টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ : টুর্নামেন্ট সেরা কাকে দেখছেন পন্টিং

আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ব্যাটসম্যান অভিশেক শার্মা। তার ধারেকাছে আপাতত নেই কেউ। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তাকে রানের তালিকায় সবার ওপরে দেখছেন রিকি পন্টিং। অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তির ধারণা, টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারও জিতে নেবেন ভারতের এই আগ্রাসী ওপেনার। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যখন ভারত শিরোপা জয় করে, অভিশেকের তখন ভারতের হয়ে অভিষেকই হয়নি। বিশ্বকাপের পরপর জিম্বাবুয়ে সফর দিয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলার শুরু। প্রথম ম্যাচে শূন্যতে ফিরলেও পরের ম্যাচেই সেঞ্চুরি করেন ৪৬ বলে। সেই থেকে ছুটছেন তিনি ম্যাচের পর ম্যাচ বোলারদের কচুকাটা করে। ২ সেঞ্চুরি ও ৮ ফিফটিতে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার রান ১ হাজার ২৯৭। ব্যাটিং গড় ৩৭.০৫, স্ট্রাইক রেট ১৯৪.৭৪।  বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যান হলেও খুব অভিজ্ঞ এখনও তিনি নন। তবে বড় আসরে অভিজ্ঞতা যে তার বাধা নয়, সেটি প্রমাণ করেছেন মাস চারেক আগে এশিয়া কাপেই। ভারতের শিরোপা জয়ের পথে সর্বোচ্চ রান করে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছিলেন তিনি।

এবার আইসিসি রিভিউয়ে পন্টিং বললেন, এশিয়া কাপের পুনরাবৃত্তি বিশ্বকাপেও অভিশেক করতে দেখছেন তিনি। পন্টিং বলেন, হি ইজ আ স্টার। আমার মনে হয়, এটা (অভিজ্ঞতার ঘাটতি) তার জন্য সত্যিকারে ইতিবাচক হবে। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান স্কোরার হতে পারে সে, সম্ভাব্য প্লেয়ার অব দা টুর্নামেন্টও।  আমি তাকে এতটাই ভালো মনে করি। সত্যি যদি সে এটা করতে পারে, ভারতকে হারানো হবে আরও বেশি কঠিন। যদি সে না পারে, তাহলে তারা (ভারত) হবে অন্য যে কোনো দলের মতোই নড়বড়ে। এই বিশ্বকাপে ভারতের জন্য তাকে আমি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ মনে করি।”ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অভিশেক সংস্পর্শ পেয়েছিলেন পন্টিংয়ের। তরুণ সম্ভাবনাময় ব্যাটসম্যানের প্রতিভার আলো তখনই দেখতে পেয়েছিলেন তিনি। তিনি বলেন, আমি ছিলাম তার প্রথম আইপিএল কোচ। ১৭ বছর বয়সে দিল্লির হয়ে আমার সঙ্গেই তার অভিষেক এবং তাৎক্ষণিক প্রভাব রেখেছিল। আমার মনে হয়, প্রথম বলেই চার বা ছক্কা মেরেছিল বোলারের মাথার ওপর দিয়ে সোজা ব্যাটে ধ্রুপদি শটে এবং পোজ ধরে রেখেছিল। ওই ১৭ বছর বয়সেই বোঝা যাচ্ছিল, তার ভেতরে বাড়তি বিশেষ কিছু আছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা তাকে দিল্লি থেকে ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু আমি আকুতি করেছি, করেছি এবং করেছি যে, ‘দয়া করে এটা করবেন না, তাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে, নিশ্চিত এক সুপারস্টার হতে যাচ্ছে সে…। সেটিই সে হয়েছে। তাকে নিয়ে এবার আমার আশা প্রবল। দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে ২০১৮ আসরে আইপিএলে অভিষেক হয় অভিশেকের। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ছয় নম্বরে নেমে প্রথম বলেই চার মারেন মোহাম্মাদ সিরাজের বলে। সেদিন চার ছক্কায় ১৯ বলে ৪৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। সেবার দিল্লির হয়ে তিন ম্যাচ খেলার পর তাকে পরের মৌসুমে দলে নেয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। সেখান থেকে এই দলের হয়েই তিনি খেলেছেন সাত মৌসুমে। সবশেষ দুই মৌসুমে তার ব্যাট ছিল উত্তাল। ২০২৪ আসরে ২০৪.২১ স্ট্রাইক রেটে রান করেন তিনি ৪৮৪, যে পারফরম্যান্স তার জন্য খুলে দেয় জাতীয় দলের দুয়ার। ২০২৫ আসরে ৪৩৯ রান করেন ১৯৩.৩৯ স্ট্রাইক রেটে।