জানুয়ারির মধ্যে আবাসন চুক্তি না হলে হজে যাওয়া অনিশ্চিত

জানুয়ারির মধ্যে আবাসন চুক্তি না হলে হজে যাওয়া অনিশ্চিত চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ঝুঁকির কথা জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে মক্কা ও মদিনায় হজযাত্রীদের আবাসনের বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পন্ন না হলে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীরা হজ পালন করতে পারবেন না, এমন সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ২৪ জানুয়ারি বেসরকারি হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত সব লিড ও সমন্বয়কারী এজেন্সির কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এখনো অনেক লিড এজেন্সি তাদের আওতাধীন হজযাত্রীদের আবাসন চুক্তি সম্পন্ন করতে পারেনি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি এই দুই মাধ্যমে হজযাত্রীরা সৌদি আরবে যাবেন। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী ৩০টি লিড এজেন্সির মাধ্যমে হজে যাবেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও তাদের একটি বড় অংশের জন্য মক্কা-মদিনায় আবাসন নিশ্চিত করা হয়নি। চিঠিতে আরো বলা হয়, সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। গত ২৩ জানুয়ারি জেদ্দায় অনুষ্ঠিত জুম সভায় সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক স্পষ্টভাবে জানান, বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য আবাসন চুক্তির অগ্রগতি অত্যন্ত হতাশাজনক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব হজযাত্রীর আবাসন চুক্তি সম্পন্ন হবে না, তারা হজ পালনের সুযোগ হারাতে পারেন বলেও তিনি সতর্ক করেন। তবে চিঠিতে জানানো হয়েছে, সরকারি ব্যবস্থাপনায় সব হজযাত্রীর জন্য মক্কা ও মদিনায় আবাসনের চুক্তি ইতোমধ্যে শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকা হজযাত্রীদের জন্য আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে আবাসন চুক্তি সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক বলে জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সমন্বয়কারী এজেন্সিগুলোকে তাদের সংশ্লিষ্ট লিড এজেন্সিকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবাসন চুক্তি শেষ না হলে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির হজ কার্যক্রম পরিচালনায় তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন ৫৫ হাজার দেশি ও ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন ৫৫ হাজার দেশি ও ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন ৭ হাজার ৯৯৭ জন এবং স্থানীয়ভাবে ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন। এছাড়া, নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক থাকবেন প্রায় ৫০০ জন। আজ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক মো. আশাদুল হক এ তথ্য জানান। এর আগে রবিবার ২৫ জানুয়ারি ঢাকায় বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি মিশনের কূটনীতিকদের ব্রিফ করে নির্বাচন ও গণভোটের সার্বিক প্রস্তুতি ও অগ্রগতি তুলে ধরে নির্বাচন কমিশন। ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫১টি রাজনৈতিক দল। নির্বাচনে মোট প্রার্থী ১ হাজার ৯৯৪ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫৬ জন। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন বাহিনীর ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৫০ জন সদস্য দায়িত্বে থাকবেন বলে জানান নির্বাচন কমিশনার। পাশাপাশি প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা থাকবেন ৬৯ জন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ৫৯৮ জন, প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৭৬৪ জন। এছাড়া, পোস্টাল ভোট ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত থাকবেন প্রায় ১৫ হাজার কর্মকর্তা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন উপলক্ষে ৩ দিনের ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন

নির্বাচন উপলক্ষে ৩ দিনের ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রবিবার ২৫ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) সারাদেশে নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটি থাকবে। এছাড়া, নির্বাচন উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলে ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এ ছুটি সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর পরদিন ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১১ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা চার দিনের ছুটি ভোগ করবেন। অন্যদিকে শিল্পাঞ্চলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ পাচ্ছেন।

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সেনাসদরে প্রধান উপদেষ্টার মতবিনিময়

