নাচোলে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযান

নাচোলে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযান দেশব্যাপী চলমান পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজখবর নেন এবং সেবার মান সম্পর্কে মতবিনিময় করেন। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. সুলতানা রাজিয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের খোকন, পৌর জামায়াতের আমির মনিরুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অতিথিরা বলেন, শুধু একদিনের উদ্যোগ নয়—সুস্থ থাকতে হলে হাসপাতালসহ নিজেদের আশপাশের পরিবেশ সবসময় পরিষ্কার রাখা জরুরি। বিশেষ করে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। এ অভিযানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, হাসপাতালের কর্মচারী এবং স্থানীয় জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

নাচোলে অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু

নাচোলে অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মল্লিকপুর বাজারে অবস্থিত মন্ডল ফিলিং স্টেশনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. সুলতানা রাজিয়া। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নতুন এ ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি মোটরসাইকেলকে ৫ দিনের জন্য ৫০০ টাকার জ্বালানি তেল দেওয়া হবে। এছাড়া পেট্রোলচালিত স্প্রে মেশিনের জন্য ৩০০ টাকার তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ, উপজেলা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিমসহ স্থানীয় কর্মকর্তারা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাচোল উপজেলা সদরের সুইটি ফিলিং স্টেশনটি মালিকদের পারিবারিক বিরোধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকরা। ফিলিং স্টেশনটি দ্রুত চালুর দাবিতে গত ৬ এপ্রিল এলাকাবাসী মানববন্ধনও করেন। বর্তমানে ওই স্টেশন বন্ধ থাকায় নাচোলের চালকদের দূরবর্তী এলাকা থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় অ্যাপভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গোমস্তাপুরে বিএমডিএ সেচ পাম্প পরিদর্শনে জেলা পরিষদ প্রশাসক

গোমস্তাপুরে বিএমডিএ সেচ পাম্প পরিদর্শনে জেলা পরিষদ প্রশাসক গোমস্তাপুরে বিএমডিএর সেচ পাম্প পরিদর্শন করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ। শনিবার (১১ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্মিত সেচ প্রকল্পগুলো ঘুরে দেখেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিদর্শনের শুরুতে তিনি রহনপুর ইউনিয়নের তেতুলতলা এলাকায় অবস্থিত একটি সেচ পাম্প পরিদর্শন করেন। পরে একই ইউনিয়নের কাজিগ্রাম এলাকায় পুনর্ভবা নদী থেকে পানি উত্তোলনের মাধ্যমে পরিচালিত সেচ পাম্পের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের চুড়ইল বিল এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বিলটি খননের আশ্বাস দেন, যা বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমিনুল ইসলাম, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী আল মামুনুর রশীদ, জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সালেহ্ মোহাম্মদ হাসনাত, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা রুমা, বিএমডিএ গোমস্তাপুর জোনের সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নানসহ অন্যরা। পরিদর্শন শেষে হারুনুর রশিদ রহনপুর উপজেলা ডাকবাংলোয় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সেখানে তিনি এলাকার উন্নয়ন ও কৃষি সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম সন্দেহে ৪২% পজিটিভ, রিপোর্ট পেতে দেরি: স্বাস্থ্য বিভাগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম সন্দেহে ৪২% পজিটিভ, রিপোর্ট পেতে দেরি: স্বাস্থ্য বিভাগ চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় ও জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেলায় সন্দেহভাজন হাম রোগীদের নমুনা পরীক্ষায় প্রায় ৪২ শতাংশ পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম সাহাবুদ্দীন জানান, এখন পর্যন্ত জেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঠানো ১০১টি নমুনার মধ্যে ৪২টির রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এসব পরীক্ষা ঢাকায় অবস্থিত সরকারি ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস ল্যাবরেটরিতে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সারা দেশ থেকে নমুনা আসায় ল্যাবে চাপ বেড়েছে, ফলে নতুন নমুনার রিপোর্ট পেতে দেরি হচ্ছে। অন্যদিকে, জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতাল থেকে পাঠানো নমুনাগুলোর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পজিটিভ পাওয়া গেছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মশিউর রহমান বলেন, যাদের নমুনা পাঠানো হয়েছে তাদের প্রায় অর্ধেকের শরীরে সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। আরও অনেক নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলেও সেগুলোর সব রিপোর্ট এখনো হাতে আসেনি। তিনি আরও জানান, আগে হাম আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু ছিল, বিশেষ করে ৯ মাসের কম বয়সীদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যেত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যেও সংক্রমণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। চলমান টিকাদান কর্মসূচির পূর্ণ সুফল পেতে অন্তত ২৮ দিন সময় লাগবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। চিকিৎসকদের মতে, টিকাদানে ঘাটতির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকা নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণাও সংক্রমণ বৃদ্ধির একটি কারণ। এতে অনেক মানুষ টিকা নিতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছেন। এদিকে, সিভিল সার্জন কার্যালয় ও জেলা হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, নতুন করে ২৯ জন সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এতে জেলায় বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০ জনে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৫৮৬ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু ও ডায়রিয়ার প্রকোপ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং বহির্বিভাগে আরও ১৮ জন শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে জেলা হাসপাতালে ৬৩ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে জেলার সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলায় হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ৪২ শতাংশের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, এ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসবে।