থাইল্যান্ডে চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়ল ক্রেন, নিহত ২২

থাইল্যান্ডে চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়ল ক্রেন, নিহত ২২ থাইল্যান্ডে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। নির্মাণাধীন একটি ক্রেন ভেঙে চলন্ত যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বুধবার সকালে রাজধানী ব্যাংককের উত্তর-পূর্বে নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশের শিখিও জেলায় ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। থাই পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ জন। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে ব্যাংকক থেকে উবন রাতচাথানি প্রদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে ট্রেনটি। পথে নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশের শিখিও এলাকায় একটি উচ্চগতির রেল প্রকল্পের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ক্রেন হঠাৎ ভেঙে পড়ে চলন্ত ট্রেনটির একটি বগির ওপর আঘাত হানে। এতে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয় এবং কিছু সময়ের জন্য আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত ট্রেনের বগি থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আসন বিন্যাস অনুযায়ী দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটিতে মোট ১৯৫ জন যাত্রী ও কর্মী উপস্থিত ছিলেন। আহতদের নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
আধুনিক কৃষি সরঞ্জাম ব্যবহার ও সম্প্রসারণে কৃষক প্রশিক্ষণ

আধুনিক কৃষি সরঞ্জাম ব্যবহার ও সম্প্রসারণে কৃষক প্রশিক্ষণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে আধুনিক কৃষি সরঞ্জাম ব্যবহার ও সম্প্রসারণে দিনব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মিলনায়তনে এই কৃষক প্রশিক্ষণের আয়োজন করে সদর উপজেলা কৃষি অফিস। বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত প্রশিক্ষণে ৬০ জন নারী ও পুরুষ কৃষক অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে পুরাতন কৃষি সরঞ্জামের বদলে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের উপকারিতা ও সুবিধাগুলো তুলে ধরা হয়। কম পরিশ্রমে দ্রুততম সময়ে বিস্তীর্ণ এলাকা চাষাবাদের পাশাপাশি অধিক অর্থ আয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী। এসময় উপস্থিত ছিলেন— অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) বুলবুল আহমেদ, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) আব্দুল হালিম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসার সুনাইন বিন জামান, সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনিসুল হক মাহামুদসহ অন্যরা।
মাঝরাতে শীতার্তদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করলেন সদর ইউএনওর

মাঝরাতে শীতার্তদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করলেন সদর ইউএনওর চাঁপাইনবাবগঞ্জে রাতে যখন তীব্র শীতে ছিন্নমূল মানুষের জীবন কাঁপছে তখন শতাধিক কম্বল নিয়ে হাজির হলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন। গতকাল রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার শান্তির মোড়, বড় ইন্দারা মোড়, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল মোড় ও রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এসব কম্বল বিতরণ করেন তিনি। সেখানকার নাইটগার্ড, ডিম বিক্রেতা, চা বিক্রেতা, রিকশাচালক, অটোরিকশা চালক এবং রেলওয়ে স্টেশনের ভাসমান মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেয়া হয়। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন— সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকরামুল হক নাহিদ, সদর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ইয়াসিন আলী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাহিনুর আলম, সমাজসেবা কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার দাস, সদর উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান, জাইকা কর্মকর্তা ইমরান আলী, উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল ওহাব। চলমান প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহে অসহায় ও দরিদ্র শীতার্ত মানুষকে সহযোগিতার জন্য সমাজের সচ্ছল ও বিত্তবানদের এগিয়ে আশার অনুরোধ জানান সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আজকেও ডেঙ্গু শনাক্ত শূন্য

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আজকেও ডেঙ্গু শনাক্ত শূন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে গেছে। নতুন করে আর কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে না। তবে ৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় মশার উপদ্রবও কমে গেছে। তবে আজ দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মশার উপদ্রব কিছুটা লক্ষ্য করা গেছে। ফলে এখন থেকেই মশা নিধনে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে বলে পৌরবাসী মনে করছেন। আজ সিভিল সার্জন অফিসের প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আর কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হননি। এ নিয়ে ক’দিন ধরেই আর কোনো ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ৪ জন রোগী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে আগে থেকেই ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে গৃহবধুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গৃহবধুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে সুষ্মিতা রানী নামে শিশু সন্তানের জননী এক গৃহবধুর গলায় রশির ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি শিবতলা চাঁইপাড়া মহল্লার মনোজিত শীলের স্ত্রী। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল ৯টার দিকে স্বামীর বাড়িতে নিজ শয়নকক্ষের ছাদের বাঁশের তীরের আড়া সাথে সুষ্মিতা ফাঁস দেন। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাঁকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানায়, ‘৯৯৯’ জাতীয় জরুরী সেবা নম্বর মারফত বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। সদর থানার ওসি নুরে আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে সুষ্মিতা আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলেও জানান ওসি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের আয়োজনে হেলথ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের আয়োজনে হেলথ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে হেলথ অলিম্পিয়াড-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকালে জেলা শহরের আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত অলিম্পিয়াডে সভাপতিত্ব করেন জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি প্রফেসর সুলতানা রাজিয়া। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সিভিল সার্জন অফিসের এমওসিএস ডা. সুলতানা পাপিয়া। এসময় অন্যানোর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা শামশুন নাহার, জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সহসভাপতি বাবর আলী ও বিলকিস আরা মহুয়া, যুববিষয়ক সম্পাদক খোন্দকার আব্দুল ওয়াহেদ, সদস্য মাহবুবুল আলম ও আব্দুর রহিম, জেলা স্বাস্থ্য অধিকার যুব ফোরামের সমন্বয়কারী রাফিউল ইসলামসহ অন্য সদস্যরা। হেলথ অলিম্পিয়াডে জেলার ৫টি স্কুলের ১৫০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। অলিম্পিয়াডে প্রথম স্থান অধিকার করেন গ্রিনভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফারিহা নওশীন। এছাড়া ১৪ জনকে পুরস্কার ও অংশগ্রহণকারী সবাইকে সার্টিফিকেট দেয়া হয়। এসময় অন্যানোর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এতাহার আলী, বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর শেখ মাসুদুল আলম, কো-অর্ডিনেটর মাহরুবা খানম, প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোরশেদ আলম, প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির কনিষ্ঠ সহকারী পরিচালক ফারুক আহমেদ, রেডিও মহানন্দার সহকারী স্টেশন ম্যানেজার রেজাউল করিম, প্রয়াসের অফিসার শাহরিয়ার শিমুল। বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ ও প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির সহযোগিতায় হেলথ অলিম্পিয়াডের আয়োজন করে জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য অধিকার যুব ফোরাম। প্রসঙ্গত, ‘স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে চাই সমতা, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণ’— এই স্লোগানকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কাজ করছে জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম ও জেলা স্বাস্থ্য অধিকার যুব ফোরাম।
শীতকালে বিভিন্ন রঙের আলোর দেশ গ্রিনল্যান্ড

শীতকালে বিভিন্ন রঙের আলোর দেশ গ্রিনল্যান্ড যে দেশে শীতকালে আকাশে বিভিন্ন রঙের আলো দেখা যায়— সেই দেশটির নাম গ্রিনল্যান্ড। দেশটি ন্যাটো জোটভুক্ত এবং ডেনমার্কের একটি আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ডেনমার্ক- রাজ্যের একটি অঙ্গ হয়েও দেশটি ১৯৭৯ সাল থেকে স্বদেশের শাসন উপভোগ করছে। এ দেশের বেশির ভাগ ভূখণ্ড আর্কটিক অঞ্চলে পড়েছে। অনুত্তোলিত প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই অঞ্চল। আর্কটিকের বরফ গলতে শুরু করায় এ অঞ্চলটি বাণিজ্যের অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে রূপান্তর হয়েছে। এখন এই অঞ্চল দিয়ে আরও বেশি জাহাজ চলাচল করছে। বিস্তৃতির দিক দিয়ে গ্রিনল্যান্ড বিশ্বের দ্বাদশতম বৃহত্তম দেশ হলেও এর জনসংখ্যা একটি ছোটো শহরের তুলনায় অনেক কম। গ্রিনল্যান্ডের জনসংখ্যা মাত্র ৫৮ হাজার। আর দেশটির নাম গ্রিনল্যান্ড হলেও এখানকার ৮৫ শতাংশ এলাকা তুষারে ঢাকা। বিভিন্ন স্থানে হিমবাহের উপস্থিতির কারণে এই দেশটিকে খুব শুভ্র সুন্দর দেখায়। গ্রিনল্যান্ডে শীতকালে রাতের আকাশে নানা রঙ দেখা যায় গ্রিনল্যান্ডে কোনো রেল ব্যবস্থা নেই। এখানে সাধারণ গাড়ির চেয়ে নৌকা বা হেলিকপ্টার বেশি চলে।বেশিরভাগ মানুষই এখানে হেলিকপ্টার বা কুকুরে টানা স্লেজ গাড়িতে ভ্রমণ করেন। শুনে অনেকেই অবাক হতে পারেন যে, এই দেশে গ্রীষ্মকালে সূর্য অস্ত যায় না। মানে স্থানীয় সময় অনুযায়ী মধ্যরাতেও গ্রিনল্যান্ডে সূর্যের দেখা পাওয়া যায়। এর পরেও এখানে তাপমাত্রা শূন্য থেকে চার ডিগ্রির মধ্যে থাকে। দেশটির নিজস্ব কোনো মুদ্রা নেই। এটি ডেনমার্কের মুদ্রা ব্যবহার করে। উল্লেখ্য, ভাবা হয় মানুষ প্রথম গ্রিনল্যান্ড-এ পৌঁছেছিল খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ সালের দিকে। প্রথম বসতি গড়া বংশধররা সম্ভবত বিলুপ্ত গেছে। পরে বেশ কয়েকটি গোষ্ঠী উত্তর আমেরিকা মহাদেশ থেকে এখানে এসে বসবাস করতে শুরু করে।
জেন-জিদের জীবনের ৬ বৈশিষ্ট্য

জেন-জিদের জীবনের ৬ বৈশিষ্ট্য জেন-জি হলো প্রথম প্রজন্ম যারা জন্ম থেকেই ডিজিটাল প্রযুক্তি দেখে বড় হয়েছেন। তাদের কাছে ইন্টারনেট, স্মার্টফোন, এবং অনলাইন যোগাযোগ হল স্বাভাবিক জীবন যাত্রার অংশ। অন্যান্য প্রজন্মের মতো ডায়াল-আপ বা পুরনো মোবাইল ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা তাদের নেই; প্রযুক্তি সবসময়ই তাদের জীবনের স্বাভাবিক অংশ। জীবন সম্পর্কে তাদের রয়েছে দারুণ দারুণ ভাবনা। বিশ্বকে ‘নিরাপদ’ মনে করে না বেশিরভাগ জেন জি এমন একটি বিশ্বে বেড়ে উঠেছে যেটিতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস, যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দীর্ঘ সময় ধরে রয়েছে। তাই তারা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও, এটাই তাদের জন্য স্বাভাবিক। ২০০৭ সালে তারা বৈশ্বিক আর্থিক মন্দা দেখেছে এবং অর্থনৈতিকভাবে সংযত হয়েছে। তারা সহানুভূতিশীল এই প্রজন্ম অনেক বেশি বহুমাত্রিক। এরা ও ভিন্নতাকে স্বীকৃতি দেয়। জেন জিদের কাছে সামাজিক ভিন্নতা, যেমন—লিঙ্গ পরিচয়, জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য) স্বাভাবিক জিনিস, আর তারা বহু ক্ষেত্রে সামাজিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তারা স্বাস্থ্য-সচেতন জেন জিদের আগের প্রজন্মগুলোর মতো খারাপ খাদ্যাভ্যাস পছন্দ করে না। তারা সাধারণত স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নির্বাচন করে, ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ কম করে এবং ফিটনেস ও সুস্থতা-সম্পর্কিত অভ্যাসের দিকে বেশি মনোযোগী। তারা জানে ডিজিটাল কমিউনিকেশন কীভাবে কাজ করে জেন জিরা জানে যে ডিজিটাল কমিউনিকেশন কীভাবে কাজ করে, ওয়েব-এ কিছু কখনোই সম্পূর্ণ মুছে যায় না। তাই তারা সাধারণত ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে প্রকাশ না করে সাবধানে রাখতে পছন্দ করেন, এবং জনপ্রিয়তা বা সামাজিক সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে চান। উদ্যোক্তা মনোভাবাপন্ন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত আর্থিক সংকট দেখার ফলে জেন জিরা ভবিষ্যতের জন্য বেশি বাস্তববাদী ও আত্মনির্ভরশীল। অনেকেই চাকরির বদলে নিজেদের উদ্যোগ শুরু করতে চান বা নিজেদের ব্যবসা বানাতে আগ্রহী। তারা আর্থিক স্থিতিশীলতা ও স্বাধীনতা চান। নিজের ব্র্যান্ড তৈরিতে উৎসাহী পরিবার গঠনের সময় পরিবর্তিত হয়েছে এবং অনলাইন পরিচিতি, নিজের ব্র্যান্ড তৈরির দিকে উৎসাহী। অর্থাৎ শৈশব ও প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের রেখা নতুন রূপ নিয়েছে।
সুপার কাপ হারের পর আলোনসোর বিদায়, রিয়ালের নতুন কোচ আরবেলোয়া

সুপার কাপ হারের পর আলোনসোর বিদায়, রিয়ালের নতুন কোচ আরবেলোয়া এল ক্লাসিকো হারের রেশ কাটতে না কাটতেই বড় সিদ্ধান্ত নিল রিয়াল মাদ্রিদ। সুপারকোপা দে এস্পানিয়ার ফাইনালে বার্সেলোনা„র কাছে নাটকীয় ৩-২ ব্যবধানে হারের একদিন পরই প্রধান কোচের পদ ছাড়লেন জাবি আলোনসো। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে’ দায়িত্ব শেষ হয়েছে স্প্যানিশ এই কোচের। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের রিজার্ভ দল কাস্তিয়ার কোচ আলভারো আরবেলোয়া। সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত সুপার কাপ ফাইনালে পরাজয়ের পর গতকাল আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আলোনসোর বিদায়ের খবর নিশ্চিত করে লস ব্লাঙ্কোসরা। বিবৃতিতে বলা হয়, “ক্লাব ও জাবি আলোনসোর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে প্রথম দলের কোচ হিসেবে তার অধ্যায় শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” ৪৪ বছর বয়সী আলোনসোর মেয়াদ খুব একটা দীর্ঘ হলো না। গত গ্রীষ্মে কার্লো আনচেলত্তির উত্তরসূরি হিসেবে তিন বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যেই সেই সম্পর্কের ইতি টানল রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাবের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “জাবি আলোনসো রিয়াল মাদ্রিদের একজন কিংবদন্তি। তিনি সবসময় আমাদের ক্লাবের মূল্যবোধকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। রিয়াল মাদ্রিদ সবসময়ই তার ঘর হয়ে থাকবে।” একই সঙ্গে তার কোচিং স্টাফদের কাজ ও নিষ্ঠার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনাও জানিয়েছে ক্লাব। আলোনসোর অধীনে লা লিগায় শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। প্রথম ১১ ম্যাচের মধ্যে ১০টিতেই জয় পায় রিয়াল। তবে ২০২৫ সালের শেষ ভাগে এসে ছন্দ হারাতে থাকে দল। লিভারপুল, সেল্তা ভিগো ও ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে হারসহ একাধিক হতাশাজনক ফলাফলের পর বাড়তে থাকে কোচের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জন। মাঠের বাইরেও অস্বস্তির খবর সামনে আসে। কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে আলোনসোর সম্পর্ক ভালো ছিল না বলে আলোচনা চলছিল। তার কোচিং স্টাইল নিয়ে আপত্তির পাশাপাশি ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের প্রকাশ্য ক্ষোভ; বদলি হিসেবে তুলে নেওয়া নিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। বর্তমানে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগে আলোনসোর অধীনে ছয় ম্যাচে চার জয়ে ভালো অবস্থানেই ছিল দল। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রিয়ালের জার্সিতে খেলা সাবেক মিডফিল্ডার আলোনসো কোচ হিসেবে গত গ্রীষ্মে ক্লাবে ফেরেন। তার আগে বায়ার লেভারকুসেনকে ২০২৪ সালে ইতিহাসের প্রথম বুন্দেসলিগা শিরোপা এনে দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। এবার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হলো ৪২ বছর বয়সী আলভারো আরবেলোয়ার হাতে। রিয়ালের সাবেক এই ডানপ্রান্তের ডিফেন্ডার সাত মৌসুমে ক্লাবের হয়ে ২৩৮ ম্যাচ খেলেছেন। কাস্তিয়ায় তার কোচিং পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হয়েই তাকে মূল দলের হাল ধরতে দিল রিয়াল মাদ্রিদ। নতুন কোচের অধীনে মৌসুমের বাকি অংশে রিয়াল কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায় সেদিকেই এখন তাকিয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু।
নেদারল্যান্ডসের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

নেদারল্যান্ডসের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে নেদারল্যান্ডস। অভিজ্ঞতা ও ভারসাম্যের দিকে জোর দিয়ে দলে ফিরিয়েছেন একাধিক পরিচিত মুখ। দলে ফিরেছেন রুলফ ফন ডার মেরওয়া, বাস ডে লেডে, কলিন আকারম্যান, লোগান ফন বিক ও টিম ফন ডার গুগটেনের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা। পাশাপাশি আবার সুযোগ পেয়েছেন মাইকেল লেভিট ও জ্যাক লায়ন-কাশেয়। ৪১ বছর বয়সী স্পিন অলরাউন্ডার রুলফ ফন ডার মেরওয়া, পেস অলরাউন্ডার বাস ডে লেডে, টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান মাইকেল লেভিট ও স্পিন অলরাউন্ডার লায়ন-কাশেয়। এই চারজন সবশেষ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন গত জুলাইয়ে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইউরোপ অঞ্চলের ফাইনালে। ৩৪ বছর বয়সী স্পিন অলরাউন্ডার কলিন আকারম্যান ও পেসার টিম ফন ডার গুগটেন সর্বশেষ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ২০২৪ সালের নভেম্বরে। অন্যদিকে ৩৫ বছর বয়সী পেসার লোগান ফন বিকের শেষ ম্যাচ ছিল ২০২৪ সালের জুলাইয়ে। গত আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা সর্বশেষ টি–টোয়েন্টি সিরিজের দল থেকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নেই ৯ জন ক্রিকেটার। বাদ পড়েছেন ভিক্রামজিৎ সিং, আনিল নিদামানুরু, সিকান্দার জুলফিকার, সিদ্রিক দি লাঙ্গা, শারিজ আহমাদ, বেন ফ্লেচার, ড্যানিয়েল ডোরাম, টিম প্রিঙ্গল ও সেবাস্তিয়ান ব্র্যাট। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে নেদারল্যান্ডস। ‘এ’ গ্রুপে তাদের অন্য প্রতিপক্ষ নামিবিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। নেদারল্যান্ডসের বিশ্বকাপ দল: স্কট এডওয়ার্ডস (অধিনায়ক), নোয়াহ ক্রোস, মাক্স ও’ডাউড, সাকিব জুলফিকার, আরিয়ান দত্ত, কাইল ক্লেইন, পল ফন মিকেরেন, ফ্রেড ক্লাসেন, কলিন আকারম্যান, বাস ডে লেডে, মাইকেল লেভিট, জ্যাক লায়ন-কাশেয়, লোগান ফন বিক, রুলফ ফন ডার মেরওয়া, টিম ফন ডার গুগটেন।