বৃথা গেল বেথেলের ঝড়ো সেঞ্চুরি, ফাইনালে ভারত

 

শেষ রক্ষা হলো না ইংল্যান্ডের। ২৫৪ রানের পাহাড়সম টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে সমানতালে খেলেও শেষপর্যন্ত ভারতের কাছে তারা ফাইনালের টিকিট খুইয়েছে।ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে বিশ্বকাপের আয়োজকরা। এবারের ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। আগামী রবিবার (৮ মার্চ) আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে নামবে দুই দল। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টস হেরে ৭ উইকেটে ২৫৩ রান করেছিল ভারত, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। জবাবে জ্যাকব বেথেলের নয়নাভিরাম সেঞ্চুরির পরও ইংল্যান্ড ৭ উইকেটে ২৪৬ রানে থেমেছে। ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নামে ভারত। সুবিধা করতে পারেননি ওপেনার অভিষেক শর্মা। মাত্র ৯ রান করে আউট হন তিনি। শুরুতেই উইকেট হারালেও দলকে চাপে পড়তে দেননি স্যাঞ্জু স্যামসন ও ইশান কিষাণ। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আসে ৯৭ রান। মাত্র ১৮ বলে ৩৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন ইশান।এরই মধ্যে ফিফটি তুলে নেন স্যামসন। সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন ডানহাতি ব্যাটার। কিন্তু সেঞ্চুরির আক্ষেপটা থেকে যায় তার। উইল জ্যাকসের করা বলে ফিল সল্টের হাতে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে ৮৯ রান করেন তিনি। মাত্র ৪২ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি আটটি চার এবং সাতটি ছয়ে সাজানো।

দ্রুত রান তোলার জন্য শিবম দুবেকে চার নম্বরে ব্যাট করার জন্য পাঠানো হয়। আস্থার প্রতিদান দেন তিনি। মাত্র ২৫ বলে একটি চার ও চারটি ছয়ের সাহায্যে করেন ৪৩ রান। তবে সুবিধা করতে পারেননি দলনেতা সূর্যকুমার যাদব। ৬ বলে ১১ রান করেন তিনি। শেষদিকে ব্যাট হাতে ক্রিজে ঝড় তোলেন হার্দিক পান্ডিয়া ও তিলক ভার্মা। হার্দিক ১২ বলে ২৭ ও তিলক ৭ বলে ২১ রান করেন। এছাড়া অক্ষর প্যাটেল ২ ও বরুণ চক্রবর্তী শূন্যরানে অপরাজিত থাকেন। ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নেন উইল জ্যাকস ও আদিল রশিদ। জোফরা আর্চার পেয়েছেন একটি করে উইকেট। বিশাল টার্গেট নিয়ে খেলতে নেমে শুরুটাই ভালো হয়নি ইংল্যান্ডের। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই সাজঘরের পথ ধরেন ওপেনার ফিল সল্ট। হার্দিক পান্ডিয়ার করা বলে অক্ষর প্যাটেলের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। আউট হওয়ার আগে করেন ৫ রান। আর দ্বিতীয় উইকেটে ব্যাট করতে নেমে দলনেতা হ্যারি ব্রুক ফেরেন ৬ বলে ৭ রান। পাওয়ার প্লেতে আরও একটি উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।

বরুণ চক্রবর্তীর করা বলে বোল্ড আউট হওয়ার আগে ১৭ বলে ২৫ রান করেন জস বাটলার। ৩ উইকেট হারালেও রানের খাতা ঠিকই সচল রাখে ইংলিশরা। ৬ ওভারে আসে ৬৮ রান। এরপর ব্যাট হাতে মাঠে নেমে তান্ডব শুরু করেন জ্যাকব বেথেল। তাকে সঙ্গ দেন টম ব্যান্টন ও উইল জ্যাকস। চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে এই সেঞ্চুরিয়ান একাই টেনে নিয়ে যেতে থাকেন দলকে। তাকে সঙ্গ দেন টম ব্যান্টন ও উইল জ্যাকস। বেথেলকে রেখে সাজঘরে ফেরেন দুজনই। ৫ বলে ১৭ রান করেন টম ব্যান্টন। ৫ বলে ১৭ রান করেন টম ব্যান্টন। আর ২০ বলে ৩৫ রান করেন জ্যাকস। ১৪ বলে ১৮ রান করেন স্যাম কারান। ৪৮ বলে ৮ চার ও ৭ ছক্কায় দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১০৫ রান করেন বেথেল।কিন্তু ভাগ্য সহায় হলো না। অবশ্য জাসপ্রিত বুমরাহর শেষ দুই ওভার আর ১৯তম ওভারে এসে ভারতকে হারের ভয় থেকে রেহাই দেন হার্দিক পান্ডিয়া। শেষ ৫ ওভারে যখন ৬৯ রান দরকার, তখন বুহরাহ দুই ওভার বল করে দেন মাত্র ১৪ রান, আর হার্দিক ১ উইকেট নিয়ে দেন ৯ রান। অবশ্য হার্দিককে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে যদি স্যাম কারান ধরা না পড়তেন তাহলে হয়তো ম্যাচের চিত্রই বদলে যেত। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন হার্দিক পান্ডিয়া। আর একটি করে উইকেট নেন চারজন বোলার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত: ২০ ওভারে ২৫৩/৭ (স্যামসন ৮৯, দুবে ৪৩, কিষান ৩৯, পান্ডিয়া ২৭; জ্যাকস ২/৪০, আদিল ২/৪১, আর্চার ১/৬১)।
ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ২৪৬/৭ (বেথেল ১০৫, জ্যাকস ৩৫, বাটলার ২৫; পান্ডিয়া ২/৩৮, বুমরা ১/৩৩, অক্ষর ১/৩৫)।
ফল: ভারত ৭ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সঞ্জু স্যামসন (ভারত)।