নির্বাচনী নিরাপত্তায় ড্রোন ব্যবহার করবে সরকার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নির্বাচনী নিরাপত্তায় ড্রোন ব্যবহার করবে সরকার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনী নিরাপত্তায় বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪২৮টি ড্রোন এবং ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভা শেষে এসব কথা বলেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, আজ আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২০তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা; আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন, নির্বাচনী সমন্বয় সেল, নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য এবং উৎসবমুখর করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলো, অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ এর অগ্রগতি পর্যালোচনা; অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম; মাদকবিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ , গ্রহণযোগ্য এবং উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর। সেজন্য জাতীয় নির্বাচনে জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও নিশ্চিতকরণে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আর এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে ড্রোনের ব্যবহার। নির্বাচনে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী কর্তৃক ২শ’টি, নৌ-বাহিনী কর্তৃক ১৬টি, বিজিবি কর্তৃক ১শ’টি, বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃক ৫০টি, কোস্টগার্ডের ২০টি, র্যাবের ১৬টি ও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১৬টি ড্রোন পরিকল্পনা অনুযায়ী সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া নির্বাচনে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রদানের জন্য বিভিন্ন বাহিনী তাদের ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করবে। তিনি বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’র ব্যবহার যেটি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) কর্তৃক প্রস্তুত করা হয়েছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসারসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোলরুম যুক্ত থাকবে। এটি তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও এর দ্রুত প্রতিকার/নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে। জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, দুর্গম কেন্দ্রগুলোতে ব্যালটসহ অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী এবং নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিবহনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহারের ব্যবস্থা নেবে। নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতা ও বাধা সৃষ্টি করতে পারে এমন দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত ও প্রভাবিত করতে পারে এমন যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা ও কার্যক্রম অন্তর্বর্তী সরকার কঠোর হস্তে দমন করবে।
ঠিকানা না পাওয়ায় ফেরত এলো ৫ হাজার ৬০০ পোস্টাল ব্যালট

ঠিকানা না পাওয়ায় ফেরত এলো ৫ হাজার ৬০০ পোস্টাল ব্যালট ঠিকানা খুঁজে না পাওয়ায় মালয়েশিয়া থেকে ৪ হাজার পোস্টাল ব্যালট ফেরত এসেছে। এছাড়া ইতালি থেকে ফেরত এসেছে ১ হাজার ৬০০ পোস্টাল ব্যালট। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রবাসীদের সঠিক ঠিকানা না পাওয়ায় এসব ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের কাছে পৌঁছায়নি। ফেস ডিটেকশন প্রযুক্তির কারণে পোস্টাল ব্যালটে একজনের ভোট অন্য কেউ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো দেখে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। পোস্টাল ব্যালটে ৩৯টি মার্কা রয়েছে, যা ভাঁজের মধ্যে পড়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ভোটার নিবন্ধন করেছেন।
স্পেনে দ্রুতগতির দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩৯

