ইরানে সীমিত সামরিক হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প

ইরানের নেতাদের ওপর পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে একটি চুক্তিতে সম্মত হতে চাপ দেওয়ার জন্য সীমিত সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কথা বলেছেন। কর্মকর্তারা হামলার সম্ভাবনার কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আগামী সম্ভবত ১০ দিনের মধ্যে বিশ্ব জানতে পারবে যে, কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো হবে নাকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেবে। ’ আমেরিকা এই অঞ্চলে তার সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করছে। আমেরিকা এবং তার ইউরোপীয় মিত্ররা সন্দেহ করছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা ইরান সর্বদা অস্বীকার করে আসছে। মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা সুইজারল্যান্ডে এই বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেছেন এবং বলেছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরান ‘সম্ভাব্য চুক্তির একটি খসড়া’ প্রস্তুত করছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কাছে হস্তান্তর করবে। জেনেভায় আলোচনাটি অনুষ্ঠিত হয় যখন আমেরিকান বাহিনী ইরানের আশেপাশে তাদের উপস্থিতি বৃদ্ধি করে চলেছে। মোতায়েনের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ, ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডও রয়েছে, যা এই অঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীও মোতায়েনের মধ্যে রয়েছে। ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধ জাহাজ এবং যুদ্ধবিমানের সংখ্যাও বৃদ্ধির পাচ্ছে। স্যাটেলাইট ছবিতেও দেখা গেছে, ইরান সামরিক স্থাপনাগুলোকে শক্তিশালী করেছে এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন বাহিনীকে হুমকি দিয়ে বার্তা পোস্ট করেছেন। ট্রাম্প সপ্তাহে বেশ কয়েকবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। তবে তার মন্তব্য সবসময় বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নেয় না এবং অনেক সময় একে অপরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়। তিনি সাংবাদিকদের মনে করিয়ে দিতে পছন্দ করেন যে, সম্ভাব্য প্রতিপক্ষরা যেন তার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে না পারে, সে কারণে তিনি তার উদ্দেশ্য নিজের ও ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেন। বৃহস্পতিবার সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে কথা বলতে যাচ্ছি না। আমরা কোনো না কোনোভাবে একটি চুক্তি করব—অথবা কোনো চুক্তিই করব না।’ এমনকি যদি কোনো অভিযান পরিচালিত হয়, তবুও তার সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্য কী হবে, তা তিনি এখনো স্পষ্ট করেননি। জানা গেছে, মার্কিন কর্মকর্তারা তাকে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সম্ভাব্য অভিযানের বিভিন্ন বিকল্প উপস্থাপন করেছেন। অতীতে বিস্ময়ের উপাদান ধরে রাখতে ট্রাম্প সময়সীমাকেও কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। গত বছরের জুলাইয়ে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর সময় হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা তখনও সফল আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলছিলেন। মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা হামলার আগের দিন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট ট্রাম্পের একটি বিবৃতি পড়ে শোনান। সেখানে তিনি বলেন, ‘নিকট ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে বা নাও হতে পারে। তাই আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আমি সিদ্ধান্ত নেব যে আমি এগোব কি না।’ নিকট ভবিষ্যতে যেকোনো হামলা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অভ্যন্তরীণভাবে একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ে আসতে পারে। জরিপে দেখা যাচ্ছে, ক্রমবর্ধমান সংখ্যক আমেরিকান তার অভিবাসন ও অর্থনীতি পরিচালনার ধরন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।