যেভাবে শিসপ্রিয়া হয়ে উঠলেন অবন্তী সিঁথি

যেভাবে শিসপ্রিয়া হয়ে উঠলেন অবন্তী সিঁথি নতুন প্রজন্মের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অবন্তী সিঁথি। ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠান সারেগামাপা খ্যাত এই শিল্পী সম্প্রতি বেশ কিছু গান গেয়ে আলোচনায় এসেছেন। ২০২৩ সালের তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা গায়িকা বিভাগে নির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল(২৯ জানুয়ারি) রাতে এ খবর পেয়ে চমকে গিয়েছিলেন এই গায়িকা। কম বয়সে ক্যারিয়ারে এমন প্রাপ্তি নিয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট দিয়েছেন অবন্তী সিঁথি। তার ভাষায় ‘যেকোনো মানুষের কাছে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একটা কাঙ্ক্ষিত বিষয়। শিল্পী হিসেবে এই স্বীকৃতি সর্বোচ্চ পাওনা। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের খবর পাওয়ার ঘটনা বর্ণনা করে অবন্তী সিঁথি বলেন, “টাইমলাইনে টাইপ করছি আর মুছে দিচ্ছি । লিখতে গিয়ে কেমন সব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে । রোজকার দিনের মতো একটা দিন। হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে রবিউল ইসলাম জীবন ভাইয়ের একটা টেক্সট, সাথে অভিনন্দন। ছবিটা খুলে কিছুক্ষণ হা করে তাকিয়ে রইলাম। ভাবলাম, ঘুমের ঘোরেই আছি হয়তো! আবার দেখলাম, না সত্যিই আমার নাম! জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের প্রজ্ঞাপনে সেরা গায়িকা ক্যাটাগরিতে আমার নাম! চমকে গেলাম! আরেহ এ রকম তো স্বপ্ন দেখতাম, সত্যি হলো কি করে! জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরি টিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অবন্তী সিঁথি বলেন, “যেকোনো মানুষের কাছে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একটা কাঙ্ক্ষিত বিষয়। শিল্পী হিসেবে এই স্বীকৃতি সর্বোচ্চ পাওনা। যারা আমাকে এই সম্মাননার যোগ্য মনে করেছেন তাদের কৃতজ্ঞতা। কৃতজ্ঞতা জানাই এই গানের স্রষ্টা তানজীব সরোয়ার এবং সাজিদ সরকারসহ ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমার সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীকে, এই গানের সাথে আমাকে যুক্ত করবার জন্যে।বিশেষ মুহূর্তে বাবা-মাকে স্মরণ করে অবন্তী সিঁথি বলেন, “বাবা-মা বেঁচে থাকলে আজ খুব খুশি হতেন। পরিশেষে আমার সকল অনুরাগী, শ্রোতা এবং শুভানুধ্যায়ীদের অফুরন্ত ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতা, যাদের অনুপ্রেরণা এবং ভালোবাসায় আমি অবন্তী সিঁথি। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে নির্বাচিতদের নামের তালিকা প্রকাশ করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। এক প্রজ্ঞাপনে ২৮ বিভাগে ৩০ চলচ্চিত্র, শিল্পী ও কলাকুশলীর নাম ঘোষণা করা হয়। এতে শ্রেষ্ঠ গায়িকা বিভাগে পুরস্কার পাচ্ছেন অবন্তী সিঁথি। ‘গা ছুঁয়ে বলো’ গানের জন্য সিঁথি এই পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন। গানটি তার সঙ্গে দ্বৈতভাবে গেয়েছেন তানজীব সারোয়ার। গানটির কথা ও সুর করেছেন তানজীব সারোয়ার। এটি ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমায় ব্যবহার করা হয়েছে। জামালপুরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা অবন্তী সিঁথির। ছোটবেলা থেকেই গানের সঙ্গে তার সখ্য। জামালপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক আর দিগপাইত শামসুল হক ডিগ্রি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী থাকার সময় গান গেয়ে পরিচিতি পান। গিটার আর হারমোনিয়াম বাজানো ছোটবেলায় শিখেন। কলেজে পড়ার সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও গান করতেন সিঁথি। ২০০৩ ও ২০০৪ সালে লোকগান ও নজরুলসংগীত গেয়ে জাতীয় পুরস্কার পান অবন্তী সিঁথি। এ ছাড়া ২০০৫ সালে ক্ল্যাসিক্যাল ও লোকসংগীত গেয়ে পেয়েছেন ‘ওস্তাদ আলাউদ্দিন খান স্বর্ণপদক’। ২০০৬ সালে ‘ক্লোজআপ ওয়ান: তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাদ পড়েন সিঁথি। ২০১২ সালে আবারও এই প্রতিযোগিতায় নাম লেখান। শেষ পর্যন্ত এ প্রতিযোগিতায় সেরা দশে ছিলেন সিঁথি। ২০১৮ সালে ভারতীয় রিয়েলিটি শো সারেগামাপা-তে অংশ নিয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেন এই শিল্পী।

