নেপালে সঞ্জয় দত্ত – পুরোনো ফর্মে ফেরা আর জীবনের নতুন বিরতি
বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আবারও আলোচনায় বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত। কখনো অভিনয়, কখনো ব্যক্তিগত জীবন, আবার কখনো অসুস্থতা কিংবা কারাবাস সব মিলিয়ে তার জীবন বরাবরই ঘটনাবহুল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে তার নেপাল সফর। সাতপাঁচ তোয়াক্কা না করেই বন্ধুর সঙ্গে নেপালে পাড়ি জমিয়েছেন এই অভিনেতা। ২০২৫ সালে নেপাল ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলেও সে সময় দেশটির উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে সফর বাতিল করতে হয়েছিল সঞ্জয় দত্তকে। তবে এবার আর কোনো দ্বিধা না রেখে বন্ধুর সঙ্গে নেপালের পথে পা বাড়ান তিনি। সফরে তার সঙ্গী ছিলেন অভিনেতা ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাহুল মিত্র। নেপাল সফরের পেছনে যে আধ্যাত্মিক টান রয়েছে, সে কথা অস্বীকার করছেন না ঘনিষ্ঠজনরাও। কারাবাসে থাকার সময় নিয়মিত শিবপুরাণ পাঠ করতেন সঞ্জয় দত্ত এই তথ্য অনেকেরই জানা। বন্ধু রাহুল মিত্রের ভাষায়, “শিবের সঙ্গে সঞ্জয়ের এক গভীর যোগ রয়েছে। মনে হয়েছে যেন বাবার ডাক এসেছে। তাই আর দেরি করেননি। ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিতর্ক ও শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও অভিনয় থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেননি সঞ্জয় দত্ত। সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তি পাওয়া ‘ধুরন্ধর’ সিনেমায় একজন পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকমহলে প্রশংসিত হয়েছে। অনেক দিন পর এই ছবিতে তাকে পুরোনো ছন্দে ফিরতে দেখেছেন ভক্তরা। ফলে সিনেমার সাফল্যের পর এই নেপাল সফরকে কেউ কেউ দেখছেন আত্মবিশ্লেষণ ও মানসিক প্রশান্তির খোঁজ হিসেবে। নেপালে গিয়ে সঞ্জয় দত্ত শুধু ধর্মীয় স্থানে দর্শনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। ভক্তদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি উপভোগ করেছেন স্থানীয় খাবারও। রাহুল মিত্র জানান, ভ্রমণের সময় স্থানীয় খাবার চেখে দেখা তাদের অভ্যাস। এর আগেও অরুণাচল প্রদেশ ও রাজস্থানে গিয়ে ডাল-ভাত, মসুর ডালের বড়া, নুডলস স্যুপ কিংবা মটন কাটিয়ার মতো খাবার উপভোগ করেছেন তারা। নেপাল সফরেও সেই অভ্যাসের ব্যতিক্রম হয়নি। সব মিলিয়ে বলা যায়, অভিনয়ের সাফল্য, আধ্যাত্মিক টান ও জীবনের ব্যস্ততা থেকে খানিক বিরতি এই তিনের সমন্বয়েই সঞ্জয় দত্তের এবারের নেপাল সফর।