ্যাগত ধাপ’ বলে উল্লেখ করেছেন। বর্তমান ধারা চলতে থাকলে ২০৬০-এর শেষ ভাগ বা ২০৭০-এর দিকে বিশ্ব জনসংখ্যা ১,১৭০ থেকে ১,২৪০ কোটির মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। অধ্যাপক ব্র্যাডশ বলেন, পৃথিবী এখন যেভাবে সম্পদ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা আর বহন করতে পারছে না। এতে পরিবেশগত ঋণ (প্রকৃতির ওপর অতিরিক্ত চাপ), জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস এবং পরিবেশের ক্ষয় দ্রুত বাড়ছে।

গবেষকদের মতে, যদি সবাই পরিবেশের সীমার মধ্যে থেকে স্বাচ্ছন্দ্যময় ও অর্থনৈতিকভাবে নিরাপদ জীবনযাপন করতে চায়, তাহলে টেকসই বিশ্ব জনসংখ্যা হওয়া উচিত প্রায় ২৫০ কোটি। সমাধান হিসেবে তারা শিক্ষার প্রসার, পরিবার পরিকল্পনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, প্রাকৃতিক পরিবেশ পুনরুদ্ধার, টেকসই নগর পরিকল্পনা এবং খাদ্য উৎপাদন ও ভোগব্যবস্থায় সংস্কারের কথা বলেছেন। গবেষকদের সতর্কবার্তা, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংকট আরও গভীর হবে। তবে দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করলে এখনো ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।