স্পেনে দ্রুতগতির দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩৯ স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে উচ্চগতির দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বহু যাত্রী। রেল কর্তৃপক্ষ আদিফ জানায়, স্থানীয় সময় রবিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী একটি ট্রেনের পেছনের অংশ কর্দোবার কাছে লাইনচ্যুত হয়। ওই ট্রেনটিতে প্রায় ৩০০ জন যাত্রী ছিলেন। লাইনচ্যুত অংশটি বিপরীত দিক থেকে আসা মাদ্রিদ থেকে হুয়েলভাগামী আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এর আগে আন্দালুসিয়া অঞ্চলের প্রধান হুয়ান মোরেনো জানান, দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ৭৫ জন যাত্রী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা গুরুতর। অধিকাংশ আহতকে কর্দোবা শহরের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। স্পেনের রেড ক্রস দুর্ঘটনাস্থলের কাছে আদামুজ শহরে একটি সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করেছে। সেখানে জরুরি সেবাকর্মী ও স্বজনদের তথ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। রাতভর স্পেনের সিভিল গার্ড ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করেন। ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, ট্রেনের বগিগুলো উল্টে পড়ে রয়েছে এবং ধাতব অংশগুলো দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। যাত্রীরা জানান, ভাঙা জানালা দিয়ে তারা বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ জরুরি হাতুড়ি ব্যবহার করে জানালা ভেঙে বের হন। স্পেনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সাংবাদিক সালভাদোর হিমেনেস একটি লাইনচ্যুত ট্রেনে ছিলেন। তিনি ফোনে বলেন, ‘এক মুহূর্তে মনে হয়েছিল ভূমিকম্প হচ্ছে, তারপরই ট্রেন লাইনচ্যুত হয়।’ স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী ওস্কার পুয়েন্তে সোমবার ভোরে জানান, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। তিনি ঘটনাটিকে ‘খুবই অস্বাভাবিক’ বলে বর্ণনা করেন, কারণ এটি এমন একটি সমতল রেলপথে ঘটেছে, যা গত মে মাসে সংস্কার করা হয়েছিল। তিনি আরো জানান, লাইনচ্যুত হওয়া ট্রেনটি চার বছরেরও কম পুরোনো। পুয়েন্তে বলেন, প্রথম ট্রেনটির পেছনের অংশ লাইনচ্যুত হয়ে অন্য ট্রেনটির সামনের অংশে আঘাত করে। এতে রেনফে কম্পানির ট্রেনটির প্রথম দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে প্রায় চার মিটার নিচে পড়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ওই ট্রেনটির সামনের অংশে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কত সময় লাগতে পারে—এ প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, তদন্ত শেষ হতে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্যমতে, স্পেনে ২৫০ কিলোমিটার গতির বেশি চলাচলকারী ট্রেনের জন্য ইউরোপের সবচেয়ে বড় উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক রয়েছে। দেশটিতে এমন রেলপথের দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ১০০ কিলোমিটারের বেশি। এই রেলসেবা তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী ও নিরাপদ হিসেবে জনপ্রিয়। রেনফে জানিয়েছে, ২০২৪ সালে তাদের উচ্চগতির ট্রেনে ২ কোটি ৫০ লাখের বেশি যাত্রী ভ্রমণ করেছেন। দুর্ঘটনার পর সোমবার মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়ার বিভিন্ন শহরের মধ্যে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয় সাময়িকভাবে।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ইস্যুতে যে সিদ্ধান্ত নিলো পাকিস্তান

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ইস্যুতে যে সিদ্ধান্ত নিলো পাকিস্তান আসন্ন টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে দল পাঠাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এবার এই ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে শক্ত অবস্থান নিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিও আপাতত স্থগিত করেছে তারা। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘জিও সুপার’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারতে দল না পাঠানোর বিষয়ে বিসিবির সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক ও বৈধ বলে মনে করছে পিসিবি। বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য পাকিস্তান দলের সব ধরনের প্রস্তুতি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) যদি সম্মানজনক কোনো সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পাকিস্তানও টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনা করতে পারে। এমনকি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে না খেলার সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে টিম ম্যানেজমেন্টকে বিকল্প পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, আয়োজক দেশ হওয়ার অজুহাতে কোনো দলের ওপর চাপ বা হুমকি প্রয়োগ করা উচিত নয় এমন নীতিগত অবস্থানেই রয়েছে বোর্ডটি। এর আগে গত ১১ জানুয়ারি পিসিবি জানায়, শ্রীলঙ্কার ভেন্যু পাওয়া না গেলে তারা বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজন করতেও প্রস্তুত। সংকট সমাধানে গ্রুপ পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিল বিসিবি। তবে ভারতীয় ক্রিকেটভিত্তিক পোর্টাল ক্রিকবাজ জানায়, ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড তাদের নির্ধারিত গ্রুপ পরিবর্তনে রাজি নয়। ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের গ্রুপ অদলবদলের প্রস্তাব কার্যত বাতিল হয়ে গেছে। বর্তমান সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ ‘বি’-তে শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে, ওমান ও আয়ারল্যান্ডের সব ম্যাচ হবে শ্রীলঙ্কার কলম্বো ও ক্যান্ডিতে। অন্যদিকে, গ্রুপ ‘সি’-তে থাকা বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালির সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ভারতের কলকাতা ও মুম্বাইয়ে। ভারত সফরে বিসিবির অনীহার প্রেক্ষিতে আইসিসি আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বলেছে। একই সঙ্গে আইসিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সূচি বা ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত ভারতে খেলতে না যায়, তাহলে র্যাঙ্কিং অনুযায়ী স্কটল্যান্ডকে বদলি দল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে আইসিসির।
ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে জয়ে ফিরল বাংলাদেশ

ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে জয়ে ফিরল বাংলাদেশ সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) থাইল্যান্ডের ব্যাংককের ননথাবুরি স্টেডিয়ামে নেপালকে ৩–০ গোলে হারিয়ে দারুণ এক জয় পেয়েছে সাবিনা খাতুনের দল। এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। খেলার প্রথম পাঁচ মিনিটেই লিড নেওয়ার সুযোগ আসে। মাতসুশিমা সুমায়ার পাসে গোলের সামনে বল পেলেও সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি অধিনায়ক সাবিনা। তবে ১৩ মিনিটে ভুল পুষিয়ে দেন সাবিনা। কৃষ্ণা রানি সরকারের নিখুঁত পাস পেয়ে নেপালের গোলরক্ষককে কাটিয়ে বক্সের বাইরে থেকে শান্ত ফিনিশে দলকে এগিয়ে নেন তিনি। পাঁচ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কৃষ্ণা রানি নিজেই। ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাইরে থেকে নেওয়া শক্তিশালী শটে কোনো সুযোগ দেননি নেপালের গোলরক্ষককে। গোল হজমের পর নেপাল গোলরক্ষক বদলালেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতেই। ৩৩ মিনিটে আবারও সহায়কের ভূমিকায় মাতসুশিমা সুমাইয়া। তার পাসে বক্সের ভেতর জায়গা করে নিয়ে সহজ ফিনিশে তৃতীয় গোলটি করেন লিপি আক্তার। এই জয়ে তিন ম্যাচে বাংলাদেশের সংগ্রহ এখন ৭ পয়েন্ট। টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচে ভারতকে ৩–১ গোলে হারালেও দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানের সঙ্গে ৩–৩ গোলে ড্র করে তারা। আগামী বুধবার (২১ জানুয়ারি) লিগের চতুর্থ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে সাবিনারা।
খেলা শেষে কাঁদলেন দিয়াজ

