হরমুজে বাংলাদেশসহ ছয় দেশের জাহাজে বাধা দেবে না ইরান

হরমুজে বাংলাদেশসহ ছয় দেশের জাহাজে বাধা দেবে না ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ ছয় দেশের জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ইরান। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’ প্রকাশিত একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি জানান, নির্দিষ্ট কিছু ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ এবং বিশেষ অনুমোদিত দেশের জন্য এই সমুদ্রপথ খোলা থাকবে। ইরানের এই বন্ধুরাষ্ট্রের তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ভারত ও ইরাকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বড় অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করলে এই প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে তেহরান। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি-সংকট ও পণ্য সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ওই সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, এই জলপথ পুরোপুরি বন্ধ বলে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম যে দাবি করে আসছে, তা সত্য নয়। তিনি বলেন, “অনেক দেশের শিপিং কোম্পানি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপদ যাতায়াতের অনুরোধ জানিয়েছে। আমরা যাদের বন্ধুরাষ্ট্র মনে করি বা অন্য কোনও কারণে অনুমতি দিয়েছি, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তাদের জাহাজের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করছে।” আরাগচি আরও বলেন, “আপনারা খবরে দেখেছেন, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারত (এ তালিকায় আছে)। গত কয়েক রাতে ভারতের দুটি জাহাজ এই পথ দিয়ে পার হয়েছে। এমনকি আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশও এ তালিকায় আছে। এসব দেশ আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেছে এবং যুদ্ধের পরও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।” ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িত বা শত্রুপক্ষ হিসেবে বিবেচিত, তাদের জাহাজ এই পথে চলতে দেওয়া হবে না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং যুদ্ধের নেপথ্যে ভূমিকা রাখা নির্দিষ্ট কিছু উপসাগরীয় দেশের জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আরাগচি বলেন, “আমরা এখন যুদ্ধাবস্থায় আছি। এই অঞ্চলটি এখন একটি যুদ্ধক্ষেত্র। তাই শত্রু বা তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে অন্যদের জন্য এটি খোলা থাকছে।” ইরান বর্তমানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে। লয়েডস লিস্টের তথ্যমতে, স্বাভাবিক সময়ে এই পথে দৈনিক ১২০টির মতো জাহাজ চলাচল করে। কিন্তু ১ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে এ সংখ্যা ৯৫ শতাংশ কমে গেছে।

স্নাতক পাস ছাড়া স্কুল-কলেজের সভাপতি নয়, কঠোরভাবে পরিপত্র অনুসরণের নির্দেশ

স্নাতক পাস ছাড়া স্কুল-কলেজের সভাপতি নয়, কঠোরভাবে পরিপত্র অনুসরণের নির্দেশ দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর (স্কুল-কলেজ) অ্যাডহক কমিটি গঠন নিয়ে নতুন ও জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ন্যূনতম স্নাতক (পাস) বা সমমান শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে। সম্প্রতি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দকার এহসানুল কবিরের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ১৬ মার্চের পরিপত্র কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রবিধানমালা-২০২৪ (৩১ আগস্ট ২০২৫-এর সংশোধনীসহ) অনুযায়ী, অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। সেগুলো হলো : প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের জন্য তিনজনের জীবনবৃত্তান্তসহ নাম প্রস্তাব করতে হবে; মহানগরের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা বা উপজেলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মাধ্যমে এই প্রস্তাব পাঠাতে হবে; সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী বা খ্যাতিমান সমাজসেবক এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্য থেকে নাম প্রস্তাব করা যাবে; প্রস্তাবিত তিনজনের মধ্য থেকে শিক্ষা বোর্ড একজনকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করবে; নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিশেষ প্রয়োজনে কোনো ব্যক্তির শিক্ষা প্রসারে অনন্য অবদান বা বিশেষ যোগ্যতা থাকলে মন্ত্রণালয় তার বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখে; তবে সাধারণ ক্ষেত্রে স্নাতক ডিগ্রির বাধ্যবাধকতা বহাল থাকবে। শিক্ষাবোর্ড জানায়, মাঠপর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতেই এই নতুন নীতিমালা কার্যকর করা হচ্ছে। এই নির্দেশনা অবিলম্বে প্রতিপালন করতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আখের রস কি হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ করে?