কলকাতায় সেরা অভিনেত্রীর সম্মাননা জয়ার হাতে

কলকাতায় সেরা অভিনেত্রীর সম্মাননা জয়ার হাতে দুই বাংলার নন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসানের অভিনয় জীবনে এলো নতুন এক সাফল্য। কলকাতায় জি২৪ ঘণ্টা আয়োজিত ‘বিনোদনের সেরা ২৪’ অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নিলেন। সুমন মুখার্জি পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’–তে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্যই এই স্বীকৃতি পেয়েছেন জয়া। পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জয়া জানালেন, পুতুলনাচের ইতিকথা’ সিনেমার জন্য বছরের প্রথম পুরস্কার পেয়ে আমি গর্বিত। জি২৪ ঘণ্টার ‘বিনোদনের সেরা ২৪’ মঞ্চে এই সম্মান পাওয়া সত্যিই আনন্দের ও আবেগের। জয়ার এই সাফল্যে প্রশ্নংসা ও অভিনন্দনের বন্যা বইছে তার ভক্তদের মাঝে। কলকাতার অভিনয়শিল্পী, নির্মাতা এবং সংস্কৃতিকর্মীরাও তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৪–৩৫ সালে। প্রায় ৯০ বছর পর সেই সাহিত্যকর্ম বড় পর্দায় রূপ পেয়েছে। গত বছরের আগস্টে পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ছবিটি। সিনেমায় কুসুম চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান। তার সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন আবীর চ্যাটার্জি, পরমব্রত চ্যাটার্জি, ধৃতিমান চ্যাটার্জি ও অনন্যা চ্যাটার্জি।

সরকারি কর্মচারীরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর প্রচার চালাতে পারবেন না

সরকারি কর্মচারীরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর প্রচার চালাতে পারবেন না ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ এর পক্ষে প্রচারণা করতে পারবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ইসির উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এ সংক্রান্ত নির্দেশনা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছেন। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ধারা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৮৬ এর বিধানাবলীর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণপূর্বক জানানো যাচ্ছে যে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোট বিষয়ে জনগণকে অবহিত ও সচেতন করতে পারবেন। তবে তিনি গণভোটে ‌‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে বা ‘না’ এর পক্ষে ভোট প্রদানের জন্য জনগণকে কোনো ধরনের আহ্বান জানাতে পারবেন না। কেননা, এ ধরনের কার্যক্রম গণভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে, যা গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ধারা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৮৬ অনুযায়ী একটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের বলা হয়েছে নির্দেশনায়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

৯ম পে স্কেলের গেজেট দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ

৯ম পে স্কেলের গেজেট দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ বৈষম্যমুক্ত ৯ম পে স্কেলের গেজেট দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিক্ষোভ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন এই কর্মসূচির আয়োজন করে। সংগঠনটির সভাপতি এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির মো. ওবায়দুর ইসলামের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে কোর্ট চত্বর প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। কর্মসূচিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি একরামুল হক, সহসভাপতি মো. সাদিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক তরিকুল ইসলাম ও নির্বাহী সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদসহ অন্য কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

নাচোলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

নাচোলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত নাচোলে মুন্সি হযরত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। আজ সকালে বিদ্যালয় মাঠে ক্রীড়া প্রতিযোগীতা উপলক্ষে কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান শিক্ষক সাাদিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রব্বানী সরদার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দুলাল উদ্দিন খান, নাচোল সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, অবসর প্রাপ্ত প্রভাষক শফিকুল আলম, নাচোল মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ওবাইদুর রহমান, মুন্সি হযরত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ইয়াসিন আলী, মুন্সি হযরত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেনসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলী ও গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ। বিকেলে বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা স্মারক ও ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নারী হেরোইন কারবারির যাবজ্জীবন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নারী হেরোইন কারবারির যাবজ্জীবন চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০৫ গ্রাম হেরোইন বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রাখার অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়েরকৃত একটি মামলায় এক নারীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সেই সাথে তাকে ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাস কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়। আজ দুপুর দেড়টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দায়রা জজ মো: হায়দার আলী খোন্দকার একমাত্র পলাতক আসামীর অনুপস্থিতে সাজা ঘোষণা করেন। দন্ডিত লুসিয়ারা বেগম চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সরজন মহিপুর গ্রামের মৃত বেলাল উদ্দিন বিম্বাসের মেয়ে লুসিয়ারা বেগম নামে। মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী(পিপি) আব্দুল ওদুদ বলেন, ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর র‌্যাব-৫ ব্যাটালিয়নের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের অভিযানে নিজ বসত বাড়ি থেকে দুইশত পাঁচ গ্রাম হেরোইনসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন লুসিয়ারা। এ ঘটনায় ওইদিন র‌্যাবের তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহেদুল ইসলাম একমাত্র লুসিয়ারা বেগমকে আসামী করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন। ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এবং সদর থানার তৎকালীর উপ-পরিদর্শক(এসআই) মো. আশরাফুজ্জামান একমাত্র লুসিয়ারাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। ১০ জনের সাক্ষ্য, প্রমাণ ও শুনানী শেষে আজ আদালত পলাতক লুসিয়ারা বেগমকে দোষি সাব্যস্ত করে দন্ডাদেশ ঘোষণা করেন। আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এড.আব্দুল আওয়াল।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে তারুণ্যের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও গম্ভীরা অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে তারুণ্যের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও গম্ভীরা অনুষ্ঠিত ডোপ টেস্টে কেউ পজিটিভ হলে, অর্থাৎ মাদক গ্রহণকারী হিসেবে চিহ্নিত হলে সে কোথাও (ইউনিভার্সিটি ও কলেজে) ভর্তি হতে পারবে না এবং কোথাও চাকরিও পাবে না বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ। আজ সকালে নামোশংকরবাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে তারুণ্যের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, ডোপ টেস্ট নীতিমালা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে সরকারি চাকরিতে যেমন ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, ঠিক একইভাবে ইউনিভার্সিটি ও কলেজ লেভেলে ভর্তি হলেও শিক্ষার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হবে। একই সঙ্গে যানবাহনের চালক ও কলকারখানায় যারা যন্ত্রাংশ পরিচালনা করেন, তাদের সবার জন্যও ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে। এটি বাস্তবায়িত হলে আমাদের দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এটি যেমন স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য সমস্যা তৈরি করছে, তেমনি এখান থেকে মাদকাসক্তি বাড়ছে, মাদকের বিক্রি বাড়ছে এবং তারা বিভিন্নভাবে বখাটেপনা করে শহর ও গ্রামের রাস্তায় সমস্যা সৃষ্টি করছে। এই কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, আমরা এখান থেকেই (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) শুরু করতে চাই এবং সামনে আরও সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে যেখানেই মাদকের সংবাদ পাওয়া যাবে, সেখানেই সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমরা চাঁপাইনবাবগঞ্জকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করতে চাই। এজন্য তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন। “মাদকের বিরুদ্ধে হই সচেতন, বাঁচাই প্রজন্ম, বাঁচাই জীবন”—এই শ্লোগানকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান-এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. এ. কে. এ. শাহাব উদ্দীন, নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসির আরাফাত। এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের উপপরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান, নামোশংকরবাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসলাম কবীর, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বালুগ্রাম আদর্শ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. গোলাম ফারুক মিথুন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুস্থ জীবনধারার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাদকবিরোধী শপথ পাঠ করানো হয় এবং “মাদককে না বলি” শীর্ষক লাল কার্ড প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থী ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অতিথিবৃন্দকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। আলোচনা সভা শেষে ‘মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে তারুণ্যের ভূমিকা’ শীর্ষক গম্ভীরা গান পরিবেশিত হয়। গম্ভীরা পরিবেশন করেন প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউট-এর নাট্যকর্মীবৃন্দ।