খেলা শেষে কাঁদলেন দিয়াজ অবিশ্বাস্য নাটকীয়তার মধ্যে মরক্কোকে ১-০ গোলে হারিয়ে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (এএফকন) শিরোপা জিতেছে সেনেগাল। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে দুই দলের শিরোপা লড়াই ছিল নাটকীয়তায় ভরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে সমতা, তারপর ইনজুরি টাইমে এমন এক মুহূর্ত আসে—যা ম্যাচের ভাগ্য ঘুরিয়ে দিতে পারত। ইনজুরি টাইমের ষষ্ঠ মিনিটে পেনাল্টি পায় মরক্কো। আফ্রিকার শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদার এই ট্রফি পাওয়ার আক্ষেপ মরক্কোর ৫০ বছরের। হয়ত একটি সফল স্পট কিকেই সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে পারতেন ব্রাহিম দিয়াজ। ১২ গজ দূর থেকে দিয়াজের পা থেকে আসতে পারত শিরোপা নিশ্চিত করা গোল। কিন্তু যা ঘটল, তা অবিশ্বাস্য। ব্রাহিম জোরালো শট না নিয়ে মাঝখানে হালকা ‘প্যানেনকা’ চেষ্টা করেন। সেনেগাল গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্ডি সহজেই তা ঠেকিয়ে দেন। সেই একটি মুহূর্তই যেন বদলে দেয় পুরো ম্যাচের গল্প। দিয়াজের ওই ব্যর্থতার সুযোগই কাজে লাগায় সেনেগাল। পেপ গুইয়ের একমাত্র গোলে জয় নিশ্চিত করে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের শিরোপা উল্লাসে মাতে তারা। মাঠজুড়ে তখন আনন্দের জোয়ার, আর অন্য প্রান্তে দিয়াজের মুখে স্পষ্ট হতাশা—যেন একটি সিদ্ধান্তেই বদলে গেল পুরো টুর্নামেন্টের পরিণতি। টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন সাবেক ম্যানচেস্টার সিটির তারকা। দলকে ফাইনালে তুলতে অবদান রেখেছেন পাঁচ গোল করে। কিন্তু এদিন ‘পানেনকা’ শট নিতে গিয়ে ধরা পড়েন মেন্দির হাতে। পেনাল্টি শুটের সময় নিজের অবস্থান থেকে সরেননি মেন্দি, যে কারণে খুব সহজে বলটি গ্লাভসবন্দী করেন ভিয়া রিয়ালের এই গোলকিপার। পেনাল্টি থেকে গোল করতে না পারার পর বিচলিত ছিলেন দিয়াজ। টেলিভিশন ক্যামেরায় দেখা গেছে মরক্কোর বেঞ্চে চোখ ছলছল করছিল কারও কারও। ফাইনাল শেষে শিশুর মতো কেঁদেছেন দিয়াজও। টুর্নামেন্টের সেরা গোলস্কোরারের পুরস্কার যখন নিতে যাচ্ছিলেন পা এগোচ্ছিলো না যেন; দুই দলের খেলোয়াড়েরা করতালি দিয়ে তাকে অভিবাদন জানান, ঠোট চেপে কান্না লুকানোর চেষ্টাই কেবল করেছেন দিয়াজ। ওই পেনাল্টি নিয়ে আপত্তি ছিল সেনেগালের। বেশিরভাগ খেলোয়াড় মাঠ থেকে বেরিয়ে যান। স্পট কিক নিতে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা দিয়াজকে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ ১৭ মিনিট। ম্যাচ শেষে ওই ঘটনাকে ইঙ্গিত করে মরক্কোর ম্যানেজার ওয়ালিদ রেগ্রাগুই বলেন, ‘পেনাল্টি নেওয়ার আগে অনেক সময় পার হয়েছে, যা তাঁকে (দিয়াজ) বিরক্ত করেছিল। কিন্তু যা ঘটেছে তা আমরা পরিবর্তন করতে পারব না। এভাবেই সে পেনাল্টি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের এখন সামনের দিকে তাকাতে হবে।’ খেলোয়াড়দের এসব নিয়ে পড়ে থাকার সময় নেই। অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াতে চাইবেন দিয়াজ। তবে সেটি মোটেও সহজ হবে না তা বলাই যায়। তার জন্য কী অপেক্ষা করছে সেসবের কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে মরক্কোর সাবেক মিডফিল্ডার হাসান কাচলুলের কথা থেকে, ‘আমি মনে করি ব্রাহিম দিয়াজ আগামী দিনে অনেক দুঃস্বপ্ন দেখবেন।’ নাইজেরিয়ার সাবেক ফরোয়ার্ড ড্যানিয়েল আমোকাচি বলেন, ‘ব্রাহিম দিয়াজ এই টুর্নামেন্টে পাঁচটি গোল করা সত্ত্বেও নিজের সমস্ত গৌরবময় মুহূর্ত নষ্ট করে দিয়েছেন।’আরেক নাইজেরিয়ান সাবেক মিডফিল্ডার জন ওবি মিকেল বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে দিয়াজের যত কিছু ভালো ছিল সব নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সে বিধ্বস্ত। সামনের সময়টা তার জন্য কঠিন হতে চলেছে- কয়েক সপ্তাহ, হয়ত মাসের পর মাস ধরে।’ নাইজেরিয়ার আরেক সাবেক আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ইফান একোকু বলেন, ‘এটা এমন একটি মুহূর্ত যা ব্রাহিম দিয়াজ কখনই কাটিয়ে উঠতে পারবে না।’
বাংলাদেশকে ৩০ হাজার টন সার উপহার দিল রাশিয়া

বাংলাদেশকে ৩০ হাজার টন সার উপহার দিল রাশিয়া রাশিয়া ফেডারেশন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) আওতায় বাংলাদেশকে ৩০ হাজার টন পটাশ সার উপহার দিয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়িতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান উরালকেম বাংলাদেশকে এই সার উপহার হিসেবে দেয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ভি খোজিন, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর ডেভিড থমাস, রাশিয়ার উরালকেম গ্লোবাল কোম্পানির হেড অব সেলস দিমিত্রি বোলদিরেভ ও বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. ওসমান ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে খাদ্য ও সার সরবরাহ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক বাজার এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট কৃষি খাতে অনুভূত হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই উদ্যোগ গঠনমূলক বৈশ্বিক সহযোগিতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) কাছে ইউরিয়া ব্যতীত অন্যান্য সারের মজুত রয়েছে মোট ১০.