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সেনাসদরে প্রধান উপদেষ্টার মতবিনিময় গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সেনাসদরে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সেনাসদরে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ সেনাসদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধান উপদেষ্টাকে অভ্যর্থনা জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। মতবিনিময় সভার শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা দেশের বিভিন্ন প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন। দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। সভায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় আসন্ন নির্বাচনকে সকলের জন্য অংশগ্রহণমূলক, শঙ্কামুক্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সশস্ত্র বাহিনীকে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা। মতবিনিময় সভায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথি ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ’র ৫০ সাংবাদিকের নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষন সম্পন্ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ’র ৫০ সাংবাদিকের নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষন সম্পন্ন রাজশাহীতে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর আয়োজনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার সাংবাদিকদের নিয়ে ‘নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (২৫ জানুয়ারী) বিকেলে রাজশাহী সমাজসেবা কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২৪ ও ২৫ জানুয়ারী ২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মোহাঃ ফরিদ উদ্দিন খান। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে একটি সুখী, সমৃদ্ধ, দূর্নীতিমুক্ত ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সাংবাদিকদের আন্তরিকভাবে কাজ করার আহবান জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের (আরইউজে)’র সভাপতি মুহা.আব্দুল আওয়াল। প্রশিক্ষনের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন পিআইবির প্রশিক্ষক শাহ আলম সৈকত। অনুষ্ঠানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার ৫০জন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকর্মীর হাতে সনদপত্র তুলে দেন অতিথিগন। দু’দিনে প্রশিক্ষন প্রদান করেন নির্বাচন রিপোর্টিং বিশেষজ্ঞ শারমীন রিনভী ও এটিএন বাংলার চীফ রিপোর্টার একরামুল হক সায়েম।

শিবগঞ্জে নেশাজাতীয় ট্যালট ও সিরাপ জব্দ করেছে বিজিবি

শিবগঞ্জে নেশাজাতীয় ট্যালট ও সিরাপ জব্দ করেছে বিজিবি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের বাগিচাপাড়া গ্রামের একটি আমবাগানে বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও সিরাপ জব্দ করেছে বিজিবি।  রবিবার ভোরে এগুলো জব্দ করা হয়। রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানায়, মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) জানায়, বাগিচাপাড়ায় আমবাগানে নেশাজাতীয় ট্যালেট ও সিরাপ মজুত করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। জায়গাটি সীমান্ত পিলার ১৮২/২-এস হতে আনুমানিক ৩০ গজ বাংলাদেশের ভেতরে। আজমতপুর বিওপির একটি বিশেষ টহল দল এই অভিযান চালায়। অভিযানে ৩ হাজার ৪৯০ পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট টেনসিউইন ও ৪৮ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এসকাফ সিরাপ জব্দ করতে সক্ষম হয়। তবে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়। মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নাচোলে শিক্ষক রইশুদ্দীনেক অবসরজনিত সংবর্ধনা

