সেরেনার ফেরার আভাস দিলেন জোকোভিচ

সেরেনার ফেরার আভাস দিলেন জোকোভিচ চার বছরের নীরবতার পর আবারও কি টেনিস কোর্টে ফিরতে চলেছেন সেরেনা উইলিয়ামস? টেনিস বিশ্বে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ঠিক এই প্রশ্নই। সেই জল্পনায় নতুন করে আগুন জ্বালিয়েছেন নোভাক জোকোভিচ। ভারতীয় ওয়েলস টুর্নামেন্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে সার্বিয়ান কিংবদন্তি সরাসরি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সেরেনা হয়তো আবারও কোর্টে ফিরতে পারেন। মার্কিন মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মৌসুমের প্রথম মাস্টার্স ১০০০ টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান ওয়েলসে অংশ নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জোকোভিচ। সেখানে সেরেনা উইলিয়ামসের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই খোলামেলা মন্তব্য করেন তিনি। জোকোভিচ বলেন, ‘আমার মনে হয়, সে ফিরে আসবে। আমি নিশ্চিত নই। আমি তার সঙ্গে কথা বলিনি। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে সে ফিরে আসবে। কোথায় বা কীভাবে খেলবে, সিঙ্গেলস না ডাবলস, তা আমরা জানি না। তবে আমি যদি তার জায়গায় থাকতাম, তাহলে বিষয়টা গোপনই রাখতাম। জোকোভিচের এই মন্তব্যের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণও রয়েছে। সম্প্রতি সেরেনা উইলিয়ামস ডব্লিউটিএ ট্যুরে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টি-ডোপিং প্রটোকল সম্পন্ন করেছেন। প্রায় চার বছর প্রতিযোগিতামূলক টেনিস থেকে দূরে থাকার পর এমন পদক্ষেপ স্বাভাবিকভাবেই ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। ২০২২ সালের ইউএস ওপেনের পর আর কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেননি সেরেনা। সেই সময় তিনি সরাসরি ‘অবসর’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। বরং নিজের বিদায়কে তিনি বলেছিলেন একটি ‘ইভোলিউশন’ বা নতুন জীবনের পথে অগ্রযাত্রা। এরপর থেকে তিনি টেনিস কোর্টে নিয়মিত দেখা না গেলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই তাকে অনুশীলনের ভিডিও পোস্ট করতে দেখা গেছে। সেই ভিডিওগুলোও ভক্তদের কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে। জোকোভিচ নিজেও স্বীকার করেছেন, সেরেনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন টেনিস বিশ্বের জন্য একটি বড় ঘটনা হতে পারে। এমনকি সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ হিসেবে উইম্বলডনের কথাও উল্লেখ করেছেন জোকোভিচ। তার মতে, সেরেনার মতো কিংবদন্তির জন্য এই গ্র্যান্ড স্ল্যাম হতে পারে সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা। তিনি বলেন, ‘আমি হলে তার ফেরার জন্য উইম্বলডনই বেছে নিতাম। তবে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারি না। আমার মনে হয়, সে হয়তো ভেনাসের সঙ্গে ডাবলস খেলতে পারে। সেটা দেখতে ভালো লাগবে। শুধু আমার দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, ভক্তদের দৃষ্টিকোণ থেকেও। জোকোভিচের মতে, সেরেনা উইলিয়ামস শুধু টেনিস নয়, পুরো ক্রীড়া বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রীড়াবিদ। সেরেনা উইলিয়ামস এখন ৪৪ বছর বয়সী। তবুও টেনিস ইতিহাসে তার নাম আজও এক অনন্য উচ্চতায়। ২৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের মালিক এই কিংবদন্তি যদি সত্যিই আবার কোর্টে ফেরেন, তবে তা শুধু একটি প্রত্যাবর্তনই হবে না, বরং আধুনিক টেনিসের ইতিহাসে আরেকটি অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।
বৃথা গেল বেথেলের ঝড়ো সেঞ্চুরি, ফাইনালে ভারত

বৃথা গেল বেথেলের ঝড়ো সেঞ্চুরি, ফাইনালে ভারত শেষ রক্ষা হলো না ইংল্যান্ডের। ২৫৪ রানের পাহাড়সম টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে সমানতালে খেলেও শেষপর্যন্ত ভারতের কাছে তারা ফাইনালের টিকিট খুইয়েছে।ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে বিশ্বকাপের আয়োজকরা। এবারের ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। আগামী রবিবার (৮ মার্চ) আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে নামবে দুই দল। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টস হেরে ৭ উইকেটে ২৫৩ রান করেছিল ভারত, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। জবাবে জ্যাকব বেথেলের নয়নাভিরাম সেঞ্চুরির পরও ইংল্যান্ড ৭ উইকেটে ২৪৬ রানে থেমেছে। ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নামে ভারত। সুবিধা করতে পারেননি ওপেনার অভিষেক শর্মা। মাত্র ৯ রান করে আউট হন তিনি। শুরুতেই উইকেট হারালেও দলকে চাপে পড়তে দেননি স্যাঞ্জু স্যামসন ও ইশান কিষাণ। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আসে ৯৭ রান। মাত্র ১৮ বলে ৩৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন ইশান।এরই মধ্যে ফিফটি তুলে নেন স্যামসন। সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন ডানহাতি ব্যাটার। কিন্তু সেঞ্চুরির আক্ষেপটা থেকে যায় তার। উইল জ্যাকসের করা বলে ফিল সল্টের হাতে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে ৮৯ রান করেন তিনি। মাত্র ৪২ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি আটটি চার এবং সাতটি ছয়ে সাজানো। দ্রুত রান তোলার জন্য শিবম দুবেকে চার নম্বরে ব্যাট করার জন্য পাঠানো হয়। আস্থার প্রতিদান দেন তিনি। মাত্র ২৫ বলে একটি চার ও চারটি ছয়ের সাহায্যে করেন ৪৩ রান। তবে সুবিধা করতে পারেননি দলনেতা সূর্যকুমার যাদব। ৬ বলে ১১ রান করেন তিনি। শেষদিকে ব্যাট হাতে ক্রিজে ঝড় তোলেন হার্দিক পান্ডিয়া ও তিলক ভার্মা। হার্দিক ১২ বলে ২৭ ও তিলক ৭ বলে ২১ রান করেন। এছাড়া অক্ষর প্যাটেল ২ ও বরুণ চক্রবর্তী শূন্যরানে অপরাজিত থাকেন। ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নেন উইল জ্যাকস ও আদিল রশিদ। জোফরা আর্চার পেয়েছেন একটি করে উইকেট। বিশাল টার্গেট নিয়ে খেলতে নেমে শুরুটাই ভালো হয়নি ইংল্যান্ডের। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই সাজঘরের পথ ধরেন ওপেনার ফিল সল্ট। হার্দিক পান্ডিয়ার করা বলে অক্ষর প্যাটেলের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। আউট হওয়ার আগে করেন ৫ রান। আর দ্বিতীয় উইকেটে ব্যাট করতে নেমে দলনেতা হ্যারি ব্রুক ফেরেন ৬ বলে ৭ রান। পাওয়ার প্লেতে আরও একটি উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। বরুণ চক্রবর্তীর করা বলে বোল্ড আউট হওয়ার আগে ১৭ বলে ২৫ রান করেন জস বাটলার। ৩ উইকেট হারালেও রানের খাতা ঠিকই সচল রাখে ইংলিশরা। ৬ ওভারে আসে ৬৮ রান। এরপর ব্যাট হাতে মাঠে নেমে তান্ডব শুরু করেন জ্যাকব বেথেল। তাকে সঙ্গ দেন টম ব্যান্টন ও উইল জ্যাকস। চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে এই সেঞ্চুরিয়ান একাই টেনে নিয়ে যেতে থাকেন দলকে। তাকে সঙ্গ দেন টম ব্যান্টন ও উইল জ্যাকস। বেথেলকে রেখে সাজঘরে ফেরেন দুজনই। ৫ বলে ১৭ রান করেন টম ব্যান্টন। ৫ বলে ১৭ রান করেন টম ব্যান্টন। আর ২০ বলে ৩৫ রান করেন জ্যাকস। ১৪ বলে ১৮ রান করেন স্যাম কারান। ৪৮ বলে ৮ চার ও ৭ ছক্কায় দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১০৫ রান করেন বেথেল।কিন্তু ভাগ্য সহায় হলো না। অবশ্য জাসপ্রিত বুমরাহর শেষ দুই ওভার আর ১৯তম ওভারে এসে ভারতকে হারের ভয় থেকে রেহাই দেন হার্দিক পান্ডিয়া। শেষ ৫ ওভারে যখন ৬৯ রান দরকার, তখন বুহরাহ দুই ওভার বল করে দেন মাত্র ১৪ রান, আর হার্দিক ১ উইকেট নিয়ে দেন ৯ রান। অবশ্য হার্দিককে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে যদি স্যাম কারান ধরা না পড়তেন তাহলে হয়তো ম্যাচের চিত্রই বদলে যেত। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন হার্দিক পান্ডিয়া। আর একটি করে উইকেট নেন চারজন বোলার। সংক্ষিপ্ত স্কোর ভারত: ২০ ওভারে ২৫৩/৭ (স্যামসন ৮৯, দুবে ৪৩, কিষান ৩৯, পান্ডিয়া ২৭; জ্যাকস ২/৪০, আদিল ২/৪১, আর্চার ১/৬১)। ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ২৪৬/৭ (বেথেল ১০৫, জ্যাকস ৩৫, বাটলার ২৫; পান্ডিয়া ২/৩৮, বুমরা ১/৩৩, অক্ষর ১/৩৫)। ফল: ভারত ৭ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সঞ্জু স্যামসন (ভারত)।
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সংবর্ধনায় মেসি-সুয়ারেজরা

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সংবর্ধনায় মেসি-সুয়ারেজরা মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েছে ইন্টার মায়ামি। এই ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ সংবর্ধনা পেয়েছে ফ্লোরিডার ক্লাবটি। আর এই জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়েই জীবনে প্রথমবারের মতো মার্কিন রাষ্ট্রপতির বাসভবন হোয়াইট হাউসে পা রাখলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি। হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে প্রবেশ করেন ইন্টার মায়ামি অধিনায়ক মেসি এবং ক্লাবের সহ-মালিক হোর্হে মাস। সাক্ষাৎকালে ট্রাম্পের হাতে নিজের স্বাক্ষর করা একটি গোলাপি ফুটবল তুলে দেন বিশ্বকাপজয়ী এই মহাতারকা। এছাড়া হোর্হে মাস ও দলের হেড কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দেন ইন্টার মায়ামির একটি জার্সি ও একটি ঘড়ি। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মেসি ও তার দলের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমরা আজ সত্যিকারের প্রতিভাবান মানুষদের সম্মান জানাচ্ছি। একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবারের মতো বলতে পারছি, ‘হোয়াইট হাউসে স্বাগতম, লিওনেল মেসি।’ এ সময় ট্রাম্প আরও জানান, তার ছেলে মেসির অনেক বড় ভক্ত এবং সে মেসিকে একজন অসাধারণ খেলোয়াড় ও মানুষ হিসেবে সম্মান করে। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিনের ক্রীড়া ঐতিহ্য রয়েছে। বড় কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি বা লিগ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর বিজয়ী দলকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেই প্রথা মেনেই এই আয়োজন। গত বছরের ৬ ডিসেম্বর ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম এমএলএস কাপ জেতে ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করা ইন্টার মায়ামি। ওই মৌসুমে টানা দ্বিতীয়বারের মতো টুর্নামেন্টের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড়ের (এমভিপি) পুরস্কারও জেতেন মেসি। রোমাঞ্চকর এই আয়োজনে লুইস সুয়ারেজ, রদ্রিগো ডি পল, তাদেও আলেন্দেসহ মায়ামির পুরো দল উপস্থিত ছিল। এছাড়া এমএলএস কমিশনার ডন গারবার, সাবেক বেসবল তারকা অ্যালেক্স রদ্রিগেজ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও যোগ দেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দলটিকে তাঁর কার্যালয় ওভাল অফিসেও আমন্ত্রণ জানান।
জাতীয় দলের বিপক্ষে অল স্টারের দল ঘোষণা

জাতীয় দলের বিপক্ষে অল স্টারের দল ঘোষণা গেল মাসের ২৩ তারিখ থেকে মাঠে গড়িয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ওয়ানডে ফরম্যাট। গ্রুপ পর্বের খেলা শেষে গেল মঙ্গলবার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল মিরপুর শেরে-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ফাইনাল শেষে অবশ্য বিশ্রামে থাকতে পারছেন না জাতীয় দলের পাশাপাশি আরো বেশ কিছু ক্রিকেটার। আগামীকাল ৭ মার্চ মিরপুর শেরে-ই বাংলা স্টেডিয়ামে আরেকটি ম্যাচে ক্রিকেটাররা মাঠে নামতে যাচ্ছেন। যেখানে একটি দলের হয়ে লড়বেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। আর অন্য দলে থাকবে বিসিএল দুর্দান্ত পারফর্ম করা ক্রিকেটাররা। বিসিএল অল স্টার দলের হয়ে খেলবেন আকবর আলী, রিপন মণ্ডল, আব্দুল গাফফার সাকলাইন, রবিউল হক, মাহফিজুল রবিন, নাঈম শেখ, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, সৌম্য সরকার, নাইম হাসান, খালেদ আহমেদ, পারভেজ ইমন, মোসাদ্দেক সৈকত ও জিসান আলমরা। ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে, যা শেষ হওয়ার সময় রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে। এই ম্যাচ শেষেই জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা প্রস্তুতিতে নামবেন পাকিস্তান সিরিজের জন্য। সবকিছু ঠিক থাকলে ১১ মার্চ প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে নামবে দুই দল। সিরিজের বাকি দুই ম্যাচ হবে ১৩ এবং ১৫ মার্চ। সব ম্যাচ হবে শেরে-ই বাংলায়। বিসিএল অল স্টারস দল: আকবর আলী (অধিনায়ক), নাইম শেখ, সৌম্য সরকার, মাহফিজুল ইসলাম রবিন, পারভেজ ইমন, মাহিদুল অঙ্কন, মোসাদ্দেক সৈকত, তানভীর ইসলাম, রিপন মন্ডল, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, আব্দুল গাফফার সাকলাইন, রবিউল হক, রাকিবুল হাসান, জিসান আলম, নাইম হাসান
মার্কিন সেনারা ইরানের দেড় শতাধিক শিশু হত্যা করে কাঠগড়ায়

মার্কিন সেনারা ইরানের দেড় শতাধিক শিশু হত্যা করে কাঠগড়ায় গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই আগ্রাসন শুরুই করে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ১৮০শিশুকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে মার্কিন সেনারা। অবশেষে এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে ওয়াশিংটন। দুই আমেরিকান কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স সংবাদ সংস্থা জানায়, মার্কিন সামরিক তদন্তকারীরা ধারণা করছেন যে, ইরানের মিনাবের শাজরা তাইয়িবা বালিকা বিদ্যালয়ে বিমান হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী ছিল। যদিও তারা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি বা তাদের তদন্ত শেষ করেননি বলে জানিয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর মিনাবের স্কুলটিতে হামলায় সবচেয়ে বেশি সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে জানায়, এতে ১৮০ জন নিহত হয়েছে, প্রায় সবাই শিশু। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কেউই এর দায় স্বীকার করেনি। ইসরাইল বলেছে, তারা ওই এলাকায় কোনো অভিযানের কথা জানে না। আর যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ঘটনাটি এখনো তদন্ত করা হচ্ছে এবং তারা কখনো বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা করে না। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে আমেরিকার দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। অবশ্য তারা নতুন প্রমাণ পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি, যা যুক্তরাষ্ট্রকে দায়মুক্ত করে এবং এই ঘটনার জন্য অন্য কোনো পক্ষের দিকে ইঙ্গিত দিতে পারে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের স্কুলটির পাশে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বা আইআরজিসির ঘাঁটি ছিল। সেই জায়গাজুড়ে কাছাকাছি সময়ে একাধিক হামলা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিবিসি ভেরিফাই। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ারের ইন্সটাগ্রামের একটি পোস্ট থেকে দেখা যায়, আমেরিকা-ইসরাইলের যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টার মানচিত্রে ইরানের দক্ষিণে হামলার স্থান ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চিহ্নিত করা হয়েছে যার মধ্যে মিনাবও ছিল।
চূড়ান্ত হলেও নতুন নেতা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে ইরান

