অ্যান্টার্কটিকায় শত শত অস্বাভাবিক ভূমিকম্পের সন্ধান

অ্যান্টার্কটিকার থুইটস গ্লেসিয়ারে, (ডুমসডে গ্লেসিয়ার’ নামে পরিচিত) গত এক দশকের বেশি সময় ধরে শত শত অস্বাভাবিক ভূমিকম্প শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই গ্লেসিয়ারে ঘটে যাওয়া এসব ভূমিকম্প ভবিষ্যতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স-এ। এতে বলা হয়, এই ভূমিকম্পগুলো সাধারণ ভূমিকম্পের মতো নয়। এগুলো সৃষ্টি হয় যখন লম্বা ও সরু বিশাল বরফখণ্ড গ্লেসিয়ার থেকে ভেঙে সাগরে পড়ে উল্টে যায়। এতে কম-ফ্রিকোয়েন্সির (নিম্ন কম্পাঙ্কের) কম্পন তৈরি হয়, যাকে বলা হয় গ্লেশিয়াল ভূমিকম্প।

গবেষণার প্রধান লেখক, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভূ-পদার্থবিদ্যা বিভাগের গবেষক থ্যান-সন ফাম জানান, অ্যান্টার্কটিকায় স্থাপিত ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ব্যবহার করে তিনি থুইটস ও পাইন আইল্যান্ড গ্লেসিয়ারের কাছে মোট ৩৬০টির বেশি গ্লেশিয়াল ভূমিকম্প শনাক্ত করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ২৪৫টি ঘটনা ঘটেছে থুইটস গ্লেসিয়ারের সাগরমুখী প্রান্তে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এসব ভূমিকম্প মূলত বরফখণ্ড উল্টে যাওয়ার ফল।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এসব ভূমিকম্পের সঙ্গে গ্লেসিয়ারের দ্রুতগতির প্রবাহের মিল পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, সাগরের পরিস্থিতি (যেমন উষ্ণ পানি) গ্লেসিয়ারের আচরণে প্রভাব ফেলছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, যদি থুইটস গ্লেসিয়ার পুরোপুরি ধসে পড়ে, তাহলে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় তিন মিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। তাই এই গ্লেশিয়াল ভূমিকম্পগুলো বোঝা গেলে ভবিষ্যতে সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধির ঝুঁকি ও গ্লেসিয়ারের অস্থিতিশীলতা আরও ভালোভাবে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হবে।