মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা: অনিশ্চয়তার মুখে আর্জেন্টিনা-স্পেন ‘ফিনালিসিমা’

ফুটবল বিশ্বের বহুল প্রতীক্ষিত লড়াই ‘ফিনালিসিমা’ নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে অনিশ্চয়তার মেঘ। আগামী ২৭ মার্চ কাতারের দোহায় ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং দক্ষিণ আমেরিকার রাজা আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ইরানি হামলার প্রেক্ষাপটে কাতার সব ধরনের খেলাধুলা স্থগিত ঘোষণা করায় এই মেগা ম্যাচটি এখন ভেস্তে যাওয়ার উপক্রমে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশটিতে সব ধরনের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট, প্রতিযোগিতা এবং ম্যাচ স্থগিত থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় লিগের পাশাপাশি দোহায় নির্ধারিত হাই-প্রোফাইল আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোও সরাসরি প্রভাবের মুখে পড়েছে। অ্যাথলেট এবং দর্শকদের নিরাপত্তাকেই এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে আয়োজক দেশটি। ম্যাচ শুরু হতে হাতে আছে মাত্র ২৬ দিন। বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশপথ সংকুচিত করায় স্পেন ও আর্জেন্টিনা দলের কাতার পৌঁছানো নিয়ে বড় ধরনের লজিস্টিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।
কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো তদারকি করলেও, ফিনালিসিমার মতো বড় আসরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দেশটির ‘সুপ্রিম কমিটি’। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে ম্যাচটি বাতিল ঘোষণা করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না তাদের সামনে।
স্পেন দলের প্রস্তুতি পরিকল্পনাও এতে বড় ধাক্কা খেয়েছে। এই উইন্ডোতে মিসরের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল তাদের।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো আন্তর্জাতিক সূচিই এখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর ঝুলে আছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। উভয় সংস্থাই বর্তমানে তাদের অংশগ্রহণ চুক্তির শর্তাবলি এবং বীমা পলিসিগুলো পর্যালোচনা করছে। সাধারণত বড় ম্যাচের ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত নিরাপত্তা ঝুঁকি বা বাতিলের কারণে আর্থিক ক্ষতি এড়াতে এ ধরনের শক্তিশালী বীমা সুরক্ষা নিশ্চিত করা থাকে।
আয়োজক দেশ কাতার থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বাতিলের নোটিশ পায়নি ইউরোপীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফা ও কনমেবল। ফুটবল নিয়ন্ত্রক এই দুই সংস্থার নীরবতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পর্দার আড়ালে হয়তো বিকল্প ভেন্যু বা নতুন কোনো তারিখ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে হাতে সময় খুব কম থাকায় শেষ মুহূর্তে কী ঘটে, তা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না ফুটবল ভক্তদের।