ডাইনি অপবাদে ভারতে নারী ও শিশুপুত্রকে পুড়িয়ে হত্যা

ডাইনি অপবাদে ভারতে নারী ও শিশুপুত্রকে পুড়িয়ে হত্যা ডাইনি অপবাদে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে এক নারী ও তাঁর ১০ বছর বয়সী শিশুপুত্রকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যের প্রত্যন্ত আদিবাসী জনপদ কুদসাইয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনায় ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত নারীর স্বামীও হামলার শিকার হন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের ধরতে তল্লাশি চলছে। গ্রেপ্তাররা পুলিশের হেফাজতে থাকলেও এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।  ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভারতে ডাইনি সন্দেহে আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী। গত মঙ্গলবার জ্যোতি সিনকু ও তাঁর সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এর কয়েক মাস আগে প্রতিবেশী রাজ্য বিহারে একই অভিযোগে এক পরিবারের পাঁচ সদস্যকে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল। বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা সাধারণত পিছিয়ে পড়া আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় বেশি ঘটে। কুসংস্কারের প্রভাব এবং দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে অনেকেই হাতুড়ে চিকিৎসকের ওপর নির্ভরশীল। ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে কুদসাই একটি ছোট গ্রাম। সেখানে মাত্র ৫০টি মাটির বাড়ি রয়েছে। সম্প্রতি গ্রামে কয়েকটি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়। একই সময়ে পুসতুন বিরুয়া নামে এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে মারা যান। এসব ঘটনাকে ঘিরেই গ্রামে জাদুটোনার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পুসতুন বিরুয়ার অসুস্থতার সময় থেকেই জ্যোতি সিনকুকে দায়ী করা হচ্ছিল। তাঁকে ডাইনিবিদ্যা চর্চার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুসতুন বিরুয়া মারা গেলে উত্তেজিত একদল লোক জ্যোতি সিনকুর বাড়িতে হামলা চালায়। দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোলহান সিনকু বলেন, সেদিন রাতে অন্তত ডজনখানেক লোক তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়, যার মধ্যে পাঁচজন নারীও ছিল। হামলাকারীরা তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। তিনি হাতজোড় করে বিষয়টি গ্রামসভায় মীমাংসার অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু কেউ কথা শোনেনি বলেও জানান। পুসতুন বিরুয়ার স্ত্রী জানো বিরুয়া বলেন, তাঁর স্বামী বারবার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি স্থানীয় এক হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে যান। ওই চিকিৎসক জানান, পুসতুনের কোনো শারীরিক অসুস্থতা নেই। হাসপাতালে না নেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তারা গরিব, এত দূরে নেওয়া সম্ভব ছিল না। কোলহান সিনকু ও পরিবারের আরেক সদস্যের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ হত্যা ও ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের মামলা করেছে। চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে কুসংস্কারবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রম নেওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। সোর্স বিবিসি

