১৯ বছর নিষিদ্ধ থাকার পর পাকিস্তানে ফিরল ঘুড়ি উৎসব

১৯ বছর নিষিদ্ধ থাকার পর পাকিস্তানে ফিরল ঘুড়ি উৎসব পাকিস্তানের লাহোরে নিরাপত্তাজনিত কারণে দীর্ঘ ১৯ বছর নিষিদ্ধ থাকার পর আবার ফিরে এসেছে ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসব ‘বসন্ত’। শহরের আকাশজুড়ে রঙিন ঘুড়ি উড়ছে, বাড়ির ছাদে ছাদে মানুষের হাসি, চিৎকার আর ঢোলের শব্দ বসন্তের আগমনী বার্তা দিচ্ছে। প্রায় দুই দশক হারানো এক সাংস্কৃতিক উৎসব ফের ফিরে পাওয়ার আনন্দে গদগদ পুরো শহর। শহরের সরু গলিতে হোটলেই চোখে পড়েছে বৈদ্যুতিক তারে আটকে থাকা ঘুড়ি নামানোর চেষ্টা করছে যুবক ও কিশোরেরা। আকাশে অসংখ্য ঘুড়ি কখনো জিগজ্যাগ, আবার কখনো গোল পাকিয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে। লাহোরের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী টেক ইঞ্জিনিয়ার আবু বকর আহমেদ বলেন, ঘুড়ি ওড়ানো মোটেও সহজ নয়। আবু বকরের চাচাতো ভাই তাকে ঘুড়ির সুতা টানার কৌশল শেখাচ্ছিলেন। হাসতে হাসতে আবু বকর বলেন, “আমাদের গোটা প্রজন্মই ভীষণ উত্তেজিত। আমাদের আগের প্রজন্ম জানে, কিন্তু আমরা জেন-জি আমরা তো প্রায় কিছুই জানি না।” পাকিস্তানে ঘুড়ি উড়ানোর এই ‘বসন্ত’ উৎসব মূলত বসন্ত মৌসুমের সূচনা উপলক্ষে শত শত বছর ধরে পালিত হয়ে আসছে। তবে এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু মানুষের প্রাণহানির তিক্ত স্মৃতি। মূলত সেকারণেই ২০০৭ সালে এই উৎসব নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ধারাল ও শক্ত সুতা পথচারী কিংবা মোটরসাইকের আরোহীদের গলায় পেঁচিয়ে কিংবা ঘুড়ি ওড়াতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে এবং উৎসব উপলক্ষে আকাশে গুলি ছোড়ার ঘটনায় অতীতে দেশটিতে অসংখ্য দুর্ঘটনায় বহু মানুষ আহত ও নিহত হয়েছে। এবার সেই অতীত মাথায় রেখে কড়া নজরদারি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে শহরজুড়ে। নেওয়া হয়েছে কড়াকড়ি ব্যবস্থা। এবারের ‘বসন্ত’ উৎসব সীমিত করা হয়েছে মাত্র তিনদিনে। বড় আকারের ঘুড়ি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারণ সেগুলোর জন্য শক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ সুতা প্রয়োজন হয়। নাবালকদের ঘুড়ি ওড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সাবধানতা হিসেবে মোটরসাইকেল আরোহীদের হ্যান্ডেলের মাঝে ধাতব দণ্ড লাগানো হয়েছে, যাতে সুতা তাদের গলায় না পেঁচায়। কিছু কিছু রাস্তায় জালও বসানো হয়েছে। কারণ, অতীতে ধাতব সুতা বৈদ্যুতিক তারে পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনা ঘটেছে। ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ছাদ ও আকাশ নজরে রাখা হচ্ছে। তাছাড়া, উৎসব শুরুর আগে যাতে কেউ ঘুড়ি না ওগায় সেটি নিশ্চিত করতে ১ ফেব্রুয়ারির আগে বিক্রি হওয়া বিপজ্জনক সুতার ঘুড়ি জব্দ করা হয়েছে। লাহোর পুলিশের উপ ইন্সপেক্টর জেনারেল বলেছেন, তারা এক লাখের বেশি ঘুড়ি ও দুই হাজারের বেশি সুতার রিল জব্দ করেছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ২

দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ২ দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর একটি এএইচ-ওয়ানএস কোবরা অ্যাটাক হেলিকপ্টার প্রশিক্ষণ চলাকালে বিধ্বস্ত হয়ে দুই ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। দেশটির সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় আজ সকাল ১১টার একটু পরে উত্তরাঞ্চলীয় খেপিয়ং কাউন্টিতে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। কী কারণে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে তা পরিষ্কার হয়নি। হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর দুই ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। রয়টার্স জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী তাদের সকল এএইচ-ওয়ানএস হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন স্থগিত করেছে আর ঘটনার কারণ বের করতে জরুরিভিত্তিতে একটি তদন্ত দল গঠন করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, প্রশিক্ষণে হেলিকপ্টারের ইঞ্জিন বন্ধ না করেই জরুরিভিত্তিতে নামার প্রক্রিয়া অনুশীলন করা হচ্ছিল।

