৩ উপজেলায় একযোগে শুরু হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলায় শুরু হয়েছে হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি। গতকাল রবিবার সকাল ৯টায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন, জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। এসময় উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন, জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মশিউর রহমান, হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আব্দুস সামাদসহ অন্যরা।

আগামী ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় তিন সপ্তাহব্যাপী টানা এই টিকা দেয়া হবে। এ জন্য জেলা হাসপাতাল ও  জেলার দুই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩টি স্থায়ী  ও এই ৩ উপজেলায় ৩৬টি অস্থায়ী কেন্দ্র খোলা হয়েছে। জেলার অন্য শিশুদের পর্যায়ক্রমে এ টিকার আওতায় আনা হবে।  দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলা প্রথম পর্যায়ে টিকার আওতায় এসেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন জানান, সরকার সারা দেশে ৩০টি উপজেলায় বিশেষ এ টিকাদান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এরমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট রয়েছে। আজ উদ্বোধনী দিনে সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা, গোবরাতলা, ঝিলিম, চরঅনুপনগর ও আলাতুলি ইউনিয়নে, শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর, মনাকষা, বিনোদপুর, পাঁকা ও উজিরপুর এবং ভোলাহাট উপজেলায় ভোলাহাট ও গোহালাবাড়ি ইউনিয়নে টিকা দেয়া হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই তিনটি উপজেলায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৮৭ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। তিনি আরো জানান, এর মধ্যে সদর উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে ৫৬ হাজার ৩১৮ জনকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ১৬ হাজার ২০৮ জনকে, শিবগঞ্জ উপজেলায় ৭৩ হাজার ৭৭ হাজার জনকে ও ভোলাহাট উপজেলায় ১২ হাজার ৬৮৪ জনকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। অন্যদিকে নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলার পূর্বে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে টিকা দেয়া হবে।

এদিকে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনের পর জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান সরকার এবং সরকারের স্বাস্থ্যবিভাগসহ আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আরো কোনো শিশু যেন হাম রোগে আক্রান্ত না হয়। আপনারা খেয়াল রাখবেন কোনোভাবে যেন প্যানিক না ছড়ায়।