রোজায় শরীরে শক্তি ধরে রাখতে যা করবেন

রোজায় শরীরে শক্তি ধরে রাখতে যা করবেন যদিও রোজা রাখার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে তবে এর কারণে শরীর ক্লান্ত হওয়া স্বাভাবিক। সারাদিন না খেয়ে থাকার কারণে শরীর কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তবে চিন্তার কিছু নেই। কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখলে পুরো রমজানজুড়ে আপনি সুস্থ ও শক্তিশালী থাকতে পারবেন। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠলে ক্লান্তিবোধ কমে আসবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রোজায় শক্তি ধরে রাখতে কী করবেন- সেহরিতে পুষ্টিকর খাবার খান সুষম সেহরি দিনের বেলায় রোজার জন্য শরীরকে প্রস্তুত করতে সাহায্য করবে, পাশাপাশি হজমকে আরও মসৃণ করে তুলবে। জটিল কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফল ও শাক-সবজির মিশ্রণ শরীরকে টিকিয়ে রাখবে। লবণাক্ত বা গভীর ভাজা খাবার এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার উপভোগ করুন। হোল গ্রেইন রুটি, বাদামি চাল, ডিম, অ্যাভোকাডো, পনির এবং কলা বেছে নিন। সেইসঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। মৃদু ব্যায়াম শরীর যখন রোজার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়, তখন প্রথম কয়েক দিন শক্তির মাত্রা কমে যেতে পারে। এটিকে সামঞ্জস্য করার জন্য, আপনার দিনের মধ্যে মৃদু কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত করুন। কয়েক মিনিট স্ট্রেচিং, অল্প হাঁটা, অথবা কিছু সহজ শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম আপনাকে পুনরুজ্জীবিত এবং সতেজ করতে সাহায্য করবে। ঘুমের সময়সূচী ঠিক রাখুন ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুবান্ধব এবং পরিবার একত্রিত হওয়ার সময় হলো রমজান মাস। ইফতার, নামাজ, সেহরি সবকিছু মিলিয়ে রাতে ঘুমের সময়ে পরিবর্তন আসে। যদি সম্ভব হয়, আগে আগে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করুন, অথবা সম্ভব হলে নিয়মিত ঘুমের সময়সূচী বজায় রাখুন। ঠান্ডা পরিবেশে থাকুন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে রোজায় পানিশূন্যতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফ্যান এবং এয়ার কন্ডিশনিং সমৃদ্ধ পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন, সেইসঙ্গে সম্ভব হলে তাপ থেকে দূরে থাকুন। তীব্র পানিশূন্যতা এড়াতে নিজের ও প্রিয়জনদের দিকে খেয়াল রাখুন। পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

কত টাকার মালিক নেহা কাক্কর?

কত টাকার মালিক নেহা কাক্কর? বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় প্লেব্যাক গায়িকা নেহা কাক্কর। গত বছরটি খুব একটা ভালো কাটেনি তার। লাইভ কনসার্ট ও নতুন গান প্রকাশের পর অশ্লীলতার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার কিছুদিন পর নেহা কাক্কর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লেখেন “দায়িত্ব, সম্পর্ক, কাজ সবকিছু থেকে বিরতি নেওয়ার সময় এসেছে। আর ফিরব কি না নিশ্চিত নই।” এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নেহার সংসার ভাঙার গুঞ্জন চাউর হয়। সর্বশেষ তা উড়িয়ে দেন নেহা। চলুন এক নজরে দেখে নিই, নেহা কত টাকার মালিক নবভারত টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নেহা কাক্করের মোট সম্পদের পরিমাণ ১০৪ কোটি রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা)। প্রতি মাসে তার আয় ২ কোটি রুপি। প্রতি গানের জন্য ১০-২০ লাখ রুপি পারিশ্রমিক নেন। প্রতিটি লাইভ শোয়ের জন্য নেন প্রায় ২৫-৩০ লাখ রুপি। তাছাড়া টিভি রিয়েলিটি শোয়ের বিচারক হিসেবে কাজ করেন নেহা কাক্কর। রিয়েলিটি শোয়ের বিচারক হিসেবে প্রতি সিজনে ২০ লাখ রুপির বেশি পারিশ্রমিক পান। মিউজিক ভিডিও, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেও আয় করে থাকেন এই শিল্পী। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আয় নেহা কাক্করের ইনস্টাগ্রামে অনুসারীর সংখ্যা ৭৭ মিলিয়নের বেশি। ফলে ব্র্যান্ড প্রমোশন ও অনলাইন সহযোগিতার মাধ্যমেও মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করে থাকেন এই শিল্পী। ভারতীয় সংগীতশিল্পীদেরে মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুসারীর দিক থেকে অন্যতম নেহা। বিলাসবহুল ফ্ল্যাট-বাড়ি মুম্বাইয়ে সমুদ্রমুখী বিলাসবহুল একটি ফ্ল্যাটের মালিক নেহা কাক্কর। এর মূল্য প্রায় ১.২ কোটি রুপি। ঋষিকেশে তার একটি সুন্দর বাংলো রয়েছে। সেখানে প্রকৃতির মাঝে শান্ত সময় কাটান এই শিল্পী। দামি গাড়ির সংগ্রহ নেহা কাক্করের গ্যারেজে বেশ কিছু বিলাসবহুল গাড়ি শোভা পাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে অডি কিউ৭, মার্সিডিজ-বেঞ্জ জিএলএস ৩৫০, বিএমডব্লিউ। বিলাসবহুল প্রতিটি গাড়ির মূল্য কয়েক কোটি রুপি। নেহার ক্যারিয়ার ১৯৮৮ সালের ৬ জুন উত্তর প্রদেশের ঋষিকেশে এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেন নেহা কাক্কর। তার বাবা ছিলেন শিঙাড়া বিক্রেতা। বড় বোন সনু কাক্কর ও ভাই টনি কাক্কর উভয়ে সংগীতের সঙ্গে যুক্ত। মাত্র চার বছর বয়স থেকে গান শুরু করেন নেহা। ২০০৫ সালে ইন্ডিয়ান আইডলের মাধ্যমে গায়িকা হিসেবে নজর কাড়েন নেহা।‍ ২০০৮ সালে ভাই টনির সঙ্গে মুম্বাই পা রাখেন নেহা। সেই বছরই ‘নেহা দ্য রকস্টার’ নামে তার প্রথম গানের অ্যালবাম মুক্তি পায়। ২০১৩ সালে ‘ফাটা পোস্টার নিকলা হিরো’সিনেমার ‘ধাতিং নাচ’ গানে প্রথম প্লেব্যাক করেন। ২০১৪ সালে তার ‘সানি সানি’গানটি দারুণ হিট হয়। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক তুমুল জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি। নেহার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘জাদু কা ঝাপ্পি’, ‘টুকুর টুকুর’, ‘ন্যায়না’, ‘মে তেরা বয়ফ্রেন্ড’, ‘দিলবার দিলবার’, ‘কালা চশমা’, ‘আঁখ মারে’, ‘কোকাকোলা’, ‘সাকি সাকি’ প্রভৃতি।