নাচোলে শিক্ষক রইশুদ্দীনেক অবসরজনিত সংবর্ধনা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার সোনাইচন্ডী উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোহা. রইশুদ্দীন অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। রবিবার এই সংবর্ধনার আয়োজন করে বিদ্যালয়টি। অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রহিম, বাশিস নাচোল উপজেলা শাখার সভাপতি ও গোলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাজামুল হক, রাকাব সোনাইচন্ডী শাখার ব্যবস্থাপক ওয়াহুদুজামান ও শিক্ষানুরাগী মাহবুবুল আলম। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ফান্ডের পক্ষ থেকে সঞ্চয়কৃত ১ লাখ ৭১ হাজার টাকার চেক তার হাতে তুলে দেওয়া হয়। সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন রইশুদ্দীন। মোহা. রইশুদ্দীন ২০১১ সালের ১৩ জানুয়ারি সোনাইচন্ডী উচ্চ বিদ্যালয়ে গণিত বিষয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি ১৯৮৯ সালের ১ জুন থেকে রাধানগর এএনসি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ২০১০ সাল পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি হাজারো শিক্ষার্থীকে গাণিতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। উপজেলার কসবা ইউনিয়নের সব্দলপুর গ্রামের এই কৃতী সন্তান শৈশব থেকেই মেধাবী ছিলেন। ১৯৭৫ সালে সোনাইচন্ডী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণীতে বৃত্তি লাভ করেন। এরপর ১৯৮১ সালে সোনাইচন্ডী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৪ সালে আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। ১৯৮৬ সালে রহনপুর ইউসুফ আলী কলেজ থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। পারিবারিক জীবনে তিনি তিন কন্যা সন্তানের জনক। তার জ্যেষ্ঠ কন্যা রাজশাহী কলেজ থেকে এবং মেজ কন্যা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি (অনার্স-মাস্টার্স) সম্পন্ন করেছেন। ছোট কন্যা বর্তমানে রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজে অধ্যয়নরত।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনে মাঠে থাকবে ১৫ প্লাটুন বিজিবি ব্যবহার হবে বডি-ওর্ন ক্যামেরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনে মাঠে থাকবে ১৫ প্লাটুন বিজিবি ব্যবহার হবে বডি-ওর্ন ক্যামেরা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জোরেশোরে মাঠে নামবে বিজিবি। জেলার ৩টি সংসদীয় আসনের ৫টি উপজেলায় ১৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে বিজিবির বিশেষায়িত ক-৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিটও। রবিবার বিকেলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ৫৩ বিজিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান এই তথ্য জানান। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৫৩ বিজিবির প্রস্তুতি তুলে ধরতে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। ৫৩ বিজিবির সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, চাঁপাইনবাগঞ্জ-১ আসনে শিবগঞ্জ উপজেলায় ৩ প্লাটুন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের অধীন ভোলাহাট উপজেলায় ৪ প্লাটুন, নাচোলে ২ প্লাটুন ও গোমস্তাপুর উপজেলায় ২ প্লাটুনসহ মোট ১১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করবে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে অর্থাৎ সদর উপজেলায় ১ প্লাটুন রিজার্ভসহ ৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)। এই দুটি ব্যাটালিয়নের মোট ১৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি নাটোর জেলার ৭টি উপজেলায় ৫৩ বিজিবির ১৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হবে। কাজী মুস্তাফিজুর রহমান আরো বলেন— এছাড়া সারাদেশের সবগুলো আসনেই ঝুঁকি বিবেচনায় বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। মোতায়েন থাকবে বিজিবির বিশেষায়িত ক-৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিট। নির্বাচনকালীন যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম (র‌্যাট) এবং বিজিবির হেলিকপ্টারসহ কুইক রেস্পন্স ফোর্স কিউআরএফ সর্বদা প্রস্তুত থাকবে, যারা মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম। বিজিবির এই কর্মকর্তা আরো বলেন— বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। দেশের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিজিবি সংবিধান ও আইনের আলোকে তার দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে। তিনি আরো বলেন— নির্বাচনকালীন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বিজিবি। নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সকল নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। এ বাহিনীটি রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়। ভোটাররা যেন নিরাপদ, শান্তিতে ও ভয়মুক্ত পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন; এ লক্ষ্য সামনে রেখে বিজিবি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবে। একই সাথে জনগণের মধ্যে আস্থা ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন সচতেনতামূলক ও উদ্বুদ্ধকরণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে ভোটারদের অংশগ্রহণ আরো উৎসাহিত হয়। কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন— এই সময়ে যাতে কোনো ধরনের চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার কিংবা অন্য কোনো সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট অপরাধ সংঘটিত হয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবি অতিরিক্ত সতর্কতা ও তৎপরতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্তে টহল, নজরদারি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করে সকল প্রকার অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ করা হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে নির্বাচন উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কিছু বিওপিতে জনবল বৃদ্ধি করে বডি-ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন গগলস্ ও বাইনোকুলারের মাধ্যমে টহল তৎপরতা ও সীমান্ত নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী ও অস্থায়ী ১৯টি চেকপোস্টের মাধ্যমে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