আচরণবিধি লঙ্ঘনে ১১৯ মামলা, জরিমানা সোয়া ১২ লাখ টাকা

আচরণবিধি লঙ্ঘনে ১১৯ মামলা, জরিমানা সোয়া ১২ লাখ টাকা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ১১৯ মামলা ও ১২ লাখ ২৪ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা করেছে নির্বাচন কমিশনের মাঠ কর্মকর্তারা।  আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব ও এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন) মো. সাইফুল ইসলাম এ তথ্য জানান।  সাইফুল জানান, প্রতিদিন নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে নানা কার্যক্রম এর মধ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘনে মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে।  গত ৮ জানুয়ারি থেকে ২৮ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালন/অভিযোগ বিষয়ে গৃহীত ব্যবস্থা (জেল/জরিমানা) সম্পর্কে প্রতিবেদন জানা যায়, ১৭৬টি নির্বাচনি এলাকায় ১৯২টি আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে। এতে মোট জরিমানা করা হয়েছে ১২ লাখ ২৪ হাজার ৩০০ টাকা। আর মামলা করা হয়েছে ১১৯টি। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, ইসির কাছে কোনো অভিযোগ এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে রিটার্নিং অফিসার, মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছে। প্রতিদিনই তারা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে। আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট পাচ্ছি কেস রুজু হচ্ছে; কোথাও জরিমানা হচ্ছে; কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম আপনার জোরেশোরে চলছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২ হাজারের কাছাকাছি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচারণা চালতে পারবেন এসব প্রার্থীরা। আর ভোটগ্রহণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে তোলপাড়: অবশেষে মুখ খুললেন হিরণ

দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে তোলপাড়: অবশেষে মুখ খুললেন হিরণ ভারতীয় বাংলা সিনেমার চিত্রনায়ক ও বিজেপির বিধায়ক হিরণ চ্যাটার্জি। ব্যক্তিগত জীবনে অনিন্দিতা চ্যাটার্জির সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন। তাদের ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে নাইসা নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে; যার বয়স ১৯ বছর। গত ২০ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করে দ্বিতীয় বিয়ের ঘোষণা দেন হিরণ। তার দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম ঋত্বিকা গিরি। ২১ বছর বয়সি ঋত্বিকা পেশায় একজন মডেল। বিয়ের নানা মুহূর্তের ছবি দ্রুত অন্তর্জালে ছড়িয়ে পড়ে; শুরু হয় তোলপাড়। পরে তা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মুছে ফেলেন হিরণ। কিন্তু এ নিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন ‘নবাব নন্দিনী’খ্যাত এই নায়ক। এই বিয়েকে ‘অবৈধ’ বলে মন্তব্য করেছেন হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা। তবে বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন হিরণ। অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন তিনি।  ঘটনার প্রায় ১০ দিন পর ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে কথা বলেছেন হিরণ। বিজেপির এই বিধায়ক বলেন, “আমি এত দিন কলকাতায় ছিলাম না, চেন্নাইয়ে ছিলাম। যে বিষয়টি বিচারাধীন তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আদালতের অসম্মান তো করতে পারি না।” হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতার দাবি—হিরণের সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। ফলে ঋত্বিকাকে বিয়েটি আইনিভাবে বৈধ নয়। গত ২১ জানুয়ারি বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা করেছেন তিনি। হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতার কিছু বক্তব্য শুনেছেন ঋত্বিকা গিরি। তার কিছু বিষয় পরিষ্কার করা দরকার বলে মনে করেন তিনি। কয়েক দিন আগে ঋত্বিকা বলেন, “আমার বয়স সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। উনাকে বিবাহবিচ্ছেদের আইনি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই বিয়ে আমরা আগেই করেছি। গত ৫ বছর বছর ধরে একসঙ্গে আছি। আর এসব বিষয় অনিন্দিতা জানতেন।”  হিরণের সঙ্গে ঋত্বিকার বিয়েকে ইলিগ্যাল বলে মন্তব্য করেছেন অনিন্দিতা। এ বিষয়ে ঋত্বিকা বলেন, “যদি মনে হয় এটা (বিয়ে) অবৈধ, তাহলে আমার একটাই কথা—উনাকে লিগ্যাল পদক্ষেপ নিতে বলেন। এরপর এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।”