১০ ফেব্রুয়ারির ছুটি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

১০ ফেব্রুয়ারির ছুটি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১০ ফেব্রুয়ারি ছুটির বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। গতকাল এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে দেশব্যাপী সরকারি ছুটি এবং শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক, কর্মচারীদের জন্য চলতি মাসে ১০ তারিখের বিশেষ ছুটি বহাল থাকবে। তবে, শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের বিশেষ ছুটি ভোগের ক্ষেত্রে স্ব স্ব নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ চলতি মাসে ১০ তারিখের পর সুবিধাজনক যেকোনো একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিনকে‌ ‌‘কর্মদিবস’ ঘোষণা করতে পারবে। পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজেএমইএ’র আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি এ সিদ্ধান্ত দেয় উপদেষ্টা পরিষদ।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আজ উপদেষ্টা ও সচিবদের বৈঠক

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আজ উপদেষ্টা ও সচিবদের বৈঠক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে উপদেষ্টা ও সচিবদের বৈঠক হবে আজ । রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে তাঁর সভাপতিত্বে সকাল সোয়া ১০টায় প্রথমে সচিবদের সঙ্গে বৈঠক হবে। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা সচিদের উদ্দেশ্যে ভাষণও দেবেন। এরপর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে মোট ৭৫ জন সচিব দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন চুক্তিভিত্তিক সচিব রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সবাই আজকের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর আজ সরকারের শেষ বৈঠক হতে যাচ্ছে। এ বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বিদায়ী ভাষণে সচিবদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেবেন। পরে উপদেষ্টাদের সঙ্গে শেষ বৈঠকের মাধ্যমে সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সমাপ্তির ঘোষণা আসতে পারে। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জরুরি প্রয়োজনে কেবল উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলেও জানা গেছে। এদিকে উপদেষ্টারা তাদের সরকারি বাসভবন ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফেরত দেওয়া শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে দুজন উপদেষ্টা সরকারি বাসভবন ছেড়ে দিয়েছেন এবং বাসা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনজন উপদেষ্টা এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, উপদেষ্টাদের সরকারি বাসা ছাড়ার উদ্যোগ এবং কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের পরপরই দ্রুত নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের ফুল কোর্ট সভা আজ

সুপ্রিম কোর্টের ফুল কোর্ট সভা আজ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের অংশগ্রহণে ফুল কোর্ট সভা আজ অনুষ্ঠিত হবে। আজ বিকেল ৪টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে এই সভা ডেকেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. মেসবাহ উদ্দিন খান সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, ফুলকোর্ট সভায় অধস্তন আদালতের ছুটির ক্যালেন্ডার অনুমোদনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ফুলকোর্ট সভায় বিভিন্ন এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম কিভাবে পরিচালিত হবে সে নিয়েও ফুলকোর্ট সভায় আলোচনা হয়ে থাকে।

আগামীকাল থেকে ৪ দিন নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগত অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা

আগামীকাল থেকে ৪ দিন নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগত অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচনী এলাকায় অবস্থানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি জানিয়েছে, আগামীকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় কোনো বহিরাগত অবস্থান করতে পারবে না। আজ নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যক্তি, কমিশনের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর পর্যন্ত ওই নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না। এই বিধিনিষেধ আগামীকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি সাড়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। নির্দেশনায় আরো বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নির্বাচন ঘিরে কোনো শঙ্কা নেই: ডিএমপি কমিশনার