গোমস্তাপুরে থানা পুলিশের সচেতনামূলক সভা

গোমস্তাপুরে থানা পুলিশের সচেতনামূলক সভা গোমস্তাপুর থানা পুলিশের আয়োজনে স্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়ে সচেতনামূলক আলোচনাসভায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বিকেলে উপজেলার রহনপুর ইউনিয়নের বংপুর মোড়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদসহ অন্যান্য অপকর্ম প্রতিরোধ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া রহনপুর-আড্ডা সড়কসহ উপজেলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রাতের বেলা বেশ কয়েকটি ডাকাতি ও ছিনতাই ঘটনাসহ মাদকদ্রব্য বিক্রি ও সেবনের পরিপেক্ষিতে স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে সতর্কমূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে গোমস্তাপুর থানা পুলিশ। সচেতনামূলক সভায় সভাপতিত্ব করেন গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বারিক। বক্তব্য দেন গোমস্তাপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান তারেক, গোমস্তাপুর উপজেলার দায়িত্বরত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট শারার , উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আতিকুল ইসলাম আজম, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন, রহনপুর ইউপি সদস্য খলিলুর রহমানসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা। এ সময় স্থানীয় লোকজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। সেনাবাহিনী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট শারার বলেন, আপনারা একত্রিত থাকেন। একত্রিত হয়ে কাজ করলে অপরাধীরা কোন কিছুই করতে পারবে না। ভয় না করে অপরাধীদের ধরিয়ে দেবার চেষ্টার করুন। সেনাবাহিনী সড়কে টহল দিয়ে পাহাড়া অব্যাহত রাখবে বলে তিনি জানান। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান তারেক বলেন, রাতের বেলা রহনপুর-আড্ডা, আড্ডা- বড়দাদপুর পর্যন্ত গোমস্তাপুর থানা পুলিশের টহল জোরদার রয়েছে । পুলিশ সদস্য সীমিত, যানবাহনের সমস্যা রয়েছে। একটু এগিয়ে গেলে পেছনেই গাছ ফেলে সেটা করছে। পুলিশ চেষ্টা করছে অপরাধীদের ধরতে। তবে আপনাদের সহযোগীতার প্রয়োজন। যখন সড়কে এই কাজটি করে তখন আপনারা আমাদেরকে জানাবেন। আপনাদের সহযোগীতা নিয়ে তাদেরকে আটক করা সহজ হবে। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে বলছি পুলিশ যদি দায়িত্বে অবহেলা ও অপকর্মে জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সন্দেহজনক লোকজনের কার্যকলাপে সতর্ক থাকাসহ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের পরামর্শ দেওয়া হয়। যাতে পুলিশ ও জনতা সম্বলিত প্রচেষ্টায় বিভিন্ন অপরাধ দমন করা সহজ হবে।

উচ্চশিক্ষার সংস্কারে মাঠ পর্যায়ে সমীক্ষায় নামছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

উচ্চশিক্ষার সংস্কারে মাঠ পর্যায়ে সমীক্ষায় নামছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষা পদ্ধতির ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি ও কর্মসংস্থানের চাহিদা নিরূপণে বড় ধরনের সমীক্ষায় নামছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের আর্থিক সহায়তায় ‘বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি এবং সক্ষমতা নিরূপণে একটি সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা’ শীর্ষক এ গবেষণাটি পরিচালনা করবে ‘কনসিগলিয়েরি প্রাইভেট লিমিটেড’। আজ রোববার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানটিকে এই কাজের কার্যাদেশ ও অনুমতি প্রদান করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এ দেশের আপামর জনসাধারণের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আমরা দেশের সব অঞ্চলের, সব শ্রেণি-পেশা এবং ধর্মের মানুষের সমস্যা ও চাহিদা জানতে চাই। আমাদের মূল লক্ষ্য-ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা, যাতে কেউ পিছিয়ে না থাকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ গবেষণাটি যেন আন্তর্জাতিক মানের হয়, যাতে দেশের নীতিনির্ধারকগণও উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণে একে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, দেশের ৭০ শতাংশ উচ্চশিক্ষা নিয়ন্ত্রণকারী এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর প্রায় সাত লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।