শিবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় বন্য শুকরের হামলায় ৬ জন আহত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বন্য শুকরের আক্রমণে এক নারীসহ ৬ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে স্থানীয় গ্রামবাসী একটি বন্য শুকরকে পিটিয়ে হত্যা করে। ধারণা করা হচ্ছে, আহতদের ওপর হামলাকারী শুকরটিই এটি।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাতরশিয়া বিল (কুমিরাদহ বিল) সংলগ্ন একটি আমবাগানে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের মতে, কাঁটাতারের বেড়াবিহীন সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের জঙ্গল থেকে আসা একটি দলছুট শুকর গ্রামে ঢুকে পড়ে এবং হামলা চালায়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন শ্যামপুর ইউনিয়নের বড়হাদিনগর গ্রামের চামড়া ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন, একই ইউনিয়নের হুদমা বাবুপুর গ্রামের এক গৃহবধূ, মনাকষা ইউনিয়নের কামাত গ্রামের কৃষক জনি, ডালিম ও মুলি এবং খোন্দা গ্রামের কৃষক খাইরুল। আহতদের মধ্যে অন্তত দুজনকে গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় দুই বছর ধরে ভারতের দিক থেকে বন্য শুকরের দল রাতের আঁধারে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের জমিতে ঢুকে ফসলের ক্ষতি করে এবং ভোরের আগে ফিরে যায়। তবে গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিনের বেলাতেই শুকরের আক্রমণে ৬ জন আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ রুহুল আমীন জানান, আহতের ঘটনা প্রশাসন ও বিজিবিকে জানানো হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও সীমান্ত এলাকায় বন্য শুকরের উপদ্রব বৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌফিক আজিজ বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই বিজিবি ও জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হবে এবং প্রয়োজন হলে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। অন্যদিকে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, এ বিষয়ে গ্রামবাসী চাইলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
সীমান্তবর্তী দূর্লভপুর, মনাকষা ও বিনোদপুর ইউনিয়নে বন্য শুকরের উপদ্রব ক্রমেই বাড়ছে, যা স্থানীয়দের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।