চূড়ান্ত হলেও নতুন নেতা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে ইরান আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যাকাণ্ডের পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ নেতার নাম নিয়ে খবর প্রচার হয়েছে। ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের এক সদস্যও বলেছিলেন, দ্রুতই নাম ঘোষণা করা হবে। কিন্তু সাতদিনেও তা না হওয়ায় গুজব ছড়ানোর ঘটনা ঘটছে। আলজাজিরাকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহযোগী অধ্যাপক ইঙ্গিত দিয়েছেন, সম্ভবত পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন হয়ে গেছে। কিন্তু নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে তা এখনো ঘোষণা করা হচ্ছে না। জোহরেহ খারাজমি নামের ওই অধ্যাপক আলজাজিরাকে বলেছেন, বিশেষজ্ঞ পরিষদ বা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস -এর আট সদস্য নেতা বাছাইয়ের প্রক্রিয়া বয়কট করেছেন- এমন খবর গুজব। পরবর্তী নেতার জীবন রক্ষা করা খুবই যৌক্তিক। সম্ভবত এই নিরাপত্তা প্রটোকলের কারণেই নাম ঘোষণা করা হচ্ছে না। অধ্যাপক খারাজমি আরও বলেন, গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছে। কিন্তু বাস্তবে কুর্দিরা ইরানের পক্ষেই আছে। বৃহস্পতিবার ইরানি বাহিনী ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলে কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে একটি অভিযান চালিয়েছে। অধ্যাপক খারাজমি বলছেন, এসব খবর মূলত রাজনৈতিক প্রচারণা। ‘আমার মনে হয় এটা রাজনৈতিক প্রচারণা। ইরানিরা তাদের (কুর্দি) দমন করবে এমনটা আমি মনে করি না।’-বলেন অধ্যাপক খারাজমি।
বিশ্ববাজারে তেলের কোনো ঘাটতি নেই

বিশ্ববাজারে তেলের কোনো ঘাটতি নেই বিশ্ববাজারে তেলের কোনো ঘাটতি নেই ও সংকটের আশঙ্কা অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এই দাবি করেন তিনি। সাংবাদিকদের বিরোল বলেন, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ‘লজিস্টিক্যাল বিঘ্ন’ অনেক দেশের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। কিন্তু বৈশ্বিক বাজারে পর্যাপ্ত ও বিশাল পরিমাণ উদ্বৃত্ত তেল রয়েছে তেল রয়েছে। জরুরি মজুত তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়টি আইইএ বিবেচনা করছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বিরোল বলেন, সব ধরনের বিকল্পই টেবিলে রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি। বিরোল আরও বলেন, আমরা মূলত সাময়িক একটি বিঘ্নের মুখে পড়েছি, এটি একটি লজিস্টিক্যাল বিঘ্ন। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ ও এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে তেহরানের পাল্টা হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আবারও মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ না করলেও, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তা ‘পুড়িয়ে দেওয়া হবে’ বলে হুমকি দিয়েছেন দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক জেনারেল। আইআরজিসির টেলিগ্রাম চ্যানেলে বুধবার (৩ মার্চ) দেওয়া এক পোস্টে জেনারেল সরদার জব্বারি বলেন, আমরা তেলের পাইপলাইনেও হামলা চালাবো ও এই অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও বাইরে যেতে দেবো না। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাবে। এই হুমকির পরে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস পরিবহন হওয়া এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এরপরও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়েই রয়ে গেছে। সংঘাত শুরু হওয়ার আগের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারির পর থেকে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বেড়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের তেল সংকটের পর বড় ধরনের জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নের সময় আন্তর্জাতিক সমন্বিত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে আইইএ গঠন করা হয়েছিল। সূত্র: এএফপি