একুশ মানে নিজের ভাষাকে ভালোবাসার প্রতিজ্ঞা’

একুশ মানে নিজের ভাষাকে ভালোবাসার প্রতিজ্ঞা’ রক্তস্নাত ঐতিহাসিক ২১ ফেব্রুয়ারি আজ। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এই দিনে বাঙালি জাতি বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে সেইসব বীর সন্তানদের, যারা মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় ১৯৫২ সালের এই দিনে অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিলেন। শোক, অহংকার আর গৌরবের এই দিনে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় ও নন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসান। শহীদ দিবস উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন তিনি; যেখানে বায়ান্নর ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ এবং বাংলা ভাষার প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা ফুটে উঠেছে। জয়া আহসান লেখেন, ২১শে ফেব্রুয়ারি। এই দিনটা এলে ভোরের আলোটাও যেন একটু নরম হয়, বাতাসে ভেসে আসে অদ্ভুত এক শোক আর গর্বের মিশ্র গন্ধ। মনে হয়, মাটির খুব গভীর থেকে কেউ ফিসফিস করে বলছে, ‘ভাষাকে ভালোবাসো। এই অভিনেত্রী আরও লেখেন, ভাষা তো শুধু উচ্চারণ নয়। ভাষা মানে মায়ের আঁচলের গন্ধ, শৈশবের প্রথম ছড়া, প্রথম ভালোবাসার স্বীকারোক্তি। সেই ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখতে ১৯৫২’র তরুণেরা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিল। গুলির শব্দের সামনে তারা ভয়কে ছোট করে দেখেছিল। কারণ তাদের কাছে বাংলা ছিল শ্বাসের মতো; থামানো যায় না, থামানো উচিতও নয়। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে জয়া তার পোস্টে উল্লেখ করেন, সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার; এই নামগুলো উচ্চারণ করলেই বুকের ভেতর কেমন হাহাকার জেগে ওঠে। তারা তো শুধু শহীদ নন; তারা আমাদের প্রতিটি ‘মা’ শব্দের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সাহস। জয়া লেখেন, আজ আমরা সহজে বাংলায় লিখি, কথা বলি, মনের কথা প্রকাশ করি। অথচ এই সহজতার পেছনে কতটা রক্ত, কতটা অশ্রু, কতটা অসমাপ্ত স্বপ্ন লুকিয়ে আছে একুশ মানে মাথা নত করে দাঁড়ানো। একুশ মানে ভেতর থেকে শক্ত হয়ে ওঠা। একুশ মানে নিজের ভাষাকে ভালোবাসার প্রতিজ্ঞা। শেষে জয়া লেখেন, আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, তোমাদের ঋণ আমরা কখনো শোধ করতে পারব না, শুধু হৃদয়ে বহন করে যাব চিরকাল।

