মেয়েদের টুর্নামেন্টে রেকর্ড প্রাইজমানি বরাদ্দ করল ফিফা

নারী ফুটবলের ইতিহাসে নির্দিষ্ট টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ প্রাইজমানি বরাদ্দ দিয়েছে সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আর্সেনালের স্টেডিয়ামে পরবর্তী সপ্তাহে শুরু হতে যাচ্ছে ওমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স কাপ। পুরো টুর্নামেন্টটির জন্য ৪৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা (৩.৯ মিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ করা হয়েছে। ২০২৮ সালে লন্ডনে হতে যাওয়া নারী ক্লাব বিশ্বকাপের প্রস্তুতিমূলক মঞ্চ হিসেবেই আয়োজিত হতে যাচ্ছে ওমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স কাপ।
গ্তকাল ফিফা জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে আর্সেনালের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য প্রথম ওমেন্স চ্যাম্পিয়নস কাপে চ্যাম্পিয়ন ক্লাবকে ২৩ লাখ মার্কিন ডলার (২৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা) প্রাইজমানি দেওয়া হবে। সবমিলিয়ে ৩৯ লাখ ডলার ছয়টি মহাদেশীয় ক্লাব চ্যাম্পিয়নের মাঝে বণ্টন করা হবে। মেয়েদের নির্দিষ্ট কোনো টুর্নামেন্টে এটি সর্বোচ্চ বরাদ্দ।
আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স কাপে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল মুখোমুখি হবে মরক্কোর ক্লাব এএসএফএআরের সঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্রের গোথাম লড়বে ব্রাজিলের করিন্থিয়ান্সের বিপক্ষে। এই দুটি সেমিফাইনাল ম্যাচই বুধবার ব্যাক-টু-ব্যাক অনুষ্ঠিত হবে প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব ব্রেন্টফোর্ডের মাঠে। পরবর্তীতে ১ ফেব্রুয়ারি আর্সেনালের স্টেডিয়ামে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। একই ভেন্যুতে তার আগে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচও হবে।
শিরোপাজয়ী মেয়েদের দল ২৩ লাখ ডলার এবং রানার্সআপ পাবে ১০ লাখ ডলার (১২ কোটি ১৪ লাখ টাকা)। এ ছাড়া সেমিফাইনালে পরাজিত দুই দল প্রত্যেকে পাবে ২ লাখ ডলার (প্রায় ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা) করে। আগের রাউন্ডে বিদায় নেওয়া দুই মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়ন ওশেনিয়ার অকল্যান্ড ইউনাইটেড এবং এশিয়ার প্রতিনিধি উহান চেগু জিয়াংদা প্রত্যেকেই ১ লাখ ডলার (১ কোটি ২১ লাখ টাকার বেশি) করে পাবে।
মেয়েদের লিগে রেকর্ড বরাদ্দ প্রদানের বিষয়ে ফিফার মহাসচিব মাত্তিয়াস গ্রাফস্ট্রম এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘এই প্রাইজমানি নারী ক্লাব ফুটবল এবং এর ধারাবাহিক উত্থানকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি খেলোয়াড়, ক্লাব ও প্রতিযোগিতার প্রতি বিশ্বাসের একটি স্পষ্ট বার্তা।’
এর আগে সর্বশেষ মৌসুমে উয়েফা নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল পেয়েছিল ১৫ লাখ ইউরোর বেশি (প্রায় ১৮ লাখ ডলার) প্রাইজমানি। অন্যদিকে, ছেলেদের সর্বশেষ ২০২৫ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে ৩২টি দলের মধ্যে মোট ১ বিলিয়ন ডলার প্রাইজমানি বিতরণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ওই টুর্নামেন্টটি সৌদি আরবের অর্থায়নে সম্পন্ন হয়েছিল, যাতে প্রভাবশালী ইউরোপীয় ক্লাবগুলো অংশ নিতে সম্মত হয় এবং প্রত্যাশিত প্রাইজমানি নিশ্চিত করা যায়।