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে রণবীরের বিরুদ্ধে মামলা

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে রণবীরের বিরুদ্ধে মামলা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে বলিউড অভিনেতা রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর বেঙ্গালুরুর অতিরিক্ত বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগটি দাখিল করেন বেঙ্গালুরুর আইনজীবী প্রশান্ত মেথাল। খবর ইন্ডিয়া টুডের। এ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অভিযোগ দাখিলের পর চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি আদালত হাই গ্রাউন্ডস থানাকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১৭৫(৩) ধারায় একটি মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে মামলাটি বিএনএস-এর ১৯৬, ২৯৯ ও ৩০২ ধারায় নথিভুক্ত করা হয়। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত হয় ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়া’ এর সমাপনী অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানের একটি অংশে উপকূলীয় কর্নাটকের ভুত কোলা প্রথার পূজিত এক দেবতাকে উপহাস করার অভিযোগ আনা হয়েছে রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাটি যে মঞ্চে ঘটেছিল, সেখানে ‘কানতারা: চ্যাপ্টার-১’ সিনেমার প্রধান অভিনেতা ঋষভ শেঠিও উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, চাভুন্ডি দৈব ভূত কোলা আচার-অনুষ্ঠানে পূজিত এক রক্ষক আত্মা এবং তাদের পারিবারিক দেবতা। এই দেবতাকে উদ্দেশ করে রণবীর সিং পাঞ্জুরলি/গুলিগা দৈবের ঐশ্বরিক অভিব্যক্তি অশ্লীল ও হাস্যকর ভঙ্গিতে অনুকরণ করেন। কেবল তাই নয়, অভিনেতা মৌখিকভাবে চাভুন্ডি দৈবকে ‘নারী ভূত’ বলেও উল্লেখ করেন, যা অভিযোগকারীর মতে অত্যন্ত আপত্তিকর। দৈব-সংক্রান্ত কোনো অভিনয় না করার অনুরোধ জানানোর পরও অভিনেতা রণবীর সিং ‘কানতারা: চ্যাপ্টার-১’ সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে চাভুন্ডি দৈবের দৃশ্য মঞ্চায়ন করেন। চাভুন্ডি দৈব কোনো ভূত নন, বরং তিনি ন্যায়বিচার, সুরক্ষা, দিব্য নারীত্বের প্রতীক এক শক্তিশালী রক্ষক আত্মা; উপকূলীয় কর্নাটকে যার গভীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব রয়েছে। তাকে ‘ভূত’ বলে উল্লেখ করাকে নিন্দাজনক, হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি গুরুতর অপমান হিসেবে অভিহিত করেছেন অভিযোগকারী। রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি বেঙ্গালুরুর প্রথম অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আগামী ৮ এপ্রিল এ মামলার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।