নির্বাচন ঘিরে কোনো শঙ্কা নেই: ডিএমপি কমিশনার নির্বাচন ঘিরে কোনো শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। আজ ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ডিএমপির নেয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। ডিএমপি কমিশনার বলেন, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজধানীতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ২ হাজার ১৩১টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৩৭টি ঝুঁকিপূর্ণ। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশসহ ৭ জন করে পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। এছাড়া থাকবে বডি ক্যামেরা। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে ডিএমপির ২৫ হাজার সদস্যের নির্বাচনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোতায়েন থাকবে ডিএমপির স্পেশাল রিজার্ভ ফোর্স, বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড। নির্বাচন ঘিরে কোনো শঙ্কা নেই এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। এবার ভোটে পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, অতীতের নির্বাচনে পুলিশকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা থেকে বেরিয়ে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে উদাহরণ সৃষ্টি করা হবে। ভোট কারচুপির সুযোগ নেই জানিয়ে ভোটের দিন সাংবাদিকদের নিরাপত্তার নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি–জুন পর্যন্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঘোষিত মুদ্রানীতে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, আগের মতো নীতি সুদহার ১০ শতাংশ রাখা হয়েছে। তবে বেসরকা‌রি ঋণ প্রবৃ‌দ্ধি বাড়ানো হয়েছে।আজ সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর নতুন এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এ সময় ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছি‌লেন। মুদ্রানীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ধসের ঝুঁকি থেকে সরে এসে এখন তা উল্লেখযোগ্যভাবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে এবং নতুন প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমলেও তা এখনো তুলনামূলকভাবে উচ্চ। এ অবস্থায় নীতি সুদহার আগে ভাগে কমিয়ে আনা বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত হবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, চলতি অর্থবছর গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও এখন মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর প্রধান নীতি সুদহার রেপো ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে। মূলত ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ধক রেখে রেপোর বিপরীতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেয়। অন্যদিকে, নতুন মুদ্রানীতিতে আন্তঃব্যাংক ধার নেওয়ার ক্ষেত্রে নীতি সুদহার স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। এছাড়া, স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৮ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে টাকা রাখার ক্ষেত্রে এ সুদহার প্রযোজ্য হয়। বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আগের মুদ্রানীতিতে বেশি থাকলেও তা পূরণ হয়নি। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ বাড়তে পারে এমন প্রত্যাশায় নতুন ছয় মাসের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি সামান্য বাড়া‌নো হ‌য়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশ‌মিক ৫ শতাংশ নেওয়ার লক্ষ‌্য ঠিক করা হয়েছে।

ভোটের মাঠ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবে তিন বাহিনীর ড্রোন

ভোটের মাঠ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবে তিন বাহিনীর ড্রোন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সার্বিকভাবে পর্যবেক্ষণে বিমান বাহিনীসহ তিন বাহিনীর ড্রোন মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ড্রোনের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং র‍্যাবের মহাপরিচালকের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহীদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত চিঠিগুলোতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার মাধ্যমে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনকালীন সময়ে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে স্বল্প সময়ে মাঠপর্যায়ের বাস্তব অবস্থা নির্ণয়, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি অত্যন্ত সহায়ক হবে। এ প্রেক্ষিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিমান বাহিনী, র‍্যাব ও বিজিবি কর্তৃক ড্রোন মোতায়েন করে ড্রোনের লাইভ ফিড নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলে সরবরাহের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া বিমান বাহিনীর ড্রোন থেকে প্রাপ্ত লাইভ ফিড নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়েও প্রদান করতে হবে বলে বিমান বাহিনীর কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ করা স্বাধীন সাংবাদিকতায় নগ্ন হস্তক্ষেপ: ডিআরইউ

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ করা স্বাধীন সাংবাদিকতায় নগ্ন হস্তক্ষেপ: ডিআরইউ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তথ্য সংগ্রহে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহনের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপকে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন, অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। আজ ডিআরইউ’র সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, মোবাইল ফোননির্ভর এই যুগে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা আনার যুক্তি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন। বরং এতে ভোটের অনিয়ম আড়াল করার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হবে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহনের সুযোগ দেওয়া নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ নয়; বরং এটি নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার একটি অপরিহার্য উপাদান। নির্বাচন কমিশনের জারি করা বিধি নিষেধ অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ (চারশত) গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য কারো মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাস্তব ক্ষেত্রে এই নির্দেশনা নির্বাচনকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের কার্যত অচল করে দেওয়ার শামিল। ডিআরইউ মনে করে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংবিধানস্বীকৃত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারকে সরাসরি ক্ষুণ্ন করে। ডিআরইউ’র মতে, মোবাইল ফোন ছাড়া আধুনিক সাংবাদিকতা কল্পনাই করা যায় না। তথ্য সংগ্রহ, তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন, ছবি ও ভিডিও ধারণ, অনিয়ম নথিভুক্ত করা এবং জরুরি যোগাযোগ- সবই মোবাইল ফোননির্ভর।সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহনে বাধা দেওয়া মানে নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে জনসমক্ষে অস্বচ্ছ করে তোলা। ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ জানান, সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করে কোনোভাবেই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। অবিলম্বে নির্বাচনকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এই ধরনের বিধিনিষেধকে গণমাধ্যমবিরোধী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করে ডিআরইউ সারাদেশের সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।