চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশুদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে হাম, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসা সেবায় চাপ বেড়েছে। চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে মোট ২৯৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন, যা নির্ধারিত শয্যার তুলনায় অনেক বেশি। এর মধ্যে হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে ২৭ জন শিশু ভর্তি হয়েছে—যাদের মধ্যে ১৯ জন ছেলে ও ৮ জন মেয়ে। আগের দিন ভর্তি ছিল ৭৪ জন। সুস্থ হয়ে ১৩ জন হাসপাতাল ছেড়েছে, আর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে হামে আক্রান্ত ৭৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৯৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঢাকার মহাখালীতে পাঠানো নমুনার মধ্যে ৩১টি রিপোর্ট পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ১৫ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, যেসব শিশু নিয়মিত টিকা নেয়নি, তাদের মধ্যেই বেশি হামের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় আগামী মে মাসে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালু হবে। এবার ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হবে, যেখানে আগে ৯ ও ১৫ মাস বয়সে দুই ধাপে টিকা দেওয়া হতো।
অন্যদিকে, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত নবজাতকের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০ জন নবজাতক ভর্তি ছিল, নতুন করে এসেছে ৭ জন। সুস্থ হয়ে ১২ জন ছাড়পত্র পেয়েছে, বর্তমানে ভর্তি আছে ২৫ জন।
শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণেও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত একদিনে ২৯ জন এই সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৯ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী।
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও কম নয়। সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে জেলা হাসপাতালে ৫৫ জন ভর্তি হয়েছেন এবং বর্তমানে সেখানে ৬৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় গুরুতর রোগীদের দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ড, নবজাতক ও হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগীর ভিড় উপচে পড়ছে। স্বজনদের উপস্থিতিতে ওয়ার্ডগুলোতে ভ্যাপসা পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামের প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে জ্বর, শরীর ব্যথা, চোখ লাল হওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া উল্লেখযোগ্য। আক্রান্ত শিশুরা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খাওয়ার আগ্রহ কমে যায়।