আখের রস কি হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ করে? তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরম থেকে বাঁচতে আমরা অনেকেই স্বভাবতই শীতল পানীয়ের দিকে হাত বাড়াই। লেবুর শরবত থেকে শুরু করে ঠান্ডা লাচ্ছি পর্যন্ত, স্বস্তি দেওয়ার মতো ঐতিহ্যবাহী পানীয়ের অভাব নেই। সেসবের মধ্যে আখের রসও একটি জনপ্রিয় পানীয় হিসেবে পরিচিত। এটি সতেজ ও প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি স্বাদের পানীয় শরীরকে ঠান্ডা ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। আখের রস কি সত্যিই আপনাকে হিট স্ট্রোক থেকে রক্ষা করে বা প্রচণ্ড গরমে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা জোগায়? পুষ্টিবিদদের মতে, আখের রসকে গ্রীষ্মের একটি স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে গ্রহণ করার আগে এটি সম্পর্কে বেশ কিছু ভুল ধারণা বোঝা জরুরি। আখের রস কি হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ করে? এর সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো না। পুষ্টিবিদদের মতে, আখের রস হিট স্ট্রোক থেকে রক্ষা করে না। হিট স্ট্রোক একটি গুরুতর অবস্থা যা তখন ঘটে যখন শরীর তার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, যা প্রায়শই ডিহাইড্রেশন এবং ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতার কারণে হয়ে থাকে। আখের রস পান করলে সতেজ অনুভূতি হলেও, এই অবস্থা প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান এটি সরবরাহ করে না। এটি কি সত্যিই ইলেক্ট্রোলাইট পানীয়? আখের রস নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাগুলোর মধ্যে একটি হলো, এটি ইলেক্ট্রোলাইট পানীয়ের মতো কাজ করে। ঘামলে আমাদের শরীর প্রতি লিটারে প্রায় ৯০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম হারায়। এর তুলনায়, এক গ্লাস আখের রসে মাত্র ১১-১৭ মিলিগ্রাম সোডিয়াম থাকে। এই পার্থক্যটি তাৎপর্যপূর্ণ। শরীরকে তরল ধরে রাখতে এবং হাইড্রেটেড থাকতে সাহায্য করার ক্ষেত্রে সোডিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পর্যাপ্ত সোডিয়াম ছাড়া হাইড্রেটেড থাকা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এক্ষেত্রে আপনি আপনার শরীরকে সত্যিকারের রিহাইড্রেট করার পরিবর্তে মূলত চিনির পানি পান করছেন। লেবুর রসের সঙ্গে এক চিমটি লবণের মতো মিশিয়ে নিন, এতে হারানো ইলেক্ট্রোলাইট পুনরায় পূরণ করতে অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। অতিরিক্ত চিনি বিবেচনা করার জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চিনির পরিমাণ। এক গ্লাস আখের রসে ২৫ থেকে ৪০ গ্রাম চিনি থাকতে পারে। এর ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে, বিশেষ করে খালি পেটে বা বেশি পরিমাণে পান করলে। যদিও এটি আপনাকে দ্রুত শক্তি জোগাতে পারে, তবে এটি শরীরে পানির ভারসাম্য বা সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্যভাবে সহায়ক নয়। পুষ্টির বাইরেও, রাস্তার ধারের আখের রসের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয়। পরিবর্তে আপনার কী পান করা উচিত? আপনার লক্ষ্য যদি হয় শরীরকে আর্দ্র রাখা এবং তাপজনিত সমস্যার ঝুঁকি কমানো, তবে আপনার শরীরে পানির প্রধান উৎস হওয়া উচিত সাধারণ পানি। ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য রাখতে এতে লেবু এবং এক চিমটি লবণ যোগ করুন। এমন পানীয়ের ওপর মনোযোগ দিন যা শরীরকে আর্দ্র রাখতে সত্যিই সাহায্য করে। গরমের দিনে আখের রস সতেজ অনুভূতি দিতে পারে, কিন্তু এটি হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ বা শরীরে সঠিক আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সমাধান নয়। এর কম সোডিয়াম, উচ্চ চিনির মাত্রা এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে এর ওপর নির্ভর না করে মাঝে মাঝে এটি পান করাই শ্রেয়।

‘শাকিবের সাথে অনেক ছবি করেছি, কেউ জানেই না’ : পূর্ণিমা

‘শাকিবের সাথে অনেক ছবি করেছি, কেউ জানেই না’ : পূর্ণিমা ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান এবং গ্ল্যামার গার্ল পূর্ণিমা। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এই জুটি উপহার দিয়েছেন কিছু আলোচিত সিনেমা। তবে সমসাময়িক সময়ে পর্দায় তাদের একসঙ্গে দেখা না যাওয়ায় অনেক দর্শকই ভুলে গেছেন তাদের কাজের ব্যাপ্তি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শাকিব খানের সঙ্গে নিজের কাজের সেই সোনালী দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করলেন পূর্ণিমা। পূর্ণিমা জানান, শাকিব খানের সঙ্গে তার কাজের সংখ্যা নেহাত কম নয়। পূর্ণিমা সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘শাকিবের সাথে আমি অনেকগুলো ছবি করেছি, কেউ জানেই না। অনেকে এখনো বলে কি, আপনি কি শাকিবের সাথে কাজ করেছেন কখনো?’ অনেকের ধারণা শাকিব খান অনেক পরে এসেছেন কিন্তু পূর্ণিমা মনে করিয়ে দিলেন তারা প্রায় সমসাময়িক। সঞ্চালিকার এক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে পূর্ণিমা বলেন, ‘ও ইয়ং, আমিও ইয়ং। মানে আমরা তো একসাথেই এসেছি আগে-পরে হোক যখনই হোক।’ শাকিব খান সুপারস্টার হওয়ার আগে থেকেই তার সঙ্গে পূর্ণিমার কাজের সম্পর্ক। এমনকি দেশের বাইরে গিয়েও তারা বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিং করেছেন। সেই সময়ের জনপ্রিয়তা নিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ মানে শাকিব যখন আরও বেশি পপুলার হওয়ার আগে, মানে ওকে নিয়ে ওর সাথে আমি টিভিসি করেছি অনেকগুলো দেশের বাইরে গিয়ে। তখন শাকিবকে যতটুকু না চিনত আমি তখন ওর সাথে কাজ করেছি। কিন্তু ওর সাথে যে আমি প্রায় ২৫ থেকে ২৬টার মতন ছবি করেছি।’

অরিজিতের সঙ্গে বিটিএস তারকা জাংকুক

অরিজিতের সঙ্গে বিটিএস তারকা জাংকুক জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস-এর সদস্য জাংকুকের সঙ্গে গান নিয়ে আসছেন ভারতীয় সংগীত তারকা অরিজিৎ সিং- এমন গুঞ্জনে সরগরম সামাজিক মাধ্যম। সম্প্রতি জাংকুক নিজে ইনস্টাগ্রামে অরিজিতের সঙ্গে কয়েকটি ছবি শেয়ার করে এই গুঞ্জন আরও উসকে দিয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে অরিজিতের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ছবি পোস্ট করে জাংকুক লিখেছেন, বুঝতে পেরেছি, অরিজিৎ সিং শুধু একজন অসাধারণ শিল্পীই নন, বরং একজন অত্যন্ত বিনয়ী ও মানবিক মানুষ। জাংকুক উল্লেখ করেন, তার কথা বলার ধরন ও ব্যক্তিত্বের মধ্যে এক ধরনের শান্ত উষ্ণতা রয়েছে যা সচরাচর দেখা যায় না। শিল্পী অরিজিতের চেয়েও মানুষ অরিজিৎকে নিয়ে নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করেন এই বিটিএস তারকা। শেয়ার করা ছবিগুলোতে দুই তারকাকে একসঙ্গে খাবার খেতে, গিটার বাজাতে এবং একটি মিউজিক রুমে বসে গভীর আলোচনায় মগ্ন থাকতে দেখা গেছে। জাংকুক জানান, তারা একসঙ্গে বেশ কিছু পুরোনো স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন এবং বিশেষ কিছু একটা তৈরি করেছেন। যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, শিগগিরই এই দুই তারকার নতুন কোনো কাজ বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এদিকে প্রায় চার বছর বিরতির পর গত ২০ মার্চ বিটিএস তাদের পঞ্চম স্টুডিও অ্যালবাম ‘আরিরাং’ প্রকাশ করেছে। কে-পপের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়ে মুক্তির প্রথম দিনেই অ্যালবামটি প্রায় ৩.৯৮ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে। এই অ্যালবামের ‘সুইফম’ গানটি বর্তমানে ৯০টি দেশের আইটিউনস টপ সংস চার্টের শীর্ষে অবস্থান করছে। অন্যদিকে অরিজিৎ সিং প্লেব্যাক থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে সংগীত চর্চা ও চলচ্চিত্র পরিচালনার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে জাংকুকের সঙ্গে এই নতুন প্রজেক্টটি ভক্তদের জন্য বড় এক চমক হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভুয়া ফটোকার্ডে ক্ষুব্ধ হানিফ সংকেত

ভুয়া ফটোকার্ডে ক্ষুব্ধ হানিফ সংকেত সামাজিক মাধ্যমে নিজের নাম ও ছবি ব্যবহার করে ছড়ানো বেশ কিছু ‘ভুয়া’ ফটোকার্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বরেণ্য নির্মাতা ও উপস্থাপক হানিফ সংকেত। ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সামজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছেন তিনি। জানান, সত্যতা যাচাই না করে কোনো কিছু পোস্ট বা শেয়ার করা শুধু অন্যায় নয়, অপরাধও। বিবৃতিতে হানিফ সংকেত বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরেই আমার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একটি কথা বলে আসছি। সত্যতা যাচাই না করে সামাজিক মাধ্যমে কোনো কিছু পোস্ট বা শেয়ার করা শুধু অন্যায় নয়, অপরাধও। দুঃখজনক হলেও সত্য, সম্প্রতি আমার কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বেশ কয়েকটি ফটোকার্ড পাঠিয়ে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। হানিফ সংকেত লেখেন, উক্ত ফটোকার্ডের কথাগুলো আমার উপস্থাপনা শৈলীর অনুকরণে ছন্দবদ্ধভাবে লেখা হলেও, সেগুলোর সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। অথচ অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, কোনো রকম সত্যতা যাচাই না করেই অনেকে এই ফটোকার্ডগুলো শেয়ার করছেন, কমেন্ট করছেন এবং লাইক দিচ্ছেন। এই গুণী ব্যক্তি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ চার দশক ধরে আমি কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই নিরপেক্ষতা ও স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করছি। আমার প্রকৃত বক্তব্য, উক্তি বা ফটোকার্ড কেবল আমার নিজস্ব ভেরিফাইড (Verified) প্ল্যাটফর্ম এবং স্বীকৃত গণমাধ্যমেই প্রকাশ করা হয়। প্রযুক্তির এই উৎকর্ষের সময়ে এর অপব্যবহার সম্পর্কে আমাদের সবারই আরো সচেতন হওয়া প্রয়োজন। অনুরোধ থাকবে, এ ধরনের কোনো অজানা, অচেনা বা অখ্যাত উৎস থেকে আসা তথ্যে বিভ্রান্ত হবেন না এবং তা প্রচার করে অন্যকেও বিভ্রান্ত করবেন না। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ইতিহাস তুলে ধরছেন। উপস্থাপনা ও পরিচালনার পাশাপাশি তিনি একাধারে লেখক, প্রযোজক, সুরকার ও গীতিকার হিসেবেও সুপরিচিত।

সিনেমার প্রয়োজনে আস্ত শহর নির্মাণ, নতুন ছবিতে চমকে দেবেন সালমান

সিনেমার প্রয়োজনে আস্ত শহর নির্মাণ, নতুন ছবিতে চমকে দেবেন সালমান বলিউডের ‘ভাইজান’ সালমান খানের ভক্তদের জন্য বড় সুখবর। বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘মাতৃভূমি’ মুক্তির অপেক্ষায় থাকার মাঝেই নিজের পরবর্তী প্রজেক্ট নিয়ে মাঠে নামছেন এই মহাতারকা। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দক্ষিণী প্রযোজক দিল রাজু এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক বংশী পাইডিপল্লীর বিগ বাজেট অ্যাকশন সিনেমার শুটিং শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ১৪ এপ্রিল। মুম্বাইয়ের গোরেগাঁও এসআরপিএফ গ্রাউন্ডে বিশাল আয়োজনে এই সিনেমার প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে। সূত্রমতে, এই সিনেমার জন্য কোনো সাধারণ সেট নয়, বরং একটি আস্ত ‘মিনি সিটি’ বা ছোট শহর তৈরি করা হচ্ছে। সেটটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে একটি ঘনবসতিপূর্ণ শিল্পাঞ্চল বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশিপের আবহ পাওয়া যায়। ছবির গল্পের প্রয়োজনে সেখানে হাইভোল্টেজ ও বড় মাপের অ্যাকশন সিক্যুয়েন্সের চিত্রায়ন করা হবে। সিনেমার সঙ্গে যুক্ত একজন ইনসাইডার জানিয়েছেন, সেট নির্মাণ থেকে শুরু করে অ্যাকশন কোরিওগ্রাফি এবং কাস্টিং—সবই প্রায় চূড়ান্ত। একটি উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট হিসেবে পরিচালক বংশী পাইডিপল্লী সালমান খানকে সম্পূর্ণ নতুন এক লুকে পর্দায় হাজির করতে যাচ্ছেন। নাম ঠিক না হওয়া এই সিনেমাটিতে বলিউড ও দক্ষিণী সিনেমার নামী তারকাদের এক বিশাল সমাহার থাকবে বলে আভাস পাওয়া গেছে। সালমানের অত্যন্ত প্রিয় একটি অ্যাকশন থ্রিলার স্ক্রিপ্ট এবং এর ভেতরের আবেগঘন গল্পই তাকে এই প্রজেক্টে যুক্ত হতে উৎসাহিত করেছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ২০২৭ সালে সিনেমাটি বড় পর্দায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সালমানের চিরচেনা বাণিজ্যিক ঘরানার সঙ্গে দক্ষিণী মেকিংয়ের মেলবন্ধনে তৈরি এই ছবিটি বক্স অফিসে নতুন রেকর্ড গড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তুরস্কে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করল ইরান

তুরস্কে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করল ইরান আসন্ন ওয়াল্ড কাপ সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। তবে অংশগ্রহণ ও ম্যাচ ভেন্যু নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে নিজেদের ম্যাচ অন্য আয়োজক দেশ মেক্সিকো বা কানাডায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল ইরান। তবে সূচি পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ফিফা। এই পরিস্থিতির মধ্যেই তুরস্কে অনুশীলন শুরু করেছে দলটি। দক্ষিণ তুরস্কের আনতালিয়ার বেলেক এলাকায় চলছে তাদের ক্যাম্প। অনুশীলন রাখা হয়েছে অনেকটা গোপনীয়তার মধ্যে, গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকারও সীমিত করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার নাইজেরিয়া এবং পরবর্তী মঙ্গলবার কোস্টারিকার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ইরান। মূলত এই দুটি ম্যাচকে সামনে রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। দলটির হয়ে আলোচনায় আছেন ফরোয়ার্ড মেহদী তারেমি। অন্যদিকে স্কোয়াড থেকে বাদ পড়া স্ট্রাইকার সরদার আজমুনকে ঘিরেও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টের কারণে তাকে দলে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে এই প্রীতি ম্যাচ দুটি জর্ডানে হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত ভেন্যু পরিবর্তন করে তুরস্কে নেওয়া হয়। সবমিলিয়ে যুদ্ধ, নিরাপত্তা শঙ্কা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই বিশ্বকাপ প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।

নেইমারকে ছাড়া বিশ্বকাপ কল্পনা করা যায় না : এমবাপ্পে

নেইমারকে ছাড়া বিশ্বকাপ কল্পনা করা যায় না : এমবাপ্পে আসন্ন ফিফা ওয়াল্ড কাপকে সামনে রেখে ব্রাজিল দলে নেইমার জুনিয়র থাকবেন কি না। এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এই ইস্যুতে মন্তব্য করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফ্রান্স অধিনায়ক জানিয়েছেন, নেইমারকে ছাড়া বিশ্বকাপ কল্পনা করাই কঠিন। তবে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির সিদ্ধান্তকেও তিনি সম্মান করেন। ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম গ্লোবোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে বলেন, নেইমার এমন একজন খেলোয়াড় যিনি যেকোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। সাবেক সতীর্থ হিসেবে তার প্রতি আস্থা রেখেই তিনি বলেন, ফিট থাকলে নেইমার অবশ্যই মাঠে নামবেন। বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের সতীর্থ ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকেও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন এমবাপে। তার মতে, ক্লাবের পারফরম্যান্স জাতীয় দলেও ধরে রাখতে পারলে ব্রাজিল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। নেইমার প্রসঙ্গে এমবাপ্পে বলেন, ‘বিশ্বকাপ তারকাদের মঞ্চ, আর নেইমার সর্বকালের সেরাদের একজন।’ তবে একইসঙ্গে আনচেলত্তির ‘শতভাগ ফিট’ নীতির প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। এদিকে ব্রাজিল ও ফ্রান্স আজ দিবাগত রাতে প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে। ম্যাচটিকে ২০২৬ বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখছেন এমবাপ্পে। ব্রাজিলকে নিয়ে ফরাসি এই তারকা বলেন, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কেউই ফেভারিট নয়। তাই জয়ের চেয়ে নিজেদের সেরা খেলাটা খেলাই তাদের মূল লক্ষ্য।

ভিয়েতনামের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় বাংলাদেশ

ভিয়েতনামের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় বাংলাদেশ প্রীতি ম্যাচ হলেও আজকের লড়াইকে মোটেই হালকাভাবে নিচ্ছে না বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। র‍্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকা ভিয়েতনামের বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য বড় এক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ের হ্যাং ডে স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আজ সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে ম্যাচটি। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে ১৮১ নম্বরে, যেখানে ভিয়েতনামের অবস্থান ১০৩, অর্থাৎ ৭৮ ধাপ এগিয়ে প্রতিপক্ষ। বাংলাদেশ দলের কোচ হাভিয়ের কাবরেরা জানিয়েছেন, এটি শুধুই প্রীতি ম্যাচ নয়, বরং দলের বর্তমান অবস্থান যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তিনি বলেন, শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলা ভবিষ্যৎ ম্যাচ, বিশেষ করে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে লড়াইয়ের আগে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও ম্যাচটিকে কঠিন বলে মনে করছেন। তবে তার বিশ্বাস, সাম্প্রতিক উন্নতির ফলে ভিয়েতনামের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য এখন বাংলাদেশের রয়েছে। অন্যদিকে ভিয়েতনাম কোচ কিম সাং-সিক বাংলাদেশকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না। তিনি বলেন, নতুন কোচিং স্টাফ ও বিদেশে খেলা ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তিতে দলটি আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী হয়েছে। বিশেষ করে হামজা চৌধুরীকে নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা করছে ভিয়েতনাম। এই মিডফিল্ডার এখন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। দুই দলের অতীত পরিসংখ্যানেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত রয়েছে। তিনবারের মুখোমুখিতে দুটি ম্যাচ ড্র এবং একটি ম্যাচে জয় পেয়েছে ভিয়েতনাম। তবে দুই দল সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল প্রায় দুই দশক আগে। এদিকে ভিয়েতনামের অধিনায়কও জানিয়েছেন, ম্যাচটি প্রীতি হলেও জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে তারা, কারণ ফলাফল ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে, ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য যেমন নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের বড় সুযোগ, তেমনি ভিয়েতনামের জন্যও র‍্যাঙ্কিং ধরে রাখার লড়াই।