৩৫ লাখ টন, যা ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মজুত। জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিগত তিন বছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ধান উৎপাদন বেড়েছে ৬ শতাংশ, আলু উৎপাদন ১৪ শতাংশ, পেঁয়াজ উৎপাদন ২২ শতাংশ, সবজি উৎপাদন ৩.৭০ শতাংশ এবং সরিষা উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে ৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
কারাগারে দাঙ্গা, ৩০ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেন গুয়াতেমালার প্রেসিডেন্ট

কারাগারে দাঙ্গা, ৩০ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেন গুয়াতেমালার প্রেসিডেন্ট মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালায় সহিংসতার ভয়াবহ ঘটনার পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট বার্নার্দো আরেভালো। গতকাল রবিবার অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেশব্যাপী ৩০ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। কর্তৃপক্ষ এই দলগুলোর বিরুদ্ধে আট পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা এবং তিনটি কারাগার জিম্মি করার অভিযোগ এনেছে। কারাগারকেন্দ্রিক দাঙ্গা ও প্রতিশোধমূলক হামলায় রাজধানী গুয়াতেমালা সিটিতে অন্তত সাতজন পুলিশ সদস্য নিহত হন। একই সঙ্গে তিনটি কারাগারে গ্যাং সদস্যরা ডজনখানেক কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিম্মি করে। জরুরি অবস্থা জারির ফলে কিছু নাগরিক অধিকার সাময়িকভাবে সীমিত হবে এবং নিরাপত্তা বাহিনী আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়াই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হলেও এটি এখনো দেশটির সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডগুলোর উদ্দেশ্য ছিল নিরাপত্তা বাহিনী ও জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে আমরা গ্যাংদের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে সরে আসি। কিন্তু তারা সফল হবে না।’ তিনি জানান, সব জিম্মিকে মুক্ত করা হয়েছে এবং হামলায় নিহতদের স্মরণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার কারাগারের দাঙ্গা শুরু হয়, যখন কর্তৃপক্ষ গ্যাং নেতাদের বিশেষ সুবিধা সীমিত করার উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে ছিলেন গুয়াতেমালার কুখ্যাত গ্যাং বারিও ১৮-এর কারাবন্দি নেতা আলদো দুপ্পিয়ে, যিনি ‘এল লোবো’ বা ‘নেকড়ে’ নামে পরিচিত। উল্লেখ্য, বারিও ১৮ এবং তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাং মারা সালভাত্রুচাকে (এমএস-১৩) গত সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করে। এক মাস পর গুয়াতেমালার পার্লামেন্টও একই ঘোষণা দেয়। দাঙ্গার সময় গ্যাং–সংশ্লিষ্ট বন্দিরা গুয়াতেমালা সিটির আশপাশের তিনটি কারাগার থেকে মোট ৪৬ জন কারারক্ষী ও কর্মচারীকে জিম্মি করে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগারও ছিল, যেখানে এল লোবো বন্দি ছিলেন। রবিবার ভোরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে এল লোবোর কারাগারের দাঙ্গা দমন করা হয়। একই দিনে আরো দুটি কারাগারেও অভিযান চালানো হয়। অভিযানের পর নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে এল লোবোর একটি ছবি প্রকাশ পায়, যেখানে তার জামাকাপড়ে রক্তের দাগ দেখা যায়। কারা অভিযানের কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজধানীতে পুলিশকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু হয়। কর্তৃপক্ষের মতে, এতে অন্তত সাতজন পুলিশ সদস্য নিহত এবং ১০ জন আহত হন। কিছু গণমাধ্যম নিহত পুলিশের সংখ্যা আট বলে জানিয়েছে, পাশাপাশি এক সন্দেহভাজন গ্যাং সদস্যের মৃত্যুর কথাও উল্লেখ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো আন্তোনিও ভিলেদা বলেন, পুলিশ হত্যাকাণ্ডগুলো গ্যাংগুলোর প্রতিশোধমূলক হামলা, যা রাষ্ট্রের কঠোর অভিযানের জবাব হিসেবেই চালানো হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেনরি সায়েন্স জানান, গ্যাং দমনে অভিযান অব্যাহত রাখতে সেনাবাহিনী রাস্তায় অবস্থান করবে। এদিকে রবিবার গুয়াতেমালা সিটিতে পুলিশের ওপর সমন্বিত সশস্ত্র হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস কর্মীদের জন্য জারি করা ‘ঘরে অবস্থান’ নির্দেশনা প্রত্যাহার করেছে। সূত্র : আলজাজিরা
বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ, না হলে ব্যবস্থা নেবে সরকার

বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ, না হলে ব্যবস্থা নেবে সরকার আগামী ৩১ বৈধ অস্ত্র ৩১ জানুয়ারির মধ্যে কাছের থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে করার লক্ষ্যে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রবিবার (১৮ জানুয়ারি) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। ইসি ঘোষিত তফসিল অনুসরণে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারীদের আগ্নেয়াস্ত্র বহন-প্রদর্শন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনে বৈধভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল ও গৃহীত জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং তার জন্য অনুমোদিত সশস্ত্র রিটেইনারের ক্ষেত্রে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধকরণ-সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না। এই আদেশ লঙ্ঘন করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেশের সব পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
৩ আসনে সব প্রার্থী বৈধ-প্রার্থিতা ফিরে পেলেন জাপার আফজাল ও জেএসডির ফজলুর

৩ আসনে সব প্রার্থী বৈধ-প্রার্থিতা ফিরে পেলেন জাপার আফজাল ও জেএসডির ফজলুর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে সব প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনটি আসনে ১৬ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে কয়জন প্রার্থী মাঠে থাকবেন, তা প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দিন আগামী মঙ্গলবারই নিশ্চিত হবে। এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টি-জাপা প্রার্থী আফজাল হোসেন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির প্রার্থী ফজলুর ইসলাম খাঁন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। গত শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানিতে তাদের আপিল মঞ্জুর করা হয়। এর আগে গত ৩ জানুয়ারি রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক বাছাইয়ে এই দুজন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী খুরশিদ আলম বাচ্চুসহ এই দুজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হলে তারা আপিল করেন। আপিলে এর আগে খুরশিদ আলম বাচ্চু তার প্রার্থিতা ফিরে পান এবং গত শনিবার ফিরে পেলেন আফজাল হোসেন ও ফজলুর ইসলাম খাঁন। এর ফলে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী ১৬ জনই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকলেন। বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে ৫ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনে ৬ জন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদরে মধ্যে শিবগঞ্জ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. কেরামত আলী, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের প্রার্থী মো. আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী নবাব মো. শামসুল হোদা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহা. আফজাল হোসেন ভোটের মাঠে রয়েছেন। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে লড়ছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মো. সাদেকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বংলাদেশের প্রার্থী মো. ইব্রাহিম খলিল ও জাতীয় পার্টির খুরশিদ আলম বাচ্চু। সদর আসনে ভোট করছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. হারুনুর রশীদ, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, গণঅধিকার পরিষদ জিওপি’র প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলাম ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির প্রার্থী মো. ফজলুর ইসলাম খান। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।