প্রথমবারের মতো তেজগাঁও কার্যালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রথমবারের মতো তেজগাঁও কার্যালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী ছুটির দিনে প্রথমবার তেজগাঁওয়ে অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি কাজের গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সপ্তাহের ছুটির দিন শনিবারেও অফিস করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে শপথ নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো শনিবার তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) অফিস করেন তিনি। এর আগে ১৯ ফেব্রুয়ারি এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সরকারি কার্যক্রম দ্রুত করতে সপ্তাহের ছুটির দিনেও অফিস করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই আজকের এই অফিস যাত্রা। শনিবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করতে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কার্যালয়ে মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয়ের মূল ভবনে প্রবেশের আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারের সময় দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কার্যালয়ের পুরনো অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নাম ধরে কাছে ডেকে কথা বলেন। এসময় সংশ্লিষ্টরা কিছুক্ষণের জন্য ভুলে যান তারা দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এতো কাছাকাছি পেয়েছেন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী একটি স্বর্ণচাঁপা ফুলের চারা কার্যালয় চত্বরে রোপন করেন এবং মহান আল্লাহপাকের কাছে শুকরিয়া আদায় করে বিশেষ মোনাজাত করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ডাক টিকিট উন্মোচন করেন। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তারেক রহমান। এর আগে এই কার্যালয়েই ১৯৯১ ও ২০০১ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তার মা বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন পর তার ছেলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একই কার্যালয়ে দাফতরিক কার্যক্রম শুরু করলেন।

হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন তানিয়া বৃষ্টি

হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন তানিয়া বৃষ্টি ব্রেন টিউমারের সফল অস্ত্রোপচারের পর অবশেষে বাসায় ফিরেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। গেল রোববার রাজধানীর একটি হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এরপর ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার পর বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) চিকিৎসকরা তাকে ছাড়পত্র দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্মাতা সকাল আহমেদ। তিনি জানান, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর এখন বাসায় বিশ্রামে আছেন অভিনেত্রী।এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি নিজের অসুস্থতার খবর সামাজিকমাধ্যমে জানান তানিয়া বৃষ্টি। হাসপাতালে বসে তোলা একটি ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছিলেন, পরদিন তার মাথায় অস্ত্রোপচার হবে এবং সবার কাছে দোয়া চেয়েছিলেন। এদিকে তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় নিয়ে একটি বিবৃতিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে, আপাতত কাজ বা শুটিং সংক্রান্ত বিষয়ে যোগাযোগ না করতে। সম্পূর্ণ বিশ্রাম ও চিকিৎসার প্রয়োজন বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তানিয়া বৃষ্টির পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুস্থ হয়ে উঠলে তিনি নিজেই সবার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।

জাইমা রহমানের প্রশংসা করলেন তানজিন তিশা

জাইমা রহমানের প্রশংসা করলেন তানজিন তিশা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের প্রশংসা করেছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে জাইমা রহমানকে নিয়ে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। জাইমা রহমানকে মাটির মানুষ আখ্যা দিয়ে তিশা লেখেন, ‘বিদেশে বেড়ে উঠলেও তিনি আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে অত্যন্ত সৌন্দর্য, মর্যাদা ও গর্বের সঙ্গে ধারণ করেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘কেউ যেখানে বেড়ে উঠুক না কেন, নিজের শিকড়কে এভাবে দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে দেখা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।

কেন বলিউড ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, জানালেন প্রিয়াঙ্কা

কেন বলিউড ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, জানালেন প্রিয়াঙ্কা বলিউড ছেড়ে হলিউডে পাড়ি দেওয়া নিয়ে বহু বছর ধরেই নানা জল্পনা ছিল। অনেকেই ভেবেছেন, এটি ছিল তাঁর স্বেচ্ছায় নেওয়া সিদ্ধান্ত। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই যাত্রাপথ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। অভিনেত্রীর ভাষ্য, “আমার মনে হয় না, আমি কখনো বলিউড ছেড়ে যেতে চেয়েছি। তবে তখনকার সময়ে হিন্দি চলচ্চিত্রে নিজের কাজের পরিসরকে বেশ সীমিত মনে হয়েছিল তাঁর। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখানে আমার নিজের কাজের জায়গাটা খুবই সীমিত মনে হতো। বেশ কিছু কারণ ছিল। আমি নিজের পরিসর বৃদ্ধি করতে চেয়েছিলাম। শিল্পী হিসাবে আমাকে উত্তেজিত করতে পারে এমন কাজের সুযোগের জন্য মুখিয়ে ছিলাম।”নতুন সম্ভাবনার খোঁজই শেষ পর্যন্ত তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের দিকে টেনে নেয়। অভিনেত্রী জানান, “এই ভাবেই আমি আমেরিকায় কাজ করতে পৌঁছে যাই।”পেছনে ফিরে তাকালে এই পথচলাকে মোটেই সহজ মনে করেন না তিনি। দীর্ঘ সময় পর নিজের আন্তর্জাতিক যাত্রাকে চ্যালেঞ্জে ভরা বলেই মনে করেন প্রিয়াঙ্কা। এদিকে বহুদিন পর আবার ভারতীয় ছবিতে কাজ করতে যাচ্ছেন তিনি। যদিও তা বলিউডে নয়, বরং দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা ‘বারাণসী’-র মাধ্যমে। এই প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “আমি ভারতীয় ছবি পছন্দ করি। ‘বারাণসী’তে কাজ করে আমি খুশি। বলিউড না দক্ষিণী সিনেমা— কোনটি বেছে নেবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট। বললেন, “আমি দুটোর মধ্যে একটিকে বেছে নিতে পারবই না। আমার দুই জায়গাতেই কাজ করতে ভালো লাগে।”

শহিদকে ‘সেরা’ বললেন হৃতিক, পছন্দ হলো না নেটিজেনদের

শহিদকে ‘সেরা’ বললেন হৃতিক, পছন্দ হলো না নেটিজেনদের সম্প্রতি শহিদ কাপুরের নতুন কাজ ‘ও রোমিও’ দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার প্রশংসা করেছেন হৃতিক রোশন। তবে এই প্রশংসা হৃতিকের জন্য কিছুটা উল্টো ফল বয়ে এনেছে। হৃতিক রোশন এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন যে, শহিদ কাপুর এই ধরনের কমেডি বা ঘরানার অভিনয়ে সেরা। বিশেষ করে ছবির একটি অ্যাকশন দৃশ্যের (রানিং ইন সার্কেল) তিনি খুব প্রশংসা করেন এবং সবাইকে সিনেমাটি হলে গিয়ে দেখার অনুরোধ জানান। জবাবে শহিদ কাপুরও বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানান, কলেজের দিনগুলোতে হৃতিকের অভিষেক দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন এবং হৃতিকের কাছ থেকে এমন প্রশংসা পাওয়া তার কাছে অনেক বড় ব্যাপার। হৃতিকের এই ভালো লাগাটা ইন্টারনেটে অনেকেই ইতিবাচকভাবে নেননি। কারণ হলো, এর আগে হৃতিক যখন ‘ধুরন্ধর’ সিনেমাটির সমালোচনা করেছিলেন, তখন তাকে নিয়ে ট্রোল হয়েছিল। এবার অতিরিক্ত প্রশংসা করায় নেটিজেনরা তাকে নিয়ে মজা করছেন। অনেক সাধারণ দর্শক হয়তো সিনেমাটি হৃতিকের মতো অতটা পছন্দ করেননি, তাই তারা মন্তব্য বিভাগে তাকে ট্রোল করা শুরু করেছেন। সূত্র : এনডিটিভি

এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়া গেলেন নান্দাইলের ৩ কন্যা

এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়া গেলেন নান্দাইলের ৩ কন্যা ময়মনসিংহের নান্দাইলের হতদরিদ্র পরিবারের তিন কন্যা আজ নিজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রতিভার আলো ছড়াচ্ছেন। জাতীয় নারী ফুটবল দলের হয়ে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হন আফঈদা খন্দকার-ঋতুপর্ণা চাকমাদের সঙ্গে। সেখানে আগামী ১ মার্চ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত তিন শহরে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান নারী ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর। জানা যায়, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে নতুন এক সোনালি অধ্যায়ের সূচনা করে প্রথমবারের মতো এশিয়ার সর্বোচ্চ মঞ্চে লড়াই করতে গেল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। আর এই দলে রয়েছে ময়মনসিংহের নান্দাইলের তিন কন্যা। অভিজ্ঞতা ও অর্জনে বাংলাদেশের সঙ্গে চীন, কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের পার্থক্যটা যোজন যোজন। তবুও ভালো খেলার প্রত্যয় নিয়ে শিষ্যদের নিয়ে রওনা হয়েছেন কোচ পিটার বাটলার। ৩ মার্চ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীন। ৬ মার্চ দ্বিতীয় ম্যাচে তিনবারের শিরোপাজয়ী উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ৯ মার্চ প্রতিপক্ষ পাঁচবার এশিয়ান কাপ খেলা উজবেকিস্তান। ২৬ সদস্যের দলে রয়েছেন- নান্দাইলের নারী ফুটবল দলের রত্ম গোলরক্ষক মিলি আক্তার, স্ট্রাইকার হালিমা আক্তার ও মীডফিল্ড সৌরভী আকন্দ প্রীতি। বাছাই পর্বে এই জন ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন। তাদের বাড়ি তিনটি ভিন্ন ইউনিয়নে। চন্ডীপাশা ইউনিয়নের বারুইগ্রাম গ্রামের কলা বিক্রেতা মো. সামছুল হকের মেয়ে মিলি আক্তার এই দলের দ্বিতীয় গোলরক্ষক। অথচ সেই ঘর থেকেই উঠে এসে মিলি এখন জাতীয় গর্ব। ২০২২ সালের সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের পর আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দলে সুযোগ পেয়ে চাকরিও পান। তার পারফরম্যান্সে চলতি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বেও দলে জায়গা পাকাপোক্ত করে নিয়েছেন। অপর দিকে জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের বারঘরিয়া গ্রামের মেয়ে প্রীতি মিডফিল্ডে খেলেন। বাবা আবুল কালাম আকন্দ একজন হতদরিদ্র কৃষক। ২০১৮ সালে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে তার নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয় নান্দাইলের পাঁচরুখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এরপর অনূর্ধ্ব-১৫, ১৭, ১৯ ও সর্বশেষ জাতীয় দলে জায়গা পান। অনূর্ধ্ব-১৫ সাফে হ্যাটট্রিকসহ ৪ গোল করে তাক লাগান। ২০২৩ সালে সিঙ্গাপুরে এশিয়ান বাছাইপর্বে ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। শেরপুর ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামের মেয়ে হালিমা আক্তার। বাবা দুলাল মিয়া একজন হতদরিদ্র মানুষ। তিন বোনের মধ্যে হালিমা দ্বিতীয়। ছোট বোন পান্নাও স্থানীয় পর্যায়ের একজন পরিচিত ফুটবলার। হালিমা ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন। এর বাইরে ভুটান, জর্ডান ও দুবাইয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলেছেন। জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েই মধ্যমাঠে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করছেন।