জুমার নামাজে নিষেধাজ্ঞা দিলো ইসরায়েল আল আকসা মসজিদে

জুমার নামাজে নিষেধাজ্ঞা দিলো ইসরায়েল আল আকসা মসজিদে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পবিত্র আল আকসা মসজিদে রমজানের তৃতীয় জুম্মার নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার এক ভিডিওবার্তায় এ সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা দেয় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনী (আইডিএফ)। একইসঙ্গে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে পবিত্র নগরী জেরুজালেমের সকল ধর্মীয় স্থাপনা। জানা গেছে, চলতি রমজানে প্রথমবারের মতো এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত দুই জুম্মায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনির অংশগ্রহণে নামাজ অনুষ্ঠিত হয় আল আকসা প্রাঙ্গণে। প্রসঙ্গত, এবারের রমজান মাসে পশ্চিম তীর থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ফিলিস্তিনিকে আল আকসায় নামাজ পড়ার অনুমতি দিয়েছিল ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, জেরুজালেমে অবস্থিত আল আকসা মসজিদ মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র স্থান। ১৯৬৭ সালের ৬ দিনের যুদ্ধের পর জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরায়েল।
গ্রেফতারের পর প্রোফাইল ডিলিট করলেন পপতারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স

গ্রেফতারের পর প্রোফাইল ডিলিট করলেন পপতারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স ইকরার আত্মহত্যা নিয়ে শবনম ফারিয়ার ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট বিয়ে করলে বলেন কত নম্বর বিয়ে, এত ঢং কইরেন না জামাই নিয়ে মার্কিন পপতারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। বুধবার (৪ মার্চ) রাতে ক্যালিফোর্নিয়ার ভেনচুরা কাউন্টি থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার ভোরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশসূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৪ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বেপরোয়া গতিতে একটি কালো বিএমডব্লিউ গাড়ি চালাচ্ছিলেন ব্রিটনি স্পিয়ার্স। খবর পেয়ে ওয়েস্টলেক ভিলেজ এলাকায় গাড়িটি থামানো হয়। সে সময় চালকের আসনে ছিলেন ব্রিটনি স্পিয়ার্স। এ সময় তার আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা। এরপর তাকে নিকটস্থ একটি হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। হাসপাতালের পরীক্ষায় তার শরীরে মাদক ও অ্যালকোহলের উপস্থিতি পাওয়ায় যায়। এরপর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এ সময় তল্লাশিকালে তার গাড়ি থেকে অজ্ঞাত একটি দ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার পর ব্রিটনি স্পিয়ার্সের আইনজীবী ও প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ব্রিটনি তার ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং তিনি আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলতে প্রস্তুত। জেলের পরিবর্তে তাকে পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠানোর জন্য আদালতের কাছে আবেদন করবে তার টিম। এদিকে গ্রেফতার হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন সংগীতশিল্পী ব্রিটনি স্পিয়ার্স। সেই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন ‘ইস, কাজটি আবার করলাম’ (Oops!… I Did It Again)। ভক্তরা ভেবেছিলেন হয়তো শখ করেই নিজের গাওয়া বিখ্যাত গানের একটি লাইন তুলে পোস্ট করেছেন ব্রিটনি। তবে এর সঙ্গে যে দুর্ঘটনার যোগ রয়েছে, প্রথমে কেউ-ই তা আঁচ করতে পারেননি। এ পোস্ট করার কিছুক্ষণ পর পপতারকা আরও অদ্ভুত এক কাণ্ড করে বসেন। সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলটি ডিলিট করে ফেলেন তিনি। সাধারণত ব্রিটনি তার জীবনের নানা মুহূর্ত বা নাচ, গান এ প্ল্যাটফরমে শেয়ার করতেন। এখন হঠাৎ অ্যাকাউন্ট ডিলিট হয়ে যাওয়ায় ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষের দোয়ায় ভালো আছি -তানিয়া বৃষ্টি

দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষের দোয়ায় ভালো আছি -তানিয়া বৃষ্টি এই প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। গতকাল ছিল তার জন্মদিন। তবে এবারের জন্মদিনটি তার জন্য অন্য সব বছরের চেয়ে আলাদা। ব্রেন টিউমার অপারেশনের পর বর্তমানে তিনি উত্তরার বাসায় পূর্ণ বিশ্রামে আছেন। অসুস্থতা কাটিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এই শিল্পী। সম্প্রতি হাসপাতালে সেলাই কাটার পর চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে তার হাস্যোজ্জ্বল ছবি ভক্তদের মনে স্বস্তি ফিরিয়েছে। জীবন ও ক্যারিয়ারের এই কঠিন সময় এবং আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- তারেক আনন্দ কেমন আছেন এখন? আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর অশেষ রহমতে, দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষের দোয়ায় এবং অগণিত শুভেচ্ছায় এই মুহূর্তে ভালো আছি। ডাক্তারের পরামর্শে বাসায় পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হচ্ছে। অপারেশনের ধকল কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। সবার ভালোবাসা আমাকে দ্রুত সুস্থ হতে শক্তি দিচ্ছে। অসুস্থতার খবর শোনার পর সহকর্মীদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল? আমার অনেক সহকর্মী ও শুভাকাক্সক্ষী বিভিন্ন মাধ্যমে নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে সবাইকে হয়তো উত্তর দিতে পারছি না, কিন্তু তাদের ভালোবাসা ও মমতা আমি প্রতি মুহূর্তে অনুভব করছি। সবাই আমাকে এতটা ভালোবাসেন, তা এই বিপদে না পড়লে হয়তো এভাবে জানা হতো না। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন যেন দ্রুত কর্মক্ষেত্রে ফিরতে পারি। শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝে হঠাৎ এই বিরতিকে কীভাবে দেখছেন? অভিনয় আমার প্রাণ। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আমি মনে-প্রাণে অভিনয়কে ভালোবেসেছি। ঈদুল ফিতরের বেশ কিছু নাটকের কাজ হাতে ছিল, কিছু গুছিয়েও এনেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থতা সবকিছু থামিয়ে দিল। তবে আমি বিশ্বাস করি, সুস্থ হয়ে ফিরলে আবারও দর্শকদের ভালো কিছু উপহার দিতে পারব। বিরতিটা অনিচ্ছাকৃত হলেও এটি আমাকে জীবনের নতুন মানে শিখিয়েছে। সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে দর্শকদের ভালো সাড়া পাচ্ছিলেন… হ্যাঁ, সাগর জাহানের ‘চোখটা আমাকে দাও’ ও ‘ছোবল’ নাটকে অভিনয়ের জন্য প্রচুর প্রশংসা পেয়েছি। এ ছাড়া রায়হান খানের ‘ট্রাইবুনাল’ সিনেমাটিতে কাজ করাটাও ছিল দারুণ অভিজ্ঞতা। দর্শক যখন কাজ পছন্দ করেন, তখন শিল্পী হিসেবে দায়বদ্ধতা বেড়ে যায়। এই ভালোবাসাটাই আমাকে দ্রুত সেটে ফেরার জন্য তাড়না দিচ্ছে। এক যুগের ক্যারিয়ার নিয়ে আপনার উপলব্ধি কী? একটি রিয়েলিটি শোর মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয়েছিল। এরপর বিজ্ঞাপন ও নাটকের দীর্ঘ পথচলা। আমি সব সময় চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করতে চেয়েছি। আজ পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, দর্শকদের এই অকৃত্রিম ভালোবাসাই আমার সার্থকতা। জন্মদিনে (গতকাল) আমার একটাই চাওয়া, পুরোপুরি সুস্থ হয়ে আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো।