২০২৫ সালে পাকিস্তানে ৩৪ শতাংশ বেড়েছে সন্ত্রাসী তৎপরতা 

২০২৫ সালে পাকিস্তানে ৩৪ শতাংশ বেড়েছে সন্ত্রাসী তৎপরতা  পাকিস্তানে ২০২৫ সালে রেকর্ডসংখ্যক ‘জঙ্গি’ নিহতের দাবি সত্ত্বেও দেশটিতে সহিংসতা ও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসলামাবাদ-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাক ইনস্টিটিউট ফর পিস স্টাডিজ (পিআইপিএস) প্রকাশিত ‘পাকিস্তান নিরাপত্তা প্রতিবেদন ২০২৫’ অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ এবং এসব হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ২১ শতাংশ বেড়েছে। বছরজুড়ে দেশটিতে অন্তত ৬৯৯টি সন্ত্রাসী হামলা রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশটির ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদন থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো জানা গেছে। পিআইপিএস-এর এই বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালে বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় কমপক্ষে ১ হাজার ৩৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩৬৬ জন আহত হয়েছেন। সহিংসতার এই বিস্তৃতি মূলত খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তান প্রদেশকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে, যেখানে মোট সহিংসতার ৯৫ শতাংশেরও বেশি ঘটনা ঘটেছে। সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত বছরে সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত মোট মৃত্যুর ৪২ শতাংশেরও বেশি শিকার হয়েছেন নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। দায়িত্বরত অবস্থায় ৪৩৭ জন নিরাপত্তা কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, যা এই লড়াইয়ের ভয়াবহতা নির্দেশ করে। একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিকরাও এই সহিংসতার চরম মূল্য দিচ্ছে, বছরজুড়ে নিহত হয়েছেন ৩৫৪ জন সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে, নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযান এবং আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় ২৪৩ জন ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। সম্প্রতি একটি মার্কিন থিঙ্কট্যাংকের প্রতিবেদনেও ২০২৬ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পুনরায় সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, যা এই অঞ্চলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। পিআইপিএস-এর তথ্যমতে, খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে বেলুচিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলো তাদের কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে, যা মোকাবিলা করতে রাষ্ট্রকে আরও গভীর নিরাপত্তা পরিকল্পনার দিকে নজর দিতে হবে।

ঘন কুয়াশায় ঢাকায় নামলো না আন্তর্জাতিক ৯ ফ্লাইট

ঘন কুয়াশায় ঢাকায় নামলো না আন্তর্জাতিক ৯ ফ্লাইট ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত ৯টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি। কুয়াশায় রানওয়ে দৃশ্যমান না থাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে ফ্লাইটগুলোকে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এসএম রাগীব সামাদ জানান, কুয়াশার কারণে ৪টি ফ্লাইট চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে, ৪টি ফ্লাইট কলকাতা বিমানবন্দরে, ১টি ফ্লাইট ব্যাংকক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ৯টার পর থেকে সকল ফ্লাইট অপারেশন পুনরায় স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়। ডাইভারশন হওয়া ফ্লাইটগুলোকে ফিরিয়ে আনা শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। রাজধানীসহ দেশের সর্বত্র বর্তমানে শীত ও ঘন কুয়াশার ব্যাপক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে গত কয়েকদিন।  

২০২৬ সালে ঘরের মাঠে পাঁচ দলের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ

২০২৬ সালে ঘরের মাঠে পাঁচ দলের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ২০২৬ মৌসুমের ঘরের মাঠের আন্তর্জাতিক সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে। ঘোষিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এই বছর বাংলাদেশে এসে খেলবে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তিন সংস্করণ-টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি-মিলিয়ে পুরো বছরই ব্যস্ত সময় পার করবে টাইগাররা। বিসিবি জানায়, এই সূচির ফলে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা ঘরের মাঠে বিশ্বমানের ক্রিকেট উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। ম্যাচগুলোর ভেন্যু পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে। ২০২৬ সালের মার্চে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসবে পাকিস্তান দল। ১২, ১৪ ও ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে তিনটি ম্যাচ। এপ্রিল-মে মাসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।এই সিরিজে সীমিত ওভারের দুই সংস্করণেই নিজেদের শক্তি যাচাইয়ের সুযোগ পাবে স্বাগতিকরা। মে মাসেই আবার বাংলাদেশ সফরে আসবে পাকিস্তান, তবে এবার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে। এই সিরিজটি আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ, যা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহের সুযোগ এনে দেবে। জুনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে এই সিরিজ ঘরের মাঠে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে আসবে ভারত। এই সফরে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে দুই দল। প্রতিবেশী দুই দেশের ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা, তাই এই সিরিজ নিয়ে ইতোমধ্যেই ভক্তদের আগ্রহ তুঙ্গে। অক্টোবর-নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। সিরিজ শুরুর আগে তিন দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচও রয়েছে। এ ছাড়া মে মাসে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দল বাংলাদেশে এসে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে দুটি চার দিনের ম্যাচ ও তিনটি একদিনের ম্যাচ খেলবে। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালে ঘরের মাঠে টানা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভরপুর সময় অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য। বিসিবির এই ঘোষিত সূচি দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রাথমিকে শতভাগ ও মাধ্যমিকে চাহিদার কাছাকাছি বই বিতরণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রাথমিকে শতভাগ ও মাধ্যমিকে চাহিদার কাছাকাছি বই বিতরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৫ উপজেলায় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নতুন বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকের শতভাগ বই বিতরণ করা হয়েছে এবং মাধ্যমিকের চাহিদার তুলনায় অষ্টম শ্রেণীর কিছু বই বাকি আছে। বৃহস্পতিবার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ করা হয়। সকালে জেলাশহরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গ্রিনভিউ উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেখা যায় শিশু শিক্ষার্থীরা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ক্লাসরুমে ঢুকে বই নিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করছে। শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন। মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায়, নতুন বইয়ের সঙ্গে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার হিসেবে ডিম ও বিস্কুট দেয়া হয়। জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল মতিন জানান, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য মোট বইয়ের চাহিদা ছিল (সাধারণ) ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৩৬২ খানা। এর মধ্যে পাওয়া গেছে ৯ লাখ হাজার ৯৫ হাজার ৭৯৮ খানা। অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন শিক্ষার্থীদের জন্য মোট বইয়ের চাহিদা ছিল ৮ লাখ ৫০ হাজার ২০৫ খানা, পাওয়া গেছে ৪ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ খানা। এদিকে কারিগরির শিক্ষার্থীদের জন্য মোট বইয়ের চাহিদা ছিল ৫২ হাজার ১৫৫ খানা, পাওয়া গেছে ৩৮ হাজার ২১৭ খানা বই। তিনি আরো জানান, অষ্টম শ্রেণীর কিছু বই ছাড়া অন্যান্য শ্রেণীর সকল বই পাওয়া গেছে। কিছু বইয়ের গাড়ি এরই মধ্যে চলে এসেছে। আশা করছি, কয়েকদিনের মধ্যেই বাকি বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে পারব। আব্দুল মতিন বলেন, বইয়ের একাংশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি রয়েছে, যা দেখে শিক্ষার্থীরা অনুপ্রাণিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার প্রাথমিকে ১ম থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত মোট বইয়ের চাহিদা ছিল ৮ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৪ খানা। এছাড়া প্রাক-প্রাথমিকের জন্য চাহিদা ছিল ২৫ হাজার খানা বই। সকল বই শতভাগ পাওয়া গেছে এবং বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিরুল ইসলামের ইন্তেকাল, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিরুল ইসলামের ইন্তেকাল, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের কালুপুর চৌহদ্দীটোলা গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিরুল ইসলাম (৭৩) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি অইন্না ইলাহি রাজিউন)। গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী,এক ছেলে,৪ মেয়ে সহ বহু গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় কালুপুর গোরস্থান প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অনার প্রদানের পর নামাজে জানাজা শেষে ওই গোরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মারফ আফজাল রাজন,সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ,বীর মুক্তিযোদ্ধা খাইরুল ইসলাম,জয়নাল আবেদীন,সুলতান আলী,ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মো: রাসেল সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ইয়াবাসহ আটক ১ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভাগ্যবানপুর গাইনপাড়া লিচু বাগানের ভিতর থেকে ৩০ পিচ ইয়াবাসহ ০১ জন মাদক কারবারীকে আটক করেছে র‌্যাব। র‌্যাব জানায় গতকাল মহারাজপুর ইউনিয়নের ভাগ্যবানপুর গাইনপাড়া ঐ এলাকায় অবৈধ মাদকদ্রব্য বিক্রয় করা হচ্ছে। এমন তথ্যেও ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে বারোঘরিয়ার রবিউল শেখের ছেলে দুরুল হুদাকে আটক করে। গ্রেফতারকৃত আসামী ও উদ্ধারকৃত আলামত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

নাচোলে দেশীয় অস্ত্র ও এ্যামোনিশন উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৫

নাচোলে দেশীয় অস্ত্র ও এ্যামোনিশন উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৫ নাচোল থানার নিজামপুর ইউনিয়নের ২নং বহেরুল ওয়ার্ডের ইলামিত্র গেইটের দিঘির উত্তর পার্শ্বের পাটাল থেকে আধিপত্য বিস্তারে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র ও এ্যামোনিশন উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৫। র‌্যাবের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানানো হয়, গতকাল রাতে নাচোল থানার নিজামপুর ইউনিয়নের ২নং বহেরুল ওয়ার্ডের ইলামিত্র গেইটের দিঘির উত্তর পার্শ্বের পাটাল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৬টি দেশীয় অস্ত্র এবং ০৩ রাউন্ড তাজা এ্যামোনিশন আলামত হিসাবে উদ্ধার করা হয়। অস্ত্রগুলোর হচ্ছে ১টি প্লাস্টিকের বস্তার ভিতর সবুজ কাপড়ে মোড়ানো লোহার বড় হাসুয়া ৪টি, কাঠের বাটযুক্ত লোহার ছোট হাসুয়া ৪টি, কাঠের বাটযুক্ত ১টি খড়গ, কিরিচ ১টি, লোহার চাইনিজ কুড়াল ২টি, দ্বি-মুখী চাইনিজ কুড়াল ৩টি, স্টিলের হাতলযুক্ত লোহার চেইন স্টিক ১টি সহ সর্বমোট ১৬টি দেশীয় অস্ত্র এবং সাদা কাগজে মোড়ানো অবস্থায় ০৩ রাউন্ড তাজা এ্যামোনিশন আলামত হিসাবে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামত সমূহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নাচোল থানায় হস্তান্তর করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে ১০টি ভারতীয় গবাদিপশু জব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে ১০টি ভারতীয় গবাদিপশু জব্দ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর এবং শিবগঞ্জ উপজেলা সীমান্তে বিজিবির পৃথক ৫টি অভিযানে ৮টি গরু ও ২টি মহিষসহ ১০টি ভারতীয় গবাদিপশু জব্দ হয়েছে। তবে এ সব অভিযানে কেউ আটক হয় নি। বিজিবি জানায়, গতকাল সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এসব অভিযান চালানো হয়। এ সব গবাদিপশুর বাজার মূল্য প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা। গতকাল দিবাগত রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে.কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, জহুরপুরটেক বিওপি সদরের চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের সাদ্দমের চর এলাকা থেকে ২টি গরু, জহুরুপর বিওপি সদরের সূর্যনারায়নপুর সাতরশিয়া গ্রাম থেকে ২টি গরু, ওয়াহেদপুর বিওপি শিবগঞ্জের পাঁকা ইউনিয়নের দশরশিয়া গ্রাম হতে ২টি গরু, শিংনগর বিওপি শিবগঞ্জের মনাকষা ইউনিয়নের সাহাপাড়া গ্রাম থেকে ২টি গরু এবং মনাকষা বিওপি বোগলাউড়ি গ্রাম থেকে ২টি মহিষ জব্দ করে। জব্দ গবাদিপশু চাঁপাইনবাবগঞ্জ শুল্ক কার্যালয়ে জমা করা হয়েছে বলেও জানান অধিনায়ক।

‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ উদযাপন শুরু করেছিলেন যে সম্রাট

‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ উদযাপন শুরু করেছিলেন যে সম্রাট থার্টি ফার্স্ট নাইট হলো গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ৩১শে ডিসেম্বরের শেষ রাত। এই রাতে নতুন বছরের প্রথম প্রহরকে স্বাগত জানানো হয়। শুরুটা হয়েছিলো পাশ্চাত্য খ্রিস্টীয় সংস্কৃতিতে, পরবর্তীতে দেশে দেশে শুরু হয় থার্টি ফার্স্ট উদযাপন। এই দিবস পালন প্রথম প্রবর্তন করেন জুলিয়াস সিজার। তিনি ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তনের পরে নববর্ষ পালনের ক্ষণটি নির্দিষ্ট করেন। যদিও বর্তমানে এটি বিশ্বজুড়ে একটি বৈশ্বিক উৎসবের রূপ নিয়েছে, অনেকেই পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেন নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে। এক নজরে জুলিয়াস সিজারের জীবনী জুলিয়াস সিজার ছিলেন রোমান ইতিহাসের এমন এক চরিত্র- যার ব্যক্তিত্বে প্রতিফলিত হতো ভক্তি ও বিদ্বেষ, শ্রদ্ধা, আতঙ্ক—ও ভালোবাসা। তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ যাকে উপেক্ষা করা সম্ভব ছিলো না। পরাজিত শত্রুদের তিনি ক্ষমা করতেন, সুযোগ দিতেন, এমনকি বহু শত্রুকেই পরে নিজের প্রশাসনে জায়গা করে দিতেন। কিন্তু এই উদারতা তাকে নিরাপদ করেনি। বরং অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, ‘‘সিজারের ক্ষমাশীলতাই শেষ পর্যন্ত তার হত্যার পথ প্রশস্ত করেছিল—কারণ যাদের তিনি ক্ষমা করেছিলেন, তাদের মধ্য থেকেই অনেকেই ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল।’’ সিজারের সৈন্যরা তাকে গভীরভাবে ভালোবাসত ও শ্রদ্ধা করত। তিনি শুধু একজন সেনানায়কই ছিলেন না; তিনি ছিলেন সংগঠক, মনস্তত্ত্ববিদ এবং অনুপ্রেরণার উৎস। রাজনীতি ও সামরিক কৌশলে সিজারের প্রতিভা ছিল অসাধারণ। প্রশাসন পরিচালনা, যুদ্ধ পরিকল্পনা, জনসমর্থন আদায় এবং নিজের ভাবমূর্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য। আধুনিক অর্থে যাকে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলা হয়, সিজার তা দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতেন—নিজের লেখা ও ভাষণের মাধ্যমে তিনি নিজেকেই ইতিহাসের নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। ইতিহাসবিদরা বলেন, ‘‘সিজারের মানবিকতাই তার রাজনৈতিক বাস্তবতাবোধকে কখনো কখনো দুর্বল করে তুলেছিল।’’ সাহিত্যিক হিসেবেও সিজার ব্যতিক্রমী। তার লেখা Commentaries on the Gallic War এবং Civil War শুধু ঐতিহাসিক দলিলই নয়, বরং ল্যাটিন সাহিত্যের উৎকৃষ্ট নিদর্শন। ভাষা ছিল সংযত, স্পষ্ট ও শক্তিশালী—অতিরঞ্জনহীন, অথচ গভীরভাবে প্রভাবশালী। যদিও এসব রচনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল, তবুও সাহিত্যগুণে সেগুলো অনন্য। সবচেয়ে বিস্ময়কর ছিল সিজারের অশেষ কর্মশক্তি। শারীরিক ও মানসিক—উভয় দিক থেকেই তিনি ছিলেন অদম্য। যুদ্ধের ময়দান, প্রশাসনিক সভা, দীর্ঘ সফর ও লেখালেখি—সবকিছু তিনি একসঙ্গে সামলাতে পারতেন। যুদ্ধ চলাকালীনও তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেন। ব্যক্তিগত জীবনেও তার প্রাণশক্তির প্রকাশ ছিল স্পষ্ট। প্রেমের কারণে তিনি সমালোচিত হয়েছেন, বিশেষ করে মিসরের রানি ক্লিওপেট্রার সঙ্গে তার সম্পর্ক রোমের অভিজাতদের মধ্যে সন্দেহ ও ক্ষোভ তৈরি করেছিল। এই সম্পর্ক রাজনৈতিকভাবেও তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল। সূত্র: ব্রিটানিকা

দুই সন্তান থাকলে নারীদের মানসিক রোগের ঝুঁকি কমে: গবেষণা

দুই সন্তান থাকলে নারীদের মানসিক রোগের ঝুঁকি কমে: গবেষণা নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে দুটি সন্তান থাকা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। চীনের সুচাউ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল যুক্তরাজ্যের ৫৫ হাজারেরও বেশি নারীর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, যেসব নারীর সন্তান রয়েছে—বিশেষ করে দুটি সন্তান, তাদের মধ্যে বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও বিষণ্নতার মতো গুরুতর মানসিক রোগের ঝুঁকি সন্তানহীন নারীদের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম। বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘জার্নাল অব অ্যাফেকটিভ ডিসঅর্ডার্স’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, সন্তানের সংখ্যা শূন্য থেকে দুই পর্যন্ত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানসিক রোগের ঝুঁকি ধাপে ধাপে হ্রাস পায়। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, সন্তানের সংখ্যা দুইয়ের বেশি হলে এই সুরক্ষামূলক প্রভাব আর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে না; বরং তা স্থিতিশীল হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘‘এই মানসিক সুরক্ষার পেছনে রয়েছে জৈবিক ও মনস্তাত্ত্বিক—উভয় ধরনের কারণ।গর্ভাবস্থায় নারীর শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এসব হরমোন মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং আবেগ ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘমেয়াদে এই হরমোনগত পরিবর্তনগুলো মুড ডিসঅর্ডারের বিরুদ্ধে একটি প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করতে পারে।’’ মা–শিশুর বন্ধন ও মানসিক তৃপ্তি সন্তান জন্মের পর মা ও নবজাতকের মধ্যকার নিবিড় আবেগী বন্ধন এবং শিশুর যত্ন নেওয়ার প্রক্রিয়া মস্তিষ্কের ‘ডোপামিন রিওয়ার্ড সিস্টেম’কে সক্রিয় করে। এর ফলে মায়ের মধ্যে গভীর মানসিক তৃপ্তি তৈরি হয়, যা বিষণ্নতা ও নেতিবাচক অনুভূতি দূরে রাখতে সহায়ক। দ্বিতীয় সন্তান হলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ‘‘দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে মায়েরা সাধারণত বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকেন। প্রথম সন্তানের সময় যে মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা থাকে, তা অনেকটাই কমে যায়। দৈনন্দিন রুটিনের পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায় উদ্বেগ ও মানসিক চাপও তুলনামূলকভাবে কম অনুভূত হয়।’’ বিশ্বজুড়ে যেখানে প্রজনন হার কমছে এবং একই সঙ্গে মানসিক রোগের প্রকোপ বাড়ছে—সেই বাস্তবতায় এই গবেষণার ফলাফল তাৎপর্যপূর্ণ। এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ‘‘১৬ থেকে ২৯ বছর বয়সী নারীদের একটি বড় অংশ মাঝারি থেকে মারাত্মক বিষণ্নতায় ভোগেন। এই প্রেক্ষাপটে দুটি সন্তানের মা হওয়া অনেক নারীর মানসিক সুস্থতার জন্য একটি শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতে পারে।’’