দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে সিইসিকে চিঠি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে সংবিধান ও সুপ্রিম কোর্টের আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন মামুন হাওলাদার নামে এক নাগরিক।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে তিনি এ আবেদন জমা দেন। আবেদনে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের দাবি জানানো হয়।

চিঠিতে মামুন হাওলাদার উল্লেখ করেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ এবং ১৯৭২ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী কোনো বিদেশি নাগরিক বা দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। সংবিধান অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকত্ব চূড়ান্তভাবে ত্যাগ করার পরই কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, হাইকোর্ট বিভাগের ১৬৪৬৩/২০২৩ নম্বর রিট পিটিশনের আদেশে বলা হয়েছে, বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন গৃহীত ও চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারীকে বিদেশি নাগরিক হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। কেবল আবেদন দাখিল করাই নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। এ আদেশ বর্তমানে আপিল বিভাগেও বহাল রয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি আপিল শুনানিতে নির্বাচন কমিশন দ্বৈত নাগরিকত্বধারী প্রার্থীদের কাছ থেকে শুধু একটি ‘অঙ্গীকারনামা’ গ্রহণ করছে। যেখানে প্রার্থীরা উল্লেখ করছেন যে, তারা বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য আবেদন করেছেন এবং তা প্রক্রিয়াধীন। এই অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে কমিশন তাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করছে, যা সংবিধান ও হাইকোর্টের রায়ের সুস্পষ্ট পরিপন্থী।

মামুন হাওলাদার আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন বর্তমানে তাদের দেওয়া আপিল আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন গ্রহণ করছে। অথচ বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুযায়ী কমিশনের এ ধরনের পুনর্বিবেচনার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই। তিনি সংবিধান, প্রচলিত আইন ও সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী নাগরিকত্ব ত্যাগের চূড়ান্ত প্রমাণ ছাড়া দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের মনোনয়নপত্র বাতিলের জোর দাবি জানান।