ইরানের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী: প্রাথমিক তদন্ত

ইরানের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্র, প্রাথমিক তদন্তে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। মার্কিন কর্মকর্তা সূত্রে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ইরানের ওই স্কুলে প্রাণঘাতী টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল মার্কিন বাহিনীই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথভাবে ইরানে হামলার প্রথম দিনেই এই ঘটনাটি ঘটে। ইরানের মিনাবে শাজারা তায়েব প্রাথমিক স্কুলে গিয়ে পড়ে ক্ষেপণাস্ত্র। ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৭৫ জন নিহত হয়। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই ওই প্রাথমিক স্কুলের ছাত্রী। প্রাথমিকভাবে ‍যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও দুই দেশের কেউই এর দায় স্বীকার করেনি।  পরে জানা যায়, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়েছিল ওই স্কুলে। বস্তুত, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করে আমেরিকা। বিশ্বের আরও কিছু দেশের হাতেই এই ক্ষেপণাস্ত্র থাকলেও ইসরায়েলের কাছে তা নেই।

বর্তমানে আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতর এই হামলার তদন্ত চালাচ্ছে। ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ জানিয়েছে, ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্র। প্রাথমিক অনুসন্ধানে এমন তথ্যই উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। জানা গেছে, ‘ভুল’ করেই ওই স্কুলে হামলা করেছিল মার্কিন বাহিনী। ওই স্কুল লাগোয়া এক ইরানি ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছিল মার্কিন বাহিনী। দাবি করা হচ্ছে, যেখানে স্কুল ভবনটি রয়েছে, সেটিও আগে ইরানের সেনাঘাঁটিরই অংশ ছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া সেই পুরনো তথ্যের উপর ভিত্তি করেই নিশানা স্থির করেছিলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মকর্তারা।

যদিও ওই সরকারি সূত্রের দাবি, এগুলো একেবারেই প্রাথমিক তথ্য। পুরনো তথ্য কেন যাচাই করে নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্নেরও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও উত্তর মেলেনি বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তারা। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের পাশাপাশি বেশ কিছু নিরপেক্ষ সংস্থাও নিজেদের মতো করে ইরানের স্কুলে হামলার তদন্ত করছে। তেমন এক সংস্থা ‘বেলিংক্যাট’। তারাও প্রাথমিকভাবে দাবি করছে, হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী।

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের স্কুলে আছড়ে পড়ার তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অস্বস্তি বৃদ্ধি পেয়েছে মার্কিন প্রশাসনের। ট্রাম্পকেও এ বিষয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। যদিও তার দাবি, কী হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে তিনি এ-ও স্মরণ করিয়ে দেন যে, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র শুধু যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নেই। অন্য কিছু দেশের হাতেও এটি আছে বলে দাবি ট্রাম্পের। যদিও পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘর্ষে জড়িত দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে।